অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ

ঈদের সপ্তাহজুড়ে দাবদাহ চলবে বলে ধারনা দেয়া হয়েছে। ফলে হিট ষ্ট্রোকসহ নানা ব্যধিতে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। অতি ভোজনে হজম সমস্যা দেখা দেয়, যার ফলে ঈদের আনন্দে ভাটা পড়ে। গুরুপাক খাবার খেয়ে অনেকেই পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হন। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, লিভার ও কিডনি রোগীদের জন্য অনেক যাতনার কারণ হয়ে উঠতে পারে অতিভোজ। গরু, খাসী, মহিষ বা উটের মত লাল মাংসই খাওয়া হয় বেশি। যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফ্যাটি লিভার, হজমে সমস্যা, পিসিওএস সমস্যা রয়েছে বা যাঁদের ওজন বেশি, তাঁদের খাবারের পরিমান ও শরীরের উপর প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করে খেতে হবে।
তাই যে সকল সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে তা হচ্ছে- ১. প্রচুর সালাদ খাবেন। এটি হজমে সাহায্য করে। চিনি ছাড়া লেবুর শরবত, টকদই, বোরহানি ইত্যাদিও হজমে সহায়ক ২. প্রচুর পরিমান তৈলাক্ত খাবার ও চর্বিযুক্ত খাবার এক সঙ্গে বেশি খেলে হজমে সমস্যা হয়, যা সংযত হওয়া বাঞ্ছনীয় ৩. নিজেকে অতিরিক্ত ক্ষুধার্ত করবেন না। অতিরিক্ত ক্ষুধা অতিরিক্ত খাবার প্রবণতা বাড়ায় ৪. চিনিযুক্ত কোমল পানীয় বর্জন করুন। বোরহানি, লেবুর শরবত, চিনিমুক্ত পুদিনা লাচ্ছি, ডাবের পানি, টক দই ইত্যাদি খেতে পারেন ৫. কম ক্যালরির সহজপাচ্য খাবার বা পানি আগে খেয়ে নিন। তাহলে কম খাওয়া হবে ৬. মাংসে তেল বা ঘিয়ের পরিমান কমিয়ে রান্না করলে মাংসের নিজস্ব তেল বেরিয়ে আসে। এতে স্বাদ ও অনেকগুণে বেড়ে যায় ৭. দিনে একবেলা মাছ খান। মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড আছে যা শরীরের উপকারী ৮. ব্যায়ামে নজর দিন। কোরবানির ঈদে বেশি মাংস খাওয়া হয় বিধায় অবশ্যই হালকা ব্যায়াম, ইয়োগা, মেডিটেশন ইত্যাদির অভ্যাস থাকলে চালু রাখুন। শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে খাদ্য তালিকায় পানির পাশাপাশি এর অভাব পূরণ করে এমন কিছু খাবার খাদ্যতালিকায় থাকা ভাল:- পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি পান করতেই হবে। লেবুর শরবত আখের গুড়ের শরবত শক্তি অর্জনে সহায়ক। চিড়ার পানি, চিড়া ভিজিয়ে খাওয়া যায়। চিনি ছাড়া তরমুজ, বাঙ্গি, মৌসুমী ফলের রস উপাদেয় শসা, খিরা, ডাবের পানি, পুদিনার জুস, লাচ্ছি, মাঠা পান করতে পারেন।
কিডনি রোগীরা যেভাবে চলবেন-
প্রোটিন জাতীয় খাদ্য যেমন- বাদাম, ডাল, বিচি, মাংস ইত্যাদি কম খান।
পুষ্টিবিদের দেয়া চার্ট মেনে চলুন
যদি পানির নির্ধারিত মাত্রা দেয়া থাকে তবে তা মেনে চলুন
কোনক্রমেই অতিরিক্ত গরুর মাংস খাওয়া যাবে না।
২ ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমের (আইবিএস) রোগীদের যা মানা দরকার-
আইবিএস রোগীর শাকজাতীয়, দুগ্ধজাতীয় ও গুরুপাক খাবার এড়িয়ে চলুন।
সহজপাচ্য খাবার খান, পরিমিত খান এবং অতিভোজ পরিতাজ্য।
রাতের খাবার খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে না ঘুমিয়ে দুই ঘন্টা পর ঘুমাবেন।
খাবারের মধ্যে পানি খাবেন না, এতে পাচকরস পাতলা হয়ে যায়। খাবার অন্তত: ৩০ মিনিট পর পানি পান করুন।
কোষ্ঠকাঠিন্য/পাইলস রোগীদের যা মানতে হবে-
রেডমিট বা গরু খাসির মাংস কোষ্টকাঠিন্য বাড়ায়।
মাংস না খেয়ে শাকসবজি, মাছের তরকারি, ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।
লাউ, পেপে, ঝিঙ্গা, কইডা/চিচিঙ্গা, পটল, কারকল ইত্যাদি দিয়ে সহপাচ্য খাবার তৈরি করুন।
যেহেতু প্রধান খাবার মাংস, তাই প্রচুর পানি পান করুন।
চিনি ছাড়া সরবত, ফলের ফ্রেশ জুসসহ অন্যান্য তরল খাবার খান।
তোকমা, চিয়াসিড, ইসুবগোলের ভূসি খেতে পারেন।
ডায়াবেটিস রোগীরা যা মানা দরকার-
মিষ্টি জাতীয় খাবার, ডেজার্ট, কোমল পানীয় বর্জনীয়।
পোলাও, বিরিয়ানী কম খাবেন, লাল চালের ভাত খাবেন।
গরু বা খাসির মাংস যেন অতিরিক্ত না হয় এবং খাবারে তেল চর্বি যেন কম থাকে সে দিকে খেয়াল রাখবেন। প্রতিদিন খাবারে টক ফল, ভিটামিন-সি জাতীয় খাবার রাখবেন।
দাঁতের বাড়তি যত্ন নিন- স্বাভাবিকভাবেই বেশি মাংস খাওয়ার কারনে দাঁতের ফাঁকে আটকে যায়। সময়মতো পরিষ্কার না করলে এতে ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধে, সৃষ্টি করে মাড়ির প্রদাহ (Gingiviti) এবং দুর্গন্ধ মাংস আটকে গেলে কাঠ বা প্লাষ্টিকের টুথপিক দিয়ে না খুঁচিয়ে ‘ডেন্টাল ফ্লস’ (Dental Floss) দিয়ে আলতো করে দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার করুন। এটি দাঁত ও মাড়ির কোন ক্ষতি করে না। শক্ত হাঁড় কামড় দিয়ে হাড়ের মজ্জা (Bone Marrow) খাওয়ার চেষ্টা করবেন না। নরম হাঁড় চাবাবেন। তেল, চর্বিযুক্ত ভারী খাবার পর প্রতিবারই ভাল করে কুলকুচি করবেন। সম্ভব হলে হালকা/কুসুম গরম পানিতে সামান্য লবন মিশিয়ে কুলকুচি করুন। রাতে ঘুমানোর আগে এবং সকালে নাস্তার পর অবশ্যই অন্তত: দুইমিনিট ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেষ্ট দিয়ে ভাল করে ব্রাশ করতে হবে।
অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ: সাবেক অধ্যক্ষ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ।

ঈদের সপ্তাহজুড়ে দাবদাহ চলবে বলে ধারনা দেয়া হয়েছে। ফলে হিট ষ্ট্রোকসহ নানা ব্যধিতে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। অতি ভোজনে হজম সমস্যা দেখা দেয়, যার ফলে ঈদের আনন্দে ভাটা পড়ে। গুরুপাক খাবার খেয়ে অনেকেই পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হন। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, লিভার ও কিডনি রোগীদের জন্য অনেক যাতনার কারণ হয়ে উঠতে পারে অতিভোজ। গরু, খাসী, মহিষ বা উটের মত লাল মাংসই খাওয়া হয় বেশি। যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফ্যাটি লিভার, হজমে সমস্যা, পিসিওএস সমস্যা রয়েছে বা যাঁদের ওজন বেশি, তাঁদের খাবারের পরিমান ও শরীরের উপর প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করে খেতে হবে।
তাই যে সকল সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে তা হচ্ছে- ১. প্রচুর সালাদ খাবেন। এটি হজমে সাহায্য করে। চিনি ছাড়া লেবুর শরবত, টকদই, বোরহানি ইত্যাদিও হজমে সহায়ক ২. প্রচুর পরিমান তৈলাক্ত খাবার ও চর্বিযুক্ত খাবার এক সঙ্গে বেশি খেলে হজমে সমস্যা হয়, যা সংযত হওয়া বাঞ্ছনীয় ৩. নিজেকে অতিরিক্ত ক্ষুধার্ত করবেন না। অতিরিক্ত ক্ষুধা অতিরিক্ত খাবার প্রবণতা বাড়ায় ৪. চিনিযুক্ত কোমল পানীয় বর্জন করুন। বোরহানি, লেবুর শরবত, চিনিমুক্ত পুদিনা লাচ্ছি, ডাবের পানি, টক দই ইত্যাদি খেতে পারেন ৫. কম ক্যালরির সহজপাচ্য খাবার বা পানি আগে খেয়ে নিন। তাহলে কম খাওয়া হবে ৬. মাংসে তেল বা ঘিয়ের পরিমান কমিয়ে রান্না করলে মাংসের নিজস্ব তেল বেরিয়ে আসে। এতে স্বাদ ও অনেকগুণে বেড়ে যায় ৭. দিনে একবেলা মাছ খান। মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড আছে যা শরীরের উপকারী ৮. ব্যায়ামে নজর দিন। কোরবানির ঈদে বেশি মাংস খাওয়া হয় বিধায় অবশ্যই হালকা ব্যায়াম, ইয়োগা, মেডিটেশন ইত্যাদির অভ্যাস থাকলে চালু রাখুন। শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে খাদ্য তালিকায় পানির পাশাপাশি এর অভাব পূরণ করে এমন কিছু খাবার খাদ্যতালিকায় থাকা ভাল:- পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি পান করতেই হবে। লেবুর শরবত আখের গুড়ের শরবত শক্তি অর্জনে সহায়ক। চিড়ার পানি, চিড়া ভিজিয়ে খাওয়া যায়। চিনি ছাড়া তরমুজ, বাঙ্গি, মৌসুমী ফলের রস উপাদেয় শসা, খিরা, ডাবের পানি, পুদিনার জুস, লাচ্ছি, মাঠা পান করতে পারেন।
কিডনি রোগীরা যেভাবে চলবেন-
প্রোটিন জাতীয় খাদ্য যেমন- বাদাম, ডাল, বিচি, মাংস ইত্যাদি কম খান।
পুষ্টিবিদের দেয়া চার্ট মেনে চলুন
যদি পানির নির্ধারিত মাত্রা দেয়া থাকে তবে তা মেনে চলুন
কোনক্রমেই অতিরিক্ত গরুর মাংস খাওয়া যাবে না।
২ ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমের (আইবিএস) রোগীদের যা মানা দরকার-
আইবিএস রোগীর শাকজাতীয়, দুগ্ধজাতীয় ও গুরুপাক খাবার এড়িয়ে চলুন।
সহজপাচ্য খাবার খান, পরিমিত খান এবং অতিভোজ পরিতাজ্য।
রাতের খাবার খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে না ঘুমিয়ে দুই ঘন্টা পর ঘুমাবেন।
খাবারের মধ্যে পানি খাবেন না, এতে পাচকরস পাতলা হয়ে যায়। খাবার অন্তত: ৩০ মিনিট পর পানি পান করুন।
কোষ্ঠকাঠিন্য/পাইলস রোগীদের যা মানতে হবে-
রেডমিট বা গরু খাসির মাংস কোষ্টকাঠিন্য বাড়ায়।
মাংস না খেয়ে শাকসবজি, মাছের তরকারি, ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।
লাউ, পেপে, ঝিঙ্গা, কইডা/চিচিঙ্গা, পটল, কারকল ইত্যাদি দিয়ে সহপাচ্য খাবার তৈরি করুন।
যেহেতু প্রধান খাবার মাংস, তাই প্রচুর পানি পান করুন।
চিনি ছাড়া সরবত, ফলের ফ্রেশ জুসসহ অন্যান্য তরল খাবার খান।
তোকমা, চিয়াসিড, ইসুবগোলের ভূসি খেতে পারেন।
ডায়াবেটিস রোগীরা যা মানা দরকার-
মিষ্টি জাতীয় খাবার, ডেজার্ট, কোমল পানীয় বর্জনীয়।
পোলাও, বিরিয়ানী কম খাবেন, লাল চালের ভাত খাবেন।
গরু বা খাসির মাংস যেন অতিরিক্ত না হয় এবং খাবারে তেল চর্বি যেন কম থাকে সে দিকে খেয়াল রাখবেন। প্রতিদিন খাবারে টক ফল, ভিটামিন-সি জাতীয় খাবার রাখবেন।
দাঁতের বাড়তি যত্ন নিন- স্বাভাবিকভাবেই বেশি মাংস খাওয়ার কারনে দাঁতের ফাঁকে আটকে যায়। সময়মতো পরিষ্কার না করলে এতে ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধে, সৃষ্টি করে মাড়ির প্রদাহ (Gingiviti) এবং দুর্গন্ধ মাংস আটকে গেলে কাঠ বা প্লাষ্টিকের টুথপিক দিয়ে না খুঁচিয়ে ‘ডেন্টাল ফ্লস’ (Dental Floss) দিয়ে আলতো করে দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার করুন। এটি দাঁত ও মাড়ির কোন ক্ষতি করে না। শক্ত হাঁড় কামড় দিয়ে হাড়ের মজ্জা (Bone Marrow) খাওয়ার চেষ্টা করবেন না। নরম হাঁড় চাবাবেন। তেল, চর্বিযুক্ত ভারী খাবার পর প্রতিবারই ভাল করে কুলকুচি করবেন। সম্ভব হলে হালকা/কুসুম গরম পানিতে সামান্য লবন মিশিয়ে কুলকুচি করুন। রাতে ঘুমানোর আগে এবং সকালে নাস্তার পর অবশ্যই অন্তত: দুইমিনিট ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেষ্ট দিয়ে ভাল করে ব্রাশ করতে হবে।
অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ: সাবেক অধ্যক্ষ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ।