সাক্ষাৎকার: অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) সাবেক পরিচালক ও অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, কারিকুলাম প্রণয়ন ও শিক্ষানীতি নির্ধারণে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। কুমিল্লা নগরের দক্ষিণ চর্থা এলাকার বাসিন্দা তিনি। এক সময় কুমিল্লা হাইস্কুলের বিএসসি বিএড (সহকারী শিক্ষক) শিক্ষক ছিলেন। এরপর তিনি কিছুদিন বিমান বাহিনীতে চাকরি করেন। পরে ওই চাকরি ছেড়ে দিয়ে তিনি আবারও কুমিল্লা হাইস্কুলে যোগ দেন। শিক্ষকতাকে তিনি বেশ উপভোগ করতেন। এক পর্যায়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআরে রিসার্স ফেলো হিসেবে যোগদান করেন। এরপর দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ে কারিকুলামের উপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭৯ সালে তিনি আইইআরে প্রভাষক পদে যোগদান করেন। এরপর তিনি অধ্যাপক ও পরিচালক হন। তিনি ওই বিভাগের সাতজন পিএইচডিপ্রাপ্ত ব্যক্তির সুপারভাইজরও ছিলেন। ২০১১ সালে তিনি শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসরে যান। পরে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিকুলাম তৈরিতে পরামর্শক ছিলেন। কারিকুলাম তৈরি, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস্টার গঠনের উদ্ভাবনও তাঁর। এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফল বিপর্যয় , শিক্ষা ব্যবস্থা, কারিকুলাম ও সামাজিক নানা অসঙ্গতি নিয়ে তাঁর সঙ্গে আলাপচারিতা হয়। সঙ্গে ছিলেন অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমানের প্রিয় ছাত্র কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আমার শহর সম্পাদক গাজীউল হক সোহাগ
গাজীউল হক সোহাগ

আমার শহর: স্যার, আছেন কেমন?
ছিদ্দিকুর রহমান: আছি, চলছে। কুমিল্লার বাসায় থাকি। ইপিজেডের পাশে একটা ভবন করেছি। এখানে সময় দিই। ঢাকায় ভালো লাগে না এখন আর। কুমিল্লাতে শান্তি লাগে।
আমার শহর: আমাদের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আপনার মূল্যায়নটা কেমন?
ছিদ্দিকুর রহমান: শিক্ষা চলছে অপরিকল্পিত এডহক ব্যবস্থা হিসেবে। এডহক হিসেবে। যখন যে সরকার আসে, তারা তাদের মতো করে সাজায়। এটি একটি এডহক ব্যবস্থা। শিক্ষাটা হলো প্রফেশনাল এডুকেশন। কিন্তু এতে বিশেষজ্ঞ জনশক্তি তৈরি হয়নি।
আমার শহর: শিক্ষার মান নিয়ে তো আপনার মন্তব্য কি?
ছিদ্দিকুর রহমান: আমরা যে ইন্টারভিউ দেই এটা হলো ধারণাগত। এখন শিক্ষার মান বাড়াতে হলে গবেষণা করতে হবে। শিক্ষার মানের অবক্ষয়ের পেছনে মোবাইল ফোনও দায়ী। মোবাইল মানুষের উপকারে আসে, আবার অপকারও করে। আমাদের উপকারটা দরকার। কিন্তু অপকারটা বন্ধ করতে হবে।
আমার শহর: স্যার আপনি জানেন, এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফল বিপর্যয় হয়েছে। সরকার এক বা দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়ার চিন্তা ভাবনা করছে। শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে এক বছর হারিয়ে যেতে দিতে চায় না। এটা নিয়ে আপনার মতামত কি?
ছিদ্দিকুর রহমান: এটার ভালো দিক আছে। কিন্তু পরীক্ষাটা যথাযথভাবে নিতে হবে। তাঁরা যেন যোগ্যতা অর্জন করে পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদেরকে যোগ্যতা অর্জন করিয়ে পাস করাতে হবে। এ এক মাসে তারা আবার পড়ে কতটুকু যোগ্যতা অর্জন করবে, সেটাও দেখার বিষয়। তবে এটা খারাপ না।
আমার শহর: আপনি তো কারিকুলাম নিয়ে কাজ করেছেন। আপনার কিছু ইনোভেশন আছে। এ নিয়ে কিছু বলুন স্যার
ছিদ্দিকুর রহমান: ২০১১ সালের জুন মাসে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার চাকরি থেকে অবসরে যাই। অবসরে যাওয়ার আগের দিন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী আমার কাছে লোক পাঠান। তিনি আমাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পরামর্শক হিসেবে যোগদান করান। পাঁচ বছরের চুক্তিতে যোগদান করলেও সেটি তিন বছরেই শেষ হয়ে যায়। কারণ আমরা কাজটা নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করি। আমি ২০১২ সালের কারিকুলাম কমিটির লিডে ছিলাম। তখন সুন্দর কাজ হয়েছে। এতে দুইজন বিদেশিও আমাদের সঙ্গে পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। আর আমার ইনোভেশনের মধ্যে আছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রেকারেন্ট সাব ক্লাস্টার ট্রেনিং। কয়েকটি স্কুল নিয়ে একটি ক্লাস্টার সভা হবে। এতে শিক্ষার মান বিকাশে বিভিন্ন বিষয়ে লিফলেট করা হবে। পঠন পাঠনে বৈচিত্র্য আনয়ন করা হবে। এটি এখনও চালু আছে। এছাড়া বিএড ও এমএড কোর্স এক বছর চালু করা। আমি যখন আইইআরে জয়েন করেছি, তখন টিচারদের টিচার হয়েছি। আমি অন্ধ ও বধির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়তে কালিকুলাম করেছি। আজকে আমরা এই আইডিয়া নিয়ে একটা কারিকুলাম হয়েছে। এখানে অনার্স মাস্টার্স ডিগ্রি চালুর জন্যও আইডিয়া দিয়েছি। এ কমিটির চেয়ারম্যানও ছিলাম আমি। আমি আইইআর থেকে সাতজনকে পিএইচডি দিয়েছি। আমি শিক্ষার ক্ষেত্রে ঘ্যাপ বিটুইন, কারিকুলাম থিউরি ও কারিকুলাম প্র্যাকটিস নিয়ে কাজ করেছি।
আমার শহর: আপনার জন্ম, পড়াশোনা, চাকরি ও পারিবারিক জীবন জানতে চাই
ছিদ্দিকুর রহমান: আমার জন্ম ১৯৪৫ সালের ২৬ জুলাই বৃটিশ শাসনামলে। ১৯৬০ সালে কুমিল্লা জিলা স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন, ১৯৬২ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞানে ইন্টারমিডিয়েট ও ১৯৬৪ সালে একই কলেজ থেকে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করি। ১৯৬৫ সালে কুমিল্লা হাইস্কুলে বিএসসি শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। ১৯৬৭ সালে আমি পাকিস্তান এয়ারফোর্সে আইএসএসবি দিয়ে জিডি পাইলট পদে চাকরি নিই। তিনমাস চাকরি করার পর করাচি থেকে দেশে চলে আছি। তখন ঢাকা-করাচি বিমান ভাড়া ছিলো ১৫০ টাকা। এরপর আমি আবারও কুমিল্লা হাইস্কুলে যোগ দিই। তখন আমাকে বিএড করতে হয়। তখন একটি কথা চালু ছিল বিএড এমএড না করলে শিক্ষকতার চাকরি পোক্ত হয় না। আমি কুমিল্লা টিচার্স ট্রেনিং কলেজে বিএডে ভর্তি হই । এরপর প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হই। পরে আমি লাহোর বিশ্ববিদ্যালয়ে এডমিনিস্ট্রেটিভ সায়েন্সে ভর্তি হই উচ্চ শিক্ষার জন্য। আমার সঙ্গে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনও ছিলেন। এক পর্যায়ে সেখান থেকেও চলে আসি। এরপর আমি আইইআরে এমএড করি। সেখানেও প্রথম শ্রেণি পাই। ভালো ফল করি। ১৯৭৪ সালে আমাকে আইইআরে রিসার্স ফেলো করা হয়। ১৯৭৬ সালে দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ে কারিকুলাম নিয়ে পিএইচডি করি। আমি মনে করি সবার জন্য পিএইচডি না। যাঁরা রিসার্স এন্ড টিচিংয়ে আছে তাঁদের জন্য পিএইচডি। ১৯৭৯ সালে আমি আইইআরে প্রভাষক পদে যোগ দিই। তিন দশকের বেশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করি।
আমার শহর : আপনার বয়স তো এখন ৮১ পেরিয়ে ৮২ এর পথে? জীবনকে কিভাবে দেখেন
ছিদ্দিকুর রহমান: আমার এক ছেলে, দুই মেয়ে। ছেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসক হয়ে দেশের বাইরে। দুই মেয়ে বুয়েট থেকে পাস করে দেশের বাইরে। আমি আর আমার সহধর্মিনী কুমিল্লা থাকি পৈতৃক বাড়িতে। জীবন গুছানো ভাবেই যাচ্ছে। আগেই বলেছি, ঢাকায় ফ্ল্যাট আছে। কিন্তু থাকতে ভালো লাগে না। কুমিল্লায় ভালো লাগে।
আমার শহর: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ
ছিদ্দিকুর রহমান: তোমাকেও ধন্যবাদ।

আমার শহর: স্যার, আছেন কেমন?
ছিদ্দিকুর রহমান: আছি, চলছে। কুমিল্লার বাসায় থাকি। ইপিজেডের পাশে একটা ভবন করেছি। এখানে সময় দিই। ঢাকায় ভালো লাগে না এখন আর। কুমিল্লাতে শান্তি লাগে।
আমার শহর: আমাদের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আপনার মূল্যায়নটা কেমন?
ছিদ্দিকুর রহমান: শিক্ষা চলছে অপরিকল্পিত এডহক ব্যবস্থা হিসেবে। এডহক হিসেবে। যখন যে সরকার আসে, তারা তাদের মতো করে সাজায়। এটি একটি এডহক ব্যবস্থা। শিক্ষাটা হলো প্রফেশনাল এডুকেশন। কিন্তু এতে বিশেষজ্ঞ জনশক্তি তৈরি হয়নি।
আমার শহর: শিক্ষার মান নিয়ে তো আপনার মন্তব্য কি?
ছিদ্দিকুর রহমান: আমরা যে ইন্টারভিউ দেই এটা হলো ধারণাগত। এখন শিক্ষার মান বাড়াতে হলে গবেষণা করতে হবে। শিক্ষার মানের অবক্ষয়ের পেছনে মোবাইল ফোনও দায়ী। মোবাইল মানুষের উপকারে আসে, আবার অপকারও করে। আমাদের উপকারটা দরকার। কিন্তু অপকারটা বন্ধ করতে হবে।
আমার শহর: স্যার আপনি জানেন, এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফল বিপর্যয় হয়েছে। সরকার এক বা দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়ার চিন্তা ভাবনা করছে। শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে এক বছর হারিয়ে যেতে দিতে চায় না। এটা নিয়ে আপনার মতামত কি?
ছিদ্দিকুর রহমান: এটার ভালো দিক আছে। কিন্তু পরীক্ষাটা যথাযথভাবে নিতে হবে। তাঁরা যেন যোগ্যতা অর্জন করে পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদেরকে যোগ্যতা অর্জন করিয়ে পাস করাতে হবে। এ এক মাসে তারা আবার পড়ে কতটুকু যোগ্যতা অর্জন করবে, সেটাও দেখার বিষয়। তবে এটা খারাপ না।
আমার শহর: আপনি তো কারিকুলাম নিয়ে কাজ করেছেন। আপনার কিছু ইনোভেশন আছে। এ নিয়ে কিছু বলুন স্যার
ছিদ্দিকুর রহমান: ২০১১ সালের জুন মাসে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার চাকরি থেকে অবসরে যাই। অবসরে যাওয়ার আগের দিন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী আমার কাছে লোক পাঠান। তিনি আমাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পরামর্শক হিসেবে যোগদান করান। পাঁচ বছরের চুক্তিতে যোগদান করলেও সেটি তিন বছরেই শেষ হয়ে যায়। কারণ আমরা কাজটা নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করি। আমি ২০১২ সালের কারিকুলাম কমিটির লিডে ছিলাম। তখন সুন্দর কাজ হয়েছে। এতে দুইজন বিদেশিও আমাদের সঙ্গে পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। আর আমার ইনোভেশনের মধ্যে আছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রেকারেন্ট সাব ক্লাস্টার ট্রেনিং। কয়েকটি স্কুল নিয়ে একটি ক্লাস্টার সভা হবে। এতে শিক্ষার মান বিকাশে বিভিন্ন বিষয়ে লিফলেট করা হবে। পঠন পাঠনে বৈচিত্র্য আনয়ন করা হবে। এটি এখনও চালু আছে। এছাড়া বিএড ও এমএড কোর্স এক বছর চালু করা। আমি যখন আইইআরে জয়েন করেছি, তখন টিচারদের টিচার হয়েছি। আমি অন্ধ ও বধির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়তে কালিকুলাম করেছি। আজকে আমরা এই আইডিয়া নিয়ে একটা কারিকুলাম হয়েছে। এখানে অনার্স মাস্টার্স ডিগ্রি চালুর জন্যও আইডিয়া দিয়েছি। এ কমিটির চেয়ারম্যানও ছিলাম আমি। আমি আইইআর থেকে সাতজনকে পিএইচডি দিয়েছি। আমি শিক্ষার ক্ষেত্রে ঘ্যাপ বিটুইন, কারিকুলাম থিউরি ও কারিকুলাম প্র্যাকটিস নিয়ে কাজ করেছি।
আমার শহর: আপনার জন্ম, পড়াশোনা, চাকরি ও পারিবারিক জীবন জানতে চাই
ছিদ্দিকুর রহমান: আমার জন্ম ১৯৪৫ সালের ২৬ জুলাই বৃটিশ শাসনামলে। ১৯৬০ সালে কুমিল্লা জিলা স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন, ১৯৬২ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞানে ইন্টারমিডিয়েট ও ১৯৬৪ সালে একই কলেজ থেকে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করি। ১৯৬৫ সালে কুমিল্লা হাইস্কুলে বিএসসি শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। ১৯৬৭ সালে আমি পাকিস্তান এয়ারফোর্সে আইএসএসবি দিয়ে জিডি পাইলট পদে চাকরি নিই। তিনমাস চাকরি করার পর করাচি থেকে দেশে চলে আছি। তখন ঢাকা-করাচি বিমান ভাড়া ছিলো ১৫০ টাকা। এরপর আমি আবারও কুমিল্লা হাইস্কুলে যোগ দিই। তখন আমাকে বিএড করতে হয়। তখন একটি কথা চালু ছিল বিএড এমএড না করলে শিক্ষকতার চাকরি পোক্ত হয় না। আমি কুমিল্লা টিচার্স ট্রেনিং কলেজে বিএডে ভর্তি হই । এরপর প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হই। পরে আমি লাহোর বিশ্ববিদ্যালয়ে এডমিনিস্ট্রেটিভ সায়েন্সে ভর্তি হই উচ্চ শিক্ষার জন্য। আমার সঙ্গে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনও ছিলেন। এক পর্যায়ে সেখান থেকেও চলে আসি। এরপর আমি আইইআরে এমএড করি। সেখানেও প্রথম শ্রেণি পাই। ভালো ফল করি। ১৯৭৪ সালে আমাকে আইইআরে রিসার্স ফেলো করা হয়। ১৯৭৬ সালে দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ে কারিকুলাম নিয়ে পিএইচডি করি। আমি মনে করি সবার জন্য পিএইচডি না। যাঁরা রিসার্স এন্ড টিচিংয়ে আছে তাঁদের জন্য পিএইচডি। ১৯৭৯ সালে আমি আইইআরে প্রভাষক পদে যোগ দিই। তিন দশকের বেশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করি।
আমার শহর : আপনার বয়স তো এখন ৮১ পেরিয়ে ৮২ এর পথে? জীবনকে কিভাবে দেখেন
ছিদ্দিকুর রহমান: আমার এক ছেলে, দুই মেয়ে। ছেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসক হয়ে দেশের বাইরে। দুই মেয়ে বুয়েট থেকে পাস করে দেশের বাইরে। আমি আর আমার সহধর্মিনী কুমিল্লা থাকি পৈতৃক বাড়িতে। জীবন গুছানো ভাবেই যাচ্ছে। আগেই বলেছি, ঢাকায় ফ্ল্যাট আছে। কিন্তু থাকতে ভালো লাগে না। কুমিল্লায় ভালো লাগে।
আমার শহর: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ
ছিদ্দিকুর রহমান: তোমাকেও ধন্যবাদ।