• কুমিল্লা সিটি করপোরেশন
  • কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
  • আদর্শ সদর
  • বরুড়া
  • লাকসাম
  • দাউদকান্দি
  • আরও
    • চৌদ্দগ্রাম
    • সদর দক্ষিণ
    • নাঙ্গলকোট
    • বুড়িচং
    • ব্রাহ্মণপাড়া
    • মনোহরগঞ্জ
    • লালমাই
    • চান্দিনা
    • মুরাদনগর
    • দেবীদ্বার
    • হোমনা
    • মেঘনা
    • তিতাস
  • সর্বশেষ
  • রাজনীতি
  • বাংলাদেশ
  • অপরাধ
  • বিশ্ব
  • বাণিজ্য
  • মতামত
  • খেলা
  • বিনোদন
  • চাকরি
  • জীবনযাপন
  • ইপেপার
  • ইপেপার
facebooktwittertiktokpinterestyoutubelinkedininstagramgoogle
স্বত্ব: ©️ আমার শহর

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. গাজীউল হক ভূঁইয়া ( সোহাগ)।

নাহার প্লাজা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০

ই-মেইল: [email protected]

ফোন: 01716197760

> মতামত

একজন চিকিৎসকের জন্যও ডেঙ্গুর বাস্তবতা

ডা. সাগর খান
প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০২৫, ১২: ৩৬
logo

একজন চিকিৎসকের জন্যও ডেঙ্গুর বাস্তবতা

ডা. সাগর খান

প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০২৫, ১২: ৩৬
Photo

ডেঙ্গুর বাস্তবতা আবারও সামনে এলো কুমিল্লার অভিজ্ঞ গাইনি চিকিৎসক ডা. ফাহমিদা আজিম কাকলির মৃত্যুর মাধ্যমে। নিজের শহরে প্রয়োজনীয় আধুনিক চিকিৎসা পাবেন কি না সেই

অনিশ্চয়তা তাঁকে শেষ মুহূর্তে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতে বাধ্য করে। কিন্তু ততক্ষণে অনেক সময় পার হয়ে যায়। এটি শুধু ব্যক্তিগত শোকের ঘটনা নয় বরং আমাদের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা ঠিক কত গভীর তা এই ঘটনা খুব স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের ওপর থাকা উচিত। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা নালা নর্দমা পরিষ্কার রাখা নিয়মিত লার্ভা নিয়ন্ত্রণ অভিযান পরিচালনা করা এবং প্রয়োজ- নীয় ওষুধ সঠিকভাবে প্রয়োগ করা এগুলো তাদের মৌলিক কাজ। কিন্তু বাস্তবে এসব কার্যক্রম কতটা নিয়মিত হয় বা কতটা কার্যকর হয় তা জানার কোনো স্বচ্ছ ব্যবস্থা নেই। প্রতি বছরই ডেঙ্গু ভয়াবহ আকার নেয়। ওষুধ কেনা থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের ব্যবস্থাপনা সবকিছু নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কিন্তু করদাত- াদের অর্থে পরিচালিত সংস্থাগুলোর কাছ থেকে করদাতারা যে জবাবদিহি পাওয়ার কথা তা প্রায় কখনোই পাওয়া যায় না। এখানেই সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা

তৈরি হয়।

স্বাস্থ্য বিভাগও এই সংকটে পিছিয়ে থাকে। ডেঙ্গুর জটিলতা খুব দ্রুত লিভার বা কিডনিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই জেলা পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসা সুবিধা থাকা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। পর্যাপ্ত আইসিইউ নেই। ল্যাব সুবিধা সীমিত। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা কম। জটিল রোগী সামলানোর সক্ষমতাও যথেষ্ট নয়। ফলে রোগীরা বাধ্য হয়ে ঢাকায় ছুটে আসেন। ডা. কাকলির মতো অভিজ্ঞ চিকিৎসকের ক্ষেত্রেও যখন একই পথ বেছে নিতে হয় তখন সমস্যা কত বড় তা আর ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন পড়ে না।

প্রতিবছর ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়ে। মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ে। কিন্তু কোথাও ব্যর্থতার তদন্ত হয় না। কোন সংস্থা কোথায় ভুল করল কেন করল তার মূল্যায়ন হয় না।

একই ভুল বছর বছর পুনরাবৃত্তি হয় আর আমরা শুধুই শোক প্রকাশ করে সময় পার করি। অথচ ডেঙ্গু একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। তবুও প্রতিরোধ ব্যবস্থায় জবাবদিহির অভাবে আমরা যেন এটি একটি নিয়মিত বিপর্যয় হিসেবে মেনে নিতে শিখে গেছি। এই পরিস্থিতি বদলাতে হলে তথ্যের স্বচ্ছতা সবচেয়ে আগে নিশ্চিত করতে হবে। সিটি কর্পোরেশনের বাজেট ওষুধ কেনার তথ্য কোন এলাকায় কী কাজ হচ্ছে তার ফলাফল সবকিছু জনগণের সামনে প্রকাশ করা জরুরি। স্বাস্থ্য বিভাগকে জেলা পর্যায়ে জরুরি চিকিৎসা সুবিধা দ্রুত বাড়াতে হবে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ব্যর্থতার দায় কেউ না নিলে ব্যর্থতা চলতেই থাকবে। ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে কার্যকর লড়াই শুরু হবে সেই দিন যেদিন দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো সত্যিকারের অর্থে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য হবে।

ডা. সাগর খান: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

Thumbnail image

ডেঙ্গুর বাস্তবতা আবারও সামনে এলো কুমিল্লার অভিজ্ঞ গাইনি চিকিৎসক ডা. ফাহমিদা আজিম কাকলির মৃত্যুর মাধ্যমে। নিজের শহরে প্রয়োজনীয় আধুনিক চিকিৎসা পাবেন কি না সেই

অনিশ্চয়তা তাঁকে শেষ মুহূর্তে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতে বাধ্য করে। কিন্তু ততক্ষণে অনেক সময় পার হয়ে যায়। এটি শুধু ব্যক্তিগত শোকের ঘটনা নয় বরং আমাদের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা ঠিক কত গভীর তা এই ঘটনা খুব স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের ওপর থাকা উচিত। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা নালা নর্দমা পরিষ্কার রাখা নিয়মিত লার্ভা নিয়ন্ত্রণ অভিযান পরিচালনা করা এবং প্রয়োজ- নীয় ওষুধ সঠিকভাবে প্রয়োগ করা এগুলো তাদের মৌলিক কাজ। কিন্তু বাস্তবে এসব কার্যক্রম কতটা নিয়মিত হয় বা কতটা কার্যকর হয় তা জানার কোনো স্বচ্ছ ব্যবস্থা নেই। প্রতি বছরই ডেঙ্গু ভয়াবহ আকার নেয়। ওষুধ কেনা থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের ব্যবস্থাপনা সবকিছু নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কিন্তু করদাত- াদের অর্থে পরিচালিত সংস্থাগুলোর কাছ থেকে করদাতারা যে জবাবদিহি পাওয়ার কথা তা প্রায় কখনোই পাওয়া যায় না। এখানেই সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা

তৈরি হয়।

স্বাস্থ্য বিভাগও এই সংকটে পিছিয়ে থাকে। ডেঙ্গুর জটিলতা খুব দ্রুত লিভার বা কিডনিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই জেলা পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসা সুবিধা থাকা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। পর্যাপ্ত আইসিইউ নেই। ল্যাব সুবিধা সীমিত। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা কম। জটিল রোগী সামলানোর সক্ষমতাও যথেষ্ট নয়। ফলে রোগীরা বাধ্য হয়ে ঢাকায় ছুটে আসেন। ডা. কাকলির মতো অভিজ্ঞ চিকিৎসকের ক্ষেত্রেও যখন একই পথ বেছে নিতে হয় তখন সমস্যা কত বড় তা আর ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন পড়ে না।

প্রতিবছর ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়ে। মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ে। কিন্তু কোথাও ব্যর্থতার তদন্ত হয় না। কোন সংস্থা কোথায় ভুল করল কেন করল তার মূল্যায়ন হয় না।

একই ভুল বছর বছর পুনরাবৃত্তি হয় আর আমরা শুধুই শোক প্রকাশ করে সময় পার করি। অথচ ডেঙ্গু একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। তবুও প্রতিরোধ ব্যবস্থায় জবাবদিহির অভাবে আমরা যেন এটি একটি নিয়মিত বিপর্যয় হিসেবে মেনে নিতে শিখে গেছি। এই পরিস্থিতি বদলাতে হলে তথ্যের স্বচ্ছতা সবচেয়ে আগে নিশ্চিত করতে হবে। সিটি কর্পোরেশনের বাজেট ওষুধ কেনার তথ্য কোন এলাকায় কী কাজ হচ্ছে তার ফলাফল সবকিছু জনগণের সামনে প্রকাশ করা জরুরি। স্বাস্থ্য বিভাগকে জেলা পর্যায়ে জরুরি চিকিৎসা সুবিধা দ্রুত বাড়াতে হবে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ব্যর্থতার দায় কেউ না নিলে ব্যর্থতা চলতেই থাকবে। ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে কার্যকর লড়াই শুরু হবে সেই দিন যেদিন দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো সত্যিকারের অর্থে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য হবে।

ডা. সাগর খান: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

১

উপমহাদেশের দলীয় রাজনীতির ১৪০ বছর

২

অভিভাবক হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলাম

৩

হাসপাতালই জীবাণুর বাসা

৪

পথে পথে চাঁদাবাজি- কঠোরভাবে দমন করতে হবে

৫

মানবসেবার এক দৃষ্টান্ত দানবীর মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্য

সম্পর্কিত

উপমহাদেশের দলীয় রাজনীতির ১৪০ বছর

উপমহাদেশের দলীয় রাজনীতির ১৪০ বছর

৬ দিন আগে
অভিভাবক হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলাম

অভিভাবক হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলাম

১০ ডিসেম্বর ২০২৫
হাসপাতালই জীবাণুর বাসা

হাসপাতালই জীবাণুর বাসা

০৭ ডিসেম্বর ২০২৫
পথে পথে চাঁদাবাজি-
কঠোরভাবে দমন করতে হবে

পথে পথে চাঁদাবাজি- কঠোরভাবে দমন করতে হবে

০৩ ডিসেম্বর ২০২৫