নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লা নগরের ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) ছিল পরিবারের অবাধ্য সন্তান। বাবা-মার নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল এই কিশোরী। হুটহটি করে বাসার বাইরে যেতো, মায়ের কথার দাম দিতো না। মুঠোফোনে আসক্তি ছিল তার। মুঠোফোন নিয়েই কাটতো তার বেশির ভাগ সময়। মুঠোফোনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় হয়, ব্রাহ্মণবাড়ির ছেলে রাজু চৌধুরীর সঙ্গে। রাজু চৌধুরীর বয়স ২০। তিনি কক্সবাজারের একটি হোটেলে চাকরি করেন। পরিচয়ের ১৭ দিনের মধ্যে রাজুর কাছে কক্সবাজারে যান। সেখানে হোটেলে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে অন্য নাম ব্যবহার করে দুইদিন থাকেন। এরপর মধ্যরাতে কুমিল্লার নুরজাহান হোটেলের সামনে বাস থেকে নামেন। নগরের রেসকোর্স বাসায় যাওয়ার জন্য ৩০০ টাকা ভাড়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক সুমন মিয়া (৩৫) কে ঠিক করেন। কিন্তু মাদকাসক্ত চালক সুমন মিয়া কৌশলে তাজমিনকে রেসকোর্স না নিয়ে লাকসাম উপজেলার বিজরা বাজার দিয়ে লালমাই উপজেলার জোড়কাননপুর উত্তরপাড়া এলাকার একটি ধানখেতে নিয়ে ধর্ষণ করে, এরপর মাথা চেপে হত্যা করেন। পরবর্তীতে আইফোন নিয়ে পালিয়ে যান। কিন্তু সুমন মিয়া ঘটনাস্থলে সিএনজিচালিত অটোরিকশা রেখে আসেন। এর ক্লু ধরে, নুরজাহান হোটেল এলাকার ভিডিও ফুটেজ ও কক্সবাজারের হোটের ফুটেজ দেখে পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের আদ্যপান্ত বের করে। এখন প্রশ্ন হলো ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে জান্নাতুল তাজমিন বের হয়। কিন্তু কোন বান্ধবীর বাসায় গেল, বান্ধবীর নাম কি, বাসা কোথায় তা এখনও অজানাই থেকে গেলো। সপ্তম শ্রেণির একজন ছাত্রী এভাবে বাসা থেকে বের হয়ে ৪,৫,৬ ও ৭ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত একা একা কারও বাসায় থাকতে পারে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।
কুমিল্লার সমাজ বিশ্লেষকেরা বলেছেন, প্রথমত তাজমিন পারিবারিক অবহেলা ও নিজের উছশৃঙ্খল আচরণের শিকার। দ্বিতীয়ত ১৭ দিনের ফেসবুক পরিচয়ে হোটেলে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক স্থাপন ও পরবর্তীতে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার। তিনটি অপরাধে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের দায় আছে। এর থেকে মুক্তি পেতে হলে সবার আগে পরিবারকে দায়িত্ব নিতে হবে। সন্তান কোন স্কুলে পড়বে, তার সহপাঠী কারা, সন্তানের সঙ্গে কেবল শাসনমূলক আচরণ হয়, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। সময় দিতে হবে। এ ধরণের ধারাবাহিক অপরাধ সমাজের অন্যদের জন্য ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে।
জানা গেছে, রাজু কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে চাকরি করেন। ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের পরিচয় ও সম্পর্কের সূত্রপাত। তবে চার দিন ধরে তাজমিন নিখোঁজ থাকলেও ঠিক কবে সে কক্সবাজারে গিয়েছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জানা গেছে, প্রথমে সে পাশের জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায়। সেখান থেকে কুমিল্লায় ফিরে পরে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় মাকে বলেছিল, বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছে।
কক্সবাজার কক্সে পেনারেমিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর এজেন্সির আবদুল্লাহ বলেন, মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর রাত ৮টার পর তাজমিন তার বন্ধু রাজুকে নিয়ে বাসের টিকিট কাটতে কাউন্টারে আসে। তখন তাদের একজন ছেলে ও একজন মেয়ে হিসেবেই মনে রেখেছিলেন তিনি। অন্য যাত্রীদের মতোই তারা ছিলেন তার কাছে।
আবদুল্লাহর ভাষ্য, রাজু পরদিন বুধবারের জন্য একটি টিকিট কাটে। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে আইকনিক এক্সপ্রেসের বাসটি কক্সবাজার থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। বাসটি ঢাকা পর্যন্ত চলাচল করে। রাতে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডের হোটেল নূরজাহানে এসে পৌঁছায়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে বাস থেকে নেমেছে তাজমিন। এরপর শহরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় ফেরার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে সে।
হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিতে শুরু করেন আবদুল্লাহ। পরে বাসে আসা মেয়েটিকে তাজমিন হিসেবে শনাক্ত করেন। পুলিশ তার কাছে তথ্য চাইতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেই আগে থেকে বিষয়টি মনে রাখার চেষ্টা করেন তিনি।
পরে তিনি জানতে পারেন, তাজমিনের সঙ্গে কক্সবাজারে যাওয়া রাজু হত্যাকাণ্ডে জড়িত নয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত একজনই, সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া। এ তথ্য জানার পর রাজুর বিষয়ে আর খোঁজ নেননি আবদুল্লাহ।
তাজমিনের মা কেয়া খাতুন বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। তখন তাজমিন জানিয়েছিল, সে এক বান্ধবীর সঙ্গে আছে। মেয়েকে সেখান থেকে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন মা। কিন্তু বান্ধবীর নাম এবং তার মা-বাবার পরিচয় জানতে চাইলেও তাজমিন কিছু জানায়নি।
মেয়ের বন্ধুবান্ধব নিয়ে আগে থেকেই উদ্বিগ্ন ছিলেন কেয়া খাতুন। কোনো অঘটন ঘটতে পারে, এমন আশঙ্কায় প্রায় ছয় মাস মেয়েকে স্কুলে যেতে দেননি তিনি। মেয়ের চলাফেরা ও বন্ধুত্বের বিষয়ে খোঁজ রাখতেন, চোখে চোখে রাখার চেষ্টা করতেন।
তাজমিনের শিক্ষক সাদ বিন এরশাদ বলেন, তিনি দীর্ঘদিন তাজমিনকে পড়িয়েছেন। মেয়েটি খুব চঞ্চল স্বভাবের ছিল। ঘরে রাগ হলে তাজমিন হুটহাট বাসা থেকে বের হয়ে যেত।
তাজমিনের বাবা একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। সকালে বাসা থেকে বের হয়ে রাতে ফিরতেন। তবে মেয়েকে খুব আদর করতেন তিনি।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তাজমিনের মা যে বান্ধবীকে সন্দেহ করছেন, বয়সে তিনি তাজমিনের চেয়ে বড়। তবে হত্যাকাণ্ডে ওই বান্ধবী বা তার সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তারা। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাজমিনের অবাধ্য হয়ে ওঠা এবং মোবাইল গেমে আসক্তির বিষয়টিও তদন্তে আলোচনায় এসেছে।
পুলিশ জানায়, বুধবার রাতে কক্সবাজার থেকে আসা বাসে পদুয়ারবাজারের হোটেল নূরজাহানে নেমে রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে তাজমিন। চালক সুমন মিয়া তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে বলে পুলিশের অভিযোগ।
পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার একটি ধানখেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার সুমন মিয়া আদালতে হত্যার দায় স্বীকার কওে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

কুমিল্লা নগরের ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) ছিল পরিবারের অবাধ্য সন্তান। বাবা-মার নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল এই কিশোরী। হুটহটি করে বাসার বাইরে যেতো, মায়ের কথার দাম দিতো না। মুঠোফোনে আসক্তি ছিল তার। মুঠোফোন নিয়েই কাটতো তার বেশির ভাগ সময়। মুঠোফোনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় হয়, ব্রাহ্মণবাড়ির ছেলে রাজু চৌধুরীর সঙ্গে। রাজু চৌধুরীর বয়স ২০। তিনি কক্সবাজারের একটি হোটেলে চাকরি করেন। পরিচয়ের ১৭ দিনের মধ্যে রাজুর কাছে কক্সবাজারে যান। সেখানে হোটেলে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে অন্য নাম ব্যবহার করে দুইদিন থাকেন। এরপর মধ্যরাতে কুমিল্লার নুরজাহান হোটেলের সামনে বাস থেকে নামেন। নগরের রেসকোর্স বাসায় যাওয়ার জন্য ৩০০ টাকা ভাড়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক সুমন মিয়া (৩৫) কে ঠিক করেন। কিন্তু মাদকাসক্ত চালক সুমন মিয়া কৌশলে তাজমিনকে রেসকোর্স না নিয়ে লাকসাম উপজেলার বিজরা বাজার দিয়ে লালমাই উপজেলার জোড়কাননপুর উত্তরপাড়া এলাকার একটি ধানখেতে নিয়ে ধর্ষণ করে, এরপর মাথা চেপে হত্যা করেন। পরবর্তীতে আইফোন নিয়ে পালিয়ে যান। কিন্তু সুমন মিয়া ঘটনাস্থলে সিএনজিচালিত অটোরিকশা রেখে আসেন। এর ক্লু ধরে, নুরজাহান হোটেল এলাকার ভিডিও ফুটেজ ও কক্সবাজারের হোটের ফুটেজ দেখে পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের আদ্যপান্ত বের করে। এখন প্রশ্ন হলো ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে জান্নাতুল তাজমিন বের হয়। কিন্তু কোন বান্ধবীর বাসায় গেল, বান্ধবীর নাম কি, বাসা কোথায় তা এখনও অজানাই থেকে গেলো। সপ্তম শ্রেণির একজন ছাত্রী এভাবে বাসা থেকে বের হয়ে ৪,৫,৬ ও ৭ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত একা একা কারও বাসায় থাকতে পারে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।
