ফলোআপ
৩০টি ঘরে লুটপাটের অভিযোগ, আটক ৪
তিতাস প্রতিনিধি

কুমিল্লার তিতাস ও মেঘনা উপজেলার সীমান্তবর্তী চরাঞ্চলের বিরোধের জেরে এক নারী নিহতের ঘটনায় তিতাসের চরবাটেরা গ্রাম এখন পুরুষশূন্য। আজ সোমবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত গ্রামের ৩০টি ঘরে লুটপাট করে মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের ঘটনায় মেঘনার চরবিনোদপুরে লোকজন তিতাসের চরবাটেরা গ্রামের ৪ জনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে। নিহতের মরদেহ গ্রামে পৌঁছানোকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ঘটনাস্থলে দুই থানার পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
গতকাল রোববার সকালে তিতাসের চরবাটেরা গ্রামের প্রবাসী মো. শাহবাজ ও মজনু মিয়া মেঘনা সাব রেজিস্ট্রার অফিসে গেলে চরবিনোদপুর গ্রামের আলী আকবর ও তার লোকজন চর দখলের জেরে তাদের মারধর করে আটকিয়ে রাখে। দুপুরে মেঘনা নদী পাড়ি দিয়ে তিতাসের চরবাটেরার লোকজন গিয়ে আটককৃত দুইজনকে উদ্ধার করে আনে এবং বিকেলে চরবিনোদপুর ও চরবাটেরা গ্রামবাসী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী টেঁটাযুদ্ধে উভয়পক্ষের প্রায় ৪০জন আহত হয়। পরে মেঘনা নদী থেকে টেঁটাবিদ্ধ এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত মহিলা মেঘনার চরবিনোদপুর গ্রামের ট্রলারচালক কাবিল হোসেনের স্ত্রী কোহিনুর বেগম (৩৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববারের ঘটনার জের ধরে সোমবার সকাল সাড়ে ৭টায় ট্রলারযোগে মেঘনা নদীর ওপার আলীপুর, বিনোদপুর, করিমবাজের লোকজন এপারে এসে চরবিনোদপুরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে চরবাটেরা গ্রামের ব্যাপারী বাড়ি, প্রধান বাড়ি, মুন্সিবাড়ী ও শিকদার বাড়িতে পর্যায়ক্রমে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। লুটপাটের সময় ব্যাপারী বাড়ির রুবেল হোসেন ব্যাপারী, আবুল মিয়া ব্যাপারী, আবুল হোসেন ব্যাপারী, ইব্রাহিম ব্যাপারী, প্রধান বাড়ির শাহ আলম প্রধান, ইব্রাহিম প্রধান, রফিক প্রধান, সালামত প্রধান, হাবুল প্রধান, মুন্সি বাড়ির শুক্কুর আলী মুন্সি, শাহ মুন্সি, মজিবুর মুন্সি, জামাল মুন্সি এবং শিকদার বাড়ির কবির হোসেন শিকদার, মাধবর আলী শিকদার, নূর মোহাম্মদ শিকদার, মাইনুদ্দিন শিকদার ও ছবির হোসেন শিকদারের ঘরের আসবাবপত্র ও মালামাল নিয়ে যায়।
এদিকে, রোববার বিওেকলে নিহত কোহিনুর বেগমের লাশ বাড়িতে আনলে স্বজনদের আহাজারিতে এলাকা ভারি হয়ে উঠে। পরে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়। এসময় মেঘনার উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের লোকজন ছিল। চরবাটেরা গ্রাম পুরুষশূন্য থাকায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
তিতাসের চরবাটেরা গ্রামের ওয়ার্ড মেম্বার (মজিদপুর ইউপি সদস্য) মো. শাহ আলম প্রধান মুঠোফোনে জানান, রাত থেকে গ্রামে কোন পুরুষলোক নেই। তারা আমার বাড়ির টিনের বেড়া ভাঙচুর করেছে প্রতিটি ঘর থেকে আসবাবপত্র, মালামালসহ বিদ্যুতের তারগুলোও খুলে নিয়ে গিয়ে। মসজিদের একমাত্র ইমাম সাহেবকে মসজিদ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। মসজিদে আযান দেওয়ার লোক নাই।
একই গ্রামের মো. রুবেল হোসেন ব্যাপারী মুঠোফোনে বলেন, আমার একাধিক ঘরের আসবাবপত্র নিয়ে গেছে। ঘরের মধ্যে পোনে ৪ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৮০ হাজার ৩০০ টাকা ছিল। সেটিও নিয়ে গেছে। হালচাষের ট্রাক্টর, ধান ভাঙার মেশিন ও একটি বালুবোটসহ প্রায় ২৮-২৯ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, সকাল সাড়ে ৭টায় ওপারের তিনটি গ্রামের লোকজন এপাড়ের মেঘনার চরবিনোদপুর গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে প্রায় দুই থেকে আড়াইশ লোক দুপুর পর্যন্ত এই লুটপাট চালায়। গ্রামে কিছু মহিলা থাকলেও প্রথমে তারা গ্রাম থেকে ঐসব মহিলাদের বের করে দিয়ে তারপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন বাড়িতে লুটপাট করে।
মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, স্থানীয় লোকজন তিতাসের চরবাটেরা গ্রামের মাইনুদ্দিন (৪০), মো. হান্নান (২৬), কাশেম ব্যাপারী (৬০) ও মো. রানাকে (২১) আটক করে। পরে থানা পুলিশ তাদেরকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আসে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ প্রস্তুত করা হচ্ছে। মামলা হলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্র্তা মো. মমিরুল হক জানান, ঘটনার পর থেকে তিতাস থানা পুলিশ পর্যায়ক্রমে সেখানে ডিউটি করছেন। লাশের কবরখোড়া নিয়ে কিছুটা উত্তেজনা ছিল; তবে লুটপাটের বিষয়টি আমার পুলিশ আমাকে অবগত করেনি; বিস্তারিত জেনে বলা যাবে।

কুমিল্লার তিতাস ও মেঘনা উপজেলার সীমান্তবর্তী চরাঞ্চলের বিরোধের জেরে এক নারী নিহতের ঘটনায় তিতাসের চরবাটেরা গ্রাম এখন পুরুষশূন্য। আজ সোমবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত গ্রামের ৩০টি ঘরে লুটপাট করে মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের ঘটনায় মেঘনার চরবিনোদপুরে লোকজন তিতাসের চরবাটেরা গ্রামের ৪ জনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে। নিহতের মরদেহ গ্রামে পৌঁছানোকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ঘটনাস্থলে দুই থানার পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
গতকাল রোববার সকালে তিতাসের চরবাটেরা গ্রামের প্রবাসী মো. শাহবাজ ও মজনু মিয়া মেঘনা সাব রেজিস্ট্রার অফিসে গেলে চরবিনোদপুর গ্রামের আলী আকবর ও তার লোকজন চর দখলের জেরে তাদের মারধর করে আটকিয়ে রাখে। দুপুরে মেঘনা নদী পাড়ি দিয়ে তিতাসের চরবাটেরার লোকজন গিয়ে আটককৃত দুইজনকে উদ্ধার করে আনে এবং বিকেলে চরবিনোদপুর ও চরবাটেরা গ্রামবাসী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী টেঁটাযুদ্ধে উভয়পক্ষের প্রায় ৪০জন আহত হয়। পরে মেঘনা নদী থেকে টেঁটাবিদ্ধ এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত মহিলা মেঘনার চরবিনোদপুর গ্রামের ট্রলারচালক কাবিল হোসেনের স্ত্রী কোহিনুর বেগম (৩৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববারের ঘটনার জের ধরে সোমবার সকাল সাড়ে ৭টায় ট্রলারযোগে মেঘনা নদীর ওপার আলীপুর, বিনোদপুর, করিমবাজের লোকজন এপারে এসে চরবিনোদপুরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে চরবাটেরা গ্রামের ব্যাপারী বাড়ি, প্রধান বাড়ি, মুন্সিবাড়ী ও শিকদার বাড়িতে পর্যায়ক্রমে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। লুটপাটের সময় ব্যাপারী বাড়ির রুবেল হোসেন ব্যাপারী, আবুল মিয়া ব্যাপারী, আবুল হোসেন ব্যাপারী, ইব্রাহিম ব্যাপারী, প্রধান বাড়ির শাহ আলম প্রধান, ইব্রাহিম প্রধান, রফিক প্রধান, সালামত প্রধান, হাবুল প্রধান, মুন্সি বাড়ির শুক্কুর আলী মুন্সি, শাহ মুন্সি, মজিবুর মুন্সি, জামাল মুন্সি এবং শিকদার বাড়ির কবির হোসেন শিকদার, মাধবর আলী শিকদার, নূর মোহাম্মদ শিকদার, মাইনুদ্দিন শিকদার ও ছবির হোসেন শিকদারের ঘরের আসবাবপত্র ও মালামাল নিয়ে যায়।
এদিকে, রোববার বিওেকলে নিহত কোহিনুর বেগমের লাশ বাড়িতে আনলে স্বজনদের আহাজারিতে এলাকা ভারি হয়ে উঠে। পরে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়। এসময় মেঘনার উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের লোকজন ছিল। চরবাটেরা গ্রাম পুরুষশূন্য থাকায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
তিতাসের চরবাটেরা গ্রামের ওয়ার্ড মেম্বার (মজিদপুর ইউপি সদস্য) মো. শাহ আলম প্রধান মুঠোফোনে জানান, রাত থেকে গ্রামে কোন পুরুষলোক নেই। তারা আমার বাড়ির টিনের বেড়া ভাঙচুর করেছে প্রতিটি ঘর থেকে আসবাবপত্র, মালামালসহ বিদ্যুতের তারগুলোও খুলে নিয়ে গিয়ে। মসজিদের একমাত্র ইমাম সাহেবকে মসজিদ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। মসজিদে আযান দেওয়ার লোক নাই।
একই গ্রামের মো. রুবেল হোসেন ব্যাপারী মুঠোফোনে বলেন, আমার একাধিক ঘরের আসবাবপত্র নিয়ে গেছে। ঘরের মধ্যে পোনে ৪ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৮০ হাজার ৩০০ টাকা ছিল। সেটিও নিয়ে গেছে। হালচাষের ট্রাক্টর, ধান ভাঙার মেশিন ও একটি বালুবোটসহ প্রায় ২৮-২৯ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, সকাল সাড়ে ৭টায় ওপারের তিনটি গ্রামের লোকজন এপাড়ের মেঘনার চরবিনোদপুর গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে প্রায় দুই থেকে আড়াইশ লোক দুপুর পর্যন্ত এই লুটপাট চালায়। গ্রামে কিছু মহিলা থাকলেও প্রথমে তারা গ্রাম থেকে ঐসব মহিলাদের বের করে দিয়ে তারপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন বাড়িতে লুটপাট করে।
মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, স্থানীয় লোকজন তিতাসের চরবাটেরা গ্রামের মাইনুদ্দিন (৪০), মো. হান্নান (২৬), কাশেম ব্যাপারী (৬০) ও মো. রানাকে (২১) আটক করে। পরে থানা পুলিশ তাদেরকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আসে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ প্রস্তুত করা হচ্ছে। মামলা হলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্র্তা মো. মমিরুল হক জানান, ঘটনার পর থেকে তিতাস থানা পুলিশ পর্যায়ক্রমে সেখানে ডিউটি করছেন। লাশের কবরখোড়া নিয়ে কিছুটা উত্তেজনা ছিল; তবে লুটপাটের বিষয়টি আমার পুলিশ আমাকে অবগত করেনি; বিস্তারিত জেনে বলা যাবে।