নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রসংসদের সাবেক জিএস ( সাধারণ সম্পাদক) কুমিল্লা শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি, মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এডভোকেট রুস্তম আলী আর নেই ( ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)।
আজ বুধবার সকাল ছয়টা ৫ মিনিটে তিনি নগরের কান্দিরপাড় নজরুল অ্যাভিনিউ এলাকার নিজ বাসায় মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি স্ত্রী ও একমাত্র মেয়ে রেখে গেছেন।
আজ বুধবার বেলা ১১ টায় কুমিল্লার আদালত প্রাঙ্গণে তাঁর প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ছাড়াও বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বাদ জোহর তাঁর দীর্ঘদিনের আন্দোলনের চিরচেনা জায়গা টাউন হল মাঠে দ্বিতীয় জানাযা ও বিকেলে তৃতীয় জানাযা হবে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার শিলমুড়ি গ্রামে। এরপর তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।

এডভোকেট রুস্তম আলী ১৯৭০-১৯৭১ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রসংসদে ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে জিএস নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে নাজমুল হাসান পাখী ভিপি ও রুস্তম আলী জিএস নির্বাচিত হন। পাখী- রুস্তম পরিষদ তখন প্রচারণায় ছাত্র ইউনিয়ন থেকে কিছুটা পিছিয়ে ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ওই নির্বাচনে কুমিল্লায় এসে পাখী-রুস্তমের জন্য ভোট চেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, পাখী- রুস্তম আমার ছেলে। ওদের তোমরা ভোট দাও। বিজয়ী করো। রুস্তম আলী একজন দক্ষ সংগঠক ছিলেন ।
জানা গেছে, তিনি রাজনীতির বাইরে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও তিনি কাজ করেছেন। নজরুল পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। শিলমুড়ি রাজ রাজশ্বেরী উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। তিনি ১৯৮৯-১৯৯০ সালে বরুড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়ে সামান্য ভোটের ব্যবধানে আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী অধ্যাপক নূরুল ইসলাম মিলনের কাছে পরাজিত হন।
তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বরুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন লিংকন। এদিকে তাঁর মৃত্যুতে নজরুল অ্যাভিনিউ এলাকার রাজ্জাক ম্যানশনের সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দোকানপাট আজ বন্ধ রয়েছে। তিনি নজরুল অ্যাভিনিউ এলাকার আবদুর রাজ্জাক মজুমদারের ছেলে। ইউনিভার্সিটি ক্লাব তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। ইউনিভার্সিটি ক্লাব লিমিটেডের চেয়ারম্যান শাহ মো. সেলিম গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
কুমিল্লার ইতিহাসবিদ আহসানুল কবীর বলেন, তিনি বৃহত্তর কুমিল্লা জেলা ( কুমিল্লা, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া) ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। কুমিল্লা টাউন হলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬৬ সালে তিনি কুমিল্লা ইউসুফ হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। এরপর তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে এইচএসসি ও ডিগ্রিতে অধ্যয়ন করেন। পরে তিনি আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন। ১৯৮১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তিনি কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতিতে যোগদান করেন। আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে ও বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তিনি অসামান্য অবদান রাখেন। তিনি মুজিববাহিনীর সম্মুখযোদ্ধা ছিলেন। স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে এই বীর সেনানী রাজপথে লড়াই করেছেন। তিনি আপাদমস্তক একজন ভদ্র লোক ছিলেন। সুদর্শন এই রাজনীতিবিদকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রজন্ম মনে রাখবে।

কুমিল্লাস্থ বরুড়া উপজেলা উন্নয়ন সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গাজীউল হক সোহাগ বলেন, ১৯৮৯-৯০ সাল থেকে তাঁকে আমি চিনি। তখন তিনি বরুড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আনারস মার্কা নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচন করেছিলেন। আমি তখন নিম্নে মাধ্যমিকে পড়ি। সাদা ধবধবে পাঞ্জাবি পরে সুদর্শন রুস্তম ভাই আমাদের স্কুলে এলেন। ক্লাস রুমে ঢুকলেন। দোয়া চাইলেন। আমাদের কেন্দ্রে তিনি ৬ ভোটে জিতেছিলেন। তিনি পেয়েছিলেন ২৩৬ ভোট , নুরুল ইসলাম মিলন পেয়েছিলেন ২৩০ ভোট। কুমিল্লায় কর্মজীবনে এসে তাঁর সাহচর্য ও সান্নিধ্য পেয়েছি। তিনি কুমিল্লায় আওয়ামী লীগের উত্থান পতনের গল্প শোনাতেন। ছিলেন মৃদুভাষী। অহেতুক কথা বলতেন না। তাঁর হাসি এখনও অমলিন। একবার আমাকে বললেন, একজনকে আমার স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেব, শুনলাম তোমার পরিচিত। তুমি খোঁজ নিয়ে জানাও। আমি বললাম ,আপনার সিদ্ধান্ত সঠিক। এমন বিনয়ী নেতা, মানুষ আজকাল খুব কমই মেলে।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রসংসদের সাবেক জিএস ( সাধারণ সম্পাদক) কুমিল্লা শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি, মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এডভোকেট রুস্তম আলী আর নেই ( ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)।
আজ বুধবার সকাল ছয়টা ৫ মিনিটে তিনি নগরের কান্দিরপাড় নজরুল অ্যাভিনিউ এলাকার নিজ বাসায় মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি স্ত্রী ও একমাত্র মেয়ে রেখে গেছেন।
আজ বুধবার বেলা ১১ টায় কুমিল্লার আদালত প্রাঙ্গণে তাঁর প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ছাড়াও বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বাদ জোহর তাঁর দীর্ঘদিনের আন্দোলনের চিরচেনা জায়গা টাউন হল মাঠে দ্বিতীয় জানাযা ও বিকেলে তৃতীয় জানাযা হবে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার শিলমুড়ি গ্রামে। এরপর তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।

