দেবীদ্বারে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

দেবীদ্বার প্রতিনিধি
Thumbnail image

কুমিল্লার দেবীদ্বারে পরকীয়া ও পারিবারিক কলহের জেরে হাসি বেগম (৩৫) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী মোসলেহ উদ্দিনের (৪৫) বিরুদ্ধে। গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের সাইচাপাড়া গ্রামের দাইয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ লাশসহ অভিযুক্ত স্বামী মোসলেহ উদ্দিনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

নিহত হাসি বেগম ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার গোপালনগর গ্রামের প্রয়াত আবদুল খালেক ভূঁইয়ার মেয়ে। আটক মোসলেহ উদ্দিন সাইচাপাড়া গ্রামের প্রয়াত রেনু মিয়ার ছেলে। তিনি দীর্ঘ ৩৩ বছর কুয়েতে প্রবাস জীবন কাটিয়ে গত ৬ মাস আগে দেশে ফেরেন। এই দম্পতির সাইমন হোসেন (১৯) ও খাদিজা আক্তার (১৬) নামের দুই সন্তান রয়েছে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া ও পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলে আসছিল। এর জেরে প্রায়ই হাসি বেগমের ওপর নির্যাতন চালাতেন মোসলেহ উদ্দিন। ঘটনার দিন দুপুরে পরকীয়ার জের ধরে হাসি বেগমকে বেদম মারধর করা হয়। পরে বিকেলে অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা তাঁকে উদ্ধার করে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের মেয়ে ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ঘটনার সময় তাদের মেয়ে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে মাকে আহত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে। এ সময় ঘরের আসবাবপত্রও এলোমেলো ছিল। নিহতের মুখে ও ঠোঁটে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

নিহত হাসি বেগমের ছেলে সায়মন হোসেন অভিযোগ করেন, এক প্রতিবেশীর সঙ্গে তাঁর বাবার পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। এ নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁর মাকে প্রায়ই মারধর করা হতো।

অভিযুক্ত স্বামী মোসলেহ উদ্দিন দাবি করেন, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীকে কয়েকটি চড়-থাপ্পড় দিয়েছিলেন। তবে এই মারধরে স্ত্রী মারা যেতে পারেন না বলে দাবি করে তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী যে শাস্তি আসে, তিনি তা মাথা পেতে নেবেন। পাশাপাশি পরকীয়ার অভিযোগটি তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের চোখ ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত