কুমিল্লা-নোয়াখালী চার লেন মহাসড়ক
নিজস্ব প্রতিবেদক

জমি অধিগ্রহণ, বাজার উচ্ছেদ ও প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে কুমিল্লা-নোয়াখালী চার লেন মহাসড়কের সাত কিলোমিটার এলাকার কাজ হয়নি। এতে করে যানজটে জনভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। গত আট বছরে এ সড়কে দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। এ অবস্থায় দ্রুত কাজ শুরু করার তাগিদ দিয়েছেন এলাকাবাসী। সড়কটির দৈর্ঘ্য ৫৯ কিলোমিটার।
অভিযোগ উঠেছে, সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও তাঁর ভাই গোলাম সারওয়ারের কারণে বাগমারা বাজার অংশের কাজ শেষ করা যায়নি। সাবেক স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামের কারণে লাকসামের অংশের কাজ শেষ করা যায়নি।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বাগমারা বাজারে বেশি যানজটের সৃষ্টি হয়। দুই পাশে সড়ক লাগোয়া ভবন গড়ে তোলা হয়েছে। ভবনের গায়ে বাসের ওপরের অংশ লেগে যায়। এখানে দুই বাস ক্রস করতে হয় সময় নিয়ে। তার ওপরে বাজারে নেই ট্রাফিক ব্যবস্থা। ছোট পরিবহনগুলোও সড়কের ওপরে রেখে দেওয়া হয়। রাত ১২টায়ও এখানে মানুষ সড়কে আটকে থাকেন। শুক্রবার হাটের দিন হওয়ায় বাগমারায় আটকে থাকেন তিন জেলার মানুষ। প্রায় একই অবস্থা লাকসাম বাইপাস এলাকায়। এদিকে লাকসামের চন্দনা বাজারে কিছু অংশ চার লেন না হওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।
চন্দনা এলাকার দোকানদার বদিউল আলম ও ইমাম হোসেন জানান, চন্দনার সরু রাস্তার অংশের দিকে তাদের দেখা মতে আট বছরে দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। তার এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে চার লেনের কাজ দ্রুত শেষের দাবি জানান।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বাসিন্দা শিক্ষানুরাগী আবদুল হালিম মজুমদার বলেন, লাকসাম বাজারের বাইপাস, শানিচোঁ ও বাগমারা বাজার এলাকায় প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকে। লাকসাম ও বাগমারা বাজারে যানজটের ভোগান্তিতে পড়া দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যেন নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পের সুফল কুমিল্লা, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের সাধারণ মানুষ ভোগ করতে পারছেন না।
লাকসাম দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাবেক সভাপতি সৈয়দ মজিবুর রহমান দুলাল বলেন, মহাসড়কের ফোরলেনের কাজটি মামলা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণে আটকে গেছে। আমি বলব, এখানে দায়িত্বশীলদের আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কুমিল্লা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৩ অক্টোবর কুমিল্লা নগরের টমছমব্রিজ থেকে নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ পর্যন্ত ৫৯ কিলোমিটার চার লেন প্রকল্প নেওয়া হয়। এর মধ্যে কুমিল্লা অংশে ৪৫ কিলোমিটার ও নোয়াখালী অংশে ১৪ কিলোমিটার। চার লেনের ওই মহাসড়ক নির্মাণের জন্য প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ২ হাজার ৩০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। ২০২৩ সালের ৩০ জুন এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়। কিন্তু শেষ হয়নি নোয়াখালী-কুমিল্লা চার লেন প্রকল্পের ৯ কিলোমিটার সড়কের চার লেনের নির্মাণকাজ। এর মধ্যে লাকসাম বাজার ও বাগমারা বাজার পয়েন্টের সাড়ে ৬ কিলোমিটার অংশে চার লেনের কাজ শুরুই করা যায়নি। ফলে লাকসাম বাজার ও বাগমারা বাজার এখন মহাসড়কটির ‘গলার কাঁটা’।
জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত উক্ত সড়কের লাকসাম বাজার অংশের সাড়ে ৫ কিলোমিটার, চন্দনা বাজার অংশে ৫০০ মিটার, শানিচো এলাকায় ২ কিলোমিটার এবং বাগমারা বাজারের অংশে ১ কিলোমিটারসহ এই ৯ কিলোমিটারের কাজ বাস্তবায়ন না করেই প্রকল্পের প্রথম ধাপের কাজ সমাপ্ত ঘোষণা করে সড়ক বিভাগ। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন এ মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করে। লাকসাম ও বাগমারা বাজারের অংশের পয়েন্টে দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়। বিশেষ করে ঈদ এলে পরিস্থিতি জটিল রূপ নেয়। নোয়াখালী-কুমিল্লা অঞ্চলের প্রায় ২ কোটি মানুষের চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সড়কের লাকসাম ও বাগমারা বাজার।
লাকসামের বাসিন্দা আবু সাঈদ বলেন, অবিলম্বে লাকসাম বাজার এবং বাগমারা বাজারের বাইরে দিয়ে নতুন অ্যালাইনমেন্টে চার লেনের সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করা হোক এবং এই পথে যাতায়াতকারী লাখ লাখ মানুষকে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে যাতায়াতের ব্যবস্থা করতে মাননীয় সড়ক ও সেতুমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

জমি অধিগ্রহণ, বাজার উচ্ছেদ ও প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে কুমিল্লা-নোয়াখালী চার লেন মহাসড়কের সাত কিলোমিটার এলাকার কাজ হয়নি। এতে করে যানজটে জনভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। গত আট বছরে এ সড়কে দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। এ অবস্থায় দ্রুত কাজ শুরু করার তাগিদ দিয়েছেন এলাকাবাসী। সড়কটির দৈর্ঘ্য ৫৯ কিলোমিটার।
অভিযোগ উঠেছে, সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও তাঁর ভাই গোলাম সারওয়ারের কারণে বাগমারা বাজার অংশের কাজ শেষ করা যায়নি। সাবেক স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামের কারণে লাকসামের অংশের কাজ শেষ করা যায়নি।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বাগমারা বাজারে বেশি যানজটের সৃষ্টি হয়। দুই পাশে সড়ক লাগোয়া ভবন গড়ে তোলা হয়েছে। ভবনের গায়ে বাসের ওপরের অংশ লেগে যায়। এখানে দুই বাস ক্রস করতে হয় সময় নিয়ে। তার ওপরে বাজারে নেই ট্রাফিক ব্যবস্থা। ছোট পরিবহনগুলোও সড়কের ওপরে রেখে দেওয়া হয়। রাত ১২টায়ও এখানে মানুষ সড়কে আটকে থাকেন। শুক্রবার হাটের দিন হওয়ায় বাগমারায় আটকে থাকেন তিন জেলার মানুষ। প্রায় একই অবস্থা লাকসাম বাইপাস এলাকায়। এদিকে লাকসামের চন্দনা বাজারে কিছু অংশ চার লেন না হওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।
চন্দনা এলাকার দোকানদার বদিউল আলম ও ইমাম হোসেন জানান, চন্দনার সরু রাস্তার অংশের দিকে তাদের দেখা মতে আট বছরে দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। তার এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে চার লেনের কাজ দ্রুত শেষের দাবি জানান।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বাসিন্দা শিক্ষানুরাগী আবদুল হালিম মজুমদার বলেন, লাকসাম বাজারের বাইপাস, শানিচোঁ ও বাগমারা বাজার এলাকায় প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকে। লাকসাম ও বাগমারা বাজারে যানজটের ভোগান্তিতে পড়া দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যেন নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পের সুফল কুমিল্লা, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের সাধারণ মানুষ ভোগ করতে পারছেন না।
লাকসাম দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাবেক সভাপতি সৈয়দ মজিবুর রহমান দুলাল বলেন, মহাসড়কের ফোরলেনের কাজটি মামলা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণে আটকে গেছে। আমি বলব, এখানে দায়িত্বশীলদের আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কুমিল্লা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৩ অক্টোবর কুমিল্লা নগরের টমছমব্রিজ থেকে নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ পর্যন্ত ৫৯ কিলোমিটার চার লেন প্রকল্প নেওয়া হয়। এর মধ্যে কুমিল্লা অংশে ৪৫ কিলোমিটার ও নোয়াখালী অংশে ১৪ কিলোমিটার। চার লেনের ওই মহাসড়ক নির্মাণের জন্য প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ২ হাজার ৩০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। ২০২৩ সালের ৩০ জুন এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়। কিন্তু শেষ হয়নি নোয়াখালী-কুমিল্লা চার লেন প্রকল্পের ৯ কিলোমিটার সড়কের চার লেনের নির্মাণকাজ। এর মধ্যে লাকসাম বাজার ও বাগমারা বাজার পয়েন্টের সাড়ে ৬ কিলোমিটার অংশে চার লেনের কাজ শুরুই করা যায়নি। ফলে লাকসাম বাজার ও বাগমারা বাজার এখন মহাসড়কটির ‘গলার কাঁটা’।
জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত উক্ত সড়কের লাকসাম বাজার অংশের সাড়ে ৫ কিলোমিটার, চন্দনা বাজার অংশে ৫০০ মিটার, শানিচো এলাকায় ২ কিলোমিটার এবং বাগমারা বাজারের অংশে ১ কিলোমিটারসহ এই ৯ কিলোমিটারের কাজ বাস্তবায়ন না করেই প্রকল্পের প্রথম ধাপের কাজ সমাপ্ত ঘোষণা করে সড়ক বিভাগ। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন এ মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করে। লাকসাম ও বাগমারা বাজারের অংশের পয়েন্টে দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়। বিশেষ করে ঈদ এলে পরিস্থিতি জটিল রূপ নেয়। নোয়াখালী-কুমিল্লা অঞ্চলের প্রায় ২ কোটি মানুষের চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সড়কের লাকসাম ও বাগমারা বাজার।
লাকসামের বাসিন্দা আবু সাঈদ বলেন, অবিলম্বে লাকসাম বাজার এবং বাগমারা বাজারের বাইরে দিয়ে নতুন অ্যালাইনমেন্টে চার লেনের সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করা হোক এবং এই পথে যাতায়াতকারী লাখ লাখ মানুষকে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে যাতায়াতের ব্যবস্থা করতে মাননীয় সড়ক ও সেতুমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।