গাজীউল হক সোহাগ

সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য হতে চান র্যাবের হাতে গুম হওয়া কুমিল্লার লাকসাম পৌরসভার তৎকালীন বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির পারভেজের সহধর্মিনী শাহনাজ আক্তার। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে শাহনাজের পরিবারের সদস্যরা ওই তথ্য জানিয়েছেন। শাহনাজ ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর কুমিল্লার লাকসাম পৌরসভা থেকে মেয়র নির্বাচন করেছিলেন। বর্তমানে তিনি লাকসাম পৌর বিএনপির সহসভাপতি।



শাহনাজ গত দেড় দশক ধরে বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয় আছেন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী তারেক রহমানের পক্ষে কাজ করেছেন। ওই আসনের অন্তত তিনটি ওয়ার্ডে সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া গুমের বিরুদ্ধে ঢাকায় বিভিন্ন সেমিনার, প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেন।



পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর রাত নয়টা ১৫ মিনিট থেকে রাত ১১ টার মধ্যে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার হরিশ্চর সড়কে র্যাবের একদল সদস্য লাকসাম ফেয়ার হাসপাতালের একটি অ্যাম্বুলেন্স (ঢাকা মেট্রো-ছ-৭১-১২৬৫) আটক করে। ওই অ্যাম্বুলেন্স থেকে র্যাব সদস্যরা লাকসাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম হিরু, পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির পারভেজ ও পৌর বিএনপির তৎকালীন সহসাংগঠনিক সম্পাদক (বর্তমানে আওয়ামী লীগ নেতা) জসিম উদ্দিনকে তুলে নিয়ে যান। পরে র্যাব জসিম উদ্দিনকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় অন্য একটি মাইক্রোবাসে তুলে দেয়। এরপর জসিম উদ্দিন ও একই রাতে লাকসামে বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম হিরুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ১০ ব্যক্তিকে র্যাব লাকসাম থানায় হস্তান্তর করে। কিন্তু দুই নেতাকে থানায় হাজির করেনি। এরপর থেকে তাঁরা আজও 'নিখোঁজ' রয়েছেন। এ ঘটনায় র্যাব-১১ এর চাকরিচ্যুত প্রধান কর্মকর্তা (সিও) লে. কর্ণেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, র্যাব-১১ কুমিল্লার কোম্পানী অধিনায়ক মেজর সাহেদ রাজী, ডিএডি শাহজাহান আলী, উপপরিদর্শক (এসআই) কাজী সুলতান আহমেদ ও অসিত কুমার রায়ের বিরুদ্ধে শাহনাজের শ্বশুর রংগু মিয়া কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে মামলা করেন। রংগু মিয়া মারা যাওয়ার পর তাঁর আরেক ছেলে গোলাম ফারুক ওই মামলার বাদী হন। এখন পর্যন্ত ওই মামলার কোন কিনারা হয়নি।


এদিকে এই ঘটনার পর ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর কুমিল্লার লাকসাম পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি থেকে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন পারভেজের সহধর্মিনী শাহনাজ আক্তার। তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা করতে এসে ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের কাদ্রা এলাকায় পুলিশি পাহারায় গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক করেছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির তৎকালীন প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদিন ফারুক। পরদিন ২৪ ডিসেম্বর সকাল ১০ টায় লাকসাম পৌরসভার গাজীমূড়া এলাকায় গণসংযোগে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার উল আজিমের গাড়ি ভাঙচুর করে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরবর্তীতে ওই বছরের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নির্বাচনী এলাকায় দলীয় প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান করেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মো. আবুল খায়ের ১৮ হাজার ১৪৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। বিএনপির প্রার্থী শাহনাজ আক্তার পেয়েছিলেন ১০ হাজার ৬৮০ ভোট। এরপর শাহনাজ ঢাকায় চলে যান। লাকসাম ও ঢাকা মিলিয়ে বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। বিএনপির নয়াপল্টন ও গুলশান কার্যালয়ে তিনি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাঁর একমাত্র ছেলে শাহরিয়ার কবির রাতুল লাকসামে বিএনপির কমিটিতে যুক্ত হন। এবার কুমিল্লা-৯ ( লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. আবুল কালামের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন।

লাকসাম পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও পারভেজ শাহনাজের একমাত্র ছেলে শাহরিয়ার কবির রাতুল বলেন, আম্মুকে নারী সংসদ সদস্য পদে দেখতে চাই। আব্বু নিখোঁজের পর তিনি দলের জন্য কাজ করেছেন।
শাহনাজ আক্তার বলেন, দলের জন্য আমার পরিবারের ত্যাগ আছে। আমার স্বামী গুম হয়েছেন। আমি গত ১৩ বছর ধরে মাঠে কাজ করেছি। দল আশা করি আমাকে মূল্যায়ন করবে।

সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য হতে চান র্যাবের হাতে গুম হওয়া কুমিল্লার লাকসাম পৌরসভার তৎকালীন বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির পারভেজের সহধর্মিনী শাহনাজ আক্তার। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে শাহনাজের পরিবারের সদস্যরা ওই তথ্য জানিয়েছেন। শাহনাজ ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর কুমিল্লার লাকসাম পৌরসভা থেকে মেয়র নির্বাচন করেছিলেন। বর্তমানে তিনি লাকসাম পৌর বিএনপির সহসভাপতি।



শাহনাজ গত দেড় দশক ধরে বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয় আছেন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী তারেক রহমানের পক্ষে কাজ করেছেন। ওই আসনের অন্তত তিনটি ওয়ার্ডে সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া গুমের বিরুদ্ধে ঢাকায় বিভিন্ন সেমিনার, প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেন।



পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর রাত নয়টা ১৫ মিনিট থেকে রাত ১১ টার মধ্যে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার হরিশ্চর সড়কে র্যাবের একদল সদস্য লাকসাম ফেয়ার হাসপাতালের একটি অ্যাম্বুলেন্স (ঢাকা মেট্রো-ছ-৭১-১২৬৫) আটক করে। ওই অ্যাম্বুলেন্স থেকে র্যাব সদস্যরা লাকসাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম হিরু, পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির পারভেজ ও পৌর বিএনপির তৎকালীন সহসাংগঠনিক সম্পাদক (বর্তমানে আওয়ামী লীগ নেতা) জসিম উদ্দিনকে তুলে নিয়ে যান। পরে র্যাব জসিম উদ্দিনকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় অন্য একটি মাইক্রোবাসে তুলে দেয়। এরপর জসিম উদ্দিন ও একই রাতে লাকসামে বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম হিরুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ১০ ব্যক্তিকে র্যাব লাকসাম থানায় হস্তান্তর করে। কিন্তু দুই নেতাকে থানায় হাজির করেনি। এরপর থেকে তাঁরা আজও 'নিখোঁজ' রয়েছেন। এ ঘটনায় র্যাব-১১ এর চাকরিচ্যুত প্রধান কর্মকর্তা (সিও) লে. কর্ণেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, র্যাব-১১ কুমিল্লার কোম্পানী অধিনায়ক মেজর সাহেদ রাজী, ডিএডি শাহজাহান আলী, উপপরিদর্শক (এসআই) কাজী সুলতান আহমেদ ও অসিত কুমার রায়ের বিরুদ্ধে শাহনাজের শ্বশুর রংগু মিয়া কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে মামলা করেন। রংগু মিয়া মারা যাওয়ার পর তাঁর আরেক ছেলে গোলাম ফারুক ওই মামলার বাদী হন। এখন পর্যন্ত ওই মামলার কোন কিনারা হয়নি।


এদিকে এই ঘটনার পর ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর কুমিল্লার লাকসাম পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি থেকে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন পারভেজের সহধর্মিনী শাহনাজ আক্তার। তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা করতে এসে ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের কাদ্রা এলাকায় পুলিশি পাহারায় গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক করেছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির তৎকালীন প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদিন ফারুক। পরদিন ২৪ ডিসেম্বর সকাল ১০ টায় লাকসাম পৌরসভার গাজীমূড়া এলাকায় গণসংযোগে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার উল আজিমের গাড়ি ভাঙচুর করে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরবর্তীতে ওই বছরের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নির্বাচনী এলাকায় দলীয় প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান করেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মো. আবুল খায়ের ১৮ হাজার ১৪৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। বিএনপির প্রার্থী শাহনাজ আক্তার পেয়েছিলেন ১০ হাজার ৬৮০ ভোট। এরপর শাহনাজ ঢাকায় চলে যান। লাকসাম ও ঢাকা মিলিয়ে বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। বিএনপির নয়াপল্টন ও গুলশান কার্যালয়ে তিনি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাঁর একমাত্র ছেলে শাহরিয়ার কবির রাতুল লাকসামে বিএনপির কমিটিতে যুক্ত হন। এবার কুমিল্লা-৯ ( লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. আবুল কালামের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন।

লাকসাম পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও পারভেজ শাহনাজের একমাত্র ছেলে শাহরিয়ার কবির রাতুল বলেন, আম্মুকে নারী সংসদ সদস্য পদে দেখতে চাই। আব্বু নিখোঁজের পর তিনি দলের জন্য কাজ করেছেন।
শাহনাজ আক্তার বলেন, দলের জন্য আমার পরিবারের ত্যাগ আছে। আমার স্বামী গুম হয়েছেন। আমি গত ১৩ বছর ধরে মাঠে কাজ করেছি। দল আশা করি আমাকে মূল্যায়ন করবে।