নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা বাজারের ডেন্টাল গ্র্যাজুয়েট মো. মফিজুল ইসলাম মুন্না। দাঁতের চিকিৎসায় তিনি বেশ পারদর্শী। তাঁর কাছে রোগীর সংখ্যাও কম নয়। কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগীরা তাঁর কাছে যাচ্ছেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নিয়ে এখনও স্বীকৃতি পাচ্ছেন না পেশার। শুধু মুন্না নন, গত ২০ বছরেও সরকার স্বীকৃতি দিচ্ছে না দুই সহস্রাধিক ডেন্টাল গ্র্যাজুয়েটের। এ অবস্থায় পেশার স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন বিএসসি ইন হেলথ মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল) ডিগ্রিধারীরা।
পর্যাপ্ত যোগ্যতা ও সরকারি সনদ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধন পাচ্ছেন না তাঁরা। এতে করে নামের আগে চিকিৎসক লিখতে পারছেন না। অথচ দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চিকিৎসা অনুষদ থেকে চার বছর মেয়াদী বিএসসি ইন হেলথ/ মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল) ডিগ্রি অর্জন করেও পেশাগত স্বীকৃতি পাচ্ছে না।
ভুক্তভোগী চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ২০০৪-২০০৫ শিক্ষাবর্ষে ডিপ্লোমা ডেন্টাল সনদধারীদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে এই কোর্সটি চালু করা হয়। এর আগে তাদের জন্য বিডিএস কোর্সে ভর্তির সুযোগ থাকলেও পরবর্তীতে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেই শূন্যতা পূরণে এবং ডেন্টাল সেবার মানোন্নয়নে এই ডিগ্রিটি চালু করা হয়েছিল। তবে ডিগ্রিটি বাস্তবে ক্লিনিকেল শিক্ষা নির্ভর হলেও শুধুমাত্র নামের শেষে টেকনো-লজি' শব্দটি যুক্ত থাকার অজুহাতে এটি পেশাগত স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, প্রায় ২০ বছর ধরে তারা এই দাবি জানিয়ে আসলেও কোনো কার্যকর সমাধান মেলেনি।
বিএমডিসির নিবন্ধন না হওয়ার কারণে তাঁরা কোথাও চাকরি পাচ্ছেন না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্র্যাজুয়েটদের প্রধান অভিযোগ হলো নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিএমডিসির অসহযোগিতা। বিদ্যমান আইনে নতুন কোনো ডিগ্রির মান যাচাই ও মূল্যায়নের জন্য কমিটি গঠনের বিধান থাকলেও, বিএসসি ডেন্টাল গ্র্যাজুয়েটদের ক্ষেত্রে গত ২০ বছরেও সেই প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করা হয়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, পেশাজীবী সংগঠন বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির তীব্র বিরোধিতাও এই স্বীকৃতি আটকে থাকার অন্যতম কারণ। একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পেশাগত স্বার্থ ও একচেটিয়া আধিপতোর কারণে এই দুই হাজার মেধাবীর জীবন আজ অন্ধকারের মুখে বলে দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা।
অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সারোয়ার হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ডেন্টাল শিক্ষায় গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রিধারী হয়েও বছরের পর বছর এ স্বীকৃতিহীনতা মূলত কষ্ট্রের অবহেলা ব্যতীত কিছু নয়। প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করছেন। আমরা প্রত্যাশা করি, তিনি এই মানবিক ও যৌক্তিক সংকট নিরসনে দ্রুত একটি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের বিশেষ করে প্রান্তিক ও গ্রামীণ জানাদে ডেন্টাল সেবার মান এখনো সন্তোষজনক নয় এবং দক্ষ জনবালের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। এই প্রশিক্ষিত ও উচ্চশিক্ষিত দুই হাজার গ্র্যাজুয়েটকে যদি বিএমডিসি'র নিবন্ধনের আওতায় এনে যথাযথভাবে কাজে লাগানো যায়, তবে সাধারণ মানুষের দন্ত চিকিৎসার পরিধি ও গুণমান বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে ভুক্তভোগী গ্র্যাজুয়েটরা বিদ্যমান আইনের আওতায় তফসিল সংশোধনের মাধ্যমে নিবন্ধনের সুযোগ সৃষ্টির দাবি জানিয়েছেন। তারা আশাবাদী, সরকার দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের ২০ বছরের বঞ্চনার অবসান ঘটাবে।

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা বাজারের ডেন্টাল গ্র্যাজুয়েট মো. মফিজুল ইসলাম মুন্না। দাঁতের চিকিৎসায় তিনি বেশ পারদর্শী। তাঁর কাছে রোগীর সংখ্যাও কম নয়। কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগীরা তাঁর কাছে যাচ্ছেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নিয়ে এখনও স্বীকৃতি পাচ্ছেন না পেশার। শুধু মুন্না নন, গত ২০ বছরেও সরকার স্বীকৃতি দিচ্ছে না দুই সহস্রাধিক ডেন্টাল গ্র্যাজুয়েটের। এ অবস্থায় পেশার স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন বিএসসি ইন হেলথ মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল) ডিগ্রিধারীরা।
পর্যাপ্ত যোগ্যতা ও সরকারি সনদ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধন পাচ্ছেন না তাঁরা। এতে করে নামের আগে চিকিৎসক লিখতে পারছেন না। অথচ দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চিকিৎসা অনুষদ থেকে চার বছর মেয়াদী বিএসসি ইন হেলথ/ মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল) ডিগ্রি অর্জন করেও পেশাগত স্বীকৃতি পাচ্ছে না।
ভুক্তভোগী চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ২০০৪-২০০৫ শিক্ষাবর্ষে ডিপ্লোমা ডেন্টাল সনদধারীদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে এই কোর্সটি চালু করা হয়। এর আগে তাদের জন্য বিডিএস কোর্সে ভর্তির সুযোগ থাকলেও পরবর্তীতে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেই শূন্যতা পূরণে এবং ডেন্টাল সেবার মানোন্নয়নে এই ডিগ্রিটি চালু করা হয়েছিল। তবে ডিগ্রিটি বাস্তবে ক্লিনিকেল শিক্ষা নির্ভর হলেও শুধুমাত্র নামের শেষে টেকনো-লজি' শব্দটি যুক্ত থাকার অজুহাতে এটি পেশাগত স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, প্রায় ২০ বছর ধরে তারা এই দাবি জানিয়ে আসলেও কোনো কার্যকর সমাধান মেলেনি।
বিএমডিসির নিবন্ধন না হওয়ার কারণে তাঁরা কোথাও চাকরি পাচ্ছেন না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্র্যাজুয়েটদের প্রধান অভিযোগ হলো নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিএমডিসির অসহযোগিতা। বিদ্যমান আইনে নতুন কোনো ডিগ্রির মান যাচাই ও মূল্যায়নের জন্য কমিটি গঠনের বিধান থাকলেও, বিএসসি ডেন্টাল গ্র্যাজুয়েটদের ক্ষেত্রে গত ২০ বছরেও সেই প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করা হয়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, পেশাজীবী সংগঠন বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির তীব্র বিরোধিতাও এই স্বীকৃতি আটকে থাকার অন্যতম কারণ। একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পেশাগত স্বার্থ ও একচেটিয়া আধিপতোর কারণে এই দুই হাজার মেধাবীর জীবন আজ অন্ধকারের মুখে বলে দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা।
অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সারোয়ার হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ডেন্টাল শিক্ষায় গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রিধারী হয়েও বছরের পর বছর এ স্বীকৃতিহীনতা মূলত কষ্ট্রের অবহেলা ব্যতীত কিছু নয়। প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করছেন। আমরা প্রত্যাশা করি, তিনি এই মানবিক ও যৌক্তিক সংকট নিরসনে দ্রুত একটি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের বিশেষ করে প্রান্তিক ও গ্রামীণ জানাদে ডেন্টাল সেবার মান এখনো সন্তোষজনক নয় এবং দক্ষ জনবালের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। এই প্রশিক্ষিত ও উচ্চশিক্ষিত দুই হাজার গ্র্যাজুয়েটকে যদি বিএমডিসি'র নিবন্ধনের আওতায় এনে যথাযথভাবে কাজে লাগানো যায়, তবে সাধারণ মানুষের দন্ত চিকিৎসার পরিধি ও গুণমান বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে ভুক্তভোগী গ্র্যাজুয়েটরা বিদ্যমান আইনের আওতায় তফসিল সংশোধনের মাধ্যমে নিবন্ধনের সুযোগ সৃষ্টির দাবি জানিয়েছেন। তারা আশাবাদী, সরকার দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের ২০ বছরের বঞ্চনার অবসান ঘটাবে।