ন্যাপ নেতা মরহুম জাকির হোসেন
ডা. ইকবাল আনোয়ার

জাকির ভাইয়ের চলে যাবার আজ পাঁচ বছর। ২০২১ সনের ফেব্রুয়ারির ২০ তারিখে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার চলে যাবার পর বাংলাদেশে অনেক কাঙ্ক্ষিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। জনগণ ২০২৪ সনে রাজপথে রক্ত ঢেলে দিয়েছে একটি নতুন দিনের প্রত্যাশায়। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, সুবিচার ও জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষের সমান অধিকারের প্রত্যাশায়। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আবার সম্ভাবনা উঁকি দিয়েছে। তবে চরম হত্যা হাতছানি দিচ্ছে। জাকির ভাই বেঁচে থাকলে একটি শুদ্ধ ধারায় চিন্তা করতেন। তাঁকে মান্য করি আর না মান্য করি এতে তাঁর মনঃক্ষুণ্ন হতো না। কারণ তাঁরা শুদ্ধ রাজনীতির ধারা মেনে চলেন। তাঁরা ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করেন না।
তাঁর রাজনৈতিক জীবন
জন্ম : ১৯৫০ সালের ১০ জানুয়ারি
মৃত্যু: ২০২১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি। ৭১ বছরের জীবন। ১৯৬৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে রাজনীতিতে যোগদান। ১৯৬৫-৬৬ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি, ১৯৬৬-৬৭ সালে বৃহত্তর কুমিল্লা জেলার ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক, ১৯৬৭-৬৮ সালে সাধারণ সম্পাদক। ১৯৬৭ সালের ন্যাপের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলর। ১৯৬৭ সালে কুমিল্লা শহর ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক। ১৯৬৮-৬৯ সালে বৃহত্তর কুমিল্লা জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। ১৯৬৯ এর গণ আন্দোলনের জেলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সংগঠক। ১৯৬৯ সালে আইয়ুব বিরোধী ১১ দফা গণআন্দোলনের কারাবরণ। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং ন্যাপ- কমিউনিস্ট-ছাত্র ইউনিয়ন-যৌথ গেরিলা বাহিনীর কুমিল্লা জেলা কমান্ডার। ১৯৭৩ সালে ন্যাপের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। ১৯৯৮-৯৯ সালের ন্যাপের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক।

২০১০ সাল থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ন্যাপের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য।
জাকির ভাইয়ের সাথে দীর্ঘদিন পাশাপাশি বসবাসের আমার সৌভাগ্য হয়েছিল। এর আগেই তাঁর সাথে পরিচয়। কুমিল্লার তৎকালীন আড্ডাস্থল, রাজনীতি ও সংস্কৃতি সংশ্লিষ্টজনদের কেন্দ্রস্থান টাউনহলের বিপরীতে অবস্থান ছিল যার-সেই সুইট হোমে। তাকে আমি চিনতাম একজন বামপন্থী নেতা হিসেবে। কথা হয়নি তখনও। আমি পড়তাম তখন (বর্তমান) সিলেট এম এ জি ওসমান মেডিকেল কলেজে । করতাম ছাত্র ইউনিয়ন। তিনি এগিয়ে এসে আমার সাথে পরিচিত হন। আমি দেখি যে তিনি আমার বিষয়ে বিস্তারিত জানেন। কখন কি কারণে জাসদ মেনে ছাত্র ইউনিয়নে আসি, তাও জানেন।
তার প্রতিবেশী হিসেবে থাকার সময় প্রায় দিনই তার সাথে কথা হতো। সেখানে আরেক ন্যাপ নেতা ফরিদ ভাইও থাকতেন।
তিনি একজন নিষ্ঠ ধর্মানুরাগী ছিলেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন জামাতের সাথে। আমিও তাকে অনুসরণ করতে চেষ্টা করতাম। বামপন্থী হলেই ধর্মকর্ম বলতে কিছু নাই, স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস নাই এ ধারণার বিপরীত ছিলেন তাঁরা। ন্যাপের (মোজাফফর ) কথা হলো ধর্ম কর্ম সমাহত এ। তিনি অর্থকষ্টের দিন পাতি করলেও মুখে তাঁর হাসি লেগে থাকতো। তার সমসাময়িকরা যখন বিপুল অর্থবিত্ত, পদ-পদবির অধিকারী, তখনও তিনি সততা ও আদর্শকে শেষ দিন পর্যন্ত আকড়ে ছিলেন। তার বাসায় রাজনৈতিক অনুসারীদের সম্ভাব্য থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা থাকত। তার স্ত্রী শরমিন কাদের গিনী ছিলেন মহীয়সী নারী। তিনি তাঁর রাজনীতির সহযোদ্ধা ও জীবন সংগ্রামের সহচর ছিলেন।
দেশ, সমাজ, রাষ্ট্র ও রাজনীতির বর্তমানকালে মুক্তিযোদ্ধা জাকির হোসেনের উইল দৃষ্টান্ত। তাদের মতো মানুষের সংখ্যা এখন বিরল। এখন চলছে এক ভিন্ন রকম দক্ষতা কেন্দ্রিক ও অশিষ্টাচারমূলক রাজনীতির কাল। অবশ্যই উইল ব্যতিক্রম এখনও রয়েছে। এই কালে আমরা দোয়া করব, চাইব, চেষ্টা করব যেন জাকির ভাইদের মতো মানুষ এ দেশে তৈরি হয়।

জাকির ভাইয়ের চলে যাবার আজ পাঁচ বছর। ২০২১ সনের ফেব্রুয়ারির ২০ তারিখে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার চলে যাবার পর বাংলাদেশে অনেক কাঙ্ক্ষিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। জনগণ ২০২৪ সনে রাজপথে রক্ত ঢেলে দিয়েছে একটি নতুন দিনের প্রত্যাশায়। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, সুবিচার ও জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষের সমান অধিকারের প্রত্যাশায়। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আবার সম্ভাবনা উঁকি দিয়েছে। তবে চরম হত্যা হাতছানি দিচ্ছে। জাকির ভাই বেঁচে থাকলে একটি শুদ্ধ ধারায় চিন্তা করতেন। তাঁকে মান্য করি আর না মান্য করি এতে তাঁর মনঃক্ষুণ্ন হতো না। কারণ তাঁরা শুদ্ধ রাজনীতির ধারা মেনে চলেন। তাঁরা ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করেন না।
তাঁর রাজনৈতিক জীবন
জন্ম : ১৯৫০ সালের ১০ জানুয়ারি
মৃত্যু: ২০২১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি। ৭১ বছরের জীবন। ১৯৬৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে রাজনীতিতে যোগদান। ১৯৬৫-৬৬ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি, ১৯৬৬-৬৭ সালে বৃহত্তর কুমিল্লা জেলার ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক, ১৯৬৭-৬৮ সালে সাধারণ সম্পাদক। ১৯৬৭ সালের ন্যাপের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলর। ১৯৬৭ সালে কুমিল্লা শহর ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক। ১৯৬৮-৬৯ সালে বৃহত্তর কুমিল্লা জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। ১৯৬৯ এর গণ আন্দোলনের জেলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সংগঠক। ১৯৬৯ সালে আইয়ুব বিরোধী ১১ দফা গণআন্দোলনের কারাবরণ। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং ন্যাপ- কমিউনিস্ট-ছাত্র ইউনিয়ন-যৌথ গেরিলা বাহিনীর কুমিল্লা জেলা কমান্ডার। ১৯৭৩ সালে ন্যাপের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। ১৯৯৮-৯৯ সালের ন্যাপের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক।

২০১০ সাল থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ন্যাপের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য।
জাকির ভাইয়ের সাথে দীর্ঘদিন পাশাপাশি বসবাসের আমার সৌভাগ্য হয়েছিল। এর আগেই তাঁর সাথে পরিচয়। কুমিল্লার তৎকালীন আড্ডাস্থল, রাজনীতি ও সংস্কৃতি সংশ্লিষ্টজনদের কেন্দ্রস্থান টাউনহলের বিপরীতে অবস্থান ছিল যার-সেই সুইট হোমে। তাকে আমি চিনতাম একজন বামপন্থী নেতা হিসেবে। কথা হয়নি তখনও। আমি পড়তাম তখন (বর্তমান) সিলেট এম এ জি ওসমান মেডিকেল কলেজে । করতাম ছাত্র ইউনিয়ন। তিনি এগিয়ে এসে আমার সাথে পরিচিত হন। আমি দেখি যে তিনি আমার বিষয়ে বিস্তারিত জানেন। কখন কি কারণে জাসদ মেনে ছাত্র ইউনিয়নে আসি, তাও জানেন।
তার প্রতিবেশী হিসেবে থাকার সময় প্রায় দিনই তার সাথে কথা হতো। সেখানে আরেক ন্যাপ নেতা ফরিদ ভাইও থাকতেন।
তিনি একজন নিষ্ঠ ধর্মানুরাগী ছিলেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন জামাতের সাথে। আমিও তাকে অনুসরণ করতে চেষ্টা করতাম। বামপন্থী হলেই ধর্মকর্ম বলতে কিছু নাই, স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস নাই এ ধারণার বিপরীত ছিলেন তাঁরা। ন্যাপের (মোজাফফর ) কথা হলো ধর্ম কর্ম সমাহত এ। তিনি অর্থকষ্টের দিন পাতি করলেও মুখে তাঁর হাসি লেগে থাকতো। তার সমসাময়িকরা যখন বিপুল অর্থবিত্ত, পদ-পদবির অধিকারী, তখনও তিনি সততা ও আদর্শকে শেষ দিন পর্যন্ত আকড়ে ছিলেন। তার বাসায় রাজনৈতিক অনুসারীদের সম্ভাব্য থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা থাকত। তার স্ত্রী শরমিন কাদের গিনী ছিলেন মহীয়সী নারী। তিনি তাঁর রাজনীতির সহযোদ্ধা ও জীবন সংগ্রামের সহচর ছিলেন।
দেশ, সমাজ, রাষ্ট্র ও রাজনীতির বর্তমানকালে মুক্তিযোদ্ধা জাকির হোসেনের উইল দৃষ্টান্ত। তাদের মতো মানুষের সংখ্যা এখন বিরল। এখন চলছে এক ভিন্ন রকম দক্ষতা কেন্দ্রিক ও অশিষ্টাচারমূলক রাজনীতির কাল। অবশ্যই উইল ব্যতিক্রম এখনও রয়েছে। এই কালে আমরা দোয়া করব, চাইব, চেষ্টা করব যেন জাকির ভাইদের মতো মানুষ এ দেশে তৈরি হয়।