• কুমিল্লা সিটি করপোরেশন
  • কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
  • আদর্শ সদর
  • বরুড়া
  • লাকসাম
  • দাউদকান্দি
  • আরও
    • চৌদ্দগ্রাম
    • সদর দক্ষিণ
    • নাঙ্গলকোট
    • বুড়িচং
    • ব্রাহ্মণপাড়া
    • মনোহরগঞ্জ
    • লালমাই
    • চান্দিনা
    • মুরাদনগর
    • দেবীদ্বার
    • হোমনা
    • মেঘনা
    • তিতাস
  • সর্বশেষ
  • রাজনীতি
  • বাংলাদেশ
  • অপরাধ
  • বিশ্ব
  • বাণিজ্য
  • মতামত
  • খেলা
  • বিনোদন
  • চাকরি
  • জীবনযাপন
  • ইপেপার
  • ইপেপার
facebooktwittertiktokpinterestyoutubelinkedininstagramgoogle
স্বত্ব: ©️ আমার শহর

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. গাজীউল হক ভূঁইয়া ( সোহাগ)।

নাহার প্লাজা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০

ই-মেইল: [email protected]

ফোন: 01716197760

> মতামত

দলীয় রাজনীতিমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় চাই

অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ
প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬, ১২: ০৫
logo

দলীয় রাজনীতিমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় চাই

অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬, ১২: ০৫
Photo

চব্বিশের ৫ আগস্টের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং হলগুলোতে ‘আমরা কোনো রাজনীতি চাই না’ এ লেখার পোস্টারগুলো সাঁটানো ছিল। সাধারণ ছাত্র বা অভিভাবকরাও বুয়েটের ছাত্র হত্যা পরবর্তীতে এ দাবিটুকু করে আসছিল। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের যে বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন— আইআইটি, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সাইন্সেস ওয়ার্ল্ড দলীয় রাজনীতির প্রভাব থেকে মুক্ত থেকে ওয়ার্ল্ড র‌্যাংকিং এ ভাল করছে। সেসব বিদ্যাপীঠে শিক্ষক ও ছাত্র রাজনীতি নাই। আর যেখানে ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতি আছে সেগুলো খুবই খারাপ করছে। ডিবেটিং ক্লাব, খেলাধুলা সাংস্কৃতিক চর্চা ইত্যাদির মধ্যে থেকে নেতৃত্ব তৈরি হতে দিলে নেতৃত্বের গুণ ও মান উভয়ই বর্ধিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। দেশের সচেতন নাগরিকগণও চায় রাজনীতি বিশেষ করে হল দখলের রাজনীতি থেকে দেশ মুক্তি পাক। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার উপর বেশি জোর দেয়ায় লেখাপড়ার মান অনেকটা উন্নত।

উন্নত বিশ্বের মতো শিল্প মালিকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সেভাবে এগিয়ে আসছে না, কারণ তারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রত্যাশিত মানবসম্পদ পাচ্ছেন না। আবার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মার্কেট সেভাবে বিবেচনা করছে না। বিসিএসের জন্য একটা অংশ মরিয়া হয়ে থাকে। তাদের বেতন কিন্তু কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের সমান। কিন্তু বিসিএসে চাকরিজীবীদের অপ্রকাশিত অনেক সম্পদের মালিক। অনেক সুযোগ-সুবিধা, ক্ষমতা ও অর্থের সুবিধা থাকাতে শিক্ষক না হয়ে অফিসার হয়। আমাদের কত গ্রাজুয়েট দরকার, কতগুলো ডিপার্টমেন্ট কীভাবে পরিচালিত হবে তার জন্য কোনো শিক্ষনীতি না থাকার কারণে আমলা—মন্ত্রীরাই এখন শিক্ষাবিদ হয়ে শিক্ষার লাটিম ঘুরাচ্ছেন।

বিদেশের তুলনায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বেতন অত্যন্ত কম। শুধু বাইরের বিশ্ববিদ্যালয় নয় আমাদের অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বেতন অর্ধেক বা তিন ভাগের একভাগ। ক্লাসের প্রথমদিকে যারা থাকে তাদের অধিকাংশই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে চান না। কেউ প্রভাষক পদে নিয়োগ পেলে পিএইচডি করতে গিয়ে আর ফিরে আসতে চান না। আবার অনেকের সঙ্গে আলাপ করে দেখা যায় পার্ট টাইম শিক্ষকতায় ব্যস্ত থাকে।

সংসারে যোগান দিতে হয় বলে পার্ট টাইম শিক্ষকতা করো না এ কথাও বলা যায় না। যার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভালো শিক্ষার্থীরা এখন শিক্ষক হতে চায় না। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক এখনও ১০০ বছর আগের অবস্থায়ই রয়ে গেছে। সেই মাস্টার্স পাস করলেই প্রভাষক হওয়া যায়। কিন্তু উন্নত বিশ্বে এমফিল, ডক্টরেট ও পোস্ট ডক্টরেল ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার সুযোগ নাই। বেতনের পরিমাণ কমপক্ষে বর্তমানের তিনগুণ এবং সঙ্গে গবেষণা থাকলে বেতনের সমান গবেষণা ভাতা চালু করা উচিত। শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষার মানোন্নয়নের দায়িত্ব ইউজিসিকে দিয়ে দিলে এবং উপাচার্যের দলীয় নিয়োগ বাতিল হলে বিশ্ব র‌্যাংকিং এ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও এগিয়ে যাবে।

দেশের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা যেখানে চার লাখ টাকা বেতন পান সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা বেতন পান তার চার বা তিন ভাগের একভাগ। এজন্য তারা অন্যত্র সময় দেন। ৪০ হাজার ছাত্রের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ৯৪৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা (প্রায়) দেয়া হয়েছে। দেশের ৫৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ইউজিসি আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর ব্যয় নির্বাহে মোট ১২ হাজার ৩০০ কোটি ৪ লাখ টাকা বা এক বিলিয়ন ডলার বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে। অথচ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একারই বাজেট ৬.৭ বিলিয়ন ডলার। আমাদের দেশ গরিব তাই বলে কি হার্ভার্ডের দশ ভাগের একভাগও দিবেন না।

বর্তমানে বরাদ্দকৃত বাজেট খুবই নগণ্য। আবার এ বাজেটের সিংহ ভাগই চলে যায় শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন ভাতায়। যৎসামান্য থাকে গবেষণার জন্য যা দিয়ে সেরকম গবেষণা অর্জন করা যাচ্ছে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মশালায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, রাজনৈতিকভাবে শিক্ষক নিয়োগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পিছিয়ে গিয়েছে। একজন শিক্ষক অন্তত ৩৫ বছর ছাত্রদের পাঠদান করেন। মান ঠিক না থাকলে এ দীর্ঘ সময় শিক্ষার্থীরা ভুগবে। আজকের বিশ্ববিদ্যালয়ের মান খারাপ হওয়ার এটি একটি বড় কারণ, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগে সারাবিশ্বে তিন থেকে চারটি স্তর থাকে। আমাদের সিস্টেম শুধুমাত্র উপাচার্যই রাজনৈতিক সহায়তায় শিক্ষক নিয়োগ নিয়ন্ত্রণ করেন।

সরকারও বুঝে ফেলেছেন উপাচার্যকে নিয়ন্ত্রণ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এইচএসসি পড়ানোর জন্য একজন গ্রাজুয়েট শিক্ষকই যথেষ্ট কিন্তু মাস্টার্স পড়ানোর জন্য নিদেনপক্ষে একজন এমফিলধারী বা পিএইচডি মানের শিক্ষকের প্রয়োজন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আর এইচএসসি মানের শিক্ষক আলাদ হওয়া উচিত।

আবার ইউনিভার্সিটিগুলোও সবগুলিতে আন্ডার গ্রাজুয়েশন থাকা উচিত নয়, যেমন— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েটে থাকবে মাস্টার্স, এমফিল, পিএইচডি এবং পোস্ট ডক্টরেল। এমনকি ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। পোস্ট গ্রাজুয়েট থেকে উপরের মানে পড়ানোর শিক্ষকদের একশ্রেণির অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বর্ধিত বেতনে অন্তর্ভুক্ত করে গুণাবলী বর্ধনে উদ্যোগ নিয়ে মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা অচিরেই চালু না করলে জাতি অধঃপতনের দিকে যাত্রা করবে। বর্তমানে শিক্ষকদের মান বাড়ানোর জন্য বাইরে অবস্থিত আমাদের অভিজ্ঞ শিক্ষকসমূহের বিভিন্ন কোর্সে পার্ট টাইম শিক্ষক বা অনলাইন দূরশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে বর্তমান চাকুরিরত শিক্ষকদের মান বাড়ানো যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক অভিজ্ঞ শিক্ষক আছেন যারা স্বল্প ভাতায় উন্নত গবেষণা পরিচালনা করছেন তাদেরকেও শিক্ষকদের মান ও ডিগ্রি উন্নয়নের সহায়তায় নেয়া যায়। বেশ কিছু কলেজে অনার্স ও পোস্ট গ্রেড কোর্স চালু আছে একইভাবে তাদের মান ও গুণ বর্ধিত করে আমদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকেও ওয়ার্ল্ড র‌্যাংকিংয়ের উপরের দিকে আনয়ন করা যায়।

বহির্বিশ্বের অধ্যাপকগণকে গেস্ট টিচার হিসাবে এনেও এ কাজটি সম্ভব। এতে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শিক্ষার্থীরা এগিয়ে যেতে পারত। এখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি উদাহরণ হিসাবে বলা হয়েছে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে একই আদলে আনা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে তৈরি করা হয়েছে। সেই প্রাচ্যের অক্সফোর্ড শুনলে অনেকে বিদ্রুপ বলে ভাবে। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং সর্বশেষ জুলাই অভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবদান অপরিসীম।

সকল আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়টির নেতৃত্ব অতুলনীয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম হবে পড়াশুনা আর গবেষণা দিয়ে। এ আকর্ষণ নিয়ে ছাত্র-শিক্ষক, আমলা, রাজনীতিবিদ সবাই এখন থেকেই লেগে পরা জাতির জন্য একান্ত আবশ্যকীয়। আমলারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই তৈরি হয় তাই তাদের চেয়ে উচ্চমানের জ্ঞানী, গুণীজন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাই হবেন সমাজের, জাতির উন্নয়নের চাবিকাঠি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়কে এখন বিশ্বমানদন্ডের বিচারে যুগোপযোগী কর্মপন্থা নির্ধারণ করা জরুরি। গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে হৃতগৌরব পুনরুদ্ধারে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের সাধনা ও সদিচ্ছা চাই। আর তাদের দিতে হবে রাষ্ট্রীয় উৎসাহ, সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা।

অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ: সাবেক অধ্যক্ষ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ

Thumbnail image

চব্বিশের ৫ আগস্টের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং হলগুলোতে ‘আমরা কোনো রাজনীতি চাই না’ এ লেখার পোস্টারগুলো সাঁটানো ছিল। সাধারণ ছাত্র বা অভিভাবকরাও বুয়েটের ছাত্র হত্যা পরবর্তীতে এ দাবিটুকু করে আসছিল। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের যে বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন— আইআইটি, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সাইন্সেস ওয়ার্ল্ড দলীয় রাজনীতির প্রভাব থেকে মুক্ত থেকে ওয়ার্ল্ড র‌্যাংকিং এ ভাল করছে। সেসব বিদ্যাপীঠে শিক্ষক ও ছাত্র রাজনীতি নাই। আর যেখানে ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতি আছে সেগুলো খুবই খারাপ করছে। ডিবেটিং ক্লাব, খেলাধুলা সাংস্কৃতিক চর্চা ইত্যাদির মধ্যে থেকে নেতৃত্ব তৈরি হতে দিলে নেতৃত্বের গুণ ও মান উভয়ই বর্ধিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। দেশের সচেতন নাগরিকগণও চায় রাজনীতি বিশেষ করে হল দখলের রাজনীতি থেকে দেশ মুক্তি পাক। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার উপর বেশি জোর দেয়ায় লেখাপড়ার মান অনেকটা উন্নত।

উন্নত বিশ্বের মতো শিল্প মালিকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সেভাবে এগিয়ে আসছে না, কারণ তারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রত্যাশিত মানবসম্পদ পাচ্ছেন না। আবার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মার্কেট সেভাবে বিবেচনা করছে না। বিসিএসের জন্য একটা অংশ মরিয়া হয়ে থাকে। তাদের বেতন কিন্তু কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের সমান। কিন্তু বিসিএসে চাকরিজীবীদের অপ্রকাশিত অনেক সম্পদের মালিক। অনেক সুযোগ-সুবিধা, ক্ষমতা ও অর্থের সুবিধা থাকাতে শিক্ষক না হয়ে অফিসার হয়। আমাদের কত গ্রাজুয়েট দরকার, কতগুলো ডিপার্টমেন্ট কীভাবে পরিচালিত হবে তার জন্য কোনো শিক্ষনীতি না থাকার কারণে আমলা—মন্ত্রীরাই এখন শিক্ষাবিদ হয়ে শিক্ষার লাটিম ঘুরাচ্ছেন।

