• কুমিল্লা সিটি করপোরেশন
  • কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
  • আদর্শ সদর
  • বরুড়া
  • লাকসাম
  • দাউদকান্দি
  • আরও
    • চৌদ্দগ্রাম
    • সদর দক্ষিণ
    • নাঙ্গলকোট
    • বুড়িচং
    • ব্রাহ্মণপাড়া
    • মনোহরগঞ্জ
    • লালমাই
    • চান্দিনা
    • মুরাদনগর
    • দেবীদ্বার
    • হোমনা
    • মেঘনা
    • তিতাস
  • সর্বশেষ
  • রাজনীতি
  • বাংলাদেশ
  • অপরাধ
  • বিশ্ব
  • বাণিজ্য
  • মতামত
  • খেলা
  • বিনোদন
  • চাকরি
  • জীবনযাপন
  • ইপেপার
  • ইপেপার
facebooktwittertiktokpinterestyoutubelinkedininstagramgoogle
স্বত্ব: ©️ আমার শহর

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. গাজীউল হক ভূঁইয়া ( সোহাগ)।

নাহার প্লাজা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০

ই-মেইল: [email protected]

ফোন: 01716197760

> মতামত

নিপাহ ভাইরাস ছড়িয়ে না পড়ুক

অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০: ৫৯
logo

নিপাহ ভাইরাস ছড়িয়ে না পড়ুক

অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ

প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০: ৫৯
Photo

বাংলাদেশে এ মুহূর্তে শীতকালীন ভাইরাস থেকে স্বাস্থ্যঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। তবে ৭ জানুয়ারি ২০২৬ এর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের ৩৫ জেলায় বাদুড়বাহিত নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। এর ভেতর আক্রমণ বেশি ধরা পড়েছে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাট জেলায়। বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী ভারতেও পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনায় একটি হাসপাতালেও তিনজন স্বাস্থ্যকর্মী নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়ায় শনাক্ত এ ভাইরাস একটি পশুবাহিত বা জুনেটিক ভাইরাস। বাদুড় এ ভাইরাস বহন করে। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় বেশ কয়েকটি অঞ্চলে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। মালয়েশিয়ার পর ২০০১ সালে সিঙ্গাপুর, ২০০১ ও ২০০৭ এবং তৎপরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ও দক্ষিণাঞ্চলে আর ২০১৪ সালে ফিলিপাইনে। বাংলাদেশে ২০০১ সাল থেকে প্রায় প্রতিবছরই নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, তবে সংখ্যায় কম এবং মূলত গ্রামাঞ্চলে। এর ভেতরে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংক্রমণ ঘটেছিল ২০০৪ সালে ফরিদপুর ও রাজবাড়ীতে। তখন ৬৭ জন এ ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয় এবং তাদের মধ্যে ৫০ জন মারা যায়। নিপাহ ভাইরাস আমাদের দেশে বা পার্শ্ববর্তী দেশে ছড়াতে থাকলে আমাদের সতর্ক থাকা দরকার। নিপাহ ভাইরাস একটি প্রাণনাশী জীবাণু। এতে কোন সন্দেহ নাই। দেখা গেছে, এ ভাইরাসে আক্রান্তদের ৪০ থেকে ৮০ শতাংশের মৃত্যু ঘটতে পারে। বাদুড়ের লালা এবং মলমূত্র থেকে ভাইরাসটি অতি সহজেই মানুষের দেহে প্রবেশ করে। এটি শূকরের বর্জ্য থেকেও ছড়াতে পারে। প্রাণীর দ্বারা দূষিত খাবার বা আক্রান্ত ব্যক্তি থেকেও ছড়াতে পারে। আক্রান্ত মায়ের বুকের দুধ পান করলে শিশুও আক্রান্ত হতে পারে। সাধারণত খেজুরের কাঁচা রস পানের মাধ্যমে এ ভাইরাস সংক্রমিত হয়। শীতকালে গাছে বাঁধা হাড়ি থেকে রস খেতে চেষ্টা করে বলে ওই রসের সঙ্গে বাদুড়ের লালা মিশে যায়। এমনকি রস খাওয়ার সময় বাদুড় মলমূত্র ত্যাগ করলে, সে রসে ভাইরাস সংক্রমনের ঝুঁকি থাকে। সে রস পান করলে মানুষের মধ্যেও এ রোগ ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া বাদুড়ের আংশিক খাওয়া ফলমূল খেলেও এ রোগ ছড়াতে পারে।

ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশের ৪ থেকে ১৪ দিন পর রোগের লক্ষণ দেখা দেয়। কেউ কেউ উপসর্গহীন থাকতে পারে। কারও আবার সাধারণ জ্বর কাঁশি দেখা দিতে পারে। লক্ষণ প্রকাশ ছাড়াও ৪৫ দিন পর্যন্ত সুপ্ত অবস্থায় এটি শরীরের মধ্যে থাকতে পারে। শুরুতে প্রচণ্ড জ্বর, মাথা ও পেশিতে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, কাঁশি, পেট ব্যথা, বমি দুর্বলতা ইত্যাদি দেখা দিতে পারে এ রোগে মস্তিষ্কে এনকেফালাইটিস জাতীয় ভয়াবহ প্রদহ দেখা দেয় এবং রোগী অসংলগ্ন আচরণ, প্রলাপ বকা, ঘুম ঘুম ভাব, মানসিক ভারসাম্যহীনতা, খিঁচুনি এবং অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন জীবনের তরে। এলাইজা টেস্ট, পিসিআর সেল কালচার প্রভৃতি পরীক্ষার মাধ্যমে এ ভাইরাস শনাক্ত করা সম্ভব। শীতে খেজুরের রসপান খুবই জনপ্রিয়। কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনা করে এ ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন জরুরি।

* খেজুরের খাঁচা রস কোনভাবেই পান করা উচিত নয়। পান করতে হলে টগবগিয়ে ফুটিয়ে নিতে হবে। তবে খেজুরের রসের তৈরি গুড় ক্ষতিকর নয়। এমনকি খেজুরের রসের রান্না করা পায়েস, পিঠা খাওয়া নিরাপদ।

* গাছ থেকে রস সংগ্রহের ঝুলানো হাঁড়ি বা রস সংগ্রহের পাত্রে নেট বা বাঁশের বানা দিয়ে হাঁড়ি ঢেকে রাখতে হবে, যাতে বাদুড় রসে মুখ না দিতে পারে। কোনোভাবেই যেন বাদুড়ের লালা, মলমূত্র রসের সঙ্গে মিশে না যায় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

* যারা রস সংগ্রহ করেন তাঁরা যেন সর্তক থাকেন। কারণ হাঁড়ির আশেপাশে থাকা বাদুড়ের লালা লেগে থাকতে পারে। মাস্ক পরতে হবে এবং রস সংগ্রহের পর সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে।

* খেজুরের রস বিক্রেতারা যেন কাঁচা রস বিক্রি না করেন * ফলমূল পরিষ্কার পানি দিয়ে ভাল করে ধুতে হবে। পাখি বা বাদুড়ে খাওয়া আংশিক ফল না খাওয়াই উত্তম।

* আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে এবং রোগীর পরিচর্যা করার সময় যথাপোযুক্ত সর্তকতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। পরে সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে।

* আক্রান্ত মা বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করতে হবে। এ রোগের কোনো টিকা আবিষ্কার হয়নি। তাই ব্যক্তিগত সচেতনতা ও সাবধানতা অবলম্বন অত্যাবশ্যক। নিচের টিপসগুলো সাবধানতা অবলম্বনে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ঃ-

* শরীরে প্রবেশের ৪ থেকে ১৪ দিন পর রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। তাই আক্রান্ত এলাকায় যারা খেজুরের রস পান করছেন তাদের সবাইকে পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।

* আক্রান্ত মানুষ থেকে মানুষের দেহে ছড়াতে পারে এ রোগ। তাই যারা রোগীদের সেবা দিচ্ছেন বা মৃতদেহ সৎকার করছেন তাদেরকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

* নিপাহ ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর কাছে বিনা প্রয়োজনে কারও না যাওয়া ভাল।

* রোগীর সঙ্গে একই পাত্রে খাওয়া বা একই বিছানায় ঘুমানো নিষেধ।

* রোগীর ব্যবহার করা কাপড় ও অন্য সামগ্রী ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।

* যে এলাকায় নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়, সে এলাকায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ বন্ধ হওয়ার পর আরও অন্তত ২১ দিন পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যেতে হবে এবং এলাকার সবাই সতর্ক থাকতে হবে।

* খেজুরের কাঁচা রস খেয়ে যেকোন রোগী জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শ্বাসকষ্ট বা অজ্ঞান হলে দেরি না করে কাছের ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন এবং প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি হোন। তাছাড়া নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়া কোনো দেশ থেকে কেউ বাংলাদেশে এলে তাকে অবশ্যই পরীক্ষা করে দেখতে হবে।

* জনসমাগম হতে পারে এমন স্থানে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করা উচিত এবং প্রতিনিয়ত ভালভাবে হাত ধোঁয়া প্রয়োজন যেমনটি আমরা করেছিলাম কোভিড মহামারির সময়ে।

অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ: সাবেক অধ্যক্ষ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ

Thumbnail image

বাংলাদেশে এ মুহূর্তে শীতকালীন ভাইরাস থেকে স্বাস্থ্যঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। তবে ৭ জানুয়ারি ২০২৬ এর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের ৩৫ জেলায় বাদুড়বাহিত নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। এর ভেতর আক্রমণ বেশি ধরা পড়েছে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাট জেলায়। বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী ভারতেও পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনায় একটি হাসপাতালেও তিনজন স্বাস্থ্যকর্মী নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়ায় শনাক্ত এ ভাইরাস একটি পশুবাহিত বা জুনেটিক ভাইরাস। বাদুড় এ ভাইরাস বহন করে। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় বেশ কয়েকটি অঞ্চলে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। মালয়েশিয়ার পর ২০০১ সালে সিঙ্গাপুর, ২০০১ ও ২০০৭ এবং তৎপরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ও দক্ষিণাঞ্চলে আর ২০১৪ সালে ফিলিপাইনে। বাংলাদেশে ২০০১ সাল থেকে প্রায় প্রতিবছরই নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, তবে সংখ্যায় কম এবং মূলত গ্রামাঞ্চলে। এর ভেতরে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংক্রমণ ঘটেছিল ২০০৪ সালে ফরিদপুর ও রাজবাড়ীতে। তখন ৬৭ জন এ ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয় এবং তাদের মধ্যে ৫০ জন মারা যায়। নিপাহ ভাইরাস আমাদের দেশে বা পার্শ্ববর্তী দেশে ছড়াতে থাকলে আমাদের সতর্ক থাকা দরকার। নিপাহ ভাইরাস একটি প্রাণনাশী জীবাণু। এতে কোন সন্দেহ নাই। দেখা গেছে, এ ভাইরাসে আক্রান্তদের ৪০ থেকে ৮০ শতাংশের মৃত্যু ঘটতে পারে। বাদুড়ের লালা এবং মলমূত্র থেকে ভাইরাসটি অতি সহজেই মানুষের দেহে প্রবেশ করে। এটি শূকরের বর্জ্য থেকেও ছড়াতে পারে। প্রাণীর দ্বারা দূষিত খাবার বা আক্রান্ত ব্যক্তি থেকেও ছড়াতে পারে। আক্রান্ত মায়ের বুকের দুধ পান করলে শিশুও আক্রান্ত হতে পারে। সাধারণত খেজুরের কাঁচা রস পানের মাধ্যমে এ ভাইরাস সংক্রমিত হয়। শীতকালে গাছে বাঁধা হাড়ি থেকে রস খেতে চেষ্টা করে বলে ওই রসের সঙ্গে বাদুড়ের লালা মিশে যায়। এমনকি রস খাওয়ার সময় বাদুড় মলমূত্র ত্যাগ করলে, সে রসে ভাইরাস সংক্রমনের ঝুঁকি থাকে। সে রস পান করলে মানুষের মধ্যেও এ রোগ ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া বাদুড়ের আংশিক খাওয়া ফলমূল খেলেও এ রোগ ছড়াতে পারে।

ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশের ৪ থেকে ১৪ দিন পর রোগের লক্ষণ দেখা দেয়। কেউ কেউ উপসর্গহীন থাকতে পারে। কারও আবার সাধারণ জ্বর কাঁশি দেখা দিতে পারে। লক্ষণ প্রকাশ ছাড়াও ৪৫ দিন পর্যন্ত সুপ্ত অবস্থায় এটি শরীরের মধ্যে থাকতে পারে। শুরুতে প্রচণ্ড জ্বর, মাথা ও পেশিতে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, কাঁশি, পেট ব্যথা, বমি দুর্বলতা ইত্যাদি দেখা দিতে পারে এ রোগে মস্তিষ্কে এনকেফালাইটিস জাতীয় ভয়াবহ প্রদহ দেখা দেয় এবং রোগী অসংলগ্ন আচরণ, প্রলাপ বকা, ঘুম ঘুম ভাব, মানসিক ভারসাম্যহীনতা, খিঁচুনি এবং অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন জীবনের তরে। এলাইজা টেস্ট, পিসিআর সেল কালচার প্রভৃতি পরীক্ষার মাধ্যমে এ ভাইরাস শনাক্ত করা সম্ভব। শীতে খেজুরের রসপান খুবই জনপ্রিয়। কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনা করে এ ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন জরুরি।

* খেজুরের খাঁচা রস কোনভাবেই পান করা উচিত নয়। পান করতে হলে টগবগিয়ে ফুটিয়ে নিতে হবে। তবে খেজুরের রসের তৈরি গুড় ক্ষতিকর নয়। এমনকি খেজুরের রসের রান্না করা পায়েস, পিঠা খাওয়া নিরাপদ।

* গাছ থেকে রস সংগ্রহের ঝুলানো হাঁড়ি বা রস সংগ্রহের পাত্রে নেট বা বাঁশের বানা দিয়ে হাঁড়ি ঢেকে রাখতে হবে, যাতে বাদুড় রসে মুখ না দিতে পারে। কোনোভাবেই যেন বাদুড়ের লালা, মলমূত্র রসের সঙ্গে মিশে না যায় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

* যারা রস সংগ্রহ করেন তাঁরা যেন সর্তক থাকেন। কারণ হাঁড়ির আশেপাশে থাকা বাদুড়ের লালা লেগে থাকতে পারে। মাস্ক পরতে হবে এবং রস সংগ্রহের পর সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে।

* খেজুরের রস বিক্রেতারা যেন কাঁচা রস বিক্রি না করেন * ফলমূল পরিষ্কার পানি দিয়ে ভাল করে ধুতে হবে। পাখি বা বাদুড়ে খাওয়া আংশিক ফল না খাওয়াই উত্তম।

* আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে এবং রোগীর পরিচর্যা করার সময় যথাপোযুক্ত সর্তকতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। পরে সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে।

* আক্রান্ত মা বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করতে হবে। এ রোগের কোনো টিকা আবিষ্কার হয়নি। তাই ব্যক্তিগত সচেতনতা ও সাবধানতা অবলম্বন অত্যাবশ্যক। নিচের টিপসগুলো সাবধানতা অবলম্বনে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ঃ-

* শরীরে প্রবেশের ৪ থেকে ১৪ দিন পর রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। তাই আক্রান্ত এলাকায় যারা খেজুরের রস পান করছেন তাদের সবাইকে পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।

* আক্রান্ত মানুষ থেকে মানুষের দেহে ছড়াতে পারে এ রোগ। তাই যারা রোগীদের সেবা দিচ্ছেন বা মৃতদেহ সৎকার করছেন তাদেরকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

* নিপাহ ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর কাছে বিনা প্রয়োজনে কারও না যাওয়া ভাল।

* রোগীর সঙ্গে একই পাত্রে খাওয়া বা একই বিছানায় ঘুমানো নিষেধ।

* রোগীর ব্যবহার করা কাপড় ও অন্য সামগ্রী ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।

* যে এলাকায় নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়, সে এলাকায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ বন্ধ হওয়ার পর আরও অন্তত ২১ দিন পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যেতে হবে এবং এলাকার সবাই সতর্ক থাকতে হবে।

* খেজুরের কাঁচা রস খেয়ে যেকোন রোগী জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শ্বাসকষ্ট বা অজ্ঞান হলে দেরি না করে কাছের ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন এবং প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি হোন। তাছাড়া নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়া কোনো দেশ থেকে কেউ বাংলাদেশে এলে তাকে অবশ্যই পরীক্ষা করে দেখতে হবে।

* জনসমাগম হতে পারে এমন স্থানে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করা উচিত এবং প্রতিনিয়ত ভালভাবে হাত ধোঁয়া প্রয়োজন যেমনটি আমরা করেছিলাম কোভিড মহামারির সময়ে।

অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ: সাবেক অধ্যক্ষ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

১

শুদ্ধ রাজনীতির সিদ্ধ পুরুষ

২

সমুদ্রের ভারী খনিজ অর্থনীতি বদলাবে

৩

নির্বাচনী আমেজে নাগরিক প্রত্যাশা: প্রতিশ্রুতি নয়

৪

নিপাহ ভাইরাস ছড়িয়ে না পড়ুক

৫

পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসুন

সম্পর্কিত

শুদ্ধ রাজনীতির সিদ্ধ পুরুষ

শুদ্ধ রাজনীতির সিদ্ধ পুরুষ

১২ ঘণ্টা আগে
সমুদ্রের ভারী খনিজ অর্থনীতি বদলাবে

সমুদ্রের ভারী খনিজ অর্থনীতি বদলাবে

৫ দিন আগে
নির্বাচনী আমেজে নাগরিক প্রত্যাশা: প্রতিশ্রুতি নয়

নির্বাচনী আমেজে নাগরিক প্রত্যাশা: প্রতিশ্রুতি নয়

১২ দিন আগে
পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসুন

পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসুন

১৮ দিন আগে