এবিএম আতিকুর রহমান বাশার

কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নাম ঋণখেলাপির তালিকা থেকে স্থগিত রাখার বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। এর ফলে তাঁর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে আইনি জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এ সংবাদে কুমিল্লা- ৪ (দেবীদ্বার) নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া জুলাই যোদ্ধা ও এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং বিএনপি দলীয় ৪ বারের সাবেক এমপি ও বিএনপি জাতীয় কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী-এ দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর আসনে নজর এখন দেশবাসীর।
গত বৃহস্পতিবার প্রিমিয়ার ব্যাংক ও আইডিএলসি ফাইন্যান্সের করা পৃথক লিভ টু আপিল আবেদনের শুনানি শেষে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন। চেম্বার আদালতের এই আদেশে হাইকোর্টের পূর্বের স্থগিতাদেশ কার্যকর না থাকায় মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নাম বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো) প্রতিবেদনে ঋণখেলাপি হিসেবে বহাল থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ‘মাম পাওয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বিরুদ্ধে প্রায় ৯৪ কোটি টাকার ঋণ সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। ওই ঋণের প্রেক্ষিতে তাঁকে ঋণখেলাপি ঘোষণা ও সিআইবিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে তিনি ও তাঁর প্রতিষ্ঠান ঢাকার পঞ্চম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলা করেন এবং অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চান। তবে গত বছরের ৫ নভেম্বর সেই আবেদন খারিজ হয়। পরবর্তীতে তিনি হাইকোর্টে বিবিধ আপিল করেন। শুনানি শেষে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তাঁর নাম ঋণখেলাপির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ও প্রকাশ না করতে নির্দেশ দিয়ে আদেশ দেন।
এই আদেশ স্থগিত চেয়ে প্রিমিয়ার ব্যাংক ও আইডিএলসি ফাইন্যান্স আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে গত ৫ জানুয়ারি আবেদন করে। শুনানিতে আইডিএলসি ফাইন্যান্সের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন, প্রিমিয়ার ব্যাংকের পক্ষে আইনজীবী বিভূতি তরফদার এবং মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও আইনজীবী মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ মামুন উপস্থিত ছিলেন।
শুনানি শেষে আইনজীবী বিভূতি তরফদার জানান, চেম্বার আদালতের আদেশে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ বাতিল হওয়ায় মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী আপাতত ঋণখেলাপি হিসেবেই বিবেচিত থাকবেন। ফলে বর্তমান আইনি অবস্থায় তাঁর নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
অপরদিকে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর পক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ মামুন বলেন, ব্যক্তি হিসেবে ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী কোনো ঋণখেলাপি নন। তাঁর মালিকানাধীন একটি কোম্পানির ঋণসংক্রান্ত বিষয়ে আদালতে একটি আইনি জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল। সেই পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের দেওয়া আগের ‘স্টে অর্ডার’ চেম্বার আদালত সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে, মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিল হয়ে গেছে। তিনি আরও জানান, আগামী রোববার (১১ জানুয়ারি) এ বিষয়ে আপিল করা হবে।
এ বিষয়ে কুমিল্লার বিশিষ্ট আইনজীবী অশোক জয় দেব বলেন, ‘হাইকোর্ট কোনো আদেশে ‘স্টে’ দিলে, সেই আদেশে সংক্ষুব্ধ পক্ষ যুক্তিসঙ্গত কারণ ও প্রমাণসহ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করতে পারে। চেম্বার জজ আদালত শুনানি শেষে প্রয়োজনে হাইকোর্টের দেওয়া ‘স্টে’ আদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করতে পারেন। কুমিল্লা-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর ক্ষেত্রেও এ ধরনের আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।
চেম্বার জজ আদালত সাধারণত এমন আদেশ চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠান। পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি শেষে যদি চেম্বার জজ আদালতের আদেশ বহাল থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আইনগতভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য হবেন। আর যদি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ওই আদেশ স্থগিত বা বাতিল করেন, তবে তাঁর নির্বাচনে অংশগ্রহণে আর কোনো আইনগত বাধা থাকবে না।
বর্তমানে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত আট সপ্তাহের জন্য হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত রেখেছেন। ফলে ঋণখেলাপির তালিকায় মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নাম বহাল থাকছে এবং এতে তাঁর নির্বাচনী যোগ্যতা নিয়ে আইনগত জটিলতা তৈরি হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে সংক্ষুব্ধ পক্ষ পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে আবেদন করলে এবং প্রধান বিচারপতি তা গ্রহণ করলে, প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ আট সপ্তাহের আগেই যে কোনো সময় শুনানি করতে পারেন। শুনানি শেষে দেওয়া আদেশই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের চূড়ান্ত আদেশ নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। ওই আদেশের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন প্রার্থীর নির্বাচন কার্যক্রম চালু রাখা বা বন্ধ রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। নির্বাচন কার্যক্রম বন্ধ হলেও সংক্ষুব্ধ পক্ষ পরবর্তী সময়ে আইন অনুযায়ী উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
তিনি বলেন, বিষয়টি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে না।

কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নাম ঋণখেলাপির তালিকা থেকে স্থগিত রাখার বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। এর ফলে তাঁর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে আইনি জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এ সংবাদে কুমিল্লা- ৪ (দেবীদ্বার) নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া জুলাই যোদ্ধা ও এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং বিএনপি দলীয় ৪ বারের সাবেক এমপি ও বিএনপি জাতীয় কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী-এ দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর আসনে নজর এখন দেশবাসীর।
গত বৃহস্পতিবার প্রিমিয়ার ব্যাংক ও আইডিএলসি ফাইন্যান্সের করা পৃথক লিভ টু আপিল আবেদনের শুনানি শেষে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন। চেম্বার আদালতের এই আদেশে হাইকোর্টের পূর্বের স্থগিতাদেশ কার্যকর না থাকায় মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নাম বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো) প্রতিবেদনে ঋণখেলাপি হিসেবে বহাল থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ‘মাম পাওয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বিরুদ্ধে প্রায় ৯৪ কোটি টাকার ঋণ সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। ওই ঋণের প্রেক্ষিতে তাঁকে ঋণখেলাপি ঘোষণা ও সিআইবিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে তিনি ও তাঁর প্রতিষ্ঠান ঢাকার পঞ্চম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলা করেন এবং অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চান। তবে গত বছরের ৫ নভেম্বর সেই আবেদন খারিজ হয়। পরবর্তীতে তিনি হাইকোর্টে বিবিধ আপিল করেন। শুনানি শেষে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তাঁর নাম ঋণখেলাপির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ও প্রকাশ না করতে নির্দেশ দিয়ে আদেশ দেন।
এই আদেশ স্থগিত চেয়ে প্রিমিয়ার ব্যাংক ও আইডিএলসি ফাইন্যান্স আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে গত ৫ জানুয়ারি আবেদন করে। শুনানিতে আইডিএলসি ফাইন্যান্সের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন, প্রিমিয়ার ব্যাংকের পক্ষে আইনজীবী বিভূতি তরফদার এবং মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও আইনজীবী মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ মামুন উপস্থিত ছিলেন।
শুনানি শেষে আইনজীবী বিভূতি তরফদার জানান, চেম্বার আদালতের আদেশে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ বাতিল হওয়ায় মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী আপাতত ঋণখেলাপি হিসেবেই বিবেচিত থাকবেন। ফলে বর্তমান আইনি অবস্থায় তাঁর নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
অপরদিকে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর পক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ মামুন বলেন, ব্যক্তি হিসেবে ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী কোনো ঋণখেলাপি নন। তাঁর মালিকানাধীন একটি কোম্পানির ঋণসংক্রান্ত বিষয়ে আদালতে একটি আইনি জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল। সেই পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের দেওয়া আগের ‘স্টে অর্ডার’ চেম্বার আদালত সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে, মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিল হয়ে গেছে। তিনি আরও জানান, আগামী রোববার (১১ জানুয়ারি) এ বিষয়ে আপিল করা হবে।
এ বিষয়ে কুমিল্লার বিশিষ্ট আইনজীবী অশোক জয় দেব বলেন, ‘হাইকোর্ট কোনো আদেশে ‘স্টে’ দিলে, সেই আদেশে সংক্ষুব্ধ পক্ষ যুক্তিসঙ্গত কারণ ও প্রমাণসহ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করতে পারে। চেম্বার জজ আদালত শুনানি শেষে প্রয়োজনে হাইকোর্টের দেওয়া ‘স্টে’ আদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করতে পারেন। কুমিল্লা-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর ক্ষেত্রেও এ ধরনের আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।
চেম্বার জজ আদালত সাধারণত এমন আদেশ চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠান। পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি শেষে যদি চেম্বার জজ আদালতের আদেশ বহাল থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আইনগতভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য হবেন। আর যদি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ওই আদেশ স্থগিত বা বাতিল করেন, তবে তাঁর নির্বাচনে অংশগ্রহণে আর কোনো আইনগত বাধা থাকবে না।
বর্তমানে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত আট সপ্তাহের জন্য হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত রেখেছেন। ফলে ঋণখেলাপির তালিকায় মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নাম বহাল থাকছে এবং এতে তাঁর নির্বাচনী যোগ্যতা নিয়ে আইনগত জটিলতা তৈরি হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে সংক্ষুব্ধ পক্ষ পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে আবেদন করলে এবং প্রধান বিচারপতি তা গ্রহণ করলে, প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ আট সপ্তাহের আগেই যে কোনো সময় শুনানি করতে পারেন। শুনানি শেষে দেওয়া আদেশই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের চূড়ান্ত আদেশ নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। ওই আদেশের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন প্রার্থীর নির্বাচন কার্যক্রম চালু রাখা বা বন্ধ রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। নির্বাচন কার্যক্রম বন্ধ হলেও সংক্ষুব্ধ পক্ষ পরবর্তী সময়ে আইন অনুযায়ী উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
তিনি বলেন, বিষয়টি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে না।