অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ

আগামী ৯ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় কপ-৩১ সম্মেলন শুরু হবে। এ সম্মেলন চলবে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত। সম্মেলন সামনে রেখে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে একটি ‘পজিশন পেপার’ তৈরি করেছে। এতে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়া, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা, জলবায়ু অর্থায়ন, বাণিজ্য এবং পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তোলার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হচ্ছে বলে জানা গেছে। ইয়ুথনেট গ্লোবালের সূত্রে জানা যায়, জলবায়ু অর্থায়ন কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়। এটি ঐতিহাসিকভাবে বেশি দূষণকারী দেশগুলোর দায়িত্ব। জলবায়ু সংকট মোকাবেলার নামে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ওপর নতুন ঋণের বোঝা চাপানো ন্যায়সংগত নয়। জলবায়ু অর্থায়ন শুধু বড় প্রকল্পে সীমাবদ্ধ না রেখে নারী, তরুণ, আদিবাসী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছেও সরাসরি পৌঁছাতে হবে। অর্থ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণেও তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এবারের কপ-৩১ এ বাংলাদেশের পাট শিল্পের সম্ভাবনাও তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। প্লাস্টিকের বিকল্প হিসাবে পাটের তৈরি পণ্য ও প্রযুক্তি প্রদর্শনের জন্য একটি পাটের প্যাভিলিয়ন করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এতে পরিবেশবান্ধব পাট পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার বাড়ানোর সম্ভাবনা সেখানে তুলে ধরা হবে। জলবায়ু কর্মীদের বরাতে জানা যায়, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত তাপের মতো নানারকম সমস্যা বাড়ছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারকে প্রতিবছর বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনেক মানুষ ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারাচ্ছে। এ ক্ষতি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে আধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষতিপূরণ হিসাবে ঋণের পরিবর্তে অনুদান নিশ্চিত, ঐতিহাসিক প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের জোর দেয়ার আহ্বান জানায় বাংলাদেশ।
পরিবেশবান্ধব অর্থনীতিতে যাওয়ার বিষয়টিও বাংলাদেশের অবস্থানে গুরুত্ব পাচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাড়ানো, নতুন প্রযুক্তি পাওয়া এবং কম কার্বন নিঃসরণের অর্থনীতিতে যেতে উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে অর্থ ও প্রযুক্তি সহায়তা চাওয়া হবে। জ্বালানি খাতের পরিবর্তনের ফলে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানও অধিকতর যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কার্বন বিষয়ক নতুন বাণিজ্য ব্যবস্থা নিয়েও বাংলাদেশের উদ্বেগ রয়েছে। এর কারণে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্যে বাড়তি খরচ তৈরি হতে পারে। তাই উন্নয়নশীল দেশগুলোকে প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেয়ার দাবি জানানো হবে। উপকূলীয় মানুষের সুরক্ষা, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, সুপেয় পানি, স্বাস্থ্য ও জীবিকা রক্ষায় অর্থায়ন বাড়ানোর দাবি জানানো হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার জন্য উপকূল রক্ষা, কৃষিতে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার, পানি ব্যবস্থাপনা এবং দুর্যোগ সামলানোর সক্ষমতা বাড়ানোর আন্তর্জাতিক সহায়তা চাওয়া হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা আন্তর্জাতিকভাবে গঠিত তহবিল থেকেও দ্রুত অর্থ পাওয়ার দাবি থাকবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। এ ঝুঁকি মোকাবিলায় এ দেশকে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তুরস্কে অনুষ্ঠেয় আসন্ন কপ-৩১ জলবায়ু সম্মেলন জলবায়ু অর্থায়ন ও ন্যায়বিচারে জোর দেবে বাংলাদেশ। উপকূলীয় সুরক্ষা, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় অনুদান ভিত্তিক পর্যাপ্ত জলবায়ু অর্থায়ন, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য সহায়তা বৃদ্ধি, অর্থছাড় সহজীকরণ এবং পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তোলার বিষয়ও বিশ্বমঞ্চে তুলবে বাংলাদেশ। কপ-৩১ সম্মেলনে যোগদানের আগেই নাগরিক সমাজের সঙ্গে আলোচনা করে বিভিন্ন খাতের জলবায়ু ঝুঁকির বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন। এছাড়া উন্নত ও পরিবেশ দূষণকারী দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ক্ষয়ক্ষতির বাস্তবচিত্র তুলে ধরা উচিত। সম্মেলন শেষে অর্জিত ফলাফল নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে পুনরায় পরামর্শ করা দরকার, যাতে রাষ্ট্রীয় অর্থব্যয় শুধু ১৫ দিনের সফরের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে একটি সফল বিনিয়োগে পরিণত হয়। (সংগৃহীত)
অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ: সাবেক অধ্যক্ষ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ

আগামী ৯ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় কপ-৩১ সম্মেলন শুরু হবে। এ সম্মেলন চলবে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত। সম্মেলন সামনে রেখে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে একটি ‘পজিশন পেপার’ তৈরি করেছে। এতে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়া, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা, জলবায়ু অর্থায়ন, বাণিজ্য এবং পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তোলার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হচ্ছে বলে জানা গেছে। ইয়ুথনেট গ্লোবালের সূত্রে জানা যায়, জলবায়ু অর্থায়ন কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়। এটি ঐতিহাসিকভাবে বেশি দূষণকারী দেশগুলোর দায়িত্ব। জলবায়ু সংকট মোকাবেলার নামে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ওপর নতুন ঋণের বোঝা চাপানো ন্যায়সংগত নয়। জলবায়ু অর্থায়ন শুধু বড় প্রকল্পে সীমাবদ্ধ না রেখে নারী, তরুণ, আদিবাসী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছেও সরাসরি পৌঁছাতে হবে। অর্থ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণেও তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এবারের কপ-৩১ এ বাংলাদেশের পাট শিল্পের সম্ভাবনাও তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। প্লাস্টিকের বিকল্প হিসাবে পাটের তৈরি পণ্য ও প্রযুক্তি প্রদর্শনের জন্য একটি পাটের প্যাভিলিয়ন করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এতে পরিবেশবান্ধব পাট পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার বাড়ানোর সম্ভাবনা সেখানে তুলে ধরা হবে। জলবায়ু কর্মীদের বরাতে জানা যায়, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত তাপের মতো নানারকম সমস্যা বাড়ছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারকে প্রতিবছর বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনেক মানুষ ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারাচ্ছে। এ ক্ষতি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে আধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষতিপূরণ হিসাবে ঋণের পরিবর্তে অনুদান নিশ্চিত, ঐতিহাসিক প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের জোর দেয়ার আহ্বান জানায় বাংলাদেশ।
পরিবেশবান্ধব অর্থনীতিতে যাওয়ার বিষয়টিও বাংলাদেশের অবস্থানে গুরুত্ব পাচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাড়ানো, নতুন প্রযুক্তি পাওয়া এবং কম কার্বন নিঃসরণের অর্থনীতিতে যেতে উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে অর্থ ও প্রযুক্তি সহায়তা চাওয়া হবে। জ্বালানি খাতের পরিবর্তনের ফলে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানও অধিকতর যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কার্বন বিষয়ক নতুন বাণিজ্য ব্যবস্থা নিয়েও বাংলাদেশের উদ্বেগ রয়েছে। এর কারণে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্যে বাড়তি খরচ তৈরি হতে পারে। তাই উন্নয়নশীল দেশগুলোকে প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেয়ার দাবি জানানো হবে। উপকূলীয় মানুষের সুরক্ষা, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, সুপেয় পানি, স্বাস্থ্য ও জীবিকা রক্ষায় অর্থায়ন বাড়ানোর দাবি জানানো হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার জন্য উপকূল রক্ষা, কৃষিতে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার, পানি ব্যবস্থাপনা এবং দুর্যোগ সামলানোর সক্ষমতা বাড়ানোর আন্তর্জাতিক সহায়তা চাওয়া হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা আন্তর্জাতিকভাবে গঠিত তহবিল থেকেও দ্রুত অর্থ পাওয়ার দাবি থাকবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। এ ঝুঁকি মোকাবিলায় এ দেশকে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তুরস্কে অনুষ্ঠেয় আসন্ন কপ-৩১ জলবায়ু সম্মেলন জলবায়ু অর্থায়ন ও ন্যায়বিচারে জোর দেবে বাংলাদেশ। উপকূলীয় সুরক্ষা, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় অনুদান ভিত্তিক পর্যাপ্ত জলবায়ু অর্থায়ন, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য সহায়তা বৃদ্ধি, অর্থছাড় সহজীকরণ এবং পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তোলার বিষয়ও বিশ্বমঞ্চে তুলবে বাংলাদেশ। কপ-৩১ সম্মেলনে যোগদানের আগেই নাগরিক সমাজের সঙ্গে আলোচনা করে বিভিন্ন খাতের জলবায়ু ঝুঁকির বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন। এছাড়া উন্নত ও পরিবেশ দূষণকারী দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ক্ষয়ক্ষতির বাস্তবচিত্র তুলে ধরা উচিত। সম্মেলন শেষে অর্জিত ফলাফল নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে পুনরায় পরামর্শ করা দরকার, যাতে রাষ্ট্রীয় অর্থব্যয় শুধু ১৫ দিনের সফরের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে একটি সফল বিনিয়োগে পরিণত হয়। (সংগৃহীত)
অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ: সাবেক অধ্যক্ষ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