এডভোকেট রুস্তম আলী ১৯৭০-১৯৭১ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রসংসদে ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে জিএস নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে নাজমুল হাসান পাখী ভিপি ও রুস্তম আলী জিএস নির্বাচিত হন। পাখী- রুস্তম পরিষদ তখন প্রচারণায় ছাত্র ইউনিয়ন থেকে কিছুটা পিছিয়ে ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ওই নির্বাচনে কুমিল্লায় এসে পাখী-রুস্তমের জন্য ভোট চেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, পাখী- রুস্তম আমার ছেলে। ওদের তোমরা ভোট দাও। বিজয়ী করো। রুস্তম আলী একজন দক্ষ সংগঠক ছিলেন ।
জানা গেছে, তিনি রাজনীতির বাইরে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও তিনি কাজ করেছেন। নজরুল পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। শিলমুড়ি রাজ রাজশ্বেরী উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। তিনি ১৯৮৯-১৯৯০ সালে বরুড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়ে সামান্য ভোটের ব্যবধানে আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী অধ্যাপক নূরুল ইসলাম মিলনের কাছে পরাজিত হন।
তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বরুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন লিংকন। এদিকে তাঁর মৃত্যুতে নজরুল অ্যাভিনিউ এলাকার রাজ্জাক ম্যানশনের সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দোকানপাট আজ বন্ধ রয়েছে। তিনি নজরুল অ্যাভিনিউ এলাকার আবদুর রাজ্জাক মজুমদারের ছেলে। ইউনিভার্সিটি ক্লাব তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। ইউনিভার্সিটি ক্লাব লিমিটেডের চেয়ারম্যান শাহ মো. সেলিম গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
কুমিল্লার ইতিহাসবিদ আহসানুল কবীর বলেন, তিনি বৃহত্তর কুমিল্লা জেলা ( কুমিল্লা, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া) ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। কুমিল্লা টাউন হলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬৬ সালে তিনি কুমিল্লা ইউসুফ হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। এরপর তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে এইচএসসি ও ডিগ্রিতে অধ্যয়ন করেন। পরে তিনি আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন। ১৯৮১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তিনি কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতিতে যোগদান করেন। আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে ও বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তিনি অসামান্য অবদান রাখেন। তিনি মুজিববাহিনীর সম্মুখযোদ্ধা ছিলেন। স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে এই বীর সেনানী রাজপথে লড়াই করেছেন। তিনি আপাদমস্তক একজন ভদ্র লোক ছিলেন। সুদর্শন এই রাজনীতিবিদকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রজন্ম মনে রাখবে।

কুমিল্লাস্থ বরুড়া উপজেলা উন্নয়ন সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গাজীউল হক সোহাগ বলেন, ১৯৮৯-৯০ সাল থেকে তাঁকে আমি চিনি। তখন তিনি বরুড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আনারস মার্কা নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচন করেছিলেন। আমি তখন নিম্নে মাধ্যমিকে পড়ি। সাদা ধবধবে পাঞ্জাবি পরে সুদর্শন রুস্তম ভাই আমাদের স্কুলে এলেন। ক্লাস রুমে ঢুকলেন। দোয়া চাইলেন। আমাদের কেন্দ্রে তিনি ৬ ভোটে জিতেছিলেন। তিনি পেয়েছিলেন ২৩৬ ভোট , নুরুল ইসলাম মিলন পেয়েছিলেন ২৩০ ভোট। কুমিল্লায় কর্মজীবনে এসে তাঁর সাহচর্য ও সান্নিধ্য পেয়েছি। তিনি কুমিল্লায় আওয়ামী লীগের উত্থান পতনের গল্প শোনাতেন। ছিলেন মৃদুভাষী। অহেতুক কথা বলতেন না। তাঁর হাসি এখনও অমলিন। একবার আমাকে বললেন, একজনকে আমার স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেব, শুনলাম তোমার পরিচিত। তুমি খোঁজ নিয়ে জানাও। আমি বললাম ,আপনার সিদ্ধান্ত সঠিক। এমন বিনয়ী নেতা, মানুষ আজকাল খুব কমই মেলে।