কুমিল্লার সমাজ বিশ্লেষকেরা বলেছেন, প্রথমত তাজমিন পারিবারিক অবহেলা ও নিজের উছশৃঙ্খল আচরণের শিকার। দ্বিতীয়ত ১৭ দিনের ফেসবুক পরিচয়ে হোটেলে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক স্থাপন ও পরবর্তীতে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার। তিনটি অপরাধে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের দায় আছে। এর থেকে মুক্তি পেতে হলে সবার আগে পরিবারকে দায়িত্ব নিতে হবে। সন্তান কোন স্কুলে পড়বে, তার সহপাঠী কারা, সন্তানের সঙ্গে কেবল শাসনমূলক আচরণ হয়, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। সময় দিতে হবে। এ ধরণের ধারাবাহিক অপরাধ সমাজের অন্যদের জন্য ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে।
জানা গেছে, রাজু কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে চাকরি করেন। ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের পরিচয় ও সম্পর্কের সূত্রপাত। তবে চার দিন ধরে তাজমিন নিখোঁজ থাকলেও ঠিক কবে সে কক্সবাজারে গিয়েছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জানা গেছে, প্রথমে সে পাশের জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায়। সেখান থেকে কুমিল্লায় ফিরে পরে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় মাকে বলেছিল, বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছে।
কক্সবাজার কক্সে পেনারেমিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর এজেন্সির আবদুল্লাহ বলেন, মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর রাত ৮টার পর তাজমিন তার বন্ধু রাজুকে নিয়ে বাসের টিকিট কাটতে কাউন্টারে আসে। তখন তাদের একজন ছেলে ও একজন মেয়ে হিসেবেই মনে রেখেছিলেন তিনি। অন্য যাত্রীদের মতোই তারা ছিলেন তার কাছে।
আবদুল্লাহর ভাষ্য, রাজু পরদিন বুধবারের জন্য একটি টিকিট কাটে। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে আইকনিক এক্সপ্রেসের বাসটি কক্সবাজার থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। বাসটি ঢাকা পর্যন্ত চলাচল করে। রাতে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডের হোটেল নূরজাহানে এসে পৌঁছায়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে বাস থেকে নেমেছে তাজমিন। এরপর শহরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় ফেরার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে সে।
হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিতে শুরু করেন আবদুল্লাহ। পরে বাসে আসা মেয়েটিকে তাজমিন হিসেবে শনাক্ত করেন। পুলিশ তার কাছে তথ্য চাইতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেই আগে থেকে বিষয়টি মনে রাখার চেষ্টা করেন তিনি।
পরে তিনি জানতে পারেন, তাজমিনের সঙ্গে কক্সবাজারে যাওয়া রাজু হত্যাকাণ্ডে জড়িত নয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত একজনই, সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া। এ তথ্য জানার পর রাজুর বিষয়ে আর খোঁজ নেননি আবদুল্লাহ।
তাজমিনের মা কেয়া খাতুন বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। তখন তাজমিন জানিয়েছিল, সে এক বান্ধবীর সঙ্গে আছে। মেয়েকে সেখান থেকে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন মা। কিন্তু বান্ধবীর নাম এবং তার মা-বাবার পরিচয় জানতে চাইলেও তাজমিন কিছু জানায়নি।
মেয়ের বন্ধুবান্ধব নিয়ে আগে থেকেই উদ্বিগ্ন ছিলেন কেয়া খাতুন। কোনো অঘটন ঘটতে পারে, এমন আশঙ্কায় প্রায় ছয় মাস মেয়েকে স্কুলে যেতে দেননি তিনি। মেয়ের চলাফেরা ও বন্ধুত্বের বিষয়ে খোঁজ রাখতেন, চোখে চোখে রাখার চেষ্টা করতেন।
তাজমিনের শিক্ষক সাদ বিন এরশাদ বলেন, তিনি দীর্ঘদিন তাজমিনকে পড়িয়েছেন। মেয়েটি খুব চঞ্চল স্বভাবের ছিল। ঘরে রাগ হলে তাজমিন হুটহাট বাসা থেকে বের হয়ে যেত।
তাজমিনের বাবা একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। সকালে বাসা থেকে বের হয়ে রাতে ফিরতেন। তবে মেয়েকে খুব আদর করতেন তিনি।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তাজমিনের মা যে বান্ধবীকে সন্দেহ করছেন, বয়সে তিনি তাজমিনের চেয়ে বড়। তবে হত্যাকাণ্ডে ওই বান্ধবী বা তার সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তারা। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাজমিনের অবাধ্য হয়ে ওঠা এবং মোবাইল গেমে আসক্তির বিষয়টিও তদন্তে আলোচনায় এসেছে।
পুলিশ জানায়, বুধবার রাতে কক্সবাজার থেকে আসা বাসে পদুয়ারবাজারের হোটেল নূরজাহানে নেমে রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে তাজমিন। চালক সুমন মিয়া তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে বলে পুলিশের অভিযোগ।
পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার একটি ধানখেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার সুমন মিয়া আদালতে হত্যার দায় স্বীকার কওে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।