মো. মাহবুবুল হক ভূঁইয়া

কোনো সমাজকে পুরোপুরি অপরাধমুক্ত রাখা সম্ভব না। তবে অপরাধের প্রবণতা যথেষ্ট ও সন্তোষজনক পর্যায়ে কমিয়ে আনা সম্ভব। এটি হয় মূলত দুটি পথে। প্রথমত, মানুষের মধ্যে মানবিকতা, নৈতিকতা ও অন্যের প্রতি দায়বোধ তৈরি করার দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। যার ভিত্তি শৈশব থেকেই গড়ে তুলতে হয় । দ্বিতীয়ত, আইনের কার্যকর ও নিরপেক্ষ প্রয়োগের মাধ্যমে এমন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে হয়, যা অপরাধকে নিরুৎসাহিত করে এবং আইনের প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি করে। এটি সম্ভাব্য অপরাধীদেরও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে, অপরাধের বাস্তব পরিণতি আছে এবং আইন ভঙ্গ করলে শাস্তি এড়ানো সহজ নয়।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বাংলাদেশ রাষ্ট্রে এই দুই প্রক্রিয়ার কোনোটিই নেই। কোনো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটলে আমরা সাময়িকভাবে বিচলিত হই, প্রতিবাদ করি, ক্ষোভ প্রকাশ করি এবং পরিবর্তনের দাবি তুলি। কিন্তু এই আকস্মিক চেতনা দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনে রূপ নেয় না। কারণ পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক সামাজিক উদ্যোগ এবং আইনের নিয়মিত, নিরপেক্ষ ও দৃশ্যমান প্রয়োগ।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের চেতনা সাধারণ মানুষের মধ্যে সময়ে, অসময়ে কিছুটা জাগ্রত হলেও রাষ্ট্র ও সরকারের মধ্যে তার স্থায়ী কোনো প্রতিফলন দেখা যায় না। ফলে প্রতিটি নতুন ঘটনা আমাদের আবারও সাময়িকভাবে সচেতন করে, কিন্তু মূল কাঠামো অপরিবর্তিত থেকে যায়।
নাহিদা আপা আমার সহকর্মী। তাঁর কলিজার টুকরো অপ্রতিমের আত্মার শান্তি হোক। এ ছাড়া আর কী বলবো ভেবে পাই না!
মো. মাহবুবুল হক ভূঁইয়া: সহকারী অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

কোনো সমাজকে পুরোপুরি অপরাধমুক্ত রাখা সম্ভব না। তবে অপরাধের প্রবণতা যথেষ্ট ও সন্তোষজনক পর্যায়ে কমিয়ে আনা সম্ভব। এটি হয় মূলত দুটি পথে। প্রথমত, মানুষের মধ্যে মানবিকতা, নৈতিকতা ও অন্যের প্রতি দায়বোধ তৈরি করার দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। যার ভিত্তি শৈশব থেকেই গড়ে তুলতে হয় । দ্বিতীয়ত, আইনের কার্যকর ও নিরপেক্ষ প্রয়োগের মাধ্যমে এমন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে হয়, যা অপরাধকে নিরুৎসাহিত করে এবং আইনের প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি করে। এটি সম্ভাব্য অপরাধীদেরও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে, অপরাধের বাস্তব পরিণতি আছে এবং আইন ভঙ্গ করলে শাস্তি এড়ানো সহজ নয়।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বাংলাদেশ রাষ্ট্রে এই দুই প্রক্রিয়ার কোনোটিই নেই। কোনো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটলে আমরা সাময়িকভাবে বিচলিত হই, প্রতিবাদ করি, ক্ষোভ প্রকাশ করি এবং পরিবর্তনের দাবি তুলি। কিন্তু এই আকস্মিক চেতনা দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনে রূপ নেয় না। কারণ পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক সামাজিক উদ্যোগ এবং আইনের নিয়মিত, নিরপেক্ষ ও দৃশ্যমান প্রয়োগ।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের চেতনা সাধারণ মানুষের মধ্যে সময়ে, অসময়ে কিছুটা জাগ্রত হলেও রাষ্ট্র ও সরকারের মধ্যে তার স্থায়ী কোনো প্রতিফলন দেখা যায় না। ফলে প্রতিটি নতুন ঘটনা আমাদের আবারও সাময়িকভাবে সচেতন করে, কিন্তু মূল কাঠামো অপরিবর্তিত থেকে যায়।
নাহিদা আপা আমার সহকর্মী। তাঁর কলিজার টুকরো অপ্রতিমের আত্মার শান্তি হোক। এ ছাড়া আর কী বলবো ভেবে পাই না!
মো. মাহবুবুল হক ভূঁইয়া: সহকারী অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়