সাজিদুর রহমান

পৃথিবীর মধুরতম ডাক হলো ‘মা’। মাত্র একটি অক্ষরের এই ক্ষুদ্র শব্দের ভেতরে লুকিয়ে থাকে অতলান্ত স্নেহ, মমতা আর চিরন্তন অকৃত্রিম ভালোবাসা। শৈশব থেকে কৈশোর, কৈশোর থেকে বার্ধক্য, আনন্দ-বেদনা, ভয় কিংবা উদ্দীপনা, প্রতিটি মানবিক অনুভ‚তিতে মিশে থাকে মায়ের নাম। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের পরম নির্ভরতা আর সবশেষ নিরাপদ আশ্রয়স্থল হলো মমতাময়ী মায়ের ওই আঁচল।
আজ রোববার, সেই সকল মমতাময়ীর সম্মানে উৎসর্গ করা ‘বিশ্ব মা দিবস’। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে বিশেষ মর্যাদায় পালিত হয় দিনটি। যদিও মায়ের প্রতি ভালোবাসা কোনো নির্দিষ্ট দিনের ফ্রেমে বন্দি নয়, তবুও ত্যাগের প্রতিচ্ছবি মায়েদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই এই আয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে সূচনা হলেও বর্তমানে সারা বিশ্বেই পালিত হয় দিবসটি। সে হিসেবে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশেও আজ পালিত হবে মা দিবস।
মায়ের মাহাত্ম্য কলমের আঁচড়ে কিংবা শব্দের জালে বন্দি করার সাধ্য পৃথিবীর কোনো লেখকের নেই। তবুও আজ এই বিশেষ দিনে আমার ক্ষুদ্র জীবনের পথচলায় মায়ের সেই বিশাল ছায়ার গল্পটুকু বলতে চাই। মা কেবল আমার জন্মদাত্রীই নন; আমার প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি কীভাবে আমার শ্রেষ্ঠ বন্ধু, বেঁচে থাকার মূল প্রেরণা এবং নিভৃত এক সাইকোলজিস্ট হয়ে উঠেছেন সেই অকৃত্রিম নাড়ির টান ও অনুভ‚তির আখ্যানই তুলে ধরছি আজ।
আমার মা আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু এবং শ্রেষ্ঠ শুভাকাক্সক্ষী। স্বার্থপর এই পৃথিবীতে তিনি একমাত্র মানুষ, যিনি নিজের চেয়েও আমাকে বেশি ভালোবাসেন। মজার ব্যাপার হলো, মা আমাকে মুখে কখনো বলেননি- ‘সাজিদ, আই লাভ ইউ’। কিন্তু তাঁর প্রতিদিনের হাজারো ছোট ছোট কাজ আর আগলে রাখার ধরন প্রমাণ করে দেয়, মা আমায় কতটা ভালোবাসেন। মুখে না বলা সেই না বলা ভালোবাসাই পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ভাষা।
আমার মা আমার শ্রেষ্ঠ বন্ধু
বন্ধুত্বের সংজ্ঞায় বলা হয় বন্ধু সেই, যার কাছে নিজেকে নির্দ্বিধায় প্রকাশ করা যায়, যে বিপদে ঢাল হয়ে দাঁড়ায় এবং যার কাঁধে মাথা রেখে দুঃখের ভার লাঘব করা যায়। আমার মায়ের মাঝে এই সবকটি গুণের পূর্ণ প্রকাশ আমি দেখি। বন্ধুত্বের আসল সার্থকতা তো সেখানেই, যেখানে বিশ্বাস আর সহমর্মিতা থাকে।
আমি আমার জীবনের প্রতিটি ছোট-বড় ঘটনা মায়ের সাথে শেয়ার করি। বাইরে কোথাও যাওয়া, কিছু কেনা, এমনকি ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ কিংবা কারো প্রেমে পড়ার গল্পও আমি মাকে জানাই। জীবনের কঠিন সময়ে কোনো মোড় থেকে ধোঁকা খেয়ে যখন ফিরে এসেছি, মা তখন বিচারকের আসনে না বসে বন্ধুর মতো পাশে দাঁড়িয়েছেন। মা আমাকে বোঝান, দিকনির্দেশনা দেন এবং সবচেয়ে বড় কথা আমাকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করেন। একজন বিশ্বস্ত বন্ধু যেমন মনোযোগ দিয়ে কথা শোনে, মা-ও ঠিক তেমনি আমার প্রতিটি কথাকে গুরুত্ব দেন। তাই আমার মা আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু।
আমার মা আমার মোটিভেশন ও অনুপ্রেরণা
হতাশা যখন আমাকে ঘিরে ধরে, তখন আমি বাইরে কোনো মোটিভেশনাল স্পিকার খুঁজি না। বরং আমি আমার মায়ের শান্ত মুখটার দিকে তাকাই। মায়ের সেই মুখটিই আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। জীবনের অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত আমি শুধু মায়ের দিকে তাকিয়ে নিতে পেরেছি। অনেক ভুল পথ থেকে নিজেকে সরিয়ে এনেছি কেবল মায়ের কথা ভেবে। যখনই মনে হয়েছে আমি আর পারছি না, তখনই মায়ের ধৈর্য আর পরিশ্রম আমাকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি দিয়েছে। মা-ই আমার জীবনের সেই অদৃশ্য চালিকাশক্তি, যা আমাকে সবসময় সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। আব্রাহাম লিংকনের একটি কথা মনে পড়ে যায়, ‘যার মা আছে, সে কখনোই গরিব নয়’। তাই মা'ই আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।
আমার মা এক অলৌকিক সাইকোলজিস্ট
একজন পেশাদার মনোবিজ্ঞানী দীর্ঘকাল পড়াশোনা আর গবেষণার মাধ্যমে মানুষের মনস্তত্ত¡ বোঝার যে দক্ষতা অর্জন করেন, মায়েরা যেন সেই ক্ষমতা নিয়েই জন্মান। একে কোনো জাগতিক বিজ্ঞানের ছকে বাঁধা অসম্ভব; এটি সম্ভবত স্রষ্টার পক্ষ থেকে পাওয়া এক বিশেষ সহজাত প্রবৃত্তি। মা আমার মুখাবয়ব দেখে, চোখের ভাষা পড়ে, এমনকি ফোনের দূরপ্রান্তে আমার কণ্ঠস্বরের সামান্যতম পরিবর্তন শুনেই বলে দিতে পারেন আমার মনের অন্দরমহলে কী চলছে। যে ‘নারী-নক্ষত্র’ একজন দক্ষ সাইকোআ্যানালিস্ট হয়তো কয়েক মাসের সেশনেও বুঝতে পারতেন না, মা তা মুহূর্তেই বুঝে যান। আমি শত মাইল দূরে থাকলেও আমার অসুস্থতা কিংবা কোনো বিপদের আভাস যেন এক অদৃশ্য বেতার তরঙ্গে মায়ের কাছে পৌঁছে যায়। এ এক আত্মিক টেলিপ্যাথি, এক নাড়ির টান। মায়ের তীক্ষè দৃষ্টির সামনে আমি কখনো নিজের মন খারাপের কথা আড়াল করতে পারিনি। দিনশেষে তাঁর ওই অভ্রান্ত অনুধাবনের কাছে আমাকে হার মানতেই হয়।
আমার মা প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রিহীন এক মহাজ্ঞানী
আমার মায়ের কোনো একাডেমিক সার্টিফিকেট নেই, নেই উচ্চশিক্ষার কোনো বড় ডিগ্রি। মায়েদের সেই সময়ে পড়াশোনার সুযোগ ছিল বড্ড সীমিত; হয়তো বড়জোর দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ চুকিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর জ্ঞানের পরিধি যেকোনো এমবিবিএস অধ্যাপক কিংবা নামজাদা সমাজবিজ্ঞানীর চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। অভিজ্ঞতার কষ্টিপাথরে যাচাই করা তাঁর প্রতিটি কথা যেন এক একটি জীবনদর্শন। আমি বহুবার দেখেছি, মা যখন কোনো বিষয়ে পরামর্শ দেন কিংবা ভবিষ্যৎবাণী করেন, দিনশেষে ঠিক সেটাই ধ্রæব সত্য হয়ে ধরা দেয়। জীবনের জটিল অংকের সমাধান তিনি অত্যন্ত সহজভাবে করে দেন, যা কোনো তাত্তি¡ক বই পড়ে শেখা সম্ভব নয়। অক্ষরজ্ঞানহীন হয়েও মা আসলে এক মহাজ্ঞানী, যাঁর প্রতিটি কথা আমার জীবনের দিকনির্দেশক হয়ে কাজ করে।
মায়ের মহত্ত¡ নিয়ে লিখে শেষ করার সাধ্য নেই আমার। স্রষ্টার এক নিদারুণ এবং সার্থক সৃষ্টি হলো ‘মা’। পৃথিবীতে সম্পর্কের সমীকরণে নারী হয়তো নানা রূপে আবির্ভ‚ত হন, কিন্তু ‘মা’ হিসেবে তিনি সর্বদা অনন্য এবং অতুলনীয়। একজন সন্তানের কাছে তাঁর মা কেবল একজন মানুষ নন, বরং তিনি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম নারী, শ্রেষ্ঠতম আশ্রয়।
আজ বিশ্ব মা দিবসে মনের গহিন থেকে শুধু এই প্রার্থনাই করি ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল মায়েরা, শান্তিতে থাকুক প্রতিটি মমতাময়ী হৃদয়। পৃথিবীর সকল মায়েদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। দীর্ঘজীবী হোক মাজাতি।
সাজিদুর রহমান: আমার শহরের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি

পৃথিবীর মধুরতম ডাক হলো ‘মা’। মাত্র একটি অক্ষরের এই ক্ষুদ্র শব্দের ভেতরে লুকিয়ে থাকে অতলান্ত স্নেহ, মমতা আর চিরন্তন অকৃত্রিম ভালোবাসা। শৈশব থেকে কৈশোর, কৈশোর থেকে বার্ধক্য, আনন্দ-বেদনা, ভয় কিংবা উদ্দীপনা, প্রতিটি মানবিক অনুভ‚তিতে মিশে থাকে মায়ের নাম। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের পরম নির্ভরতা আর সবশেষ নিরাপদ আশ্রয়স্থল হলো মমতাময়ী মায়ের ওই আঁচল।
আজ রোববার, সেই সকল মমতাময়ীর সম্মানে উৎসর্গ করা ‘বিশ্ব মা দিবস’। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে বিশেষ মর্যাদায় পালিত হয় দিনটি। যদিও মায়ের প্রতি ভালোবাসা কোনো নির্দিষ্ট দিনের ফ্রেমে বন্দি নয়, তবুও ত্যাগের প্রতিচ্ছবি মায়েদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই এই আয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে সূচনা হলেও বর্তমানে সারা বিশ্বেই পালিত হয় দিবসটি। সে হিসেবে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশেও আজ পালিত হবে মা দিবস।
মায়ের মাহাত্ম্য কলমের আঁচড়ে কিংবা শব্দের জালে বন্দি করার সাধ্য পৃথিবীর কোনো লেখকের নেই। তবুও আজ এই বিশেষ দিনে আমার ক্ষুদ্র জীবনের পথচলায় মায়ের সেই বিশাল ছায়ার গল্পটুকু বলতে চাই। মা কেবল আমার জন্মদাত্রীই নন; আমার প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি কীভাবে আমার শ্রেষ্ঠ বন্ধু, বেঁচে থাকার মূল প্রেরণা এবং নিভৃত এক সাইকোলজিস্ট হয়ে উঠেছেন সেই অকৃত্রিম নাড়ির টান ও অনুভ‚তির আখ্যানই তুলে ধরছি আজ।
আমার মা আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু এবং শ্রেষ্ঠ শুভাকাক্সক্ষী। স্বার্থপর এই পৃথিবীতে তিনি একমাত্র মানুষ, যিনি নিজের চেয়েও আমাকে বেশি ভালোবাসেন। মজার ব্যাপার হলো, মা আমাকে মুখে কখনো বলেননি- ‘সাজিদ, আই লাভ ইউ’। কিন্তু তাঁর প্রতিদিনের হাজারো ছোট ছোট কাজ আর আগলে রাখার ধরন প্রমাণ করে দেয়, মা আমায় কতটা ভালোবাসেন। মুখে না বলা সেই না বলা ভালোবাসাই পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ভাষা।
আমার মা আমার শ্রেষ্ঠ বন্ধু
বন্ধুত্বের সংজ্ঞায় বলা হয় বন্ধু সেই, যার কাছে নিজেকে নির্দ্বিধায় প্রকাশ করা যায়, যে বিপদে ঢাল হয়ে দাঁড়ায় এবং যার কাঁধে মাথা রেখে দুঃখের ভার লাঘব করা যায়। আমার মায়ের মাঝে এই সবকটি গুণের পূর্ণ প্রকাশ আমি দেখি। বন্ধুত্বের আসল সার্থকতা তো সেখানেই, যেখানে বিশ্বাস আর সহমর্মিতা থাকে।
আমি আমার জীবনের প্রতিটি ছোট-বড় ঘটনা মায়ের সাথে শেয়ার করি। বাইরে কোথাও যাওয়া, কিছু কেনা, এমনকি ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ কিংবা কারো প্রেমে পড়ার গল্পও আমি মাকে জানাই। জীবনের কঠিন সময়ে কোনো মোড় থেকে ধোঁকা খেয়ে যখন ফিরে এসেছি, মা তখন বিচারকের আসনে না বসে বন্ধুর মতো পাশে দাঁড়িয়েছেন। মা আমাকে বোঝান, দিকনির্দেশনা দেন এবং সবচেয়ে বড় কথা আমাকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করেন। একজন বিশ্বস্ত বন্ধু যেমন মনোযোগ দিয়ে কথা শোনে, মা-ও ঠিক তেমনি আমার প্রতিটি কথাকে গুরুত্ব দেন। তাই আমার মা আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু।
আমার মা আমার মোটিভেশন ও অনুপ্রেরণা
হতাশা যখন আমাকে ঘিরে ধরে, তখন আমি বাইরে কোনো মোটিভেশনাল স্পিকার খুঁজি না। বরং আমি আমার মায়ের শান্ত মুখটার দিকে তাকাই। মায়ের সেই মুখটিই আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। জীবনের অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত আমি শুধু মায়ের দিকে তাকিয়ে নিতে পেরেছি। অনেক ভুল পথ থেকে নিজেকে সরিয়ে এনেছি কেবল মায়ের কথা ভেবে। যখনই মনে হয়েছে আমি আর পারছি না, তখনই মায়ের ধৈর্য আর পরিশ্রম আমাকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি দিয়েছে। মা-ই আমার জীবনের সেই অদৃশ্য চালিকাশক্তি, যা আমাকে সবসময় সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। আব্রাহাম লিংকনের একটি কথা মনে পড়ে যায়, ‘যার মা আছে, সে কখনোই গরিব নয়’। তাই মা'ই আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।
আমার মা এক অলৌকিক সাইকোলজিস্ট
একজন পেশাদার মনোবিজ্ঞানী দীর্ঘকাল পড়াশোনা আর গবেষণার মাধ্যমে মানুষের মনস্তত্ত¡ বোঝার যে দক্ষতা অর্জন করেন, মায়েরা যেন সেই ক্ষমতা নিয়েই জন্মান। একে কোনো জাগতিক বিজ্ঞানের ছকে বাঁধা অসম্ভব; এটি সম্ভবত স্রষ্টার পক্ষ থেকে পাওয়া এক বিশেষ সহজাত প্রবৃত্তি। মা আমার মুখাবয়ব দেখে, চোখের ভাষা পড়ে, এমনকি ফোনের দূরপ্রান্তে আমার কণ্ঠস্বরের সামান্যতম পরিবর্তন শুনেই বলে দিতে পারেন আমার মনের অন্দরমহলে কী চলছে। যে ‘নারী-নক্ষত্র’ একজন দক্ষ সাইকোআ্যানালিস্ট হয়তো কয়েক মাসের সেশনেও বুঝতে পারতেন না, মা তা মুহূর্তেই বুঝে যান। আমি শত মাইল দূরে থাকলেও আমার অসুস্থতা কিংবা কোনো বিপদের আভাস যেন এক অদৃশ্য বেতার তরঙ্গে মায়ের কাছে পৌঁছে যায়। এ এক আত্মিক টেলিপ্যাথি, এক নাড়ির টান। মায়ের তীক্ষè দৃষ্টির সামনে আমি কখনো নিজের মন খারাপের কথা আড়াল করতে পারিনি। দিনশেষে তাঁর ওই অভ্রান্ত অনুধাবনের কাছে আমাকে হার মানতেই হয়।
আমার মা প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রিহীন এক মহাজ্ঞানী
আমার মায়ের কোনো একাডেমিক সার্টিফিকেট নেই, নেই উচ্চশিক্ষার কোনো বড় ডিগ্রি। মায়েদের সেই সময়ে পড়াশোনার সুযোগ ছিল বড্ড সীমিত; হয়তো বড়জোর দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ চুকিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর জ্ঞানের পরিধি যেকোনো এমবিবিএস অধ্যাপক কিংবা নামজাদা সমাজবিজ্ঞানীর চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। অভিজ্ঞতার কষ্টিপাথরে যাচাই করা তাঁর প্রতিটি কথা যেন এক একটি জীবনদর্শন। আমি বহুবার দেখেছি, মা যখন কোনো বিষয়ে পরামর্শ দেন কিংবা ভবিষ্যৎবাণী করেন, দিনশেষে ঠিক সেটাই ধ্রæব সত্য হয়ে ধরা দেয়। জীবনের জটিল অংকের সমাধান তিনি অত্যন্ত সহজভাবে করে দেন, যা কোনো তাত্তি¡ক বই পড়ে শেখা সম্ভব নয়। অক্ষরজ্ঞানহীন হয়েও মা আসলে এক মহাজ্ঞানী, যাঁর প্রতিটি কথা আমার জীবনের দিকনির্দেশক হয়ে কাজ করে।
মায়ের মহত্ত¡ নিয়ে লিখে শেষ করার সাধ্য নেই আমার। স্রষ্টার এক নিদারুণ এবং সার্থক সৃষ্টি হলো ‘মা’। পৃথিবীতে সম্পর্কের সমীকরণে নারী হয়তো নানা রূপে আবির্ভ‚ত হন, কিন্তু ‘মা’ হিসেবে তিনি সর্বদা অনন্য এবং অতুলনীয়। একজন সন্তানের কাছে তাঁর মা কেবল একজন মানুষ নন, বরং তিনি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম নারী, শ্রেষ্ঠতম আশ্রয়।
আজ বিশ্ব মা দিবসে মনের গহিন থেকে শুধু এই প্রার্থনাই করি ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল মায়েরা, শান্তিতে থাকুক প্রতিটি মমতাময়ী হৃদয়। পৃথিবীর সকল মায়েদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। দীর্ঘজীবী হোক মাজাতি।
সাজিদুর রহমান: আমার শহরের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি