অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ

১। বাসযোগ্য সূচকে স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা এবং অবকাঠামো এ পাঁচটির মূল্যায়নে নগর গড়ে উঠবে।
২। টেকসই নগরায়নের স্বার্থে কোড মেনে ভবন নির্মাণ, নির্মাণে নিরাপদ উপকরণ নিশ্চিতকরণ এবং নিরাপদ জীবনযাপনের স্বার্থে —সুষ্ঠু বসবাস, বিষয়ভিত্তিক প্রয়োগিক শিক্ষা, সাশ্রয়ী চিকিৎসা সবকিছু মিলিয়ে একটি অন্তর্ভূক্তিমূলক পরিকল্পনা চাই।
৩। বর্তমানে নগরসমূহে একতলা, দোতলা ভবনের সংখ্যা বেশি যা নতুন করে গড়ার সুযোগ আছে নতুন করে প্রসারণ না করে প্রয়োজন “রিডেভেলপমেন্ট”।
৪। পরিকল্পিত নগরায়ন হতে হবে একযোগে জনবান্ধব, শিশু ও নারীবান্ধব, পথচারিবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব নিরাপদ ও ঐতিহ্য সংবেদনশীল। যে আইনগুলি তৈরি হবে সেগুলো হতে হবে জনবান্ধব। পেশাজীবীদেরও পরিকল্পনায় সঠিক সম্পৃক্ততা থাকা দরকার।
৫। নগর দর্শনে অসুস্থ নগর না গড়ে শারিরীক ও মানসিক প্রভাবমুক্ত সুস্থ নগর গড়ার দরকার।
৬। দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার ও মানসম্পন্ন পরিকল্পনাবিদ নিয়ে বিএনবিসি আইন বাস্তবায়নে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া উচিত। দূষিত, ভরাটকৃত, সংকুচিত রাস্তা, অযোগ্য নির্মাণ, শহরে জলাবদ্ধতা কোনক্রমেই টেকসই নগরায়নে গ্রহণ করতে পারবে না।
৭। জনসংখ্যাবৃদ্ধিকে সমন্বয়ে রেখে প্রফেশনালদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করে অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেটেলাইট সিটির বিকল্প পরিকল্পনা করে আইন, নীতি ও বাস্তবায়নের সমন্বয় ঘটাতে হবে।
৮। সামগ্রিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের জন্য আলাদা নিয়ন্ত্রক সংস্থা হওয়া দরকার।
৯। পরিকল্পিত গ্রাম সাজানো গেলে শহরে স্থানান্তরের হার কমানো যাবে। এফএআর কত, কতটা জায়গা ছাড়তে হবে, ভবনে দিনের আলো প্রবেশ করে কিনা, উন্মুক্ত জায়গা আছে কিনা, ছাদের ব্যবহার কি সেগুলো নিয়েও কাজ করতে হবে। অর্ধ-কিলোমিটার অন্তর অন্তর কমিউনিটি সেন্টার, কালচারেল সেন্টার, খোলার মাঠ থাকতে হবে।
১০। একটি আধুনিক শহরে ২৫ শতাংশ সড়ক থাকে কিন্তু আমাদের ঢাকা ও বিভাগীয় শহরে আছে ৮—৯ শতাংশ। আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সকল নগরে এবং প্রয়োজনে কয়েকটি শহর মিলিয়ে করতে হবে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, পচনশীল বর্জ্য থেকে কৃত্রিম সার ও পলিথিন রিসাইকেলিং এর ব্যবস্থা করে কর্মসংস্থান ও পরিচ্ছন্ন নগরী বানাতে হবে। ওয়াটার এন্ড স্যানিটেশনে সর্বোচ্চ ইমপোর্টেন্স দিতে হবে।
১১। ঢাকাকে প্যারিস, লন্ডন বা সিঙ্গাপুর বানানো সম্ভব নয়। ঢাকাকে ঢাকার মতই সাজাতে হবে। নদী ও পানি বাংলাদেশের প্রধান আশীর্বাদ নগর উন্নয়নের নামে নদী ভরাট বা প্রবাহ নষ্ট করা যাবে না। ব্যয়বহুল প্রকল্প বাস্তবায়নে আমাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতাও মাথায় রাখতে হবে। রাজধানীর চারপাশে বৃত্তাকার রেল বাস্তবায়ন করলে ৩০-৪০ মিনিটে রাজধানীর চারপাশ ঘুরে আসা সম্ভব। চারপাশে বৃত্তাকার নৌ যোগাযোগের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল।
১২। রাষ্ট্রকে গরীব মানুষের আবাসনের দায়িত্ব নিতে হবে। রাষ্ট্র হয়ত নিজে বাড়ি বানিয়ে দেবে না কিন্তু সঠিক নীতিমালা ও জমির সরবরাহ থাকলে এবং বেসরকারি খাতকে যথাযথভাবে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে বস্তিবাসীর আবাসনসহ তাদের জীবনমান উন্নত করা সম্ভব।
অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ: সাবেক অধ্যক্ষ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ

১। বাসযোগ্য সূচকে স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা এবং অবকাঠামো এ পাঁচটির মূল্যায়নে নগর গড়ে উঠবে।
২। টেকসই নগরায়নের স্বার্থে কোড মেনে ভবন নির্মাণ, নির্মাণে নিরাপদ উপকরণ নিশ্চিতকরণ এবং নিরাপদ জীবনযাপনের স্বার্থে —সুষ্ঠু বসবাস, বিষয়ভিত্তিক প্রয়োগিক শিক্ষা, সাশ্রয়ী চিকিৎসা সবকিছু মিলিয়ে একটি অন্তর্ভূক্তিমূলক পরিকল্পনা চাই।
৩। বর্তমানে নগরসমূহে একতলা, দোতলা ভবনের সংখ্যা বেশি যা নতুন করে গড়ার সুযোগ আছে নতুন করে প্রসারণ না করে প্রয়োজন “রিডেভেলপমেন্ট”।
৪। পরিকল্পিত নগরায়ন হতে হবে একযোগে জনবান্ধব, শিশু ও নারীবান্ধব, পথচারিবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব নিরাপদ ও ঐতিহ্য সংবেদনশীল। যে আইনগুলি তৈরি হবে সেগুলো হতে হবে জনবান্ধব। পেশাজীবীদেরও পরিকল্পনায় সঠিক সম্পৃক্ততা থাকা দরকার।
৫। নগর দর্শনে অসুস্থ নগর না গড়ে শারিরীক ও মানসিক প্রভাবমুক্ত সুস্থ নগর গড়ার দরকার।
৬। দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার ও মানসম্পন্ন পরিকল্পনাবিদ নিয়ে বিএনবিসি আইন বাস্তবায়নে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া উচিত। দূষিত, ভরাটকৃত, সংকুচিত রাস্তা, অযোগ্য নির্মাণ, শহরে জলাবদ্ধতা কোনক্রমেই টেকসই নগরায়নে গ্রহণ করতে পারবে না।
৭। জনসংখ্যাবৃদ্ধিকে সমন্বয়ে রেখে প্রফেশনালদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করে অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেটেলাইট সিটির বিকল্প পরিকল্পনা করে আইন, নীতি ও বাস্তবায়নের সমন্বয় ঘটাতে হবে।
৮। সামগ্রিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের জন্য আলাদা নিয়ন্ত্রক সংস্থা হওয়া দরকার।
৯। পরিকল্পিত গ্রাম সাজানো গেলে শহরে স্থানান্তরের হার কমানো যাবে। এফএআর কত, কতটা জায়গা ছাড়তে হবে, ভবনে দিনের আলো প্রবেশ করে কিনা, উন্মুক্ত জায়গা আছে কিনা, ছাদের ব্যবহার কি সেগুলো নিয়েও কাজ করতে হবে। অর্ধ-কিলোমিটার অন্তর অন্তর কমিউনিটি সেন্টার, কালচারেল সেন্টার, খোলার মাঠ থাকতে হবে।
১০। একটি আধুনিক শহরে ২৫ শতাংশ সড়ক থাকে কিন্তু আমাদের ঢাকা ও বিভাগীয় শহরে আছে ৮—৯ শতাংশ। আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সকল নগরে এবং প্রয়োজনে কয়েকটি শহর মিলিয়ে করতে হবে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, পচনশীল বর্জ্য থেকে কৃত্রিম সার ও পলিথিন রিসাইকেলিং এর ব্যবস্থা করে কর্মসংস্থান ও পরিচ্ছন্ন নগরী বানাতে হবে। ওয়াটার এন্ড স্যানিটেশনে সর্বোচ্চ ইমপোর্টেন্স দিতে হবে।
১১। ঢাকাকে প্যারিস, লন্ডন বা সিঙ্গাপুর বানানো সম্ভব নয়। ঢাকাকে ঢাকার মতই সাজাতে হবে। নদী ও পানি বাংলাদেশের প্রধান আশীর্বাদ নগর উন্নয়নের নামে নদী ভরাট বা প্রবাহ নষ্ট করা যাবে না। ব্যয়বহুল প্রকল্প বাস্তবায়নে আমাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতাও মাথায় রাখতে হবে। রাজধানীর চারপাশে বৃত্তাকার রেল বাস্তবায়ন করলে ৩০-৪০ মিনিটে রাজধানীর চারপাশ ঘুরে আসা সম্ভব। চারপাশে বৃত্তাকার নৌ যোগাযোগের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল।
১২। রাষ্ট্রকে গরীব মানুষের আবাসনের দায়িত্ব নিতে হবে। রাষ্ট্র হয়ত নিজে বাড়ি বানিয়ে দেবে না কিন্তু সঠিক নীতিমালা ও জমির সরবরাহ থাকলে এবং বেসরকারি খাতকে যথাযথভাবে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে বস্তিবাসীর আবাসনসহ তাদের জীবনমান উন্নত করা সম্ভব।
অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ: সাবেক অধ্যক্ষ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