• কুমিল্লা সিটি করপোরেশন
  • কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
  • আদর্শ সদর
  • বরুড়া
  • লাকসাম
  • দাউদকান্দি
  • আরও
    • চৌদ্দগ্রাম
    • সদর দক্ষিণ
    • নাঙ্গলকোট
    • বুড়িচং
    • ব্রাহ্মণপাড়া
    • মনোহরগঞ্জ
    • লালমাই
    • চান্দিনা
    • মুরাদনগর
    • দেবীদ্বার
    • হোমনা
    • মেঘনা
    • তিতাস
  • সর্বশেষ
  • রাজনীতি
  • বাংলাদেশ
  • অপরাধ
  • বিশ্ব
  • বাণিজ্য
  • মতামত
  • খেলা
  • বিনোদন
  • চাকরি
  • জীবনযাপন
  • ইপেপার
  • ইপেপার
facebooktwittertiktokpinterestyoutubelinkedininstagramgoogle
স্বত্ব: ©️ আমার শহর

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. গাজীউল হক ভূঁইয়া ( সোহাগ)।

নাহার প্লাজা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০

ই-মেইল: [email protected]

ফোন: 01716197760

> মতামত

উপমহাদেশের দলীয় রাজনীতির ১৪০ বছর

আবুল হাসানাত বাবুল
প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১২: ০০
logo

উপমহাদেশের দলীয় রাজনীতির ১৪০ বছর

আবুল হাসানাত বাবুল

প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১২: ০০
Photo

উপমহাদেশের দলীয় রাজনীতির ১৪০ বছর হয়ে গেল। উপমহাদেশে ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় জাতীয় কংগ্রেস। ১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় মুসলিম লীগ। ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আওয়ামী মুসলিম লীগ। জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠায় ভারতীয় রাজনীতিকদের উৎসাহ থাকলেও কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন ইংরেজ সরকার। যা পরে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস হিসেবে পরিচিতি পায়। ঢাকার নওয়াব সলিমউল্লাহর উদ্যোগে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে দলের পরিচয় হয় নিখিল ভারত মুসলিম লীগ। মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও শামসুল হকের প্রচেষ্টায় আওয়ামী মুসলিম লীগ যাত্রা শুরু করলেও ১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের সময় আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। তখন হক-ভাসানী-সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয় এবং যুক্তফ্রন্টের নেতৃত্বে দুর্দন্ড প্রতাপশালী মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করে। ঐতিহাসিকভাবে এই তথ্য প্রমাণিত যে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে ভারত, নিখিল ভারত মুসলিম লীগের নেতৃত্বে পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করে। পাকিস্তানের ২৩ বছরের রাজনীতিতে পূর্ব পাকিস্তান বৈষম্যের শিকার হয়। এর ফলে শের-ই-বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের স্বার্থে জোরালো ভূমিকা পালন করেন। শামসুল হকের পরে শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হলেও মূল নেতৃত্বের জায়গায় হক-ভাসানী-সোহরাওয়ার্দীই অগ্রণী ছিলেন। অন্যদিকে কায়দে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর মৃত্যুর পর মুসলিম লীগের নেতৃত্বে ছিলেন লিয়াকত আলী খান, আবুল হাশেম, খাজা নাজিমউদ্দিন। পাকিস্তান আন্দোলনের সময় মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর নেতৃত্বে মুসলিম লীগ পরিচালিত হলেও মুসলিম লীগে স্পষ্ট দুটি গ্রুপ গড়ে ওঠেছিল। একটা ছিল নওয়াবদের গ্রুপ যার নেতৃত্বে ছিলেন নওয়াবজাদা লিয়াকত আলী খান ও খাজা নাজিমউদ্দিন। আর অন্য গ্রুপের নেতৃত্ব দিতেন আবুল হাশেম ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। শেরে বাংলা কংগ্রেসের সঙ্গেও থাকতেন, মুসলিম লীগের সঙ্গেও থাকতেন। তবে ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে পাকিস্তান প্রস্তাব করেছিলেন। শেরেবাংলার রাজনৈতিক দল ছিল কৃষক-প্রজা পার্টি। এই পার্টি পাকিস্তান আন্দোলনে তেমন জোরালো ছিল না। এই পার্টি কাজ করতো কিভাবে জমিদারদের উচ্ছেদ করা যায়। বৃটিশ আমলে বৃটিশদের দালাল ছিল জমিদারগণ। তারা প্রজাদের শোষণ করে বৃটিশদের বড় অঙ্কে কর দিত। বৃটিশদের দালালী করেই সমগ্র ভারতবর্ষে জমিদাররা তাদের জমিদারী টিকিয়ে রেখেছিল। এরমধ্যে বাংলার জমিদারদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল শোষক এবং নিষ্ঠুর। এই জমিদারদের বিরুদ্ধেই শেরেবাংলা কৃষক-প্রজা পার্টি গড়ে তুলেছিলেন। ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান স্বাধীন হলে শেরেবাংলার নেতৃত্বে জমিদারদের উচ্ছেদ করা হয়। জমিদারদের সম্পত্তি সরকারের সম্পত্তি হয়। তারপরেও রাজনৈতিক দল হিসেবে মুসলিম লীগ ও আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তাই ছিল বেশি। এখানে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রসঙ্গে সংক্ষেপে বলা যায় কায়দে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর নেতৃত্বে পাকিস্তান আন্দোলনে শেখ মুজিব সক্রিয় ছিলেন। যা তিনি তার রচিত গ্রন্থ অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে তুলে ধরেছেন। আর একথা স্পষ্ট তিনি আবুল হাশেম, সোহরাওয়ার্দী গ্রুপের বড় কর্মী হয়ে ওঠেন। পাকিস্তান হয়ে গেলে তিনি শেরে বাংলা, ভাসানীকে বাদ দিয়ে সোহরাওয়ার্দীকে নেতা মেনে পূর্ব পাকিস্তানের স্বার্থ নিয়ে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে ওঠেন এবং ১১ বছর কারাবরণ করেন। ১৯৬২ সালে শেরে বাংলা, ১৯৬৩ সালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মারা যান। বস্তুতপক্ষে শেরে বাংলা, সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর পর শেখ মুজিব আপন পরিচয়ে উদ্ভাসিত হতে থাকেন। মাওলানা ভাসানী ততদিনে আওয়ামী লীগ ছেড়ে দিয়ে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি গড়ে তুলেন। এর ফলে একটা পর্র্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব চলে যায় শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে। ১৯৬৬ সালে আওয়ামী লীগ ৬ দফার প্রস্তাব দেয়। বস্তুতপক্ষে ৬ দফার আন্দোলন নিয়ে শেখ মুজিব পাকিস্তানের প্রধান নেতায় পরিণত হন। ১৯৬৯ সালে সামরিক শাসক আইয়ুব খানের পতন হয়। ছাত্রজনতা শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু উপাধী দেন। বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগ তখন একাকার হয়ে যায়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নির্বাচিত হয়। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান শেখ মুজিবকে পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী ঘোষণাও করেছিলেন। কিন্তু জুলফিকার আলী ভুট্টোর ষড়যন্ত্রে ইয়াহিয়া খান বিশ্বাসঘাতকতা করেন। ফলে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চে যে দিক নির্দেশনা দেন সেটাই জাতির বড় অংশ মেনে নেয়। মুক্তিযুদ্ধের দিকেই দেশ ধাবিত হয়। এখানে এসেই শিরোনামের কথা পরিষ্কার করতে চাই। ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ মেজর জিয়া বঙ্গবন্ধুর পক্ষে বেতারে যে মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দেন এই ঘোষণাই ঐতিহাসিক। সেই ঘোষণাই ভবিষ্যতের বাংলাদেশের নেতা জিয়াউর রহমান তারই ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিল। বৃটিশ আমলে জামায়াতে ইসলামীর পথচলা শুরু হয়। পাকিস্তান আমলে আমি দুটি নাম পাই। প্রথম নাম মাওলানা গোলাম আহমদ মওদুদী। তিনি পূর্ব পাঞ্জাব থেকে গিয়ে পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্ব দেন অধ্যাপক গোলাম আযম। পাকিস্তান আন্দোলনে জামায়াতের কোন অবদান ছিল না। আর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াত পাকিস্তানের পক্ষ অবলম্বন করেছিল। গোলাম আযম আশি দশকের গোঁড়ায় বাংলাদেশে ফিরে এসে ছোট একটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। সেই গ্রন্থটি আমার পড়ার সুযোগ হয়েছিল। সেই গ্রন্থে তিনি কৈফিয়তের সুরে লিখেছিলেন ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান হয়েছিল। জামায়াত মুসলিম জাতীয়তাবাদ বিশ্বাস করে। ধর্মীয় বিষয় নিয়ে পাকিস্তানে আমরা যাই কিছু করতাম সান্তনার একটা কিছু ছিল। মুক্তিযুদ্ধে শেখ মুজিব পাকিস্তানে বন্দী। ভারত পাকিস্তান ভেঙ্গে দিচ্ছে। পূর্ব পাকিস্তান ভারতের অংশ হয়ে যাচ্ছে। দৃশ্যত এসব দেখে মুক্তিযুদ্ধে জামায়াত পাকিস্তানকে সমর্থন দেয়। শেখ মুজিব বাংলাদেশে থেকে যদি মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় থাকতেন বিশ্বাস করতাম পূর্ব পাকিস্তান ভারতের অংশ হবে না। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর বুঝলাম আমাদের অনেক ভুল হয়ে গেছে। তারপরের ইতিহাস সবার জানা। গোলাম আযমসহ অসংখ্য জামায়াত নেতা কারাবরণ করেন। ১৯৭১ সালের নেতিবাচক ভূমিকার জন্য বহুজন ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলেন। যাবজ্জীবন কারাভোগ করেন। বিশেষ করে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত জামায়াত নিষিদ্ধই ছিল। ৫ আগস্টের পর জামায়াত নবউদ্যমে নব অঙ্গীকার নিয়ে জেগে ওঠে। জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান জামায়াতের আদর্শ-উদ্দেশ্য পরিষ্কার করে রাজনীতির কাফেলা এগিয়ে নিচ্ছেন। আমি মনে করি এখানেই জামায়াতের সঠিক উপলব্ধি। আর এক নেতা, এক দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ; এই স্লোগানের বিপক্ষে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে এই বাংলাদেশের রাজনীতিতে যার আবির্ভাব ঘটে তিনিই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি বাকশালের বিপক্ষে বহুদলীয় রাজনীতির সূচনা করেন। আওয়ামী লীগই একমাত্র দল নয় বাংলাদেশে আরও দল আছে। তার অন্যতম একটি রাজনৈতিক দল বিএনপি। বস্তুতপক্ষে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরেই পরিষ্কার হয়ে ওঠে বাংলাদেশে আরেকজন জনপ্রিয় শক্তিশালী নেতা আসছেন, তিনি জিয়াউর রহমান। ৭ নভেম্বরে জানা হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশে আরেকটি শক্তিশালী দল আসছে, তার নাম বিএনপি। এই বিএনপির বহু নেতা-কর্মী দীর্ঘ ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ১৬টি বছর নির্যাতন ভোগ করেছে। কারাভোগ করেছে। গুম হয়েছে। নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ছাত্র-জনতার ৫ আগস্টের বিপ্লবে বিএনপির সংহতি, সমর্থন, অংশগ্রহণ সবই ছিল। বিএনপি দেশের প্রধান দল। কিন্তু তাদের জিয়াউর রহমানের আদর্শ ভুলে গেলে চলবে না। যিনি বিশ্বাস করতেন বহুদলীয় রাজনীতি এবং জনগণই ক্ষমতার উৎস।

লেখক: সম্পাদক, সাপ্তাহিক অভিবাদন; সাবেক সভাপতি, কুমিল্লা প্রেসক্লাব

Thumbnail image

উপমহাদেশের দলীয় রাজনীতির ১৪০ বছর হয়ে গেল। উপমহাদেশে ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় জাতীয় কংগ্রেস। ১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় মুসলিম লীগ। ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আওয়ামী মুসলিম লীগ। জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠায় ভারতীয় রাজনীতিকদের উৎসাহ থাকলেও কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন ইংরেজ সরকার। যা পরে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস হিসেবে পরিচিতি পায়। ঢাকার নওয়াব সলিমউল্লাহর উদ্যোগে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে দলের পরিচয় হয় নিখিল ভারত মুসলিম লীগ। মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও শামসুল হকের প্রচেষ্টায় আওয়ামী মুসলিম লীগ যাত্রা শুরু করলেও ১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের সময় আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। তখন হক-ভাসানী-সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয় এবং যুক্তফ্রন্টের নেতৃত্বে দুর্দন্ড প্রতাপশালী মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করে। ঐতিহাসিকভাবে এই তথ্য প্রমাণিত যে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে ভারত, নিখিল ভারত মুসলিম লীগের নেতৃত্বে পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করে। পাকিস্তানের ২৩ বছরের রাজনীতিতে পূর্ব পাকিস্তান বৈষম্যের শিকার হয়। এর ফলে শের-ই-বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের স্বার্থে জোরালো ভূমিকা পালন করেন। শামসুল হকের পরে শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হলেও মূল নেতৃত্বের জায়গায় হক-ভাসানী-সোহরাওয়ার্দীই অগ্রণী ছিলেন। অন্যদিকে কায়দে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর মৃত্যুর পর মুসলিম লীগের নেতৃত্বে ছিলেন লিয়াকত আলী খান, আবুল হাশেম, খাজা নাজিমউদ্দিন। পাকিস্তান আন্দোলনের সময় মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর নেতৃত্বে মুসলিম লীগ পরিচালিত হলেও মুসলিম লীগে স্পষ্ট দুটি গ্রুপ গড়ে ওঠেছিল। একটা ছিল নওয়াবদের গ্রুপ যার নেতৃত্বে ছিলেন নওয়াবজাদা লিয়াকত আলী খান ও খাজা নাজিমউদ্দিন। আর অন্য গ্রুপের নেতৃত্ব দিতেন আবুল হাশেম ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। শেরে বাংলা কংগ্রেসের সঙ্গেও থাকতেন, মুসলিম লীগের সঙ্গেও থাকতেন। তবে ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে পাকিস্তান প্রস্তাব করেছিলেন। শেরেবাংলার রাজনৈতিক দল ছিল কৃষক-প্রজা পার্টি। এই পার্টি পাকিস্তান আন্দোলনে তেমন জোরালো ছিল না। এই পার্টি কাজ করতো কিভাবে জমিদারদের উচ্ছেদ করা যায়। বৃটিশ আমলে বৃটিশদের দালাল ছিল জমিদারগণ। তারা প্রজাদের শোষণ করে বৃটিশদের বড় অঙ্কে কর দিত। বৃটিশদের দালালী করেই সমগ্র ভারতবর্ষে জমিদাররা তাদের জমিদারী টিকিয়ে রেখেছিল। এরমধ্যে বাংলার জমিদারদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল শোষক এবং নিষ্ঠুর। এই জমিদারদের বিরুদ্ধেই শেরেবাংলা কৃষক-প্রজা পার্টি গড়ে তুলেছিলেন। ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান স্বাধীন হলে শেরেবাংলার নেতৃত্বে জমিদারদের উচ্ছেদ করা হয়। জমিদারদের সম্পত্তি সরকারের সম্পত্তি হয়। তারপরেও রাজনৈতিক দল হিসেবে মুসলিম লীগ ও আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তাই ছিল বেশি। এখানে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রসঙ্গে সংক্ষেপে বলা যায় কায়দে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর নেতৃত্বে পাকিস্তান আন্দোলনে শেখ মুজিব সক্রিয় ছিলেন। যা তিনি তার রচিত গ্রন্থ অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে তুলে ধরেছেন। আর একথা স্পষ্ট তিনি আবুল হাশেম, সোহরাওয়ার্দী গ্রুপের বড় কর্মী হয়ে ওঠেন। পাকিস্তান হয়ে গেলে তিনি শেরে বাংলা, ভাসানীকে বাদ দিয়ে সোহরাওয়ার্দীকে নেতা মেনে পূর্ব পাকিস্তানের স্বার্থ নিয়ে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে ওঠেন এবং ১১ বছর কারাবরণ করেন। ১৯৬২ সালে শেরে বাংলা, ১৯৬৩ সালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মারা যান। বস্তুতপক্ষে শেরে বাংলা, সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর পর শেখ মুজিব আপন পরিচয়ে উদ্ভাসিত হতে থাকেন। মাওলানা ভাসানী ততদিনে আওয়ামী লীগ ছেড়ে দিয়ে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি গড়ে তুলেন। এর ফলে একটা পর্র্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব চলে যায় শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে। ১৯৬৬ সালে আওয়ামী লীগ ৬ দফার প্রস্তাব দেয়। বস্তুতপক্ষে ৬ দফার আন্দোলন নিয়ে শেখ মুজিব পাকিস্তানের প্রধান নেতায় পরিণত হন। ১৯৬৯ সালে সামরিক শাসক আইয়ুব খানের পতন হয়। ছাত্রজনতা শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু উপাধী দেন। বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগ তখন একাকার হয়ে যায়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নির্বাচিত হয়। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান শেখ মুজিবকে পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী ঘোষণাও করেছিলেন। কিন্তু জুলফিকার আলী ভুট্টোর ষড়যন্ত্রে ইয়াহিয়া খান বিশ্বাসঘাতকতা করেন। ফলে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চে যে দিক নির্দেশনা দেন সেটাই জাতির বড় অংশ মেনে নেয়। মুক্তিযুদ্ধের দিকেই দেশ ধাবিত হয়। এখানে এসেই শিরোনামের কথা পরিষ্কার করতে চাই। ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ মেজর জিয়া বঙ্গবন্ধুর পক্ষে বেতারে যে মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দেন এই ঘোষণাই ঐতিহাসিক। সেই ঘোষণাই ভবিষ্যতের বাংলাদেশের নেতা জিয়াউর রহমান তারই ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিল। বৃটিশ আমলে জামায়াতে ইসলামীর পথচলা শুরু হয়। পাকিস্তান আমলে আমি দুটি নাম পাই। প্রথম নাম মাওলানা গোলাম আহমদ মওদুদী। তিনি পূর্ব পাঞ্জাব থেকে গিয়ে পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্ব দেন অধ্যাপক গোলাম আযম। পাকিস্তান আন্দোলনে জামায়াতের কোন অবদান ছিল না। আর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াত পাকিস্তানের পক্ষ অবলম্বন করেছিল। গোলাম আযম আশি দশকের গোঁড়ায় বাংলাদেশে ফিরে এসে ছোট একটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। সেই গ্রন্থটি আমার পড়ার সুযোগ হয়েছিল। সেই গ্রন্থে তিনি কৈফিয়তের সুরে লিখেছিলেন ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান হয়েছিল। জামায়াত মুসলিম জাতীয়তাবাদ বিশ্বাস করে। ধর্মীয় বিষয় নিয়ে পাকিস্তানে আমরা যাই কিছু করতাম সান্তনার একটা কিছু ছিল। মুক্তিযুদ্ধে শেখ মুজিব পাকিস্তানে বন্দী। ভারত পাকিস্তান ভেঙ্গে দিচ্ছে। পূর্ব পাকিস্তান ভারতের অংশ হয়ে যাচ্ছে। দৃশ্যত এসব দেখে মুক্তিযুদ্ধে জামায়াত পাকিস্তানকে সমর্থন দেয়। শেখ মুজিব বাংলাদেশে থেকে যদি মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় থাকতেন বিশ্বাস করতাম পূর্ব পাকিস্তান ভারতের অংশ হবে না। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর বুঝলাম আমাদের অনেক ভুল হয়ে গেছে। তারপরের ইতিহাস সবার জানা। গোলাম আযমসহ অসংখ্য জামায়াত নেতা কারাবরণ করেন। ১৯৭১ সালের নেতিবাচক ভূমিকার জন্য বহুজন ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলেন। যাবজ্জীবন কারাভোগ করেন। বিশেষ করে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত জামায়াত নিষিদ্ধই ছিল। ৫ আগস্টের পর জামায়াত নবউদ্যমে নব অঙ্গীকার নিয়ে জেগে ওঠে। জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান জামায়াতের আদর্শ-উদ্দেশ্য পরিষ্কার করে রাজনীতির কাফেলা এগিয়ে নিচ্ছেন। আমি মনে করি এখানেই জামায়াতের সঠিক উপলব্ধি। আর এক নেতা, এক দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ; এই স্লোগানের বিপক্ষে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে এই বাংলাদেশের রাজনীতিতে যার আবির্ভাব ঘটে তিনিই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি বাকশালের বিপক্ষে বহুদলীয় রাজনীতির সূচনা করেন। আওয়ামী লীগই একমাত্র দল নয় বাংলাদেশে আরও দল আছে। তার অন্যতম একটি রাজনৈতিক দল বিএনপি। বস্তুতপক্ষে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরেই পরিষ্কার হয়ে ওঠে বাংলাদেশে আরেকজন জনপ্রিয় শক্তিশালী নেতা আসছেন, তিনি জিয়াউর রহমান। ৭ নভেম্বরে জানা হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশে আরেকটি শক্তিশালী দল আসছে, তার নাম বিএনপি। এই বিএনপির বহু নেতা-কর্মী দীর্ঘ ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ১৬টি বছর নির্যাতন ভোগ করেছে। কারাভোগ করেছে। গুম হয়েছে। নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ছাত্র-জনতার ৫ আগস্টের বিপ্লবে বিএনপির সংহতি, সমর্থন, অংশগ্রহণ সবই ছিল। বিএনপি দেশের প্রধান দল। কিন্তু তাদের জিয়াউর রহমানের আদর্শ ভুলে গেলে চলবে না। যিনি বিশ্বাস করতেন বহুদলীয় রাজনীতি এবং জনগণই ক্ষমতার উৎস।

লেখক: সম্পাদক, সাপ্তাহিক অভিবাদন; সাবেক সভাপতি, কুমিল্লা প্রেসক্লাব

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

১

উপমহাদেশের দলীয় রাজনীতির ১৪০ বছর

২

অভিভাবক হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলাম

৩

হাসপাতালই জীবাণুর বাসা

৪

পথে পথে চাঁদাবাজি- কঠোরভাবে দমন করতে হবে

৫

মানবসেবার এক দৃষ্টান্ত দানবীর মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্য

সম্পর্কিত

অভিভাবক হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলাম

অভিভাবক হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলাম

১০ ডিসেম্বর ২০২৫
হাসপাতালই জীবাণুর বাসা

হাসপাতালই জীবাণুর বাসা

০৭ ডিসেম্বর ২০২৫
পথে পথে চাঁদাবাজি-
কঠোরভাবে দমন করতে হবে

পথে পথে চাঁদাবাজি- কঠোরভাবে দমন করতে হবে

০৩ ডিসেম্বর ২০২৫
মানবসেবার এক দৃষ্টান্ত দানবীর মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্য

মানবসেবার এক দৃষ্টান্ত দানবীর মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্য

০১ ডিসেম্বর ২০২৫