নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী হাতে বোনা খাদি শিল্পের সংকট, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন নিয়ে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার বড়কামতায় বার্ডের উদ্যোগে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে খাদি শিল্পের বর্তমান অবস্থা, ঐতিহ্য সংরক্ষণ, তাঁতশিল্পীদের সমস্যা, মানসম্মত তুলা ও সুতা সরবরাহ, বাজার সম্প্রসারণ এবং এ শিল্পের টেকসই বিকাশে করণীয় বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
‘কুমিল্লার হাতে বোনা খাদি শিল্পের বাজার সম্প্রসারণ ও সক্ষমতা উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রায়োগিক গবেষণার অংশ হিসেবে আয়োজিত সেমিনারে গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বার্ডের পরিচালক ড. শেখ মাসুদুর রহমান।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) সদস্য ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বার্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন বিভাগের প্রধান আইয়ুব আলী, ঢাকার ফ্যাশন ডিজাইনার ও কারুভ‚মির প্রতিনিধি ফায়কুজ্জামান বাদশা এবং কুমিল্লার বিশিষ্ট খাদি ব্যবসায়ী প্রদীপ কান্তি রাহা।
এছাড়াও বার্ডের পরিচালক (প্রকল্প) আইরীন পারভিন, দেবীদ্বারের সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) মো. ফয়সল উদ্দিন, তাঁতশিল্পী, খাদি ব্যবসায়ী, তুলা উৎপাদনকারী, সুতা কাটার নারী, উদ্যোক্তা, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজন অংশ নেন।
গবেষণা প্রবন্ধে ড. শেখ মাসুদুর রহমান বলেন, হাতে বোনা খাদি শুধু কাপড় নয়; এটি কুমিল্লার তথা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক।
গবেষণার অংশ হিসেবে তিনি ৩ হাজার ৫০০ গজ খাদি কাপড় তৈরি করেন। ঢাকার ফ্যাশন ডিজাইন প্রতিষ্ঠান কারুভ‚মির সহযোগিতায় শাড়ি, পাঞ্জাবি, জ্যাকেট, চাদরসহ মোট ১৭ ধরনের খাদিপণ্য তৈরি করা হয়। এসব পণ্যের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী খাদিকে আধুনিক নকশা ও ব্যবহারোপযোগী পণ্যের সঙ্গে যুক্ত করার সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
গবেষণার সুপারিশে তিনি বলেন, তুলা উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে উপযুক্ত প্রক্রিয়াজাতকরণ করে ল্যাপ বা স্লাইভার আকারে তুলা সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে খাঁটি খাদি উৎপাদনের সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি ভারত থেকে আধুনিক অম্বর চরকা এনে চান্দিনা অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাদিশিল্পকে নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় খাদি ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট শিল্পের অংশীজনদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং তাঁদের সক্ষমতা উন্নয়নে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সেমিনারের শুরুতে সুতা কাটার নারীরা তাঁদের কাজের অভিজ্ঞতা, সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। তাঁরা নিয়মিত কাজের সুযোগ এবং শ্রমের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করার দাবি জানান।
পরবর্তী আলোচনায় তাঁতশিল্পী, খাদি ব্যবসায়ী ও তুলা ব্যবসায়ীরা শিল্পটির বিদ্যমান সংকট নিয়ে মতামত দেন। তাঁরা জানান, মানসম্মত তুলা ও সুতা পাওয়া, উৎপাদন ব্যয় সামাল দেওয়া এবং পণ্যের জন্য নির্ভরযোগ্য বাজার নিশ্চিত করা খাদি শিল্পের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। ঐতিহ্যবাহী খাদির সুতার মান কমে যাওয়া এবং পর্যাপ্ত মানসম্পন্ন কাঁচামালের অভাবেও তাঁতশিল্পীরা সমস্যায় পড়ছেন।
কে ক্রাফটের সাবেক কর্মী শহীদুজ্জামান ইসলাম বলেন, বর্তমান প্রজন্মের মধ্যেও খাদিপণ্যের চাহিদা রয়েছে। ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিলে এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব। নতুন প্রজন্মের জন্য খাদি শিল্পকে একটি মূল্যবান ঐতিহ্য ও সম্পদ হিসেবে রেখে যেতে হলে উৎপাদন, বিপণন ও বাজার সম্প্রসারণে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস বলেন, তাঁতি, সুতা কাটার নারী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ উদ্যোক্তারা প্রত্যেকেই একেকটি প্রতিষ্ঠান এবং তাঁদের প্রত্যেকের অভিজ্ঞতা এ শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। খাদি এমন একটি ঐতিহ্য, যার সঙ্গে মানুষের গভীর আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। তাই একে শুধু মুনাফা অর্জনের শিল্প হিসেবে বিবেচনা করলে চলবে না; এর সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্বও সংরক্ষণ করতে হবে।
তিনি বলেন, খাদি শিল্পের প্রকৃত সমস্যা চিহ্নিত করতে হলে প্রান্তিক পর্যায়ে যেতে হবে এবং সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা ও মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে বার্ডের উদ্যোগকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, খাদি শিল্পের সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করলে বিদ্যমান সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
প্রধান অতিথি আরও বলেন, খাদি শিল্পের পুনরুজ্জীবনে তুলার প্রাপ্যতা, মূল্য ও মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি খাঁটি খাদির পরিচিতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ শিল্পের ইতিহাস ও অভিজ্ঞতা সংরক্ষণ, পুরোনো গবেষণা নতুনভাবে লিপিবদ্ধ করা এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে জ্ঞান ও দক্ষতা হস্তান্তর জরুরি। সরকারি উদ্যোগকে কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক হতে হবে। খাদি মেলা আয়োজন, তাঁতশিল্পীদের স্বীকৃতি ও পুরস্কার প্রদান এবং তরুণ প্রজন্মকে এ শিল্পে সম্পৃক্ত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা গেলে তাঁরা খাদি শিল্পকে নতুনভাবে এগিয়ে নিতে পারবেন।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, কুমিল্লার খাদি শিল্পকে টেকসইভাবে এগিয়ে নিতে হলে ঐতিহ্যবাহী উৎপাদনপদ্ধতি সংরক্ষণের পাশাপাশি তাঁতশিল্পীদের দক্ষতা ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে হবে। মানসম্মত কাঁচামাল সরবরাহ, ন্যায্য পারিশ্রমিক, আধুনিক নকশা, কার্যকর বিপণনব্যবস্থা এবং নতুন বাজার সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
তাঁরা মনে করেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষক, ব্যবসায়ী, ডিজাইনার, উদ্যোক্তা ও উৎপাদকদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলা গেলে খাদি শিল্পের ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও বাড়ানো সম্ভব।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বার্ডের গবেষণার আওতায় তৈরি শাড়ি, পাঞ্জাবি, জ্যাকেট, চাদরসহ ১৭ ধরনের খাদিপণ্যের প্রদর্শনী করা হয়। প্রদর্শনীতে ঐতিহ্যবাহী হাতে বোনা খাদিকে বৈচিত্র্যময় ও আধুনিক পণ্যে রূপান্তরের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।

কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী হাতে বোনা খাদি শিল্পের সংকট, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন নিয়ে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার বড়কামতায় বার্ডের উদ্যোগে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে খাদি শিল্পের বর্তমান অবস্থা, ঐতিহ্য সংরক্ষণ, তাঁতশিল্পীদের সমস্যা, মানসম্মত তুলা ও সুতা সরবরাহ, বাজার সম্প্রসারণ এবং এ শিল্পের টেকসই বিকাশে করণীয় বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
‘কুমিল্লার হাতে বোনা খাদি শিল্পের বাজার সম্প্রসারণ ও সক্ষমতা উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রায়োগিক গবেষণার অংশ হিসেবে আয়োজিত সেমিনারে গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বার্ডের পরিচালক ড. শেখ মাসুদুর রহমান।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) সদস্য ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বার্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন বিভাগের প্রধান আইয়ুব আলী, ঢাকার ফ্যাশন ডিজাইনার ও কারুভ‚মির প্রতিনিধি ফায়কুজ্জামান বাদশা এবং কুমিল্লার বিশিষ্ট খাদি ব্যবসায়ী প্রদীপ কান্তি রাহা।
এছাড়াও বার্ডের পরিচালক (প্রকল্প) আইরীন পারভিন, দেবীদ্বারের সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) মো. ফয়সল উদ্দিন, তাঁতশিল্পী, খাদি ব্যবসায়ী, তুলা উৎপাদনকারী, সুতা কাটার নারী, উদ্যোক্তা, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজন অংশ নেন।
গবেষণা প্রবন্ধে ড. শেখ মাসুদুর রহমান বলেন, হাতে বোনা খাদি শুধু কাপড় নয়; এটি কুমিল্লার তথা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক।
গবেষণার অংশ হিসেবে তিনি ৩ হাজার ৫০০ গজ খাদি কাপড় তৈরি করেন। ঢাকার ফ্যাশন ডিজাইন প্রতিষ্ঠান কারুভ‚মির সহযোগিতায় শাড়ি, পাঞ্জাবি, জ্যাকেট, চাদরসহ মোট ১৭ ধরনের খাদিপণ্য তৈরি করা হয়। এসব পণ্যের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী খাদিকে আধুনিক নকশা ও ব্যবহারোপযোগী পণ্যের সঙ্গে যুক্ত করার সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
গবেষণার সুপারিশে তিনি বলেন, তুলা উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে উপযুক্ত প্রক্রিয়াজাতকরণ করে ল্যাপ বা স্লাইভার আকারে তুলা সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে খাঁটি খাদি উৎপাদনের সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি ভারত থেকে আধুনিক অম্বর চরকা এনে চান্দিনা অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাদিশিল্পকে নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় খাদি ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট শিল্পের অংশীজনদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং তাঁদের সক্ষমতা উন্নয়নে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সেমিনারের শুরুতে সুতা কাটার নারীরা তাঁদের কাজের অভিজ্ঞতা, সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। তাঁরা নিয়মিত কাজের সুযোগ এবং শ্রমের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করার দাবি জানান।
পরবর্তী আলোচনায় তাঁতশিল্পী, খাদি ব্যবসায়ী ও তুলা ব্যবসায়ীরা শিল্পটির বিদ্যমান সংকট নিয়ে মতামত দেন। তাঁরা জানান, মানসম্মত তুলা ও সুতা পাওয়া, উৎপাদন ব্যয় সামাল দেওয়া এবং পণ্যের জন্য নির্ভরযোগ্য বাজার নিশ্চিত করা খাদি শিল্পের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। ঐতিহ্যবাহী খাদির সুতার মান কমে যাওয়া এবং পর্যাপ্ত মানসম্পন্ন কাঁচামালের অভাবেও তাঁতশিল্পীরা সমস্যায় পড়ছেন।
কে ক্রাফটের সাবেক কর্মী শহীদুজ্জামান ইসলাম বলেন, বর্তমান প্রজন্মের মধ্যেও খাদিপণ্যের চাহিদা রয়েছে। ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিলে এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব। নতুন প্রজন্মের জন্য খাদি শিল্পকে একটি মূল্যবান ঐতিহ্য ও সম্পদ হিসেবে রেখে যেতে হলে উৎপাদন, বিপণন ও বাজার সম্প্রসারণে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস বলেন, তাঁতি, সুতা কাটার নারী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ উদ্যোক্তারা প্রত্যেকেই একেকটি প্রতিষ্ঠান এবং তাঁদের প্রত্যেকের অভিজ্ঞতা এ শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। খাদি এমন একটি ঐতিহ্য, যার সঙ্গে মানুষের গভীর আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। তাই একে শুধু মুনাফা অর্জনের শিল্প হিসেবে বিবেচনা করলে চলবে না; এর সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্বও সংরক্ষণ করতে হবে।
তিনি বলেন, খাদি শিল্পের প্রকৃত সমস্যা চিহ্নিত করতে হলে প্রান্তিক পর্যায়ে যেতে হবে এবং সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা ও মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে বার্ডের উদ্যোগকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, খাদি শিল্পের সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করলে বিদ্যমান সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
প্রধান অতিথি আরও বলেন, খাদি শিল্পের পুনরুজ্জীবনে তুলার প্রাপ্যতা, মূল্য ও মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি খাঁটি খাদির পরিচিতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ শিল্পের ইতিহাস ও অভিজ্ঞতা সংরক্ষণ, পুরোনো গবেষণা নতুনভাবে লিপিবদ্ধ করা এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে জ্ঞান ও দক্ষতা হস্তান্তর জরুরি। সরকারি উদ্যোগকে কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক হতে হবে। খাদি মেলা আয়োজন, তাঁতশিল্পীদের স্বীকৃতি ও পুরস্কার প্রদান এবং তরুণ প্রজন্মকে এ শিল্পে সম্পৃক্ত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা গেলে তাঁরা খাদি শিল্পকে নতুনভাবে এগিয়ে নিতে পারবেন।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, কুমিল্লার খাদি শিল্পকে টেকসইভাবে এগিয়ে নিতে হলে ঐতিহ্যবাহী উৎপাদনপদ্ধতি সংরক্ষণের পাশাপাশি তাঁতশিল্পীদের দক্ষতা ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে হবে। মানসম্মত কাঁচামাল সরবরাহ, ন্যায্য পারিশ্রমিক, আধুনিক নকশা, কার্যকর বিপণনব্যবস্থা এবং নতুন বাজার সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
তাঁরা মনে করেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষক, ব্যবসায়ী, ডিজাইনার, উদ্যোক্তা ও উৎপাদকদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলা গেলে খাদি শিল্পের ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও বাড়ানো সম্ভব।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বার্ডের গবেষণার আওতায় তৈরি শাড়ি, পাঞ্জাবি, জ্যাকেট, চাদরসহ ১৭ ধরনের খাদিপণ্যের প্রদর্শনী করা হয়। প্রদর্শনীতে ঐতিহ্যবাহী হাতে বোনা খাদিকে বৈচিত্র্যময় ও আধুনিক পণ্যে রূপান্তরের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।