বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা
সাইফুল ইসলাম, দাউদকান্দি

দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকামুখী লেনের বিভিন্ন অংশে অল্প দূরত্ব পরপর গর্ত থাকায় প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো যাত্রী ও চালক। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব গর্তের স্থায়ী সংস্কার না হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, চান্দিনা থেকে দাউদকান্দি পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্ত রয়েছে। অনেক গর্ত দূর থেকে সহজে চোখে পড়ে না। ফলে মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহনের চালকেরা হঠাৎ গর্তে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন। ভারী যানবাহনের ক্ষেত্রেও গর্তে চাকা পড়ায় নিয়ন্ত্রণে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি প্রাণহানির আশঙ্কাও বাড়ছে।
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও নিয়মিত মোটরসাইকেলচালক হাফিজুল ইসলাম বলেন, চাকরির কারণে প্রতিদিন এই মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াত করি। বিশেষ করে ঢাকামুখী লেনের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট গর্ত রয়েছে। দূর থেকে এগুলো বোঝা যায় না। হঠাৎ গর্তে চাকা পড়লে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া এলাকায় মহাসড়কের একটি গর্তে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আমার এক বন্ধু গুরুতর আহত হন। পরে তার অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে।
ঢাকামুখী একটি কাভার্ড ভ্যানের চালক রুস্তম আলী বলেন, চলন্ত গাড়ির চাকা গর্তে পড়লে অনেক সময় গাড়ির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে এবং যানবাহনেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়।
সংবাদকর্মী আহনাফ তিহামী বলেন, গত ২১ জুলাই দাউদকান্দির হাসানপুর কলেজের সামনে মহাসড়কের একটি গর্তে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আমি, সাংবাদিক রাজিব ও সাংবাদিক মেহেদী আহত হই। মহান আল্লাহর রহমতে বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাই। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরার পরদিন দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশের কয়েকটি গর্ত মেরামত করতে দেখা যায়।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) দাউদকান্দি শাখার সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, মহাসড়কের এসব গর্ত দীর্ঘদিন ধরে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, মোটরসাইকেল ও মালবাহী যানবাহন চলাচলে চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি আমরা সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরকে জানিয়েছি। তারা জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টির কারণে পূর্ণাঙ্গ সংস্কারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টি কমলে কাজ শুরু হবে।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রেমদাস রায় বলেন, দাউদকান্দি অংশে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্ট গর্তের বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাদের অবহিত করেছি।
গৌরীপুর সাব-ডিভিশন, সড়ক ও জনপথের (সওজ) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিয়মিত সংস্কারকাজ চলছে। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন স্থানে দ্রুত নতুন গর্ত সৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো মেরামত করা হবে। আশা করছি, কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রাণরেখা হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। তাই সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দ্রুত ও টেকসইভাবে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন চালক, যাত্রী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং সড়ক নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকামুখী লেনের বিভিন্ন অংশে অল্প দূরত্ব পরপর গর্ত থাকায় প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো যাত্রী ও চালক। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব গর্তের স্থায়ী সংস্কার না হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, চান্দিনা থেকে দাউদকান্দি পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্ত রয়েছে। অনেক গর্ত দূর থেকে সহজে চোখে পড়ে না। ফলে মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহনের চালকেরা হঠাৎ গর্তে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন। ভারী যানবাহনের ক্ষেত্রেও গর্তে চাকা পড়ায় নিয়ন্ত্রণে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি প্রাণহানির আশঙ্কাও বাড়ছে।
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও নিয়মিত মোটরসাইকেলচালক হাফিজুল ইসলাম বলেন, চাকরির কারণে প্রতিদিন এই মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াত করি। বিশেষ করে ঢাকামুখী লেনের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট গর্ত রয়েছে। দূর থেকে এগুলো বোঝা যায় না। হঠাৎ গর্তে চাকা পড়লে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া এলাকায় মহাসড়কের একটি গর্তে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আমার এক বন্ধু গুরুতর আহত হন। পরে তার অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে।
ঢাকামুখী একটি কাভার্ড ভ্যানের চালক রুস্তম আলী বলেন, চলন্ত গাড়ির চাকা গর্তে পড়লে অনেক সময় গাড়ির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে এবং যানবাহনেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়।
সংবাদকর্মী আহনাফ তিহামী বলেন, গত ২১ জুলাই দাউদকান্দির হাসানপুর কলেজের সামনে মহাসড়কের একটি গর্তে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আমি, সাংবাদিক রাজিব ও সাংবাদিক মেহেদী আহত হই। মহান আল্লাহর রহমতে বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাই। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরার পরদিন দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশের কয়েকটি গর্ত মেরামত করতে দেখা যায়।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) দাউদকান্দি শাখার সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, মহাসড়কের এসব গর্ত দীর্ঘদিন ধরে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, মোটরসাইকেল ও মালবাহী যানবাহন চলাচলে চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি আমরা সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরকে জানিয়েছি। তারা জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টির কারণে পূর্ণাঙ্গ সংস্কারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টি কমলে কাজ শুরু হবে।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রেমদাস রায় বলেন, দাউদকান্দি অংশে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্ট গর্তের বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাদের অবহিত করেছি।
গৌরীপুর সাব-ডিভিশন, সড়ক ও জনপথের (সওজ) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিয়মিত সংস্কারকাজ চলছে। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন স্থানে দ্রুত নতুন গর্ত সৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো মেরামত করা হবে। আশা করছি, কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রাণরেখা হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। তাই সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দ্রুত ও টেকসইভাবে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন চালক, যাত্রী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং সড়ক নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।