দেবীদ্বারে গলায় ফাঁস বিউটি পার্লার কর্মীর

দেবীদ্বার প্রতিনিধি
আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩: ৫৭
Thumbnail image

দেবীদ্বারে প্রেমিকের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর নাদিয়া নামে এক বিউটি পার্লার কর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত সোমবার দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদ গেটসংলগ্ন এস.এ. সরকারি কলেজ রোডের মানিক মিয়ার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ওমেন্স পারসোনা বিউটি পার্লারে এ ঘটনা ঘটে।

তাহারিয়া তাবাসসুম নাদিয়া (১৯) দেবীদ্বার উপজেলার ৯ নম্বর গুনাইঘর ইউনিয়নের ধলাহাস গ্রামের ফজর আলী সরকার বাড়ির বাসিন্দা সফিকুল ইসলামের মেয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাদিয়া জাফরগঞ্জ মীর আবদুল গফুর ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনার পাশাপাশি দেড় বছর ধরে ওই বিউটি পার্লারে কাজ শিখছিলেন। প্রতিদিনের মতো সোমবার রাতেও কাজ শেষে পার্লারের মালিক ও অন্যান্য কর্মীরা ঘুমাতে যান।

রাত সাড়ে ১২টার দিকে সৌদি আরবপ্রবাসী কাউছার নামের এক যুবক পার্লারের আরেক কর্মী শাহিনুর ইসলামকে ফোন করে নাদিয়ার খোঁজ নিতে বলেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় শাহিনুর নাদিয়ার কক্ষে গিয়ে তাকে না পেয়ে পার্লারের বারান্দায় যান। সেখানে গিয়ে বারান্দার দরজা বাইরে থেকে বন্ধ দেখতে পান।

পরে পার্লারের মালিক উজ্জ্বল কুমার পালের স্ত্রী সীমা রানী পাল ও বাড়ির মালিক মানিক চন্দ্র পালকে বিষয়টি জানানো হয়। মানিক চন্দ্র পাল একটি রেঞ্চ এনে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে বারান্দার গ্রিলের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় নাদিয়াকে দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ভোর রাতে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

ওমেন্স পারসোনা বিউটি পার্লারের স্বত্বাধিকারী সীমা রানী পাল জানান, নাদিয়া প্রায়ই ফোনে কথা বলত, তবে বিষয়টি তাঁর ব্যক্তিগত হওয়ায় তাঁরা এ নিয়ে কখনো প্রশ্ন করেননি। ধারণা করা হচ্ছে, সৌদি প্রবাসী ওই যুবকের সঙ্গে নাদিয়ার কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে তারা লাশ উদ্ধার করে।

নাদিয়ার বাবা সফিকুল ইসলাম বলেন, আমি ঢাকার একটি হোটেলে চাকরি করি। সকালে মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে থানায় এসেছি। কী কারণে আমার মেয়ে আত্মহত্যা করলো, তা এখনো জানতে পারিনি।

নাদিয়ার মা তাছলিমা বেগম বলেন, তাঁর মেয়ের কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। অনেকদিন আগে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে মানসিকভাবে কিছুটা বদমেজাজি হয়ে পড়েছিল। সে কারণেই হয়তো এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন। সোমবার বিকেলে বাড়ি থেকে সে কর্মস্থলে এসেছিল।

এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় এখনো পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত