২৮ বছর পর ফিরে নরওয়ের দাপট, জোড়া গোলে জোড়া রেকর্ড হালান্ডের

ক্রীড়া প্রতিবেদক
Thumbnail image

দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেছে নরওয়ে। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই ৪-১ গোলের বড় জয় তুলে নিয়েছে ইরাক-এর বিপক্ষে। দলের জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড, যিনি করেন জোড়া গোল।

প্রথমার্ধেই দুই গোল দিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগালেন আর্লিং হলান্ড। পরে আর গোলের দেখা পাননি তিনি। তবে সতীর্থরা আরও দুই গোল করলে ইরাকের বিপক্ষে বড় জয় দিয়েই বিশ্বকাপে ফেরা রাঙাল নরওয়ে।

বস্টোন স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোরে ইরাককে ৪-১ গোলে হারিয়েছে নরওয়ে। জোড়া গোল করেছেন হলান্ড। বাকি দুই গোল করেন লিও অস্টিগার্ড ও ক্রিস্টিয়ান থর্স্টভেড্ট। ইরাকের পক্ষে একটি গোল শোধ করেন আয়মান হোসেন। 

ইরাকের জন্যও ম্যাচটি ছিল ফেরার উপলক্ষ। ১৯৮৬ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায় তারা। তবে প্রথম ম্যাচটি ভালো কাটেনি এশিয়ার দেশটির।

ম্যাচের প্রথমার্ধে নরওয়েকে কিছুটা চাপে রাখতে সক্ষম হয় ইরাক। কিন্তু প্রথম গোল হজমের পর আর সে অর্থে সাবলীল ফুটবল খেলতে পারেনি তারা। ম্যাচজুড়ে মাত্র ৩৭ শতাংশ সময় বল ছিল তাদের দখলে। গোলের জন্য ১১টি শট করে স্রেফ ১টি রাখতে পারে লক্ষ্য বরাবর।

বিপরীতে গোলের জন্য ১২টি শট করে নরওয়ে। এর ৬টি ছিল লক্ষ্য বরাবর। যার মধ্যে ৪টির ঠিকানা হয় ইরাকের জালে।

২৮ মিনিটে ডি-বক্সের মধ্যে দারুণভাবে বল এগিয়ে দেন ডেভিড মোলার উলফ। ইরাকের ডিফেন্ডারকে পাশ কাটিয়ে পা বাড়িয়ে বল জালে প্রবেশ করান হলান্ড।

বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই গোলের দেখা পেয়ে আনন্দে ভাসেন ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। এ নিয়ে জাতীয় দলের হয়ে টানা ১১টি গোল করলেন তিনি।

বেশিক্ষণ পিছিয়ে থাকতে হয়নি ইরাকের। ম্যাচের ৩৮ মিনিটে আয়মানের দারুণ হেডারে সমতা ফেরায় ৪০ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা দেশটি।

তবে বিরতির আগেই আবার গোল হজম করে ফেলে তারা। ইরাকের গোলরক্ষক জালাল হোসেনের বাচ্চাসুলভ ভুলের ফায়দা নিয়ে আবার স্কোরশিটে নাম তোলেন হলান্ড। জাতীয় দলের হয়ে এটি তার ৫৭তম গোল, মাত্র ৫১ ম্যাচে।

দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে হ্যাটট্রিক পূরণের একাধিক সুযোগ পান ম্যানচেস্টার সিটির তারকা ফরোয়ার্ড। তবে আর কাজে লাগাতে পারেননি। ফলে মেলেনি হ্যাটট্রিকের স্বাদ।

বদলি নেমে ম্যাচের ৭৬ মিনিটে নরওয়ের তৃতীয় ও নিজের প্রথম গোলটি করেন অস্টিগার্ড। আর ম্যাচের শেষ দিকে হলান্ডের হেডার ফেরাতে গিয়ে উল্টো গায়ে লাগিয়ে নিজেদের জালেই প্রবেশ করান আয়মান।

১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে এমন দাপুটে জয় নরওয়ের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিল। অন্যদিকে ১৯৮৬ সালের পর বিশ্বকাপে ফেরা ইরাককে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানোর কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হলো।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত