মো. দুলাল হোসেন

আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সম্প্রতি বহুল আলোচনার বিষয় হলো লটারি বাতিল করে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে যে কোনো ক্লাসে ভর্তি করানো। বর্তমান সরকারের শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় অলরেডি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন দিয়ে দিয়েছেন। তড়িঘড়ি করে একটি সিন্ধান্ত নেওয়ার আগে আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ভর্তি প্রক্রিয়া ও অন্যান্য দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ভর্তি প্রক্রিয়া তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।
কোন দেশে কেমন ভর্তি প্রক্রিয়া
ফিনল্যান্ড
প্রথম শ্রেণি ভর্তি: সাধারণত ৭ বছর বয়সে স্কুল শুরু হয়। কোনো ভর্তি পরীক্ষা বা ইন্টারভিউ থাকে না। বাসার কাছের সরকারি স্কুলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভর্তি করা হয়।
অন্যান্য ক্লাসে ভর্তি: পরিবার অন্য এলাকায় গেলে বা বিদেশ থেকে এলে সরাসরি নিকটস্থ স্কুলে ভর্তি হতে পারে।
আমেরিকা
প্রথম শ্রেণি ভর্তি: বয়স সাধারণত ৬ বছর।
প্রয়োজন হয়: জন্মসনদ,টিকাদান সনদ,ঠিকানার প্রমাণ।
কিছু স্কুলে ছোট ইন্টারভিউ বা প্রস্তুতি পরীক্ষাও দেখা যায়।
অন্যান্য ক্লাসে ভর্তি: আগের স্কুলের ট্রান্সক্রিপ্ট বা রিপোর্ট কার্ড দেখিয়ে ভর্তি হয়।
যুক্তরাজ্য
প্রথম শ্রেণি: শিশুরা সাধারণত ৫ বছর বয়সে স্কুল শুরু করে। অনলাইনে আবেদন করতে হয় স্থানীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে সিলেকশন হয়।
অন্যান্য ক্লাসে ভর্তি: মাঝপথে ভর্তি হলে তাকে ইন ইয়ারস এডমিশন বলা হয়। আগের স্কুলের রিপোর্ট প্রয়োজন হয়।
জার্মান
প্রথম শ্রেণি: সাধারণত ৬ বছর বয়সে ভর্তি। শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্কুল প্রস্তুতি মূল্যায়ন করা হয়।
অন্যান্য ক্লাসে ভর্তি: আগের শিক্ষাগত সনদ জমা দিতে হয়।
জাপান
প্রথম শ্রেণি ভর্তি: বয়স ৬ বছর। সাধারণত কোনো কঠিন পরীক্ষা নেই, তবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়।
অন্যান্য ক্লাসে ভর্তি: আগের স্কুলের ফলাফল ও ডকুমেন্ট প্রয়োজন হয়।
বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশের ভর্তি পদ্ধতির পার্থক্য :
বাংলাদেশে অনেক স্কুলে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ছাত্র নির্বাচন করা হয়। জনপ্রিয় স্কুলগুলোতে প্রতিযোগিতা বেশি। অনেক ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতিও চালু আছে। তার মানে ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি ও লটারি পদ্ধতি উভয়েরই প্রচলন আছে।
বহির্বিশ্বের শিক্ষাব্যবস্থায় ভর্তি প্রক্রিয়া :
বেশিরভাগ দেশে ভর্তি পরীক্ষা থাকে না। বাসার কাছের স্কুলে সরাসরি ভর্তি করা হয়। লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুবিধা :
মেধাবী শিক্ষার্থীদের নির্বাচন করা সহজ হয়। স্কুলের একাডেমিক মান বজায় রাখা সহজ হতে পারে।
অসুবিধা
ছোট শিশুদের উপর অল্প বয়সে পরীক্ষার চাপ পড়ে। কোচিং বা অর্থনৈতিক সুবিধা থাকা পরিবার বেশি লাভবান হতে পারে। সব শিশু সমান সুযোগ পায় না।
লটারি পদ্ধতি
সুবিধা: সব শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ তৈরি হয়। ছোট শিশুদের উপর পরীক্ষার চাপ থাকে না। দুর্নীতি বা পক্ষপাত কমে।
অসুবিধা: মেধা যাচাই করা হয় না। কখনো খুব ভালো ছাত্রও সুযোগ নাও পেতে পারে।
মোদ্দাকথা ভর্তি পরীক্ষার কারণে শিশুদের মধ্যে ভয়, উদ্বেগ, আত্মবিশ্বাসের অভাব, হতাশা এবং মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। তাই অনেক দেশে শিশুদের জন্য ভর্তি পরীক্ষা না রেখে সহজ ভর্তি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।
মোহাম্মদ দুলাল হোসেন: সহকারী শিক্ষক, গণিত বিভাগ, পুলিশ লাইন উচ্চবিদ্যালয়।

আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সম্প্রতি বহুল আলোচনার বিষয় হলো লটারি বাতিল করে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে যে কোনো ক্লাসে ভর্তি করানো। বর্তমান সরকারের শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় অলরেডি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন দিয়ে দিয়েছেন। তড়িঘড়ি করে একটি সিন্ধান্ত নেওয়ার আগে আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ভর্তি প্রক্রিয়া ও অন্যান্য দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ভর্তি প্রক্রিয়া তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।
কোন দেশে কেমন ভর্তি প্রক্রিয়া
ফিনল্যান্ড
প্রথম শ্রেণি ভর্তি: সাধারণত ৭ বছর বয়সে স্কুল শুরু হয়। কোনো ভর্তি পরীক্ষা বা ইন্টারভিউ থাকে না। বাসার কাছের সরকারি স্কুলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভর্তি করা হয়।
অন্যান্য ক্লাসে ভর্তি: পরিবার অন্য এলাকায় গেলে বা বিদেশ থেকে এলে সরাসরি নিকটস্থ স্কুলে ভর্তি হতে পারে।
আমেরিকা
প্রথম শ্রেণি ভর্তি: বয়স সাধারণত ৬ বছর।
প্রয়োজন হয়: জন্মসনদ,টিকাদান সনদ,ঠিকানার প্রমাণ।
কিছু স্কুলে ছোট ইন্টারভিউ বা প্রস্তুতি পরীক্ষাও দেখা যায়।
অন্যান্য ক্লাসে ভর্তি: আগের স্কুলের ট্রান্সক্রিপ্ট বা রিপোর্ট কার্ড দেখিয়ে ভর্তি হয়।
যুক্তরাজ্য
প্রথম শ্রেণি: শিশুরা সাধারণত ৫ বছর বয়সে স্কুল শুরু করে। অনলাইনে আবেদন করতে হয় স্থানীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে সিলেকশন হয়।
অন্যান্য ক্লাসে ভর্তি: মাঝপথে ভর্তি হলে তাকে ইন ইয়ারস এডমিশন বলা হয়। আগের স্কুলের রিপোর্ট প্রয়োজন হয়।
জার্মান
প্রথম শ্রেণি: সাধারণত ৬ বছর বয়সে ভর্তি। শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্কুল প্রস্তুতি মূল্যায়ন করা হয়।
অন্যান্য ক্লাসে ভর্তি: আগের শিক্ষাগত সনদ জমা দিতে হয়।
জাপান
প্রথম শ্রেণি ভর্তি: বয়স ৬ বছর। সাধারণত কোনো কঠিন পরীক্ষা নেই, তবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়।
অন্যান্য ক্লাসে ভর্তি: আগের স্কুলের ফলাফল ও ডকুমেন্ট প্রয়োজন হয়।
বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশের ভর্তি পদ্ধতির পার্থক্য :
বাংলাদেশে অনেক স্কুলে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ছাত্র নির্বাচন করা হয়। জনপ্রিয় স্কুলগুলোতে প্রতিযোগিতা বেশি। অনেক ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতিও চালু আছে। তার মানে ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি ও লটারি পদ্ধতি উভয়েরই প্রচলন আছে।
বহির্বিশ্বের শিক্ষাব্যবস্থায় ভর্তি প্রক্রিয়া :
বেশিরভাগ দেশে ভর্তি পরীক্ষা থাকে না। বাসার কাছের স্কুলে সরাসরি ভর্তি করা হয়। লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুবিধা :
মেধাবী শিক্ষার্থীদের নির্বাচন করা সহজ হয়। স্কুলের একাডেমিক মান বজায় রাখা সহজ হতে পারে।
অসুবিধা
ছোট শিশুদের উপর অল্প বয়সে পরীক্ষার চাপ পড়ে। কোচিং বা অর্থনৈতিক সুবিধা থাকা পরিবার বেশি লাভবান হতে পারে। সব শিশু সমান সুযোগ পায় না।
লটারি পদ্ধতি
সুবিধা: সব শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ তৈরি হয়। ছোট শিশুদের উপর পরীক্ষার চাপ থাকে না। দুর্নীতি বা পক্ষপাত কমে।
অসুবিধা: মেধা যাচাই করা হয় না। কখনো খুব ভালো ছাত্রও সুযোগ নাও পেতে পারে।
মোদ্দাকথা ভর্তি পরীক্ষার কারণে শিশুদের মধ্যে ভয়, উদ্বেগ, আত্মবিশ্বাসের অভাব, হতাশা এবং মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। তাই অনেক দেশে শিশুদের জন্য ভর্তি পরীক্ষা না রেখে সহজ ভর্তি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।
মোহাম্মদ দুলাল হোসেন: সহকারী শিক্ষক, গণিত বিভাগ, পুলিশ লাইন উচ্চবিদ্যালয়।