মোহাম্মদ ওবায়দুল হক

মানুষের জীবনে শিক্ষা হলো আলোর দিশারী। শিক্ষা মানুষকে জ্ঞানের পথে পরিচালিত করে, অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করে এবং একটি সুন্দর সমাজ গঠনের ভিত্তি স্থাপন করে। কিন্তু শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী? শুধুমাত্র পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করা, নাকি একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমরা উপলব্ধি করি যে শিক্ষার প্রকৃত সার্থকতা নিহিত রয়েছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভের ওপরÑভালো ফলাফল এবং ভালো মানুষ হওয়া। এ দুটি একে অপরের পরিপূরক। একটি ছাড়া অন্যটি পূর্ণতা পায় না।
বর্তমান বিশ্ব অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। শিক্ষার্থী জীবনের শুরু থেকেই ভালো নম্বর, জিপিএ, ভর্তি পরীক্ষা এবং কর্মজীবনের প্রস্তুতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরিবার, সমাজ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানÑ সকলেই শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের জন্য উৎসাহিত করে। এতে কোনো ভুল নেই, কারণ ভালো ফলাফল একজন শিক্ষার্থীর অধ্যবসায়, মেধা এবং শেখার সক্ষমতার পরিচায়ক। এটি উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি এবং কর্মজীবনের নানা সুযোগের দ্বার উন্মোচন করে।
তবে বাস্তবতা হলো, ভালো ফলাফল জীবনের সাফল্যের একমাত্র মানদÐ নয়। একজন মানুষ কতটুকু সৎ, দায়িত্বশীল, মানবিক এবং নৈতিক- এসব গুণই তার প্রকৃত পরিচয় নির্ধারণ করে। সমাজে আমরা প্রায়ই এমন মানুষের দেখা পাই, যাদের একাডেমিক ফলাফল হয়তো অসাধারণ ছিল না, কিন্তু তাদের সততা, কর্মনিষ্ঠা এবং মানবিক আচরণ তাদেরকে মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে দিয়েছে। আবার এমন ঘটনাও দেখা যায়, যেখানে উচ্চশিক্ষিত এবং মেধাবী ব্যক্তি নৈতিকতার অভাবে সমাজের আস্থা হারিয়েছেন।
পরিসংখ্যানের একজন শিক্ষক হিসেবে আমি প্রায়ই একটি উদাহরণ দিই। পরিসংখ্যানে কোনো একটি বিষয়কে মূল্যায়ন করতে আমরা সাধারণত একাধিক চলক (ঠধৎরধনষব) ব্যবহার করি। শুধুমাত্র একটি তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আমরা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাই না। উদাহরণস্বরূপ, একজন মানুষের স্বাস্থ্য সম্পর্কে জানতে হলে শুধু তার ওজন নয়, বরং উচ্চতা, রক্তচাপ, খাদ্যাভ্যাস এবং অন্যান্য তথ্যও বিবেচনা করতে হয়। একইভাবে একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত সাফল্য মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও শুধু পরীক্ষার নম্বর নয়, বরং তার চরিত্র, মূল্যবোধ, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং মানবিক গুণাবলিকেও বিবেচনায় নিতে হবে।
আধুনিক কর্মক্ষেত্রে পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের জন্য কেবল একাডেমিক জ্ঞান যথেষ্ট নয়। নেতৃত্বের দক্ষতা, যোগাযোগের সক্ষমতা, দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা, সততা এবং ইতিবাচক আচরণ একজন মানুষকে কর্মজীবনে আরও সফল করে তোলে। অনেক প্রতিষ্ঠান এখন কর্মী নিয়োগের সময় ফলাফলের পাশাপাশি ব্যক্তিত্ব, নৈতিকতা এবং সামাজিক দক্ষতাকেও গুরুত্ব দেয়। কারণ তারা জানে, জ্ঞান একজন মানুষকে দক্ষ করে তোলে, কিন্তু চরিত্র তাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।
আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন, ‘মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান।’ এই বাণীর মধ্যেই মানবিক শিক্ষার মূল দর্শন নিহিত রয়েছে। একজন শিক্ষার্থী যদি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করে, কিন্তু মানুষের প্রতি সম্মান, সহমর্মিতা এবং দায়িত্ববোধ না থাকে, তাহলে তার শিক্ষা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। প্রকৃত শিক্ষা মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে এবং তাকে সমাজের কল্যাণে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে।
আজকের পৃথিবীতে প্রযুক্তির অগ্রগতি অভ‚তপূর্ব। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ডিজিটাল যোগাযোগ আমাদের জীবনকে সহজ করেছে। কিন্তু প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধের বিকাশও সমানভাবে জরুরি। কারণ প্রযুক্তি মানুষকে ক্ষমতা দিতে পারে, কিন্তু সেই ক্ষমতার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে মানুষের বিবেক ও নৈতিকতা। একজন দক্ষ বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, চিকিৎসক কিংবা শিক্ষক তখনই সমাজের জন্য কল্যাণকর হয়ে ওঠেন, যখন তাদের জ্ঞান মানবতার সেবায় ব্যবহৃত হয়।
শিক্ষার্থীদের মনে রাখা প্রয়োজন যে শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ের কয়েকটি অধ্যায় আয়ত্ত করার নাম নয়। শিক্ষা হলো নিজের চিন্তাকে পরিশীলিত করা, সত্য ও ন্যায়ের পথে চলা এবং সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া। একজন শিক্ষার্থী যখন সহপাঠীর বিপদে পাশে দাঁড়ায়, অসহায় মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসে, পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হয় অথবা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে, তখন সে শুধু একজন ভালো ছাত্র নয়, একজন ভালো মানুষ হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে।
পরিসংখ্যানের ভাষায় যদি বলি, একটি দেশের উন্নয়ন শুধু মাথাপিছু আয়, জিডিপি বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। মানব উন্নয়ন, সামাজিক স্থিতিশীলতা, ন্যায়বিচার এবং নাগরিক মূল্যবোধও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সূচক। একইভাবে একজন শিক্ষার্থীর সফলতা শুধু তার নম্বরপত্র দিয়ে নয়, বরং তার মানবিকতা ও নৈতিকতার আলোকে মূল্যায়ন করা উচিত।
আমাদের পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজের দায়িত্ব হলো এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু ভালো ফলাফলের জন্য নয়, ভালো মানুষ হওয়ার জন্যও উৎসাহিত হবে। শ্রেণিকক্ষে যেমন পাঠদান হবে, তেমনি সততা, শৃঙ্খলা, সহমর্মিতা এবং দেশপ্রেমের শিক্ষাও দিতে হবে। কারণ আগামী দিনের নেতৃত্ব আজকের শিক্ষার্থীদের হাতেই গড়ে উঠছে।
পরিশেষে বলা যায়, ভালো ফলাফল এবং ভালো মানুষÑএই দুটি শিক্ষার দুই অপরিহার্য স্তম্ভ। একটি মানুষকে দক্ষ করে, অন্যটি তাকে মহৎ করে। একটি জীবনের সুযোগ সৃষ্টি করে, অন্যটি সেই সুযোগকে অর্থবহ করে তোলে। তাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু পরীক্ষায় ভালো করা নয়, বরং এমন একজন মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা, যার জ্ঞান সমাজের কল্যাণে ব্যবহৃত হয় এবং যার চরিত্র অন্যদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে ওঠে।
জীবনের শেষ হিসাব-নিকাশে মানুষকে তার নম্বর দিয়ে নয়, বরং তার কর্ম, সততা, মানবিকতা এবং সমাজের প্রতি অবদানের মাধ্যমে স্মরণ করা হয়। তাই আসুন, আমরা সবাই ভালো ফলাফলের পাশাপাশি ভালো মানুষ হওয়ার প্রতিজ্ঞা করি। কারণ শিক্ষার প্রকৃত সার্থকতা শুধু মেধাবী নাগরিক নয়, মানবিক মানুষ গড়ে তোলার মধ্যেই নিহিত।
‘ভালো ফলাফল একজন মানুষের সম্ভাবনার পরিচয় দেয়, আর ভালো চরিত্র সেই সম্ভাবনাকে মহত্তে¡ রূপ দেয়।’
মোহাম্মদ ওবায়দুল হক: সহকারী অধ্যাপক, পরিসংখ্যান বিভাগ, শশীদল আলহাজ্ব মুহাম্মদ আবু তাহের কলেজ, ব্রাহ্মণপাড়া, কুমিল্লা।

মানুষের জীবনে শিক্ষা হলো আলোর দিশারী। শিক্ষা মানুষকে জ্ঞানের পথে পরিচালিত করে, অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করে এবং একটি সুন্দর সমাজ গঠনের ভিত্তি স্থাপন করে। কিন্তু শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী? শুধুমাত্র পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করা, নাকি একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমরা উপলব্ধি করি যে শিক্ষার প্রকৃত সার্থকতা নিহিত রয়েছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভের ওপরÑভালো ফলাফল এবং ভালো মানুষ হওয়া। এ দুটি একে অপরের পরিপূরক। একটি ছাড়া অন্যটি পূর্ণতা পায় না।
বর্তমান বিশ্ব অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। শিক্ষার্থী জীবনের শুরু থেকেই ভালো নম্বর, জিপিএ, ভর্তি পরীক্ষা এবং কর্মজীবনের প্রস্তুতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরিবার, সমাজ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানÑ সকলেই শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের জন্য উৎসাহিত করে। এতে কোনো ভুল নেই, কারণ ভালো ফলাফল একজন শিক্ষার্থীর অধ্যবসায়, মেধা এবং শেখার সক্ষমতার পরিচায়ক। এটি উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি এবং কর্মজীবনের নানা সুযোগের দ্বার উন্মোচন করে।
তবে বাস্তবতা হলো, ভালো ফলাফল জীবনের সাফল্যের একমাত্র মানদÐ নয়। একজন মানুষ কতটুকু সৎ, দায়িত্বশীল, মানবিক এবং নৈতিক- এসব গুণই তার প্রকৃত পরিচয় নির্ধারণ করে। সমাজে আমরা প্রায়ই এমন মানুষের দেখা পাই, যাদের একাডেমিক ফলাফল হয়তো অসাধারণ ছিল না, কিন্তু তাদের সততা, কর্মনিষ্ঠা এবং মানবিক আচরণ তাদেরকে মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে দিয়েছে। আবার এমন ঘটনাও দেখা যায়, যেখানে উচ্চশিক্ষিত এবং মেধাবী ব্যক্তি নৈতিকতার অভাবে সমাজের আস্থা হারিয়েছেন।
পরিসংখ্যানের একজন শিক্ষক হিসেবে আমি প্রায়ই একটি উদাহরণ দিই। পরিসংখ্যানে কোনো একটি বিষয়কে মূল্যায়ন করতে আমরা সাধারণত একাধিক চলক (ঠধৎরধনষব) ব্যবহার করি। শুধুমাত্র একটি তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আমরা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাই না। উদাহরণস্বরূপ, একজন মানুষের স্বাস্থ্য সম্পর্কে জানতে হলে শুধু তার ওজন নয়, বরং উচ্চতা, রক্তচাপ, খাদ্যাভ্যাস এবং অন্যান্য তথ্যও বিবেচনা করতে হয়। একইভাবে একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত সাফল্য মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও শুধু পরীক্ষার নম্বর নয়, বরং তার চরিত্র, মূল্যবোধ, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং মানবিক গুণাবলিকেও বিবেচনায় নিতে হবে।
আধুনিক কর্মক্ষেত্রে পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের জন্য কেবল একাডেমিক জ্ঞান যথেষ্ট নয়। নেতৃত্বের দক্ষতা, যোগাযোগের সক্ষমতা, দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা, সততা এবং ইতিবাচক আচরণ একজন মানুষকে কর্মজীবনে আরও সফল করে তোলে। অনেক প্রতিষ্ঠান এখন কর্মী নিয়োগের সময় ফলাফলের পাশাপাশি ব্যক্তিত্ব, নৈতিকতা এবং সামাজিক দক্ষতাকেও গুরুত্ব দেয়। কারণ তারা জানে, জ্ঞান একজন মানুষকে দক্ষ করে তোলে, কিন্তু চরিত্র তাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।
আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন, ‘মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান।’ এই বাণীর মধ্যেই মানবিক শিক্ষার মূল দর্শন নিহিত রয়েছে। একজন শিক্ষার্থী যদি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করে, কিন্তু মানুষের প্রতি সম্মান, সহমর্মিতা এবং দায়িত্ববোধ না থাকে, তাহলে তার শিক্ষা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। প্রকৃত শিক্ষা মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে এবং তাকে সমাজের কল্যাণে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে।
আজকের পৃথিবীতে প্রযুক্তির অগ্রগতি অভ‚তপূর্ব। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ডিজিটাল যোগাযোগ আমাদের জীবনকে সহজ করেছে। কিন্তু প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধের বিকাশও সমানভাবে জরুরি। কারণ প্রযুক্তি মানুষকে ক্ষমতা দিতে পারে, কিন্তু সেই ক্ষমতার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে মানুষের বিবেক ও নৈতিকতা। একজন দক্ষ বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, চিকিৎসক কিংবা শিক্ষক তখনই সমাজের জন্য কল্যাণকর হয়ে ওঠেন, যখন তাদের জ্ঞান মানবতার সেবায় ব্যবহৃত হয়।
শিক্ষার্থীদের মনে রাখা প্রয়োজন যে শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ের কয়েকটি অধ্যায় আয়ত্ত করার নাম নয়। শিক্ষা হলো নিজের চিন্তাকে পরিশীলিত করা, সত্য ও ন্যায়ের পথে চলা এবং সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া। একজন শিক্ষার্থী যখন সহপাঠীর বিপদে পাশে দাঁড়ায়, অসহায় মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসে, পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হয় অথবা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে, তখন সে শুধু একজন ভালো ছাত্র নয়, একজন ভালো মানুষ হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে।
পরিসংখ্যানের ভাষায় যদি বলি, একটি দেশের উন্নয়ন শুধু মাথাপিছু আয়, জিডিপি বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। মানব উন্নয়ন, সামাজিক স্থিতিশীলতা, ন্যায়বিচার এবং নাগরিক মূল্যবোধও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সূচক। একইভাবে একজন শিক্ষার্থীর সফলতা শুধু তার নম্বরপত্র দিয়ে নয়, বরং তার মানবিকতা ও নৈতিকতার আলোকে মূল্যায়ন করা উচিত।
আমাদের পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজের দায়িত্ব হলো এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু ভালো ফলাফলের জন্য নয়, ভালো মানুষ হওয়ার জন্যও উৎসাহিত হবে। শ্রেণিকক্ষে যেমন পাঠদান হবে, তেমনি সততা, শৃঙ্খলা, সহমর্মিতা এবং দেশপ্রেমের শিক্ষাও দিতে হবে। কারণ আগামী দিনের নেতৃত্ব আজকের শিক্ষার্থীদের হাতেই গড়ে উঠছে।
পরিশেষে বলা যায়, ভালো ফলাফল এবং ভালো মানুষÑএই দুটি শিক্ষার দুই অপরিহার্য স্তম্ভ। একটি মানুষকে দক্ষ করে, অন্যটি তাকে মহৎ করে। একটি জীবনের সুযোগ সৃষ্টি করে, অন্যটি সেই সুযোগকে অর্থবহ করে তোলে। তাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু পরীক্ষায় ভালো করা নয়, বরং এমন একজন মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা, যার জ্ঞান সমাজের কল্যাণে ব্যবহৃত হয় এবং যার চরিত্র অন্যদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে ওঠে।
জীবনের শেষ হিসাব-নিকাশে মানুষকে তার নম্বর দিয়ে নয়, বরং তার কর্ম, সততা, মানবিকতা এবং সমাজের প্রতি অবদানের মাধ্যমে স্মরণ করা হয়। তাই আসুন, আমরা সবাই ভালো ফলাফলের পাশাপাশি ভালো মানুষ হওয়ার প্রতিজ্ঞা করি। কারণ শিক্ষার প্রকৃত সার্থকতা শুধু মেধাবী নাগরিক নয়, মানবিক মানুষ গড়ে তোলার মধ্যেই নিহিত।
‘ভালো ফলাফল একজন মানুষের সম্ভাবনার পরিচয় দেয়, আর ভালো চরিত্র সেই সম্ভাবনাকে মহত্তে¡ রূপ দেয়।’
মোহাম্মদ ওবায়দুল হক: সহকারী অধ্যাপক, পরিসংখ্যান বিভাগ, শশীদল আলহাজ্ব মুহাম্মদ আবু তাহের কলেজ, ব্রাহ্মণপাড়া, কুমিল্লা।