বিধবাকে ধর্ষণ ও ভ্রুণ নষ্টের মামলায় গ্রেপ্তার
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান মিয়া প্রধান কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছেন। বিধবাকে ধর্ষণ ও ভ্রুণ নষ্টের মামলায় তিনি পুলিশি পাহারায় হাসপাতালে শুয়ে আছেন।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, জিসান সুস্থ আছেন। কিন্তু নিজেকে অসুস্থ দাবি করে জিসান হাসপাতালে থাকতেই স্বাচ্ছন্দবোধ করেন।
জিসানের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, নিরাপত্তার কারণে হাসপাতাল থেকে বের হতে চান না তিনি। যেকোনো মহল তাঁর উপর হামলা চালাতে পারে। তার উপর ছাত্রশিবির তাঁকে বহিষ্কার করায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, হাসপাতাল থেকে রিলিজ না দেওয়ার কারণে তাঁকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হচ্ছে না।
পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, মামলার বাদী ভুক্তভোগী নারীকে বিয়ে করা এড়াতে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন জিসান। পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে থাকা অবস্থায় ওই নারীর করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শুরুতে হাসপাতালে এসে জিসান পুলিশের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছেন। কিন্তু যখনই শুনেছেন, তাঁকে ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, তখন থেকে তিনি চোখ খুলছেন না।
এদিকে ছাত্রশিবির নেতা জিসান মিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, মেডিকেল বোর্ডের প্রধান করা হয়েছে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানকে। অপর তিন ব্যক্তি হলেন হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া বিভাগ, নিউরো মেডিসিন বিভাগ ও মনোরোগবিদ্যা বিভাগের চিকিৎসক।
ডা. মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, আগামীকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকেরা জিসান মিয়ার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাঁদের মতামত জানাবেন। তিনি সুস্থ হয়েও অসুস্থতার অভিনয় করলে তাঁকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে। আর অসুস্থ হলে তাঁকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত করা সব পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তাঁর কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। এদিকে ভুক্তভোগী নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি জানান।
কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে ‘নিখোঁজ’ হওয়ার এক দিন পর গত শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকায় ‘অচেতন’ অবস্থায় জিসানকে উদ্ধারের দাবি করে পরিবার। পরে ওই দিন রাতেই চিকিৎসার জন্য তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি। তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন।
এদিকে জিসানকে উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর শুক্রবার রাতে এক নারী বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধারায় করা মামলাটিতে মোট আসামি করা হয়েছে চারজনকে। মামলায় ওই নারীকে একাধিকার ধর্ষণ ও ভ্রুণ নষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে।
জিসান ছাড়াও মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অপর তিন আসামি হলেন সেকান্দর আলী (২৪), গোলাম রাব্বী (২৬) ও সজীব হাসান (২১)। তাঁদের সবার বাড়ি দাউদকান্দিতে। তাঁরা ছাত্রশিবিরের নেতা জিসানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। গতকাল শনিবার বিকেলে তাঁদের কুমিল্লার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু গ্রেপ্তার দেখানো হলেও জিসান নিজেকে অসুস্থ দাবি করায় তাঁকে এখনো আদালতে হাজির করা হয়নি। দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আ. বারী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি শামসুল আলম শাহ বলেন, ‘শুক্রবার রাতে যখন লাকসাম থেকে জিসান মিয়াকে হাসপাতালে আনা হয়, তখন তিনি স্বাভাবিকভাবে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু যখনই খবর পেয়েছেন তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বা তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, তখন থেকেই তিনি নিজেকে অসুস্থ দেখাচ্ছেন। বর্তমানে অবস্থাটা এমন হয়েছে যে জিসান চোখই খুলছেন না।’ ভুক্তভোগী নারীকে বিয়ে করা এড়াতে জিসান অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন বলে তাঁর দাবি।
পুলিশ সূত্র জানায়, ১১ জুন রাতে জিসান নিখোঁজ হয়েছেন জানিয়ে তাঁর চাচাতো ভাই রাসেল আহম্মেদ দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির পর জেলা পুলিশের একাধিক দল তাঁকে উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে। অনুসন্ধানকালে পুলিশ জানতে পারে, কয়েক মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক বিধবা নারীর (২৫) সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয় এবং তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমের সম্পর্কের জেরে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর জিসান ওই নারীকে ভ্রুণ নষ্ট করার জন্য চাপ দেন এবং একপর্যায়ে ওষুধ সেবনের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটানো হয়। পরে ওই তরুণী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি ১২ জুন বিয়ে করবেন বলে সম্মতি দেন। তবে বিয়ে এড়াতে ১১ জুন রাতেই তিনি নাটক সাজিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। নিখোঁজের অনুসন্ধান চলাকালে গত শুক্রবার রাতে লাকসাম এলাকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়।

ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান মিয়া প্রধান কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছেন। বিধবাকে ধর্ষণ ও ভ্রুণ নষ্টের মামলায় তিনি পুলিশি পাহারায় হাসপাতালে শুয়ে আছেন।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, জিসান সুস্থ আছেন। কিন্তু নিজেকে অসুস্থ দাবি করে জিসান হাসপাতালে থাকতেই স্বাচ্ছন্দবোধ করেন।
জিসানের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, নিরাপত্তার কারণে হাসপাতাল থেকে বের হতে চান না তিনি। যেকোনো মহল তাঁর উপর হামলা চালাতে পারে। তার উপর ছাত্রশিবির তাঁকে বহিষ্কার করায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, হাসপাতাল থেকে রিলিজ না দেওয়ার কারণে তাঁকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হচ্ছে না।
পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, মামলার বাদী ভুক্তভোগী নারীকে বিয়ে করা এড়াতে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন জিসান। পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে থাকা অবস্থায় ওই নারীর করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শুরুতে হাসপাতালে এসে জিসান পুলিশের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছেন। কিন্তু যখনই শুনেছেন, তাঁকে ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, তখন থেকে তিনি চোখ খুলছেন না।
এদিকে ছাত্রশিবির নেতা জিসান মিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, মেডিকেল বোর্ডের প্রধান করা হয়েছে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানকে। অপর তিন ব্যক্তি হলেন হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া বিভাগ, নিউরো মেডিসিন বিভাগ ও মনোরোগবিদ্যা বিভাগের চিকিৎসক।
ডা. মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, আগামীকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকেরা জিসান মিয়ার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাঁদের মতামত জানাবেন। তিনি সুস্থ হয়েও অসুস্থতার অভিনয় করলে তাঁকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে। আর অসুস্থ হলে তাঁকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত করা সব পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তাঁর কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। এদিকে ভুক্তভোগী নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি জানান।
কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে ‘নিখোঁজ’ হওয়ার এক দিন পর গত শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকায় ‘অচেতন’ অবস্থায় জিসানকে উদ্ধারের দাবি করে পরিবার। পরে ওই দিন রাতেই চিকিৎসার জন্য তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি। তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন।
এদিকে জিসানকে উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর শুক্রবার রাতে এক নারী বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধারায় করা মামলাটিতে মোট আসামি করা হয়েছে চারজনকে। মামলায় ওই নারীকে একাধিকার ধর্ষণ ও ভ্রুণ নষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে।
জিসান ছাড়াও মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অপর তিন আসামি হলেন সেকান্দর আলী (২৪), গোলাম রাব্বী (২৬) ও সজীব হাসান (২১)। তাঁদের সবার বাড়ি দাউদকান্দিতে। তাঁরা ছাত্রশিবিরের নেতা জিসানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। গতকাল শনিবার বিকেলে তাঁদের কুমিল্লার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু গ্রেপ্তার দেখানো হলেও জিসান নিজেকে অসুস্থ দাবি করায় তাঁকে এখনো আদালতে হাজির করা হয়নি। দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আ. বারী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি শামসুল আলম শাহ বলেন, ‘শুক্রবার রাতে যখন লাকসাম থেকে জিসান মিয়াকে হাসপাতালে আনা হয়, তখন তিনি স্বাভাবিকভাবে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু যখনই খবর পেয়েছেন তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বা তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, তখন থেকেই তিনি নিজেকে অসুস্থ দেখাচ্ছেন। বর্তমানে অবস্থাটা এমন হয়েছে যে জিসান চোখই খুলছেন না।’ ভুক্তভোগী নারীকে বিয়ে করা এড়াতে জিসান অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন বলে তাঁর দাবি।
পুলিশ সূত্র জানায়, ১১ জুন রাতে জিসান নিখোঁজ হয়েছেন জানিয়ে তাঁর চাচাতো ভাই রাসেল আহম্মেদ দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির পর জেলা পুলিশের একাধিক দল তাঁকে উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে। অনুসন্ধানকালে পুলিশ জানতে পারে, কয়েক মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক বিধবা নারীর (২৫) সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয় এবং তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমের সম্পর্কের জেরে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর জিসান ওই নারীকে ভ্রুণ নষ্ট করার জন্য চাপ দেন এবং একপর্যায়ে ওষুধ সেবনের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটানো হয়। পরে ওই তরুণী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি ১২ জুন বিয়ে করবেন বলে সম্মতি দেন। তবে বিয়ে এড়াতে ১১ জুন রাতেই তিনি নাটক সাজিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। নিখোঁজের অনুসন্ধান চলাকালে গত শুক্রবার রাতে লাকসাম এলাকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়।