• কুমিল্লা সিটি করপোরেশন
  • কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
  • আদর্শ সদর
  • বরুড়া
  • লাকসাম
  • দাউদকান্দি
  • আরও
    • চৌদ্দগ্রাম
    • সদর দক্ষিণ
    • নাঙ্গলকোট
    • বুড়িচং
    • ব্রাহ্মণপাড়া
    • মনোহরগঞ্জ
    • লালমাই
    • চান্দিনা
    • মুরাদনগর
    • দেবীদ্বার
    • হোমনা
    • মেঘনা
    • তিতাস
  • সর্বশেষ
  • রাজনীতি
  • বাংলাদেশ
  • অপরাধ
  • বিশ্ব
  • বাণিজ্য
  • মতামত
  • খেলা
  • বিনোদন
  • চাকরি
  • জীবনযাপন
  • ইপেপার
  • ইপেপার
facebooktwittertiktokpinterestyoutubelinkedininstagramgoogle
স্বত্ব: ©️ আমার শহর

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. গাজীউল হক ভূঁইয়া ( সোহাগ)।

নাহার প্লাজা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০

ই-মেইল: [email protected]

ফোন: 01716197760

> মতামত

সৌরভের সুবচন

প্রেমময় নিঃস্বার্থ নির্মল বন্ধুত্ব অমলিন, মায়া মমতা ভালোবাসায় বেঁচে থাক চিরদিন

মো.আবু ছালেক সেলিম রেজা সৌরভ
প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৬, ২১: ৩৭
logo

প্রেমময় নিঃস্বার্থ নির্মল বন্ধুত্ব অমলিন, মায়া মমতা ভালোবাসায় বেঁচে থাক চিরদিন

মো.আবু ছালেক সেলিম রেজা সৌরভ

প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৬, ২১: ৩৭
Photo

মানব জীবন এক অদ্ভূত যাত্রাপথ। এই দীর্ঘ পথে আমরা একা আসি, একা যাই, কিন্তু মাঝখানের এই সময়টুকুতে আমরা একা থাকতে পারি না। মানুষের জন্মগত স্বভাবই হলো অন্যের সাহচর্যে বেঁচে থাকা। আমাদের চলার পথে হাজারো মানুষের সাথে পরিচয় হয়, কিন্তু সবার সঙ্গে হৃদয়ের বন্ধন তৈরি হয় না। যার সঙ্গে মনের মিল হয়, যার কাছে অবলীলায় সবটুকু বলা যায়, সে-ই বন্ধু। বন্ধুত্বের চেয়ে পবিত্র ও অমলিন সম্পর্ক পৃথিবীতে খুব কমই আছে।

শৈশব থেকেই বন্ধুত্বের সূচনা হয়। শৈশবের সেই বন্ধুত্বের মাঝে কোনো স্বার্থ থাকে না। খেলার মাঠের ধুলোমাখা সেই দিনগুলোতে বন্ধু মানেই ছিল ভাগ করে নেওয়া খাবার, লুকোচুরি খেলা আর একে অপরের হাত ধরে দিগন্তপানে ছুটে চলা। শৈশবের বন্ধুরা আমাদের জীবনের সবচেয়ে কাছের আয়না। তারা আমাদের আসল রূপটা জানে। সময়ের স্রোতে অনেক কিছু বদলে গেলেও শৈশবের সেই অমলিন স্মৃতিগুলো মনের কোণে ঠিকই গেঁথে থাকে।

কৈশোর আসে বন্ধুদের হাত ধরেই। স্কুল আর কলেজের করিডোরে জমে ওঠা আড্ডা, পরীক্ষার আগের রাতের দুশ্চিন্তা, কিংবা প্রিয় কোনো বিষয়ের ওপর ঝগড়া—সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে বন্ধুরা। কৈশোরের বন্ধুত্ব আমাদের ব্যক্তিত্ব গঠনে বড় ভূমিকা রাখে। এই সময়ে আমরা পৃথিবীটাকে নতুন করে চিনতে শিখি, আর সেই চেনার পথে সবচেয়ে বড় সঙ্গী হয় আমাদের বন্ধুরা। তাদের মাধ্যমেই আমরা আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে শিখি। এই বয়সের বন্ধুত্বে আবেগ বেশি থাকে, যুক্তি কম। তাই এই সময়ে তৈরি হওয়া বন্ধনগুলো পরবর্তী জীবনে এক গভীর প্রশান্তির জায়গা তৈরি করে।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধুত্বের স্বাদ কিছুটা ভিন্ন। এখানে বন্ধুত্ব কেবল আড্ডা বা খেলাধুলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং ক্যারিয়ার গড়ার পরিকল্পনা, জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে সামলানোর প্রস্তুতি এবং একে অপরের স্বপ্ন পূরণের সহযোগী হিসেবে বন্ধুরা পাশে দাঁড়ায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুরা অনেক সময় পরিবারের সদস্যের মতো হয়ে যায়। একে অপরের বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়া, ক্যারিয়ারের শুরুতে ব্যর্থ হলে সাহস যোগানো—এই সবকিছুর মধ্য দিয়ে যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে, তা সাধারণত সারা জীবন স্থায়ী হয়।

তবে কর্মজীবনে প্রবেশের পর বন্ধুত্বের ধরণ কিছুটা বদলে যায়। কর্মক্ষেত্রের ব্যস্ততা, সামাজিক মর্যাদা এবং দৈনন্দিন জীবনের জটিলতা বন্ধুত্বের ওপর প্রভাব ফেলে। অনেকেই কর্মক্ষেত্রে নতুন বন্ধু বানায়, কিন্তু সেই বন্ধুত্বে অনেক সময় কিছুটা পেশাদারিত্ব বা স্বার্থের সংশ্লিষ্টতা থাকে। হয়তো কেউ কারো কাজে লাগে, কিংবা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে একে অপরের পরিপূরক হয়। কর্মজীবনের এই বন্ধুগুলো গুরুত্বপূর্ণ, তবে শৈশব বা বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের মতো সেই নির্মল আবেগ এখানে সবসময় পাওয়া যায় না। তবুও জীবনের কঠিন সময়ে অফিসের কোনো সহকর্মীই যখন বন্ধুর মতো পাশে দাঁড়ায়, তখন সেই সম্পর্কটি অমূল্য হয়ে ওঠে।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে জীবন যখন বার্ধক্যের দিকে এগিয়ে যায়, তখন পুরনো বন্ধুদের প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়। কর্মব্যস্ততা শেষ, সন্তানদের সংসারে তারা ব্যস্ত, কর্মজীবনের সেই পদমর্যাদা বা প্রতিযোগিতার সময়ও শেষ। তখন মানুষ একা হয়ে যায়। আর এই নিঃসঙ্গতাকে দূর করার একমাত্র উপায় হলো পুরনো বন্ধুদের সাথে সময় কাটানো। সেই বার্ধক্যের বিকেলের আড্ডায় যখন শৈশবের কোনো মজার ঘটনার স্মৃতিচারণ হয়, তখন মানুষ আবার তরুণ হয়ে ওঠে। সেই আনন্দ কোনো পার্থিব সম্পদ দিয়ে কেনা সম্ভব নয়।

বন্ধুদের প্রয়োজনীয়তা আসলে জীবনের প্রতিটি ঘাত প্রতিঘাতে স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। আমাদের জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে যখন পরিবারকেও সব কথা বলা যায় না, কিংবা পরিবার হয়তো পরিস্থিতিটা বুঝতে পারে না। তখন একজন প্রকৃত বন্ধু নিঃশব্দে পাশে এসে দাঁড়ায়। একটি হাত কাঁধে রেখে বলে, "আমি আছি তো, চিন্তা করিস না"—এই কয়েকটা কথা মানুষের জীবনের অনেক বড় বোঝা নামিয়ে দেয়। বন্ধুত্ব মানে শুধু ভালো সময়ে থাকা নয়, বন্ধুত্ব মানে বিপদের দিনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা।

স্বার্থহীন বন্ধুত্বের কোনো বিকল্প নেই। যেখানে লেনদেনের সম্পর্ক থাকে, সেখানে বন্ধুত্বের চেয়ে ব্যবসা বড় হয়ে ওঠে। প্রকৃত বন্ধুত্ব হলো সেটি, যেখানে কোনো প্রত্যাশা নেই, কোনো বিচার-বিবেচনা নেই। বন্ধু যেমনই হোক, তার দুর্বলতাগুলোকে মেনে নিয়ে তাকে শ্রদ্ধা করা এবং ভালোবাসার হাত বাড়ানোই হলো বন্ধুত্বের মূল ভিত্তি। আমাদের জীবনটা এমনিতেই অনেক জটিলতায় ভরা। এই জটিল পৃথিবীতে বন্ধুরাই হলো অক্সিজেন। তাদের ভালোবাসা, সহযোগিতা আর এক চিমটি নির্মল হাসি আমাদের জীবনকে সহজ ও সুন্দর করে তোলে।

অমলিন বন্ধুত্ব মানে এমন এক আশ্রয়, যেখানে নিজের কোনো মুখোশ পরার প্রয়োজন নেই। আমরা সবাই নিজের জীবনের নায়ক হওয়ার চেষ্টা করি, কিন্তু পর্দার আড়ালে আমাদেরও দুর্বলতা আছে। সেই দুর্বলতাগুলো বন্ধুদের সামনে উন্মোচন করলে মনের ভার হালকা হয়। বন্ধুত্ব হলো আত্মার এক বন্ধন, যা রক্তের সম্পর্কের ঊর্ধ্বে উঠে অনেক সময় মানুষকে নতুন পরিচয় দেয়।

পরিশেষে এটাই বলব, আমাদের চারপাশের মানুষগুলোকে মূল্যায়ন করা শিখতে হবে। যে মানুষটি নিঃস্বার্থভাবে আপনার পাশে দাঁড়িয়েছে, তাকে কখনোই হারিয়ে যেতে দেবেন না। বন্ধুত্ব হলো একটি গাছের মতো। একে নিয়মিত ভালোবাসা, বিশ্বাস আর সময়ের জল দিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে হয়। যদি যত্ন না নেওয়া হয়, তবে সম্পর্কের সেই গাছটিও শুকিয়ে যায়। আজ প্রযুক্তির এই যুগে আমরা হয়তো দূরে আছি, ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে কথা বলি, কিন্তু হৃদয়ের টান অনুভব করতে কোনো মাধ্যম লাগে না। তাই পুরনো বন্ধুদের খোঁজ নিন, নতুন বন্ধুদের সাথে সম্পর্ক গভীর করুন।

প্রেমময়, নিঃস্বার্থ এবং নির্মল এই বন্ধুত্ব প্রতিটি মানুষের জীবনে আমৃত্যু বেঁচে থাকুক। পৃথিবীটা আরও সুন্দর, মানবিক ও আনন্দময় হোক। বন্ধুদের ভালোবাসার রঙে রঙিন হয়ে উঠুক সবার জীবন। মায়া, মমতা আর বিশ্বাসের যে সেতুবন্ধন আমাদের জীবনকে অর্থবহ করে তুলেছে, তা চিরকাল অমলিন থাকুক। প্রেমময় নিঃস্বার্থ নির্মল বন্ধুত্বের জয় হোক।

মো. আবু ছালেক সেলিম রেজা সৌরভ: অধ্যক্ষ, সোনার বাংলা কলেজ, কুমিল্লা। সাবেক সিনেট সদস্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

Thumbnail image

মানব জীবন এক অদ্ভূত যাত্রাপথ। এই দীর্ঘ পথে আমরা একা আসি, একা যাই, কিন্তু মাঝখানের এই সময়টুকুতে আমরা একা থাকতে পারি না। মানুষের জন্মগত স্বভাবই হলো অন্যের সাহচর্যে বেঁচে থাকা। আমাদের চলার পথে হাজারো মানুষের সাথে পরিচয় হয়, কিন্তু সবার সঙ্গে হৃদয়ের বন্ধন তৈরি হয় না। যার সঙ্গে মনের মিল হয়, যার কাছে অবলীলায় সবটুকু বলা যায়, সে-ই বন্ধু। বন্ধুত্বের চেয়ে পবিত্র ও অমলিন সম্পর্ক পৃথিবীতে খুব কমই আছে।

শৈশব থেকেই বন্ধুত্বের সূচনা হয়। শৈশবের সেই বন্ধুত্বের মাঝে কোনো স্বার্থ থাকে না। খেলার মাঠের ধুলোমাখা সেই দিনগুলোতে বন্ধু মানেই ছিল ভাগ করে নেওয়া খাবার, লুকোচুরি খেলা আর একে অপরের হাত ধরে দিগন্তপানে ছুটে চলা। শৈশবের বন্ধুরা আমাদের জীবনের সবচেয়ে কাছের আয়না। তারা আমাদের আসল রূপটা জানে। সময়ের স্রোতে অনেক কিছু বদলে গেলেও শৈশবের সেই অমলিন স্মৃতিগুলো মনের কোণে ঠিকই গেঁথে থাকে।

কৈশোর আসে বন্ধুদের হাত ধরেই। স্কুল আর কলেজের করিডোরে জমে ওঠা আড্ডা, পরীক্ষার আগের রাতের দুশ্চিন্তা, কিংবা প্রিয় কোনো বিষয়ের ওপর ঝগড়া—সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে বন্ধুরা। কৈশোরের বন্ধুত্ব আমাদের ব্যক্তিত্ব গঠনে বড় ভূমিকা রাখে। এই সময়ে আমরা পৃথিবীটাকে নতুন করে চিনতে শিখি, আর সেই চেনার পথে সবচেয়ে বড় সঙ্গী হয় আমাদের বন্ধুরা। তাদের মাধ্যমেই আমরা আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে শিখি। এই বয়সের বন্ধুত্বে আবেগ বেশি থাকে, যুক্তি কম। তাই এই সময়ে তৈরি হওয়া বন্ধনগুলো পরবর্তী জীবনে এক গভীর প্রশান্তির জায়গা তৈরি করে।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধুত্বের স্বাদ কিছুটা ভিন্ন। এখানে বন্ধুত্ব কেবল আড্ডা বা খেলাধুলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং ক্যারিয়ার গড়ার পরিকল্পনা, জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে সামলানোর প্রস্তুতি এবং একে অপরের স্বপ্ন পূরণের সহযোগী হিসেবে বন্ধুরা পাশে দাঁড়ায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুরা অনেক সময় পরিবারের সদস্যের মতো হয়ে যায়। একে অপরের বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়া, ক্যারিয়ারের শুরুতে ব্যর্থ হলে সাহস যোগানো—এই সবকিছুর মধ্য দিয়ে যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে, তা সাধারণত সারা জীবন স্থায়ী হয়।

তবে কর্মজীবনে প্রবেশের পর বন্ধুত্বের ধরণ কিছুটা বদলে যায়। কর্মক্ষেত্রের ব্যস্ততা, সামাজিক মর্যাদা এবং দৈনন্দিন জীবনের জটিলতা বন্ধুত্বের ওপর প্রভাব ফেলে। অনেকেই কর্মক্ষেত্রে নতুন বন্ধু বানায়, কিন্তু সেই বন্ধুত্বে অনেক সময় কিছুটা পেশাদারিত্ব বা স্বার্থের সংশ্লিষ্টতা থাকে। হয়তো কেউ কারো কাজে লাগে, কিংবা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে একে অপরের পরিপূরক হয়। কর্মজীবনের এই বন্ধুগুলো গুরুত্বপূর্ণ, তবে শৈশব বা বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের মতো সেই নির্মল আবেগ এখানে সবসময় পাওয়া যায় না। তবুও জীবনের কঠিন সময়ে অফিসের কোনো সহকর্মীই যখন বন্ধুর মতো পাশে দাঁড়ায়, তখন সেই সম্পর্কটি অমূল্য হয়ে ওঠে।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে জীবন যখন বার্ধক্যের দিকে এগিয়ে যায়, তখন পুরনো বন্ধুদের প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়। কর্মব্যস্ততা শেষ, সন্তানদের সংসারে তারা ব্যস্ত, কর্মজীবনের সেই পদমর্যাদা বা প্রতিযোগিতার সময়ও শেষ। তখন মানুষ একা হয়ে যায়। আর এই নিঃসঙ্গতাকে দূর করার একমাত্র উপায় হলো পুরনো বন্ধুদের সাথে সময় কাটানো। সেই বার্ধক্যের বিকেলের আড্ডায় যখন শৈশবের কোনো মজার ঘটনার স্মৃতিচারণ হয়, তখন মানুষ আবার তরুণ হয়ে ওঠে। সেই আনন্দ কোনো পার্থিব সম্পদ দিয়ে কেনা সম্ভব নয়।

বন্ধুদের প্রয়োজনীয়তা আসলে জীবনের প্রতিটি ঘাত প্রতিঘাতে স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। আমাদের জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে যখন পরিবারকেও সব কথা বলা যায় না, কিংবা পরিবার হয়তো পরিস্থিতিটা বুঝতে পারে না। তখন একজন প্রকৃত বন্ধু নিঃশব্দে পাশে এসে দাঁড়ায়। একটি হাত কাঁধে রেখে বলে, "আমি আছি তো, চিন্তা করিস না"—এই কয়েকটা কথা মানুষের জীবনের অনেক বড় বোঝা নামিয়ে দেয়। বন্ধুত্ব মানে শুধু ভালো সময়ে থাকা নয়, বন্ধুত্ব মানে বিপদের দিনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা।

স্বার্থহীন বন্ধুত্বের কোনো বিকল্প নেই। যেখানে লেনদেনের সম্পর্ক থাকে, সেখানে বন্ধুত্বের চেয়ে ব্যবসা বড় হয়ে ওঠে। প্রকৃত বন্ধুত্ব হলো সেটি, যেখানে কোনো প্রত্যাশা নেই, কোনো বিচার-বিবেচনা নেই। বন্ধু যেমনই হোক, তার দুর্বলতাগুলোকে মেনে নিয়ে তাকে শ্রদ্ধা করা এবং ভালোবাসার হাত বাড়ানোই হলো বন্ধুত্বের মূল ভিত্তি। আমাদের জীবনটা এমনিতেই অনেক জটিলতায় ভরা। এই জটিল পৃথিবীতে বন্ধুরাই হলো অক্সিজেন। তাদের ভালোবাসা, সহযোগিতা আর এক চিমটি নির্মল হাসি আমাদের জীবনকে সহজ ও সুন্দর করে তোলে।

অমলিন বন্ধুত্ব মানে এমন এক আশ্রয়, যেখানে নিজের কোনো মুখোশ পরার প্রয়োজন নেই। আমরা সবাই নিজের জীবনের নায়ক হওয়ার চেষ্টা করি, কিন্তু পর্দার আড়ালে আমাদেরও দুর্বলতা আছে। সেই দুর্বলতাগুলো বন্ধুদের সামনে উন্মোচন করলে মনের ভার হালকা হয়। বন্ধুত্ব হলো আত্মার এক বন্ধন, যা রক্তের সম্পর্কের ঊর্ধ্বে উঠে অনেক সময় মানুষকে নতুন পরিচয় দেয়।

পরিশেষে এটাই বলব, আমাদের চারপাশের মানুষগুলোকে মূল্যায়ন করা শিখতে হবে। যে মানুষটি নিঃস্বার্থভাবে আপনার পাশে দাঁড়িয়েছে, তাকে কখনোই হারিয়ে যেতে দেবেন না। বন্ধুত্ব হলো একটি গাছের মতো। একে নিয়মিত ভালোবাসা, বিশ্বাস আর সময়ের জল দিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে হয়। যদি যত্ন না নেওয়া হয়, তবে সম্পর্কের সেই গাছটিও শুকিয়ে যায়। আজ প্রযুক্তির এই যুগে আমরা হয়তো দূরে আছি, ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে কথা বলি, কিন্তু হৃদয়ের টান অনুভব করতে কোনো মাধ্যম লাগে না। তাই পুরনো বন্ধুদের খোঁজ নিন, নতুন বন্ধুদের সাথে সম্পর্ক গভীর করুন।

প্রেমময়, নিঃস্বার্থ এবং নির্মল এই বন্ধুত্ব প্রতিটি মানুষের জীবনে আমৃত্যু বেঁচে থাকুক। পৃথিবীটা আরও সুন্দর, মানবিক ও আনন্দময় হোক। বন্ধুদের ভালোবাসার রঙে রঙিন হয়ে উঠুক সবার জীবন। মায়া, মমতা আর বিশ্বাসের যে সেতুবন্ধন আমাদের জীবনকে অর্থবহ করে তুলেছে, তা চিরকাল অমলিন থাকুক। প্রেমময় নিঃস্বার্থ নির্মল বন্ধুত্বের জয় হোক।

মো. আবু ছালেক সেলিম রেজা সৌরভ: অধ্যক্ষ, সোনার বাংলা কলেজ, কুমিল্লা। সাবেক সিনেট সদস্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

১

প্রেমময় নিঃস্বার্থ নির্মল বন্ধুত্ব অমলিন, মায়া মমতা ভালোবাসায় বেঁচে থাক চিরদিন

২

মিথ্যা, মাদক, বেয়াদবি ও না বুঝে মুখস্থ করাকে ‘না’ বলি

৩

কুমিল্লার নগর ভবন বিতর্ক এবং টেকসই নগর পরিকল্পনার বৈশ্বিক পাঠ

৪

দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা শুধিতে হইবে ঋণ

৫

ভালো ফলাফল ও ভালো মানুষ: শিক্ষার দুই অপরিহার্য স্তম্ভ

সম্পর্কিত

মিথ্যা, মাদক, বেয়াদবি ও না বুঝে মুখস্থ করাকে ‘না’ বলি

মিথ্যা, মাদক, বেয়াদবি ও না বুঝে মুখস্থ করাকে ‘না’ বলি

৭ দিন আগে
কুমিল্লার নগর ভবন বিতর্ক এবং টেকসই নগর পরিকল্পনার বৈশ্বিক পাঠ

কুমিল্লার নগর ভবন বিতর্ক এবং টেকসই নগর পরিকল্পনার বৈশ্বিক পাঠ

৮ দিন আগে
দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা শুধিতে হইবে ঋণ

দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা শুধিতে হইবে ঋণ

১৪ দিন আগে
ভালো ফলাফল ও ভালো মানুষ: শিক্ষার দুই অপরিহার্য স্তম্ভ

ভালো ফলাফল ও ভালো মানুষ: শিক্ষার দুই অপরিহার্য স্তম্ভ

১৭ দিন আগে