বিদেশের তুলনায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বেতন অত্যন্ত কম। শুধু বাইরের বিশ্ববিদ্যালয় নয় আমাদের অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বেতন অর্ধেক বা তিন ভাগের একভাগ। ক্লাসের প্রথমদিকে যারা থাকে তাদের অধিকাংশই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে চান না। কেউ প্রভাষক পদে নিয়োগ পেলে পিএইচডি করতে গিয়ে আর ফিরে আসতে চান না। আবার অনেকের সঙ্গে আলাপ করে দেখা যায় পার্ট টাইম শিক্ষকতায় ব্যস্ত থাকে।

সংসারে যোগান দিতে হয় বলে পার্ট টাইম শিক্ষকতা করো না এ কথাও বলা যায় না। যার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভালো শিক্ষার্থীরা এখন শিক্ষক হতে চায় না। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক এখনও ১০০ বছর আগের অবস্থায়ই রয়ে গেছে। সেই মাস্টার্স পাস করলেই প্রভাষক হওয়া যায়। কিন্তু উন্নত বিশ্বে এমফিল, ডক্টরেট ও পোস্ট ডক্টরেল ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার সুযোগ নাই। বেতনের পরিমাণ কমপক্ষে বর্তমানের তিনগুণ এবং সঙ্গে গবেষণা থাকলে বেতনের সমান গবেষণা ভাতা চালু করা উচিত। শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষার মানোন্নয়নের দায়িত্ব ইউজিসিকে দিয়ে দিলে এবং উপাচার্যের দলীয় নিয়োগ বাতিল হলে বিশ্ব র‌্যাংকিং এ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও এগিয়ে যাবে।

দেশের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা যেখানে চার লাখ টাকা বেতন পান সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা বেতন পান তার চার বা তিন ভাগের একভাগ। এজন্য তারা অন্যত্র সময় দেন। ৪০ হাজার ছাত্রের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ৯৪৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা (প্রায়) দেয়া হয়েছে। দেশের ৫৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ইউজিসি আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর ব্যয় নির্বাহে মোট ১২ হাজার ৩০০ কোটি ৪ লাখ টাকা বা এক বিলিয়ন ডলার বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে। অথচ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একারই বাজেট ৬.৭ বিলিয়ন ডলার। আমাদের দেশ গরিব তাই বলে কি হার্ভার্ডের দশ ভাগের একভাগও দিবেন না।

বর্তমানে বরাদ্দকৃত বাজেট খুবই নগণ্য। আবার এ বাজেটের সিংহ ভাগই চলে যায় শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন ভাতায়। যৎসামান্য থাকে গবেষণার জন্য যা দিয়ে সেরকম গবেষণা অর্জন করা যাচ্ছে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মশালায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, রাজনৈতিকভাবে শিক্ষক নিয়োগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পিছিয়ে গিয়েছে। একজন শিক্ষক অন্তত ৩৫ বছর ছাত্রদের পাঠদান করেন। মান ঠিক না থাকলে এ দীর্ঘ সময় শিক্ষার্থীরা ভুগবে। আজকের বিশ্ববিদ্যালয়ের মান খারাপ হওয়ার এটি একটি বড় কারণ, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগে সারাবিশ্বে তিন থেকে চারটি স্তর থাকে। আমাদের সিস্টেম শুধুমাত্র উপাচার্যই রাজনৈতিক সহায়তায় শিক্ষক নিয়োগ নিয়ন্ত্রণ করেন।

সরকারও বুঝে ফেলেছেন উপাচার্যকে নিয়ন্ত্রণ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এইচএসসি পড়ানোর জন্য একজন গ্রাজুয়েট শিক্ষকই যথেষ্ট কিন্তু মাস্টার্স পড়ানোর জন্য নিদেনপক্ষে একজন এমফিলধারী বা পিএইচডি মানের শিক্ষকের প্রয়োজন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আর এইচএসসি মানের শিক্ষক আলাদ হওয়া উচিত।

আবার ইউনিভার্সিটিগুলোও সবগুলিতে আন্ডার গ্রাজুয়েশন থাকা উচিত নয়, যেমন— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েটে থাকবে মাস্টার্স, এমফিল, পিএইচডি এবং পোস্ট ডক্টরেল। এমনকি ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। পোস্ট গ্রাজুয়েট থেকে উপরের মানে পড়ানোর শিক্ষকদের একশ্রেণির অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বর্ধিত বেতনে অন্তর্ভুক্ত করে গুণাবলী বর্ধনে উদ্যোগ নিয়ে মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা অচিরেই চালু না করলে জাতি অধঃপতনের দিকে যাত্রা করবে। বর্তমানে শিক্ষকদের মান বাড়ানোর জন্য বাইরে অবস্থিত আমাদের অভিজ্ঞ শিক্ষকসমূহের বিভিন্ন কোর্সে পার্ট টাইম শিক্ষক বা অনলাইন দূরশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে বর্তমান চাকুরিরত শিক্ষকদের মান বাড়ানো যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক অভিজ্ঞ শিক্ষক আছেন যারা স্বল্প ভাতায় উন্নত গবেষণা পরিচালনা করছেন তাদেরকেও শিক্ষকদের মান ও ডিগ্রি উন্নয়নের সহায়তায় নেয়া যায়। বেশ কিছু কলেজে অনার্স ও পোস্ট গ্রেড কোর্স চালু আছে একইভাবে তাদের মান ও গুণ বর্ধিত করে আমদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকেও ওয়ার্ল্ড র‌্যাংকিংয়ের উপরের দিকে আনয়ন করা যায়।

বহির্বিশ্বের অধ্যাপকগণকে গেস্ট টিচার হিসাবে এনেও এ কাজটি সম্ভব। এতে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শিক্ষার্থীরা এগিয়ে যেতে পারত। এখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি উদাহরণ হিসাবে বলা হয়েছে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে একই আদলে আনা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে তৈরি করা হয়েছে। সেই প্রাচ্যের অক্সফোর্ড শুনলে অনেকে বিদ্রুপ বলে ভাবে। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং সর্বশেষ জুলাই অভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবদান অপরিসীম।

সকল আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়টির নেতৃত্ব অতুলনীয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম হবে পড়াশুনা আর গবেষণা দিয়ে। এ আকর্ষণ নিয়ে ছাত্র-শিক্ষক, আমলা, রাজনীতিবিদ সবাই এখন থেকেই লেগে পরা জাতির জন্য একান্ত আবশ্যকীয়। আমলারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই তৈরি হয় তাই তাদের চেয়ে উচ্চমানের জ্ঞানী, গুণীজন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাই হবেন সমাজের, জাতির উন্নয়নের চাবিকাঠি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়কে এখন বিশ্বমানদন্ডের বিচারে যুগোপযোগী কর্মপন্থা নির্ধারণ করা জরুরি। গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে হৃতগৌরব পুনরুদ্ধারে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের সাধনা ও সদিচ্ছা চাই। আর তাদের দিতে হবে রাষ্ট্রীয় উৎসাহ, সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা।

অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ: সাবেক অধ্যক্ষ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

১

দলীয় রাজনীতিমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় চাই

২

জেলার চেহারা বদলে যাচ্ছে

৩

দেশে বনভূমির প্রয়োজনীয়তা

৪

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০২৬: ভিন্ন পরিস্থিতিতে কাক্সিক্ষত ফলাফল নিশ্চিতে শিক্ষার্থীদের করণীয়

৫

প্রেমময় নিঃস্বার্থ নির্মল বন্ধুত্ব অমলিন, মায়া মমতা ভালোবাসায় বেঁচে থাক চিরদিন

সম্পর্কিত

জেলার চেহারা বদলে যাচ্ছে

জেলার চেহারা বদলে যাচ্ছে

৭ দিন আগে
দেশে বনভূমির প্রয়োজনীয়তা

দেশে বনভূমির প্রয়োজনীয়তা

১৪ দিন আগে
উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০২৬: ভিন্ন পরিস্থিতিতে কাক্সিক্ষত ফলাফল নিশ্চিতে শিক্ষার্থীদের করণীয়

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০২৬: ভিন্ন পরিস্থিতিতে কাক্সিক্ষত ফলাফল নিশ্চিতে শিক্ষার্থীদের করণীয়

১৬ দিন আগে
প্রেমময় নিঃস্বার্থ নির্মল বন্ধুত্ব অমলিন, 
মায়া মমতা ভালোবাসায় বেঁচে থাক চিরদিন

প্রেমময় নিঃস্বার্থ নির্মল বন্ধুত্ব অমলিন, মায়া মমতা ভালোবাসায় বেঁচে থাক চিরদিন

২২ দিন আগে