• কুমিল্লা সিটি করপোরেশন
  • কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
  • আদর্শ সদর
  • বরুড়া
  • লাকসাম
  • দাউদকান্দি
  • আরও
    • চৌদ্দগ্রাম
    • সদর দক্ষিণ
    • নাঙ্গলকোট
    • বুড়িচং
    • ব্রাহ্মণপাড়া
    • মনোহরগঞ্জ
    • লালমাই
    • চান্দিনা
    • মুরাদনগর
    • দেবীদ্বার
    • হোমনা
    • মেঘনা
    • তিতাস
  • সর্বশেষ
  • রাজনীতি
  • বাংলাদেশ
  • অপরাধ
  • বিশ্ব
  • বাণিজ্য
  • মতামত
  • খেলা
  • বিনোদন
  • চাকরি
  • জীবনযাপন
  • ইপেপার
  • ইপেপার
facebooktwittertiktokpinterestyoutubelinkedininstagramgoogle
স্বত্ব: ©️ আমার শহর

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. গাজীউল হক ভূঁইয়া ( সোহাগ)।

নাহার প্লাজা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০

ই-মেইল: [email protected]

ফোন: 01716197760

> মতামত

দেশে বনভূমির প্রয়োজনীয়তা

অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ
প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৬, ১১: ৩৯
logo

দেশে বনভূমির প্রয়োজনীয়তা

অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ

প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৬, ১১: ৩৯
Photo

দেশে পরিবেশগত ভারসাম্য, আবহাওয়া, আলো বাতাস, জীববৈচিত্র্য সুরক্ষার জন্য সামগ্রিক আয়তনের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বনভূমি থাকা উচিত। কিন্তু আমাদের দেশে বর্ধিষ্ণু লোকসংখ্যার জন্য বসতবাড়ি, খাদ্য উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত জমি এবং নানা প্রয়োজনে বন উজাড় হচ্ছে এবং দেশের মোট আয়তনের ২৫-৩০ শতাংশ বনভূমি এখন অনেকটাই অচিন্তনীয়।

এখন বাস্তবতার নিরিখে পরিবেশবিদরা দেশের বনাঞ্চলে রক্ষার তাগিদ দিচ্ছেন। শুধু দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দেশের আয়তনের তুলনায় বনভূমির পর্যালোচনায় দেখা যায়, ভুটানে দেশটির আয়তনের তুলনায় প্রায় ৭০-৭১ শতাংশ বনভূমি। ছায়াঘেরা, ঘুঘুডাকা, সুজনা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা আমাদের এ জন্মভূমি এমন কথা বলা হলেও দেশে বনভূমির অবস্থা খুবই নাজুক। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট ভূখণ্ডের মাত্র ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ বনভূমি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা আরেকটু কমিয়ে ১২ শতাংশও বলেন বনবিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টজন। যদিও বন অধিদপ্তরের হিসেব মতে দেশে বনভূমি ২.৫৭ মিলিয়ন হেক্টর, যা দেশের প্রায় ১৭.৩ শতাংশ। শুধু তাই নয় বাংলাদেশ বিশ্বে অন্যতম সর্বোচ্চ জনসংখ্যা ঘনত্বের দেশ যেখানে মাথাপিছু বনভূমির পরিমাণও অত্যন্ত কম। অন্যদিকে নেপালে বনভূমি ৪৬%, শ্রীলংকায় ৩৪.১% এবং ভারতে ২৪.৬২% বনভূমি। তবে বাংলাদেশের তুলনায় কম বনভূমি আছে পাকিস্তানে ৫.২% মালদ্বীপে আছে ৩.৩% এবং আফগানিস্তানে মাত্র ২.৮%।

কাগজে কলমে বই খাতায় বর্তমানে আমাদের বনভূমি দেশের মোট ভূখÐের ১৭ শতাংশ বলা হলেও যতটুকু তথ্য প্রমাণে পাওয়া যায় তা হচ্ছে ১১-১২ শতাংশ। তবে এ বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত কোনো ডাটা নাই। দেশে বনের যে নিধন সেটি পুরোপুরি ইচ্ছাকৃতভাবে হচ্ছে এমনটি নয়। দেশে যে হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে তাদের জন্য বাড়তি উৎপাদনের জন্য আরও কৃষি জমি, বসতবাড়ির জন্য আরও জমির প্রয়োজন হয়েছে।

