অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ

দেশে পরিবেশগত ভারসাম্য, আবহাওয়া, আলো বাতাস, জীববৈচিত্র্য সুরক্ষার জন্য সামগ্রিক আয়তনের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বনভূমি থাকা উচিত। কিন্তু আমাদের দেশে বর্ধিষ্ণু লোকসংখ্যার জন্য বসতবাড়ি, খাদ্য উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত জমি এবং নানা প্রয়োজনে বন উজাড় হচ্ছে এবং দেশের মোট আয়তনের ২৫-৩০ শতাংশ বনভূমি এখন অনেকটাই অচিন্তনীয়।
এখন বাস্তবতার নিরিখে পরিবেশবিদরা দেশের বনাঞ্চলে রক্ষার তাগিদ দিচ্ছেন। শুধু দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দেশের আয়তনের তুলনায় বনভূমির পর্যালোচনায় দেখা যায়, ভুটানে দেশটির আয়তনের তুলনায় প্রায় ৭০-৭১ শতাংশ বনভূমি। ছায়াঘেরা, ঘুঘুডাকা, সুজনা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা আমাদের এ জন্মভূমি এমন কথা বলা হলেও দেশে বনভূমির অবস্থা খুবই নাজুক। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট ভূখণ্ডের মাত্র ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ বনভূমি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা আরেকটু কমিয়ে ১২ শতাংশও বলেন বনবিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টজন। যদিও বন অধিদপ্তরের হিসেব মতে দেশে বনভূমি ২.৫৭ মিলিয়ন হেক্টর, যা দেশের প্রায় ১৭.৩ শতাংশ। শুধু তাই নয় বাংলাদেশ বিশ্বে অন্যতম সর্বোচ্চ জনসংখ্যা ঘনত্বের দেশ যেখানে মাথাপিছু বনভূমির পরিমাণও অত্যন্ত কম। অন্যদিকে নেপালে বনভূমি ৪৬%, শ্রীলংকায় ৩৪.১% এবং ভারতে ২৪.৬২% বনভূমি। তবে বাংলাদেশের তুলনায় কম বনভূমি আছে পাকিস্তানে ৫.২% মালদ্বীপে আছে ৩.৩% এবং আফগানিস্তানে মাত্র ২.৮%।
কাগজে কলমে বই খাতায় বর্তমানে আমাদের বনভূমি দেশের মোট ভূখÐের ১৭ শতাংশ বলা হলেও যতটুকু তথ্য প্রমাণে পাওয়া যায় তা হচ্ছে ১১-১২ শতাংশ। তবে এ বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত কোনো ডাটা নাই। দেশে বনের যে নিধন সেটি পুরোপুরি ইচ্ছাকৃতভাবে হচ্ছে এমনটি নয়। দেশে যে হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে তাদের জন্য বাড়তি উৎপাদনের জন্য আরও কৃষি জমি, বসতবাড়ির জন্য আরও জমির প্রয়োজন হয়েছে।
দেশে শিল্পায়নের জন্যেও নতুন নতুন জমির প্রয়োজন হয়েছে। যে কারণে অনেক বনভূমি উজাড় হয়েছে। গত ১৫-২০ বছরে গাছপালা রোপণের প্রবণতাও মানুষের মধ্যে বেড়েছে। গাছ লাগাও পরিবেশ বাঁচাও -এ পরিবেশ আন্দোলনেও বৃক্ষরোপণ অনেক বেড়েছে। সরকারেরও নানা উদ্যোগ আছে। সরকার চাচ্ছে আগামী ৫ বছরে ৫ কোটি গাছ রোপণ করতে। কিন্তু তারপরও সব দিক বিবেচনায় দেশের বনভূমি মোট ভূখণ্ডের ২৫ শতাংশ উন্নীত করা যাবে বলে মনে হচ্ছে না। শুধু গাছ রোপণ করলে বা বনায়ন বাড়ালেই প্রাকৃতিক নানা বিপর্যয় বন্যা, খরা, চরম অস্বাভাবিক আবহাওয়া থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে এমনটা নয়। কারণ এখানে বৈশি^কভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের নানা বিষয়গুলো জড়িত। তবে সাধারণভাবে মানুষ পরিবেশ নিয়ে অনেক সচেতন সেটি বলারও কোনো উপায় নাই।
নানা তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিগত দুই দশকে বাংলাদেশে প্রায় ৮০৩৯ হেক্টর প্রাথমিক বনভূমি হ্রাস পেয়েছে। যা এ ধরনের প্রাকৃতিক বনভূমির মোট পরিমাণের প্রায় ৮.৭ শতাংশ। সরকারিভাবে গাছ লাগানোর কথা বলা হলেও বনভূমির আয়তন বাড়ানোর ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। এদিকে সরকারের নজর দেয়া একান্ত প্রয়োজন। যত নতুন চর জাগবে সেখানে গাছ লাগিয়ে বনভূমির আয়তন বাড়ানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। মনে রাখবেন, সুন্দরবন যেভাবে ঝড়-তুফান-সাইক্লোনে বসতি রক্ষায় ঢালস্বরূপ দাঁড়ায়, নতুন করে গড়ে ওঠা বনও বাংলাদেশের জনবসতি রক্ষায় ঢাল হয়ে দাঁড়াবে।
অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ: সাবেক অধ্যক্ষ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ

দেশে পরিবেশগত ভারসাম্য, আবহাওয়া, আলো বাতাস, জীববৈচিত্র্য সুরক্ষার জন্য সামগ্রিক আয়তনের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বনভূমি থাকা উচিত। কিন্তু আমাদের দেশে বর্ধিষ্ণু লোকসংখ্যার জন্য বসতবাড়ি, খাদ্য উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত জমি এবং নানা প্রয়োজনে বন উজাড় হচ্ছে এবং দেশের মোট আয়তনের ২৫-৩০ শতাংশ বনভূমি এখন অনেকটাই অচিন্তনীয়।
এখন বাস্তবতার নিরিখে পরিবেশবিদরা দেশের বনাঞ্চলে রক্ষার তাগিদ দিচ্ছেন। শুধু দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দেশের আয়তনের তুলনায় বনভূমির পর্যালোচনায় দেখা যায়, ভুটানে দেশটির আয়তনের তুলনায় প্রায় ৭০-৭১ শতাংশ বনভূমি। ছায়াঘেরা, ঘুঘুডাকা, সুজনা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা আমাদের এ জন্মভূমি এমন কথা বলা হলেও দেশে বনভূমির অবস্থা খুবই নাজুক। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট ভূখণ্ডের মাত্র ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ বনভূমি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা আরেকটু কমিয়ে ১২ শতাংশও বলেন বনবিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টজন। যদিও বন অধিদপ্তরের হিসেব মতে দেশে বনভূমি ২.৫৭ মিলিয়ন হেক্টর, যা দেশের প্রায় ১৭.৩ শতাংশ। শুধু তাই নয় বাংলাদেশ বিশ্বে অন্যতম সর্বোচ্চ জনসংখ্যা ঘনত্বের দেশ যেখানে মাথাপিছু বনভূমির পরিমাণও অত্যন্ত কম। অন্যদিকে নেপালে বনভূমি ৪৬%, শ্রীলংকায় ৩৪.১% এবং ভারতে ২৪.৬২% বনভূমি। তবে বাংলাদেশের তুলনায় কম বনভূমি আছে পাকিস্তানে ৫.২% মালদ্বীপে আছে ৩.৩% এবং আফগানিস্তানে মাত্র ২.৮%।
কাগজে কলমে বই খাতায় বর্তমানে আমাদের বনভূমি দেশের মোট ভূখÐের ১৭ শতাংশ বলা হলেও যতটুকু তথ্য প্রমাণে পাওয়া যায় তা হচ্ছে ১১-১২ শতাংশ। তবে এ বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত কোনো ডাটা নাই। দেশে বনের যে নিধন সেটি পুরোপুরি ইচ্ছাকৃতভাবে হচ্ছে এমনটি নয়। দেশে যে হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে তাদের জন্য বাড়তি উৎপাদনের জন্য আরও কৃষি জমি, বসতবাড়ির জন্য আরও জমির প্রয়োজন হয়েছে।
দেশে শিল্পায়নের জন্যেও নতুন নতুন জমির প্রয়োজন হয়েছে। যে কারণে অনেক বনভূমি উজাড় হয়েছে। গত ১৫-২০ বছরে গাছপালা রোপণের প্রবণতাও মানুষের মধ্যে বেড়েছে। গাছ লাগাও পরিবেশ বাঁচাও -এ পরিবেশ আন্দোলনেও বৃক্ষরোপণ অনেক বেড়েছে। সরকারেরও নানা উদ্যোগ আছে। সরকার চাচ্ছে আগামী ৫ বছরে ৫ কোটি গাছ রোপণ করতে। কিন্তু তারপরও সব দিক বিবেচনায় দেশের বনভূমি মোট ভূখণ্ডের ২৫ শতাংশ উন্নীত করা যাবে বলে মনে হচ্ছে না। শুধু গাছ রোপণ করলে বা বনায়ন বাড়ালেই প্রাকৃতিক নানা বিপর্যয় বন্যা, খরা, চরম অস্বাভাবিক আবহাওয়া থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে এমনটা নয়। কারণ এখানে বৈশি^কভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের নানা বিষয়গুলো জড়িত। তবে সাধারণভাবে মানুষ পরিবেশ নিয়ে অনেক সচেতন সেটি বলারও কোনো উপায় নাই।
নানা তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিগত দুই দশকে বাংলাদেশে প্রায় ৮০৩৯ হেক্টর প্রাথমিক বনভূমি হ্রাস পেয়েছে। যা এ ধরনের প্রাকৃতিক বনভূমির মোট পরিমাণের প্রায় ৮.৭ শতাংশ। সরকারিভাবে গাছ লাগানোর কথা বলা হলেও বনভূমির আয়তন বাড়ানোর ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। এদিকে সরকারের নজর দেয়া একান্ত প্রয়োজন। যত নতুন চর জাগবে সেখানে গাছ লাগিয়ে বনভূমির আয়তন বাড়ানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। মনে রাখবেন, সুন্দরবন যেভাবে ঝড়-তুফান-সাইক্লোনে বসতি রক্ষায় ঢালস্বরূপ দাঁড়ায়, নতুন করে গড়ে ওঠা বনও বাংলাদেশের জনবসতি রক্ষায় ঢাল হয়ে দাঁড়াবে।
অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ: সাবেক অধ্যক্ষ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