• কুমিল্লা সিটি করপোরেশন
  • কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
  • আদর্শ সদর
  • বরুড়া
  • লাকসাম
  • দাউদকান্দি
  • আরও
    • চৌদ্দগ্রাম
    • সদর দক্ষিণ
    • নাঙ্গলকোট
    • বুড়িচং
    • ব্রাহ্মণপাড়া
    • মনোহরগঞ্জ
    • লালমাই
    • চান্দিনা
    • মুরাদনগর
    • দেবীদ্বার
    • হোমনা
    • মেঘনা
    • তিতাস
  • সর্বশেষ
  • রাজনীতি
  • বাংলাদেশ
  • অপরাধ
  • বিশ্ব
  • বাণিজ্য
  • মতামত
  • খেলা
  • বিনোদন
  • চাকরি
  • জীবনযাপন
  • ইপেপার
  • ইপেপার
facebooktwittertiktokpinterestyoutubelinkedininstagramgoogle
স্বত্ব: ©️ আমার শহর

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. গাজীউল হক ভূঁইয়া ( সোহাগ)।

নাহার প্লাজা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০

ই-মেইল: [email protected]

ফোন: 01716197760

> মতামত

শহীদ জিয়া:

আধুনিক বাংলাদেশের সাহসী নির্মাতা

মায়মুন শরীফ রাইয়ান
প্রকাশ : ৩০ মে ২০২৬, ১০: ৫৯
আপডেট : ৩০ মে ২০২৬, ১০: ৫৯
logo

আধুনিক বাংলাদেশের সাহসী নির্মাতা

মায়মুন শরীফ রাইয়ান

প্রকাশ : ৩০ মে ২০২৬, ১০: ৫৯
Photo

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জিয়াউর রহমান এমন এক ব্যক্তিত্ব, যাকে ঘিরে আলোচনা, মূল্যায়ন ও আবেগ আজও সমানভাবে প্রবাহমান। তিনি শুধু একজন রাষ্ট্রপতি ছিলেন না; ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সাহসী সংগঠক, পেশাদার সামরিক কর্মকর্তা, দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি জাতিকে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে নিবেদিত এক বলিষ্ঠ নেতৃত্ব। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে রাষ্ট্রগঠন ও উন্নয়নের অভিযাত্রায় তার ভ‚মিকা ইতিহাসের এক উজ্জ্বল ও গৌরবময় অধ্যায় হয়ে আছে। তাঁর মৃত্যু আজও দেশপ্রেমিক মানুষকে বেদনাহত করে এবং এক অপূরণীয় শূন্যতার অনুভ‚তি জাগিয়ে তোলে।

১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলীতে জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছিলেন শৃঙ্খলাবোধ, আত্মবিশ^াস ও নেতৃত্বগুণে অনন্য। পরবর্তীতে পাকিস্তান সামরিক একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ধীরে ধীরে একজন দক্ষ, সৎ ও পেশাদার সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। দায়িত্ববোধ, দৃঢ়তা ও সাহসিকতা তাকে সহকর্মীদের কাছেও সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত করেছিল।

কিন্তু ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ তার জীবনকে এক অনন্য ঐতিহাসিক উচ্চতায় নিয়ে যায়। পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে তিনি বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তার স্বাধীনতার ঘোষণা লড়াইরত বাঙালি জাতির হৃদয়ে সাহস, আশাবাদ ও প্রতিরোধের নতুন শক্তি সঞ্চার করেছিল। সেই ভয়াল ও অনিশ্চিত সময়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন মুক্তিকামী মানুষের সাহসী কণ্ঠস্বর এবং সংগ্রামী চেতনার প্রতীক।

মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সেক্টর কমান্ডার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধক্ষেত্রে তার কৌশলগত দক্ষতা, দুর্দমনীয় সাহস এবং সংগঠকসুলভ নেতৃত্ব মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছিল। দেশের স্বাধীনতার জন্য তার বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাধীনতার পর তাকে বীর উত্তম খেতাবে ভ‚ষিত করা হয়। জাতির সংকটময় মুহূর্তে তার দৃঢ়তা ও দেশপ্রেম আজও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয়।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট, দুর্ভিক্ষ, প্রশাসনিক অস্থিরতা ও একদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার মুখোমুখি হয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো, উৎপাদনহীন অর্থনীতি এবং হতাশাগ্রস্ত জনজীবন দেশের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলেছিল। এমন এক কঠিন সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে জিয়াউর রহমান দেশকে স্থিতিশীলতা, শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের পথে ফিরিয়ে আনার সাহসী উদ্যোগ নেন। তিনি মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছিলেন- বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে পারে, আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যেতে পারে।

তিনি বিশ্বাস করতেন, রাষ্ট্র পরিচালনার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়ন। তাই তিনি বাস্তবমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। কৃষি, উৎপাদন, অবকাঠামো ও স্থানীয় অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে তিনি এক উন্নয়নমুখী রাষ্ট্রচিন্তার ভিত্তি গড়ে তুলতে সচেষ্ট হন। তার অর্থনৈতিক দর্শনের মূল কথা ছিল আত্মনির্ভরশীলতা, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ। তিনি শুধু উন্নয়নের কথা বলেননি; উন্নয়নকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

তার সময়ে কৃষি খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। খাল খনন কর্মসূচি ছিল তার অন্যতম দূরদর্শী উদ্যোগ। বাংলাদেশের কৃষি সেচনির্ভর- এই বাস্তবতা অনুধাবন করে তিনি পানিব্যবস্থার উন্নয়নে জোর দেন। দেশজুড়ে বহু খাল ও জলপথ পুনঃখননের ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ ফিরে আসে। তিনি প্রায়ই বলতেন, “গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে।” এই দর্শনের ভিত্তিতেই তিনি গ্রামীণ উন্নয়নকে জাতীয় উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসেন। তার এই ভাবনা আজও উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রাসঙ্গিক ও অনুকরণীয়।

তার শাসনামলে গ্রাম সরকার, স্বেচ্ছাশ্রমভিত্তিক উন্নয়ন এবং স্থানীয় অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রম গুরুত্ব পায়। রাস্তা, সেতু, বাজার ও যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে রাজধানীকেন্দ্রিক উন্নয়ন কখনোই টেকসই হতে পারে না; উন্নয়নের আলো পৌঁছাতে হবে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের ঘরেও। এ কারণেই তার উন্নয়ন দর্শন ছিল গণমুখী ও বাস্তবভিত্তিক।

শিল্প ও অর্থনীতির ক্ষেত্রেও তিনি বাস্তবধর্মী ও সময়োপযোগী নীতি অনুসরণ করেন। রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক কাঠামো থেকে বেরিয়ে বেসরকারি খাতকে উৎসাহ দেওয়ার পদক্ষেপ নেন। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা হয়। বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং রপ্তানিমুখী অর্থনীতির ধারণাও তার সময়েই গুরুত্ব পেতে শুরু করে। আজকের বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প, প্রবাসী আয়নির্ভর অর্থনীতি ও বেসরকারি খাতের বিস্তারের পেছনে রয়েছে তার সময়কার নীতিগত পরিবর্তনের সুদূরপ্রসারী প্রভাব।

রাজনীতির ক্ষেত্রেও জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করেন। স্বাধীনতার পর দেশে রাজনৈতিক বহুমতের পরিসর সংকুচিত হয়ে পড়েছিল। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন এবং রাজনৈতিক কর্মকান্ডে নতুন প্রাণসঞ্চার করেন। তার প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি দ্রæত দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়। রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও মতপ্রকাশের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তার ভ‚মিকা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

“বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ”ছিল তার রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। ভাষা, সংস্কৃতি, ভ‚খন্ড, স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বাতন্ত্র্যকে তিনি এই ধারণার মাধ্যমে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। অনেকের মতে, এই দর্শন বাংলাদেশের স্বাধীন পরিচয়কে আরও সুসংহত করেছে এবং জাতীয় ঐক্যের ভিতকে শক্তিশালী করেছে। দেশপ্রেম, আত্মমর্যাদা ও জাতীয় চেতনার প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপসহীন।

শিক্ষা খাতেও তিনি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ গ্রহণ করেন। শিক্ষাকে কর্মমুখী ও যুগোপযোগী করার জন্য জাতীয় শিক্ষা উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা সম্প্রসারণ, গণশিক্ষা কার্যক্রম এবং কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যাতে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞানচর্চার পথও উন্মুক্ত হয়। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও তার সময়েই শুরু হয়, যা পরবর্তীতে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হয়ে ওঠে।

সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাÐের প্রতিও তার গভীর আগ্রহ ছিল। তার আমলে একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদকের মতো রাষ্ট্রীয় সম্মাননা চালু হয়। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রবর্তন, বাংলা একাডেমির কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং শিল্প-সাহিত্যচর্চাকে উৎসাহ দেওয়ার নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। শিশুদের সাংস্কৃতিক ও মানসিক বিকাশের জন্য বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ও জাতীয় শিশুপার্ক প্রতিষ্ঠাও ছিল উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, একটি জাতির উন্নয়ন শুধু অর্থনৈতিক নয়; সাংস্কৃতিক বিকাশও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও তার সময়ের কিছু উদ্যোগ বিশেষভাবে প্রশংসিত। বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) এবং প্রেস কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন ও সংবাদমাধ্যমের কাঠামোগত বিকাশের চেষ্টা করা হয়। অনেকের মতে, তার আমলে মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে তুলনামূলক উন্মুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, যা বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্ত ভিত প্রদান করে।

স্বাস্থ্য খাতে তার সরকারের উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট, ক্যানসার ইনস্টিটিউট, নার্সিং কলেজসহ বিভিন্ন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি তার সময়েই গড়ে ওঠে। স্বাস্থ্যসেবাকে ঢাকাকেন্দ্রিক না রেখে বিভিন্ন অঞ্চলে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবার উন্নয়নে এসব পদক্ষেপ পরবর্তীকালে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করতে সহায়তা করেছে।

পররাষ্ট্রনীতিতে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ ও আত্মবিশ্বাস অবস্থান গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। তিনি জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতেন। মুসলিম বিশ্বর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার উদ্যোগ নেন। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা বা সার্ক গঠনের ধারণা বাস্তবায়নে তার ভ‚মিকা বিশেষভাবে স্মরণীয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে একটি সম্ভাবনাময়, মর্যাদাবান ও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।

ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে থেকেও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন এক অনুকরণীয় সৎ, সাদাসিধে ও দেশপ্রেমিক মানুষ। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তোলার কঠিন দায়িত্ব তিনি নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালন করেছেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত অনাড়ম্বর। রাষ্ট্রীয় সম্পদের প্রতি বিন্দুমাত্র লোভ না রেখে তিনি দিন-রাত দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। মৃত্যুর পর তার ব্যবহৃত ভাঙা সুটকেস ও ছেঁড়া গেঞ্জির স্মৃতি আজও মানুষের হৃদয়কে আবেগাপ্লুত করে। ক্ষমতার মোহে অন্ধ না হয়ে দেশের মাটিকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসার যে দৃষ্টান্ত তিনি রেখে গেছেন, তা আজও বিরল এবং অনুপ্রেরণাদায়ক।

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক সামরিক অভ্যুত্থানে দেশপ্রেমিক এই সাহসী সৈনিক নিহত হন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল মাত্র ৪৬ বছর। অল্প সময়ের রাজনৈতিক জীবনে তিনি যে প্রভাব রেখে গেছেন, তা বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও রাষ্ট্রচিন্তায় এখনও সুস্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। তার মৃত্যুর পরও তার রাজনৈতিক দর্শন, জাতীয়তাবাদের ধারণা এবং উন্নয়নকেন্দ্রিক রাষ্ট্রচিন্তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হয়ে রয়েছে।

আজও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক প্রভাবশালী, আবেগময় ও অনিবার্য নাম। বহুদলীয় গণতন্ত্র, গ্রামীণ উন্নয়ন, জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্ন এবং আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতির ধারণা প্রতিষ্ঠায় তার ভ‚মিকা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। সংগ্রাম, সাহস, দেশপ্রেম, রাষ্ট্রচিন্তা ও বাস্তবমুখী উন্নয়ন দর্শনের কারণে শহীদ জিয়া শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন; তিনি আধুনিক বাংলাদেশের আত্মবিবিশ্বাসী অভিযাত্রার এক সাহসী নির্মাতা হয়ে ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

মায়মুন শরীফ রাইয়ান: সহকারী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড সরকারি মডেল কলেজ।

Thumbnail image

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জিয়াউর রহমান এমন এক ব্যক্তিত্ব, যাকে ঘিরে আলোচনা, মূল্যায়ন ও আবেগ আজও সমানভাবে প্রবাহমান। তিনি শুধু একজন রাষ্ট্রপতি ছিলেন না; ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সাহসী সংগঠক, পেশাদার সামরিক কর্মকর্তা, দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি জাতিকে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে নিবেদিত এক বলিষ্ঠ নেতৃত্ব। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে রাষ্ট্রগঠন ও উন্নয়নের অভিযাত্রায় তার ভ‚মিকা ইতিহাসের এক উজ্জ্বল ও গৌরবময় অধ্যায় হয়ে আছে। তাঁর মৃত্যু আজও দেশপ্রেমিক মানুষকে বেদনাহত করে এবং এক অপূরণীয় শূন্যতার অনুভ‚তি জাগিয়ে তোলে।

১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলীতে জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছিলেন শৃঙ্খলাবোধ, আত্মবিশ^াস ও নেতৃত্বগুণে অনন্য। পরবর্তীতে পাকিস্তান সামরিক একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ধীরে ধীরে একজন দক্ষ, সৎ ও পেশাদার সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। দায়িত্ববোধ, দৃঢ়তা ও সাহসিকতা তাকে সহকর্মীদের কাছেও সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত করেছিল।

কিন্তু ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ তার জীবনকে এক অনন্য ঐতিহাসিক উচ্চতায় নিয়ে যায়। পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে তিনি বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তার স্বাধীনতার ঘোষণা লড়াইরত বাঙালি জাতির হৃদয়ে সাহস, আশাবাদ ও প্রতিরোধের নতুন শক্তি সঞ্চার করেছিল। সেই ভয়াল ও অনিশ্চিত সময়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন মুক্তিকামী মানুষের সাহসী কণ্ঠস্বর এবং সংগ্রামী চেতনার প্রতীক।

মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সেক্টর কমান্ডার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধক্ষেত্রে তার কৌশলগত দক্ষতা, দুর্দমনীয় সাহস এবং সংগঠকসুলভ নেতৃত্ব মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছিল। দেশের স্বাধীনতার জন্য তার বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাধীনতার পর তাকে বীর উত্তম খেতাবে ভ‚ষিত করা হয়। জাতির সংকটময় মুহূর্তে তার দৃঢ়তা ও দেশপ্রেম আজও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয়।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট, দুর্ভিক্ষ, প্রশাসনিক অস্থিরতা ও একদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার মুখোমুখি হয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো, উৎপাদনহীন অর্থনীতি এবং হতাশাগ্রস্ত জনজীবন দেশের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলেছিল। এমন এক কঠিন সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে জিয়াউর রহমান দেশকে স্থিতিশীলতা, শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের পথে ফিরিয়ে আনার সাহসী উদ্যোগ নেন। তিনি মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছিলেন- বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে পারে, আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যেতে পারে।

তিনি বিশ্বাস করতেন, রাষ্ট্র পরিচালনার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়ন। তাই তিনি বাস্তবমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। কৃষি, উৎপাদন, অবকাঠামো ও স্থানীয় অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে তিনি এক উন্নয়নমুখী রাষ্ট্রচিন্তার ভিত্তি গড়ে তুলতে সচেষ্ট হন। তার অর্থনৈতিক দর্শনের মূল কথা ছিল আত্মনির্ভরশীলতা, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ। তিনি শুধু উন্নয়নের কথা বলেননি; উন্নয়নকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

তার সময়ে কৃষি খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। খাল খনন কর্মসূচি ছিল তার অন্যতম দূরদর্শী উদ্যোগ। বাংলাদেশের কৃষি সেচনির্ভর- এই বাস্তবতা অনুধাবন করে তিনি পানিব্যবস্থার উন্নয়নে জোর দেন। দেশজুড়ে বহু খাল ও জলপথ পুনঃখননের ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ ফিরে আসে। তিনি প্রায়ই বলতেন, “গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে।” এই দর্শনের ভিত্তিতেই তিনি গ্রামীণ উন্নয়নকে জাতীয় উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসেন। তার এই ভাবনা আজও উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রাসঙ্গিক ও অনুকরণীয়।

তার শাসনামলে গ্রাম সরকার, স্বেচ্ছাশ্রমভিত্তিক উন্নয়ন এবং স্থানীয় অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রম গুরুত্ব পায়। রাস্তা, সেতু, বাজার ও যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে রাজধানীকেন্দ্রিক উন্নয়ন কখনোই টেকসই হতে পারে না; উন্নয়নের আলো পৌঁছাতে হবে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের ঘরেও। এ কারণেই তার উন্নয়ন দর্শন ছিল গণমুখী ও বাস্তবভিত্তিক।

শিল্প ও অর্থনীতির ক্ষেত্রেও তিনি বাস্তবধর্মী ও সময়োপযোগী নীতি অনুসরণ করেন। রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক কাঠামো থেকে বেরিয়ে বেসরকারি খাতকে উৎসাহ দেওয়ার পদক্ষেপ নেন। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা হয়। বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং রপ্তানিমুখী অর্থনীতির ধারণাও তার সময়েই গুরুত্ব পেতে শুরু করে। আজকের বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প, প্রবাসী আয়নির্ভর অর্থনীতি ও বেসরকারি খাতের বিস্তারের পেছনে রয়েছে তার সময়কার নীতিগত পরিবর্তনের সুদূরপ্রসারী প্রভাব।

রাজনীতির ক্ষেত্রেও জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করেন। স্বাধীনতার পর দেশে রাজনৈতিক বহুমতের পরিসর সংকুচিত হয়ে পড়েছিল। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন এবং রাজনৈতিক কর্মকান্ডে নতুন প্রাণসঞ্চার করেন। তার প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি দ্রæত দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়। রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও মতপ্রকাশের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তার ভ‚মিকা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

“বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ”ছিল তার রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। ভাষা, সংস্কৃতি, ভ‚খন্ড, স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বাতন্ত্র্যকে তিনি এই ধারণার মাধ্যমে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। অনেকের মতে, এই দর্শন বাংলাদেশের স্বাধীন পরিচয়কে আরও সুসংহত করেছে এবং জাতীয় ঐক্যের ভিতকে শক্তিশালী করেছে। দেশপ্রেম, আত্মমর্যাদা ও জাতীয় চেতনার প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপসহীন।

শিক্ষা খাতেও তিনি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ গ্রহণ করেন। শিক্ষাকে কর্মমুখী ও যুগোপযোগী করার জন্য জাতীয় শিক্ষা উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা সম্প্রসারণ, গণশিক্ষা কার্যক্রম এবং কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যাতে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞানচর্চার পথও উন্মুক্ত হয়। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও তার সময়েই শুরু হয়, যা পরবর্তীতে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হয়ে ওঠে।

সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাÐের প্রতিও তার গভীর আগ্রহ ছিল। তার আমলে একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদকের মতো রাষ্ট্রীয় সম্মাননা চালু হয়। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রবর্তন, বাংলা একাডেমির কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং শিল্প-সাহিত্যচর্চাকে উৎসাহ দেওয়ার নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। শিশুদের সাংস্কৃতিক ও মানসিক বিকাশের জন্য বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ও জাতীয় শিশুপার্ক প্রতিষ্ঠাও ছিল উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, একটি জাতির উন্নয়ন শুধু অর্থনৈতিক নয়; সাংস্কৃতিক বিকাশও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও তার সময়ের কিছু উদ্যোগ বিশেষভাবে প্রশংসিত। বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) এবং প্রেস কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন ও সংবাদমাধ্যমের কাঠামোগত বিকাশের চেষ্টা করা হয়। অনেকের মতে, তার আমলে মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে তুলনামূলক উন্মুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, যা বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্ত ভিত প্রদান করে।