দেশে শিল্পায়নের জন্যেও নতুন নতুন জমির প্রয়োজন হয়েছে। যে কারণে অনেক বনভূমি উজাড় হয়েছে। গত ১৫-২০ বছরে গাছপালা রোপণের প্রবণতাও মানুষের মধ্যে বেড়েছে। গাছ লাগাও পরিবেশ বাঁচাও -এ পরিবেশ আন্দোলনেও বৃক্ষরোপণ অনেক বেড়েছে। সরকারেরও নানা উদ্যোগ আছে। সরকার চাচ্ছে আগামী ৫ বছরে ৫ কোটি গাছ রোপণ করতে। কিন্তু তারপরও সব দিক বিবেচনায় দেশের বনভূমি মোট ভূখণ্ডের ২৫ শতাংশ উন্নীত করা যাবে বলে মনে হচ্ছে না। শুধু গাছ রোপণ করলে বা বনায়ন বাড়ালেই প্রাকৃতিক নানা বিপর্যয় বন্যা, খরা, চরম অস্বাভাবিক আবহাওয়া থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে এমনটা নয়। কারণ এখানে বৈশি^কভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের নানা বিষয়গুলো জড়িত। তবে সাধারণভাবে মানুষ পরিবেশ নিয়ে অনেক সচেতন সেটি বলারও কোনো উপায় নাই।

নানা তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিগত দুই দশকে বাংলাদেশে প্রায় ৮০৩৯ হেক্টর প্রাথমিক বনভূমি হ্রাস পেয়েছে। যা এ ধরনের প্রাকৃতিক বনভূমির মোট পরিমাণের প্রায় ৮.৭ শতাংশ। সরকারিভাবে গাছ লাগানোর কথা বলা হলেও বনভূমির আয়তন বাড়ানোর ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। এদিকে সরকারের নজর দেয়া একান্ত প্রয়োজন। যত নতুন চর জাগবে সেখানে গাছ লাগিয়ে বনভূমির আয়তন বাড়ানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। মনে রাখবেন, সুন্দরবন যেভাবে ঝড়-তুফান-সাইক্লোনে বসতি রক্ষায় ঢালস্বরূপ দাঁড়ায়, নতুন করে গড়ে ওঠা বনও বাংলাদেশের জনবসতি রক্ষায় ঢাল হয়ে দাঁড়াবে।

অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ: সাবেক অধ্যক্ষ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ

Thumbnail image

দেশে পরিবেশগত ভারসাম্য, আবহাওয়া, আলো বাতাস, জীববৈচিত্র্য সুরক্ষার জন্য সামগ্রিক আয়তনের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বনভূমি থাকা উচিত। কিন্তু আমাদের দেশে বর্ধিষ্ণু লোকসংখ্যার জন্য বসতবাড়ি, খাদ্য উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত জমি এবং নানা প্রয়োজনে বন উজাড় হচ্ছে এবং দেশের মোট আয়তনের ২৫-৩০ শতাংশ বনভূমি এখন অনেকটাই অচিন্তনীয়।

এখন বাস্তবতার নিরিখে পরিবেশবিদরা দেশের বনাঞ্চলে রক্ষার তাগিদ দিচ্ছেন। শুধু দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দেশের আয়তনের তুলনায় বনভূমির পর্যালোচনায় দেখা যায়, ভুটানে দেশটির আয়তনের তুলনায় প্রায় ৭০-৭১ শতাংশ বনভূমি। ছায়াঘেরা, ঘুঘুডাকা, সুজনা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা আমাদের এ জন্মভূমি এমন কথা বলা হলেও দেশে বনভূমির অবস্থা খুবই নাজুক। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট ভূখণ্ডের মাত্র ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ বনভূমি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা আরেকটু কমিয়ে ১২ শতাংশও বলেন বনবিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টজন। যদিও বন অধিদপ্তরের হিসেব মতে দেশে বনভূমি ২.৫৭ মিলিয়ন হেক্টর, যা দেশের প্রায় ১৭.৩ শতাংশ। শুধু তাই নয় বাংলাদেশ বিশ্বে অন্যতম সর্বোচ্চ জনসংখ্যা ঘনত্বের দেশ যেখানে মাথাপিছু বনভূমির পরিমাণও অত্যন্ত কম। অন্যদিকে নেপালে বনভূমি ৪৬%, শ্রীলংকায় ৩৪.১% এবং ভারতে ২৪.৬২% বনভূমি। তবে বাংলাদেশের তুলনায় কম বনভূমি আছে পাকিস্তানে ৫.২% মালদ্বীপে আছে ৩.৩% এবং আফগানিস্তানে মাত্র ২.৮%।

কাগজে কলমে বই খাতায় বর্তমানে আমাদের বনভূমি দেশের মোট ভূখÐের ১৭ শতাংশ বলা হলেও যতটুকু তথ্য প্রমাণে পাওয়া যায় তা হচ্ছে ১১-১২ শতাংশ। তবে এ বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত কোনো ডাটা নাই। দেশে বনের যে নিধন সেটি পুরোপুরি ইচ্ছাকৃতভাবে হচ্ছে এমনটি নয়। দেশে যে হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে তাদের জন্য বাড়তি উৎপাদনের জন্য আরও কৃষি জমি, বসতবাড়ির জন্য আরও জমির প্রয়োজন হয়েছে।

দেশে শিল্পায়নের জন্যেও নতুন নতুন জমির প্রয়োজন হয়েছে। যে কারণে অনেক বনভূমি উজাড় হয়েছে। গত ১৫-২০ বছরে গাছপালা রোপণের প্রবণতাও মানুষের মধ্যে বেড়েছে। গাছ লাগাও পরিবেশ বাঁচাও -এ পরিবেশ আন্দোলনেও বৃক্ষরোপণ অনেক বেড়েছে। সরকারেরও নানা উদ্যোগ আছে। সরকার চাচ্ছে আগামী ৫ বছরে ৫ কোটি গাছ রোপণ করতে। কিন্তু তারপরও সব দিক বিবেচনায় দেশের বনভূমি মোট ভূখণ্ডের ২৫ শতাংশ উন্নীত করা যাবে বলে মনে হচ্ছে না। শুধু গাছ রোপণ করলে বা বনায়ন বাড়ালেই প্রাকৃতিক নানা বিপর্যয় বন্যা, খরা, চরম অস্বাভাবিক আবহাওয়া থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে এমনটা নয়। কারণ এখানে বৈশি^কভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের নানা বিষয়গুলো জড়িত। তবে সাধারণভাবে মানুষ পরিবেশ নিয়ে অনেক সচেতন সেটি বলারও কোনো উপায় নাই।

নানা তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিগত দুই দশকে বাংলাদেশে প্রায় ৮০৩৯ হেক্টর প্রাথমিক বনভূমি হ্রাস পেয়েছে। যা এ ধরনের প্রাকৃতিক বনভূমির মোট পরিমাণের প্রায় ৮.৭ শতাংশ। সরকারিভাবে গাছ লাগানোর কথা বলা হলেও বনভূমির আয়তন বাড়ানোর ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। এদিকে সরকারের নজর দেয়া একান্ত প্রয়োজন। যত নতুন চর জাগবে সেখানে গাছ লাগিয়ে বনভূমির আয়তন বাড়ানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। মনে রাখবেন, সুন্দরবন যেভাবে ঝড়-তুফান-সাইক্লোনে বসতি রক্ষায় ঢালস্বরূপ দাঁড়ায়, নতুন করে গড়ে ওঠা বনও বাংলাদেশের জনবসতি রক্ষায় ঢাল হয়ে দাঁড়াবে।

অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ: সাবেক অধ্যক্ষ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

১

জেলার চেহারা বদলে যাচ্ছে

২

দেশে বনভূমির প্রয়োজনীয়তা

৩

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০২৬: ভিন্ন পরিস্থিতিতে কাক্সিক্ষত ফলাফল নিশ্চিতে শিক্ষার্থীদের করণীয়

৪

প্রেমময় নিঃস্বার্থ নির্মল বন্ধুত্ব অমলিন, মায়া মমতা ভালোবাসায় বেঁচে থাক চিরদিন

৫

মিথ্যা, মাদক, বেয়াদবি ও না বুঝে মুখস্থ করাকে ‘না’ বলি

সম্পর্কিত

জেলার চেহারা বদলে যাচ্ছে

জেলার চেহারা বদলে যাচ্ছে

৫ দিন আগে
উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০২৬: ভিন্ন পরিস্থিতিতে কাক্সিক্ষত ফলাফল নিশ্চিতে শিক্ষার্থীদের করণীয়

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০২৬: ভিন্ন পরিস্থিতিতে কাক্সিক্ষত ফলাফল নিশ্চিতে শিক্ষার্থীদের করণীয়

১৪ দিন আগে
প্রেমময় নিঃস্বার্থ নির্মল বন্ধুত্ব অমলিন, 
মায়া মমতা ভালোবাসায় বেঁচে থাক চিরদিন

প্রেমময় নিঃস্বার্থ নির্মল বন্ধুত্ব অমলিন, মায়া মমতা ভালোবাসায় বেঁচে থাক চিরদিন

১৯ দিন আগে
মিথ্যা, মাদক, বেয়াদবি ও না বুঝে মুখস্থ করাকে ‘না’ বলি

মিথ্যা, মাদক, বেয়াদবি ও না বুঝে মুখস্থ করাকে ‘না’ বলি

১৫ জুন ২০২৬