সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক

‘শব্দে শব্দে জীবন’- এ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে কুমিল্লায় সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মননের এক ব্যতিক্রমী আয়োজন ‘জোড়া শালিক সাহিত্য আড্ডা’ অতিক্রম করল তার গৌরবোজ্জ্বল শততম পর্ব। দীর্ঘ পথচলার প্রতিটি পদক্ষেপে সাহিত্যপ্রেমী, কবি, লেখক, গবেষক, শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা এই আড্ডা এখন কুমিল্লার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে একটি সুপ্রতিষ্ঠিত ও প্রাণবন্ত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজস্ব পরিচয় তৈরি করেছে।
গতকাল রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট, কুমিল্লা কেন্দ্রে শততম বিশেষ পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ছিল সাহিত্যচর্চার অর্জনকে স্মরণ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের স্বপ্নকে নতুন করে বিনির্মাণের প্রত্যয়।
শততম পর্ব উপলক্ষে প্রকাশিত হয় একটি বিশেষ স্মারক প্রকাশনা। অনুষ্ঠানে স্মারকটির পাঠ উন্মোচন, মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তারা বলেন, সাহিত্য কেবল লেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের চিন্তা, মানবিকতা, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সমাজকে একসূত্রে গেঁথে রাখার শক্তিশালী মাধ্যম। আর সেই দায়িত্ববোধ থেকেই ‘জোড়া শালিক সাহিত্য আড্ডা’ গত প্রায় তিন বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে সাহিত্যচর্চার এক উন্মুক্ত পরিসর তৈরি করে চলেছে।

অনুষ্ঠানে মূল্যায়নমূলক বক্তব্য রাখেন নাট্যব্যক্তিত্ব হাসিম আপ্পু, লেখক শান্তিরঞ্জন ভৌমিক, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ, লেখক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, সচেতন রাজনৈতিক ফোরাম, কুমিল্লার প্রধান সমন্বয়ক শাহ মো. সেলিম, নজরুল গবেষক ড. আলী হোসেন চৌধুরী, , শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক মো. জামাল নাসের, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এস এস খায়রুল আলম খসরু, অধ্যাপক শ্যামা প্রসাদ ভট্টাচার্য, এডভোকেট গোলাম ফারুক, কবি ও কথাশিল্পী ড. আবুল বাসার, এডভোকেট মো. মাহাবুবুর রহমান, বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক ও আবৃত্তিশিল্পী রীতা সরকার, রোকসানা ইয়াসমিন মণি, আবৃত্তিশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কাজী মাহতাব সুমন, বহুমাত্রিক লেখক আহাম্মেদ কবীর, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, কুমিল্লা জেলা সংসদের সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ, ডা. ইকবাল আনোয়ার, এডভোকেট স্বর্ণকমল নন্দী পলাশ, পীযুষ কুমার ভট্টাচার্য্য, বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রীতা চক্রবর্তী, জাহাঙ্গীর আলম খাঁনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজন।
বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে যখন মানুষের পাঠাভ্যাস ও মননচর্চা নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন নিয়মিত সাহিত্য আড্ডা আয়োজন করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা ‘জোড়া শালিক সাহিত্য আড্ডা’র এই নিরলস প্রয়াসের ভ‚য়সী প্রশংসা করেন এবং আগামী দিনে এ আয়োজন আরও বিস্তৃত পরিসরে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল আন্তরিকতা, সৌহার্দ্য এবং অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ। এখানে ছিল না কোনো প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি কিংবা সভাপতি। সবাই ছিলেন সমান মর্যাদার অংশগ্রহণকারী, সমান দায়িত্বের আয়োজক। এই ব্যতিক্রমী দর্শনের কথা তুলে ধরে ‘জোড়া শালিক সাহিত্য আড্ডা’র কর্ণধার হালিম আব্দুল্লাহ বলেন, জোড়া শালিক সাহিত্য আড্ডায় কোনো ব্যক্তি বড় নয়, এখানে সাহিত্যই সবচেয়ে বড়। আমরা বিশ্বাস করিÑযিনি অংশগ্রহণ করেন, তিনিই এই আয়োজনের একজন আয়োজক। এই আড্ডা মানুষের, মননের এবং মুক্ত চিন্তার।

তিনি আরও বলেন, এই শততম পর্ব কোনো সমাপ্তি নয়; বরং এটি নতুন শতকের যাত্রার সূচনা। সাহিত্য, ইতিহাস, দর্শন, লোকজ সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধ, শিল্প, সমাজ ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানটি দক্ষতার সঙ্গে সঞ্চালনা করেন হালিম আব্দুল্লাহ। এ সময় কুমিল্লার বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, কবি, লেখক, শিক্ষক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, আবৃত্তিশিল্পী, নাট্যকর্মী, শিক্ষার্থী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ, ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার) ‘জোড়া শালিক সাহিত্য আড্ডা’র প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী পর্বের আলোচ্য বিষয় ছিল ‘বাঙালিশ্রেষ্ঠ লালনের জীবন ও দর্শন’। এরপর থেকে নিয়মিতভাবে বাংলা সাহিত্য, দর্শন, ইতিহাস, সংস্কৃতি, লোকঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধ, কবিতা, গল্প, সংগীত, নাটক ও সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে ধারাবাহিক আড্ডার আয়োজন করে আসছে সংগঠনটি।
শততম বিশেষ পর্বে প্রকাশিত স্মারক, অতীতের ৯৯টি আড্ডার মূল্যায়ন এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা যেন কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং কুমিল্লার সাহিত্য-সংস্কৃতির ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হয়ে রইল।

‘শব্দে শব্দে জীবন’- এ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে কুমিল্লায় সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মননের এক ব্যতিক্রমী আয়োজন ‘জোড়া শালিক সাহিত্য আড্ডা’ অতিক্রম করল তার গৌরবোজ্জ্বল শততম পর্ব। দীর্ঘ পথচলার প্রতিটি পদক্ষেপে সাহিত্যপ্রেমী, কবি, লেখক, গবেষক, শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা এই আড্ডা এখন কুমিল্লার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে একটি সুপ্রতিষ্ঠিত ও প্রাণবন্ত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজস্ব পরিচয় তৈরি করেছে।
গতকাল রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট, কুমিল্লা কেন্দ্রে শততম বিশেষ পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ছিল সাহিত্যচর্চার অর্জনকে স্মরণ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের স্বপ্নকে নতুন করে বিনির্মাণের প্রত্যয়।
শততম পর্ব উপলক্ষে প্রকাশিত হয় একটি বিশেষ স্মারক প্রকাশনা। অনুষ্ঠানে স্মারকটির পাঠ উন্মোচন, মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তারা বলেন, সাহিত্য কেবল লেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের চিন্তা, মানবিকতা, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সমাজকে একসূত্রে গেঁথে রাখার শক্তিশালী মাধ্যম। আর সেই দায়িত্ববোধ থেকেই ‘জোড়া শালিক সাহিত্য আড্ডা’ গত প্রায় তিন বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে সাহিত্যচর্চার এক উন্মুক্ত পরিসর তৈরি করে চলেছে।

অনুষ্ঠানে মূল্যায়নমূলক বক্তব্য রাখেন নাট্যব্যক্তিত্ব হাসিম আপ্পু, লেখক শান্তিরঞ্জন ভৌমিক, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ, লেখক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, সচেতন রাজনৈতিক ফোরাম, কুমিল্লার প্রধান সমন্বয়ক শাহ মো. সেলিম, নজরুল গবেষক ড. আলী হোসেন চৌধুরী, , শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক মো. জামাল নাসের, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এস এস খায়রুল আলম খসরু, অধ্যাপক শ্যামা প্রসাদ ভট্টাচার্য, এডভোকেট গোলাম ফারুক, কবি ও কথাশিল্পী ড. আবুল বাসার, এডভোকেট মো. মাহাবুবুর রহমান, বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক ও আবৃত্তিশিল্পী রীতা সরকার, রোকসানা ইয়াসমিন মণি, আবৃত্তিশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কাজী মাহতাব সুমন, বহুমাত্রিক লেখক আহাম্মেদ কবীর, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, কুমিল্লা জেলা সংসদের সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ, ডা. ইকবাল আনোয়ার, এডভোকেট স্বর্ণকমল নন্দী পলাশ, পীযুষ কুমার ভট্টাচার্য্য, বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রীতা চক্রবর্তী, জাহাঙ্গীর আলম খাঁনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজন।
বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে যখন মানুষের পাঠাভ্যাস ও মননচর্চা নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন নিয়মিত সাহিত্য আড্ডা আয়োজন করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা ‘জোড়া শালিক সাহিত্য আড্ডা’র এই নিরলস প্রয়াসের ভ‚য়সী প্রশংসা করেন এবং আগামী দিনে এ আয়োজন আরও বিস্তৃত পরিসরে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল আন্তরিকতা, সৌহার্দ্য এবং অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ। এখানে ছিল না কোনো প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি কিংবা সভাপতি। সবাই ছিলেন সমান মর্যাদার অংশগ্রহণকারী, সমান দায়িত্বের আয়োজক। এই ব্যতিক্রমী দর্শনের কথা তুলে ধরে ‘জোড়া শালিক সাহিত্য আড্ডা’র কর্ণধার হালিম আব্দুল্লাহ বলেন, জোড়া শালিক সাহিত্য আড্ডায় কোনো ব্যক্তি বড় নয়, এখানে সাহিত্যই সবচেয়ে বড়। আমরা বিশ্বাস করিÑযিনি অংশগ্রহণ করেন, তিনিই এই আয়োজনের একজন আয়োজক। এই আড্ডা মানুষের, মননের এবং মুক্ত চিন্তার।

তিনি আরও বলেন, এই শততম পর্ব কোনো সমাপ্তি নয়; বরং এটি নতুন শতকের যাত্রার সূচনা। সাহিত্য, ইতিহাস, দর্শন, লোকজ সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধ, শিল্প, সমাজ ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানটি দক্ষতার সঙ্গে সঞ্চালনা করেন হালিম আব্দুল্লাহ। এ সময় কুমিল্লার বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, কবি, লেখক, শিক্ষক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, আবৃত্তিশিল্পী, নাট্যকর্মী, শিক্ষার্থী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ, ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার) ‘জোড়া শালিক সাহিত্য আড্ডা’র প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী পর্বের আলোচ্য বিষয় ছিল ‘বাঙালিশ্রেষ্ঠ লালনের জীবন ও দর্শন’। এরপর থেকে নিয়মিতভাবে বাংলা সাহিত্য, দর্শন, ইতিহাস, সংস্কৃতি, লোকঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধ, কবিতা, গল্প, সংগীত, নাটক ও সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে ধারাবাহিক আড্ডার আয়োজন করে আসছে সংগঠনটি।
শততম বিশেষ পর্বে প্রকাশিত স্মারক, অতীতের ৯৯টি আড্ডার মূল্যায়ন এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা যেন কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং কুমিল্লার সাহিত্য-সংস্কৃতির ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হয়ে রইল।