• কুমিল্লা সিটি করপোরেশন
  • কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
  • আদর্শ সদর
  • বরুড়া
  • লাকসাম
  • দাউদকান্দি
  • আরও
    • চৌদ্দগ্রাম
    • সদর দক্ষিণ
    • নাঙ্গলকোট
    • বুড়িচং
    • ব্রাহ্মণপাড়া
    • মনোহরগঞ্জ
    • লালমাই
    • চান্দিনা
    • মুরাদনগর
    • দেবীদ্বার
    • হোমনা
    • মেঘনা
    • তিতাস
  • সর্বশেষ
  • রাজনীতি
  • বাংলাদেশ
  • অপরাধ
  • বিশ্ব
  • বাণিজ্য
  • মতামত
  • খেলা
  • বিনোদন
  • চাকরি
  • জীবনযাপন
  • ইপেপার
  • ইপেপার
facebooktwittertiktokpinterestyoutubelinkedininstagramgoogle
স্বত্ব: ©️ আমার শহর

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. গাজীউল হক ভূঁইয়া ( সোহাগ)।

নাহার প্লাজা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০

ই-মেইল: [email protected]

ফোন: 01716197760

> মতামত

দশভূজা গরবিনী মা

ডা. দীপঙ্কর লোধ
প্রকাশ : ১০ মে ২০২৬, ১২: ০২
logo

দশভূজা গরবিনী মা

ডা. দীপঙ্কর লোধ

প্রকাশ : ১০ মে ২০২৬, ১২: ০২
Photo

ছোটবেলায় মামার বাড়ির দুর্গাপূজায় যেতাম। পকজার কয়দিন বেশ আনন্দ করতাম। দুর্গা প্রতিমায় দশ হাতে বিভিন্ন রকমের অস্ত্র থাকত। তখন এর অর্থ বুঝতাম না। যখন বড় হয়ে একটু বুঝার চেষ্টা করলাম, দুর্গা প্রতীকী অর্থে একজন সংগ্রামী নারীকে বুঝাচ্ছে যিনি কিনা একাই দশ হাতে সবদিক সামলাচ্ছেন, যা কিনা দু হাতে কখনই সম্ভব না। এই প্রতীকীর বাস্তব রূপের তো আমি চাক্ষুস সাক্ষী। সে যে আমার মা। কীভাবে ভোরবেলা হতে গভীর রাত অন্ধি একটানা পরিশ্রম করে সকল দিক সামলিয়েছেন। তিনি কখন ঘুমাতেন কখন জাগতেন বুঝতাম না। মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান নিম্ন মধ্যবিত্তের ঘরে বউ হয়ে আসলেন। এসেই জুতো পরিষ্কার থেকে চণ্ডী পাঠ কোনটাই বাদ পরল না। বাবা বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। সামান্য মাইনে দিয়ে ছয় সন্তানের ভরণ পোষণ সহ পড়ালেখা চালু রাখা, ঘরের কাজ, মাঠের কাজ কোনটাই বাদ যায় নি। রান্নাঘর থেকে ফসলের মাঠ সব জায়গায় তিনি। আবার সন্তানের পড়ালেখায়ও তীক্ষ্ণ নজর। এর ফাঁকে নিয়মিত পত্রিকা পড়া, বিবিসির খবর শোনা, বিভিন্ন বই পড়া। সন্তানদের পাঠ্যসূচির বাহিরেও যে আলাদা একটা জগৎ আছে তার সাথে পরিচিত করানো, সর্বোপরি একজন সৎ ও আদর্শ মানুষ হিসেবে বড় করা। ঈশ্বর প্রদত্ত সময়টা কে সর্বোচ্চ ব্যবহার করতেন। আমরা যখন বলি সময় পাই না তখন চোখের সামনে মায়ের সেই সময়কার দিনগুলো ভেসে ওঠে। সত্যিকারের দশভুজা তো মা তুমিই।

মার কথা মনে পড়লেই আমি অনেক শক্তি ও সাহস পাই, কখনো ক্লান্ত ও হতাশ হই না। তিনি কখনো হারতে শেখাননি। তিনি এক সময় দারিদ্র্যের সাথে সন্তানদের শিক্ষিত করতে, শেষ সময়ে অসুস্থ স্বামীকে সুস্থ রাখতে অবিরাম যুদ্ধ করেছেন। সর্বশেষ গত তেইশ বছর দুরারোগ্য ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করছেন। বারবার দেশে বিদেশে ডাক্তারের ছুরি কাচির নিচে নিজেকে সপে দিয়েছেন। কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি নিয়েছেন। আমরা অসহায়ের মত আর্তনাদ করেছি কিন্তু তিনি এতটুকুও বিচলিত হননি। এমনকি হাসপাতালের বেডে শুয়ে খাদ্যনালির ক্যান্সারের ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশনের আগের দিন বিদেশ থেকে আমায় দেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন, আমার এফসিপিএস পরীক্ষা ছিল বলে। অন্যথায় তিনি অপারেশন করাবেন না সাফ জানিয়ে দেন। স্রষ্টার অপার মহিমায় আমি ওই বারই পরীক্ষায় পাস করেছিলাম, যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়াই। শুধুমাত্র মায়ের আশীর্বাদে আর মা সুস্থ হয়েছিলেন ঈশ্বরের কৃপায়। এক এক করে ছয় সন্তানকে মাস্টার্স পাস করেছেন সীমিত আয় ও সম্পদের মধ্য দিয়ে। আমি অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (নাক, কান, গলা), বড় বোন হাইস্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক, ছোট বোন কানাডা প্রবাসী, অন্য ভাইরা নিজস্ব ব্যবসায় স্ব স্ব স্থানে প্রতিষ্ঠিত। আমরা তোমার পরিশ্রমের যথার্থ মূল্য দিতে পারিনি। সবার নিকট তোমার পরিচয় কি তা জানি না তবে আমাদের কাছে তুমি দশভূজা গরবিনী মা। তুমি আমাদের আশ্রয়, প্রশ্রয় স্বপ্ন, স্বস্তি ও প্রেরণা। মাধ্যমিক পর্যন্ত গ্রামের বাড়ি থেকে পড়াশোনা করেছি। উচ্চমাধ্যমিকে গ্রাম ছেড়ে শহরে আসতে হয়েছে। যখনই বাড়ি হতে আসতাম মা অনেক দূর পর্যন্ত সাথে সাথে আসতেন এবং দৃষ্টিসীমার মধ্যে থাকা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকতেন। এজন্যই হয়তো আমাদের বন্ডিং অত্যন্ত সুদৃঢ়।

আমাদের গ্রামের বাড়িটি নতুন করে করা হয়েছিল। এতে মা অনেক ধরনের ফল ফুলের গাছ ও ঋতু ভেদে সবজির গাছ লাগাতেন। ঢাকায় এসেও সেই অভ্যাসের পরিবর্তন হয়নি। ছাদে বিভিন্ন ফুল ও ফলের গাছ লাগিয়েছেন এবং নিয়মিত যত্ন করেন। শুনেছি ঢাকার তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে হিট অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। আমাদের মায়েদের মত আমরা সবাই যদি কমবেশি গাছ লাগাতাম তাহলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ সহ বিভিন্ন ভাবে উপকৃত হতাম।

ইদানিং দেশি-বিদেশি প্রায় সব টিভি চ্যানেলে রান্নার প্রোগ্রাম থাকবেই। তাতে কত রকম রান্না, ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের রেসিপি সূক্ষ্ম পরিমাপসহ বর্ণনা করা হয় এবং আমাদের ঘরে গৃহিণীরা তা ফলো করে থাকেন। কিন্তু দিন শেষে এখনো দেখি বিশেষ বিশেষ রান্নায় মায়ের সহায়তা নেন অর্থাৎ রান্নায়ও তাহারা সিদ্ধ হস্ত।

ছোটবেলায় মাছ খাওয়ার সময় প্রায়ই আমার গলায় কাটা আটকে যেত ।ফলে একসময় মাছ খাওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম। পরবর্তীতে মা মাছ খাওয়ার পূর্বে কাঁটা বেছে দিতেন যা আজও বর্তমান। মায়ের নিকট আজও আমি সেই ছোট্ট শিশু যা সবসময় থাকতে চাই। পেশাগত কারণে ইদানিং প্রায়ই বাসায় ফিরতে দেরি হয়। আমার না ফেরা পর্যন্ত মা অপেক্ষা করেন। মা আমার বাসার বিপরীতে আমার ভাইয়ের বাসায় থাকেন। কিছুক্ষণ পরপর এসে দেখেন আমি ফিরছি কিনা। মায়ের বর্তমান বয়স ৮০ এর কাছাকাছি। এই বয়সে যখন আমার প্রতিদিন তাহার খোঁজ নেওয়ার কথা তখন উল্টো মা-ই আমার নিয়মিত খোঁজ রাখছেন। মায়েরা বুঝি এমনই হয়। চিকিৎসা দিতে গিয়ে দেখি মায়েরা নিজের অসুস্থতাকে লুকিয়ে রেখে সন্তানের জন্য ব্যাকুল থাকেন। বাবার ইচ্ছা ও মাটির টানে নিজ এলাকায় সপ্তাহে একদিন রোগী দেখতে যাই। অপারেশনের রোগীরা প্রথমত এলাকার বলে তারপর পরিচিত কাউকে দিয়ে রিকোয়েস্ট করে এবং সর্বশেষ আমার মাকে দিয়ে অনুরোধ করায় যা আমার নিকট আদেশের সমান।

অবসরে মা এখনো দৈনিক সংবাদপত্র, বিভিন্ন বই পড়েন। করোনাকালীন সময়ে আমাদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমাদের সন্তানদের হাতে মোবাইল তুলে দিতে হয়েছে যা বর্তমানে সবার জন্য এক বিশাল সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। পাঠ্যপুস্তক এর বাইরে এরা মোবাইল ব্যতীত অন্যান্য বিষয়ে তেমন উৎসাহ বোধ করে না। আমাদের মায়েদের কল্যাণে বাসায় একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি অন্যান্য অনুষঙ্গ গুলি বিদ্যমান ছিল বলে আমাদের মধ্যে কিছুটা প্রবাহিত হয়েছে।

মায়েদের বুঝি কখনো অবসর নেই। তাই তো দেখি গভীর রাত পর্যন্ত জেগে নাতি নাতনিদের জন্য সোয়েটার বুনেন। আমরা যেখানে এতটুকুতেই হাঁপিয়ে যাই মা এখনো এই বয়সে কাজের মধ্যে আনন্দ খুঁজে পান। নিয়ম করে প্রতিদিন হাটা সময়মত ঘুম থেকে উঠে প্রার্থনা করা, চিকিৎসকের পরামর্শ মতামত চলাফেরা করা। এর মাধ্যমে আমাদেরকে অনেক কিছু শিখিয়ে দিচ্ছেন। জীবন যুদ্ধ শেষে দীর্ঘ ২২ বছর ক্যান্সার নামক মরণব্যাধির সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছেন। আমার মা হার না মানা এক সংগ্রামী নারীর প্রতিচ্ছবি।

দশভূজা লৌহমানবী আমার সন্তানদের মাও সন্তানের অসুস্থতায় কাতর হয়ে যায়। সন্তানের জন্য এরা অনেক কিছুই ত্যাগ করতে পারে। পৃথিবীর সকল মায়েরা বুঝি এমনই হয়। মা দিবসে সকল মায়েদের প্রতি রইল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

ডা. দীপঙ্কর লোধ: অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (রাইনোলজি), জাতীয় নাক কান গলা ইনস্টিটিউট তেজগাঁও ঢাকা।

Thumbnail image

ছোটবেলায় মামার বাড়ির দুর্গাপূজায় যেতাম। পকজার কয়দিন বেশ আনন্দ করতাম। দুর্গা প্রতিমায় দশ হাতে বিভিন্ন রকমের অস্ত্র থাকত। তখন এর অর্থ বুঝতাম না। যখন বড় হয়ে একটু বুঝার চেষ্টা করলাম, দুর্গা প্রতীকী অর্থে একজন সংগ্রামী নারীকে বুঝাচ্ছে যিনি কিনা একাই দশ হাতে সবদিক সামলাচ্ছেন, যা কিনা দু হাতে কখনই সম্ভব না। এই প্রতীকীর বাস্তব রূপের তো আমি চাক্ষুস সাক্ষী। সে যে আমার মা। কীভাবে ভোরবেলা হতে গভীর রাত অন্ধি একটানা পরিশ্রম করে সকল দিক সামলিয়েছেন। তিনি কখন ঘুমাতেন কখন জাগতেন বুঝতাম না। মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান নিম্ন মধ্যবিত্তের ঘরে বউ হয়ে আসলেন। এসেই জুতো পরিষ্কার থেকে চণ্ডী পাঠ কোনটাই বাদ পরল না। বাবা বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। সামান্য মাইনে দিয়ে ছয় সন্তানের ভরণ পোষণ সহ পড়ালেখা চালু রাখা, ঘরের কাজ, মাঠের কাজ কোনটাই বাদ যায় নি। রান্নাঘর থেকে ফসলের মাঠ সব জায়গায় তিনি। আবার সন্তানের পড়ালেখায়ও তীক্ষ্ণ নজর। এর ফাঁকে নিয়মিত পত্রিকা পড়া, বিবিসির খবর শোনা, বিভিন্ন বই পড়া। সন্তানদের পাঠ্যসূচির বাহিরেও যে আলাদা একটা জগৎ আছে তার সাথে পরিচিত করানো, সর্বোপরি একজন সৎ ও আদর্শ মানুষ হিসেবে বড় করা। ঈশ্বর প্রদত্ত সময়টা কে সর্বোচ্চ ব্যবহার করতেন। আমরা যখন বলি সময় পাই না তখন চোখের সামনে মায়ের সেই সময়কার দিনগুলো ভেসে ওঠে। সত্যিকারের দশভুজা তো মা তুমিই।

মার কথা মনে পড়লেই আমি অনেক শক্তি ও সাহস পাই, কখনো ক্লান্ত ও হতাশ হই না। তিনি কখনো হারতে শেখাননি। তিনি এক সময় দারিদ্র্যের সাথে সন্তানদের শিক্ষিত করতে, শেষ সময়ে অসুস্থ স্বামীকে সুস্থ রাখতে অবিরাম যুদ্ধ করেছেন। সর্বশেষ গত তেইশ বছর দুরারোগ্য ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করছেন। বারবার দেশে বিদেশে ডাক্তারের ছুরি কাচির নিচে নিজেকে সপে দিয়েছেন। কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি নিয়েছেন। আমরা অসহায়ের মত আর্তনাদ করেছি কিন্তু তিনি এতটুকুও বিচলিত হননি। এমনকি হাসপাতালের বেডে শুয়ে খাদ্যনালির ক্যান্সারের ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশনের আগের দিন বিদেশ থেকে আমায় দেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন, আমার এফসিপিএস পরীক্ষা ছিল বলে। অন্যথায় তিনি অপারেশন করাবেন না সাফ জানিয়ে দেন। স্রষ্টার অপার মহিমায় আমি ওই বারই পরীক্ষায় পাস করেছিলাম, যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়াই। শুধুমাত্র মায়ের আশীর্বাদে আর মা সুস্থ হয়েছিলেন ঈশ্বরের কৃপায়। এক এক করে ছয় সন্তানকে মাস্টার্স পাস করেছেন সীমিত আয় ও সম্পদের মধ্য দিয়ে। আমি অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (নাক, কান, গলা), বড় বোন হাইস্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক, ছোট বোন কানাডা প্রবাসী, অন্য ভাইরা নিজস্ব ব্যবসায় স্ব স্ব স্থানে প্রতিষ্ঠিত। আমরা তোমার পরিশ্রমের যথার্থ মূল্য দিতে পারিনি। সবার নিকট তোমার পরিচয় কি তা জানি না তবে আমাদের কাছে তুমি দশভূজা গরবিনী মা। তুমি আমাদের আশ্রয়, প্রশ্রয় স্বপ্ন, স্বস্তি ও প্রেরণা। মাধ্যমিক পর্যন্ত গ্রামের বাড়ি থেকে পড়াশোনা করেছি। উচ্চমাধ্যমিকে গ্রাম ছেড়ে শহরে আসতে হয়েছে। যখনই বাড়ি হতে আসতাম মা অনেক দূর পর্যন্ত সাথে সাথে আসতেন এবং দৃষ্টিসীমার মধ্যে থাকা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকতেন। এজন্যই হয়তো আমাদের বন্ডিং অত্যন্ত সুদৃঢ়।

আমাদের গ্রামের বাড়িটি নতুন করে করা হয়েছিল। এতে মা অনেক ধরনের ফল ফুলের গাছ ও ঋতু ভেদে সবজির গাছ লাগাতেন। ঢাকায় এসেও সেই অভ্যাসের পরিবর্তন হয়নি। ছাদে বিভিন্ন ফুল ও ফলের গাছ লাগিয়েছেন এবং নিয়মিত যত্ন করেন। শুনেছি ঢাকার তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে হিট অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। আমাদের মায়েদের মত আমরা সবাই যদি কমবেশি গাছ লাগাতাম তাহলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ সহ বিভিন্ন ভাবে উপকৃত হতাম।

ইদানিং দেশি-বিদেশি প্রায় সব টিভি চ্যানেলে রান্নার প্রোগ্রাম থাকবেই। তাতে কত রকম রান্না, ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের রেসিপি সূক্ষ্ম পরিমাপসহ বর্ণনা করা হয় এবং আমাদের ঘরে গৃহিণীরা তা ফলো করে থাকেন। কিন্তু দিন শেষে এখনো দেখি বিশেষ বিশেষ রান্নায় মায়ের সহায়তা নেন অর্থাৎ রান্নায়ও তাহারা সিদ্ধ হস্ত।

ছোটবেলায় মাছ খাওয়ার সময় প্রায়ই আমার গলায় কাটা আটকে যেত ।ফলে একসময় মাছ খাওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম। পরবর্তীতে মা মাছ খাওয়ার পূর্বে কাঁটা বেছে দিতেন যা আজও বর্তমান। মায়ের নিকট আজও আমি সেই ছোট্ট শিশু যা সবসময় থাকতে চাই। পেশাগত কারণে ইদানিং প্রায়ই বাসায় ফিরতে দেরি হয়। আমার না ফেরা পর্যন্ত মা অপেক্ষা করেন। মা আমার বাসার বিপরীতে আমার ভাইয়ের বাসায় থাকেন। কিছুক্ষণ পরপর এসে দেখেন আমি ফিরছি কিনা। মায়ের বর্তমান বয়স ৮০ এর কাছাকাছি। এই বয়সে যখন আমার প্রতিদিন তাহার খোঁজ নেওয়ার কথা তখন উল্টো মা-ই আমার নিয়মিত খোঁজ রাখছেন। মায়েরা বুঝি এমনই হয়। চিকিৎসা দিতে গিয়ে দেখি মায়েরা নিজের অসুস্থতাকে লুকিয়ে রেখে সন্তানের জন্য ব্যাকুল থাকেন। বাবার ইচ্ছা ও মাটির টানে নিজ এলাকায় সপ্তাহে একদিন রোগী দেখতে যাই। অপারেশনের রোগীরা প্রথমত এলাকার বলে তারপর পরিচিত কাউকে দিয়ে রিকোয়েস্ট করে এবং সর্বশেষ আমার মাকে দিয়ে অনুরোধ করায় যা আমার নিকট আদেশের সমান।

অবসরে মা এখনো দৈনিক সংবাদপত্র, বিভিন্ন বই পড়েন। করোনাকালীন সময়ে আমাদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমাদের সন্তানদের হাতে মোবাইল তুলে দিতে হয়েছে যা বর্তমানে সবার জন্য এক বিশাল সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। পাঠ্যপুস্তক এর বাইরে এরা মোবাইল ব্যতীত অন্যান্য বিষয়ে তেমন উৎসাহ বোধ করে না। আমাদের মায়েদের কল্যাণে বাসায় একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি অন্যান্য অনুষঙ্গ গুলি বিদ্যমান ছিল বলে আমাদের মধ্যে কিছুটা প্রবাহিত হয়েছে।

মায়েদের বুঝি কখনো অবসর নেই। তাই তো দেখি গভীর রাত পর্যন্ত জেগে নাতি নাতনিদের জন্য সোয়েটার বুনেন। আমরা যেখানে এতটুকুতেই হাঁপিয়ে যাই মা এখনো এই বয়সে কাজের মধ্যে আনন্দ খুঁজে পান। নিয়ম করে প্রতিদিন হাটা সময়মত ঘুম থেকে উঠে প্রার্থনা করা, চিকিৎসকের পরামর্শ মতামত চলাফেরা করা। এর মাধ্যমে আমাদেরকে অনেক কিছু শিখিয়ে দিচ্ছেন। জীবন যুদ্ধ শেষে দীর্ঘ ২২ বছর ক্যান্সার নামক মরণব্যাধির সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছেন। আমার মা হার না মানা এক সংগ্রামী নারীর প্রতিচ্ছবি।

দশভূজা লৌহমানবী আমার সন্তানদের মাও সন্তানের অসুস্থতায় কাতর হয়ে যায়। সন্তানের জন্য এরা অনেক কিছুই ত্যাগ করতে পারে। পৃথিবীর সকল মায়েরা বুঝি এমনই হয়। মা দিবসে সকল মায়েদের প্রতি রইল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

ডা. দীপঙ্কর লোধ: অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (রাইনোলজি), জাতীয় নাক কান গলা ইনস্টিটিউট তেজগাঁও ঢাকা।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

১

দশভূজা গরবিনী মা

২

আমার পৌষমাস: হাইভোল্টেজ উজ্জ্বল

৩

আজন্ম বিপ্লবী শিব নারায়ণ দাশ

৪

হিট ওয়েভ সামলাবেন কীভাবে

৫

পরীক্ষার হলে পড়ে আসতেই হবে, নির্ভুল উত্তর দিতে হবে

সম্পর্কিত

আমার পৌষমাস: হাইভোল্টেজ উজ্জ্বল

আমার পৌষমাস: হাইভোল্টেজ উজ্জ্বল

৬ দিন আগে
আজন্ম বিপ্লবী শিব নারায়ণ দাশ

আজন্ম বিপ্লবী শিব নারায়ণ দাশ

১১ দিন আগে
হিট ওয়েভ সামলাবেন কীভাবে

হিট ওয়েভ সামলাবেন কীভাবে

১৭ দিন আগে
পরীক্ষার হলে পড়ে আসতেই হবে, নির্ভুল উত্তর দিতে হবে

পরীক্ষার হলে পড়ে আসতেই হবে, নির্ভুল উত্তর দিতে হবে

২০ দিন আগে