স্বাস্থ্য খাতে তার সরকারের উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট, ক্যানসার ইনস্টিটিউট, নার্সিং কলেজসহ বিভিন্ন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি তার সময়েই গড়ে ওঠে। স্বাস্থ্যসেবাকে ঢাকাকেন্দ্রিক না রেখে বিভিন্ন অঞ্চলে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবার উন্নয়নে এসব পদক্ষেপ পরবর্তীকালে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করতে সহায়তা করেছে।

পররাষ্ট্রনীতিতে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ ও আত্মবিশ্বাস অবস্থান গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। তিনি জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতেন। মুসলিম বিশ্বর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার উদ্যোগ নেন। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা বা সার্ক গঠনের ধারণা বাস্তবায়নে তার ভ‚মিকা বিশেষভাবে স্মরণীয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে একটি সম্ভাবনাময়, মর্যাদাবান ও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।

ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে থেকেও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন এক অনুকরণীয় সৎ, সাদাসিধে ও দেশপ্রেমিক মানুষ। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তোলার কঠিন দায়িত্ব তিনি নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালন করেছেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত অনাড়ম্বর। রাষ্ট্রীয় সম্পদের প্রতি বিন্দুমাত্র লোভ না রেখে তিনি দিন-রাত দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। মৃত্যুর পর তার ব্যবহৃত ভাঙা সুটকেস ও ছেঁড়া গেঞ্জির স্মৃতি আজও মানুষের হৃদয়কে আবেগাপ্লুত করে। ক্ষমতার মোহে অন্ধ না হয়ে দেশের মাটিকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসার যে দৃষ্টান্ত তিনি রেখে গেছেন, তা আজও বিরল এবং অনুপ্রেরণাদায়ক।

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক সামরিক অভ্যুত্থানে দেশপ্রেমিক এই সাহসী সৈনিক নিহত হন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল মাত্র ৪৬ বছর। অল্প সময়ের রাজনৈতিক জীবনে তিনি যে প্রভাব রেখে গেছেন, তা বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও রাষ্ট্রচিন্তায় এখনও সুস্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। তার মৃত্যুর পরও তার রাজনৈতিক দর্শন, জাতীয়তাবাদের ধারণা এবং উন্নয়নকেন্দ্রিক রাষ্ট্রচিন্তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হয়ে রয়েছে।

আজও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক প্রভাবশালী, আবেগময় ও অনিবার্য নাম। বহুদলীয় গণতন্ত্র, গ্রামীণ উন্নয়ন, জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্ন এবং আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতির ধারণা প্রতিষ্ঠায় তার ভ‚মিকা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। সংগ্রাম, সাহস, দেশপ্রেম, রাষ্ট্রচিন্তা ও বাস্তবমুখী উন্নয়ন দর্শনের কারণে শহীদ জিয়া শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন; তিনি আধুনিক বাংলাদেশের আত্মবিবিশ্বাসী অভিযাত্রার এক সাহসী নির্মাতা হয়ে ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

মায়মুন শরীফ রাইয়ান: সহকারী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড সরকারি মডেল কলেজ।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

১

আধুনিক বাংলাদেশের সাহসী নির্মাতা

২

ঈদে বুঝে শুনে খান

৩

'জেগে উঠো মানুষ ফিরে আসুক মানবিকতা'

৪

ইউনিসেফের ভাষ্য, টিকার বাজেট ছিল, সময়মত কেনা হয়নি

৫

আধুনিক ফুটবলের তিন মহানায়ক

সম্পর্কিত

ঈদে বুঝে শুনে খান

ঈদে বুঝে শুনে খান

৪ দিন আগে
'জেগে উঠো মানুষ
ফিরে আসুক মানবিকতা'

'জেগে উঠো মানুষ ফিরে আসুক মানবিকতা'

৪ দিন আগে
ইউনিসেফের ভাষ্য, টিকার বাজেট ছিল, সময়মত কেনা হয়নি

ইউনিসেফের ভাষ্য, টিকার বাজেট ছিল, সময়মত কেনা হয়নি

৫ দিন আগে
আধুনিক ফুটবলের তিন মহানায়ক

আধুনিক ফুটবলের তিন মহানায়ক

৯ দিন আগে