কামরুজ্জামান কামরুন

কাদেরকে প্রথম দেখি হলের বারান্দায়, ঝাকড়া চুলের উদ্যমী তরুণ! আমি একিটু খেয়াল করলাম।
লম্বা পা ফেলে হাঁটে, সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকে, টিউশন আর পড়াশোনা। হলের প্রচলিত
আড্ডায় খুব একটা দেখা যায় না।
পরে জানলাম আমাদের অর্থনীতির ছাত্র আমাদের পরের ব্যাচের ভালো ছাত্র।
আমি আমার ব্যাচে একটু ভালো করছিলাম, সেই সুবাদে ওর সাথে একটা ভালো সম্পর্ক হয়ে গেলো।
কাদের অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে আমাদের গর্বিত করল!
কাদের এর সাথে এরপর দেখা হয়েছিলো, ২৪ বিসিএস এর লিখিত পরীক্ষার অবসনাল সাব্জেক্ট ‘অর্থনীতি’ পরীক্ষার দিন ইডেন কলেজে। বলা বাহুল্য দুজনের প্রিয় সাবজেক্ট ‘অর্থনীতি’।
২০০৩ সালের দিকে কাদের তখন একটা এনজিও তে চাকরি করে হবিগঞ্জে। আমি বললাম ২৪ এর লিখিত পরীক্ষা কেমন হয়েছে। সে বললো ভাই চাকরি করে পরীক্ষা দিয়েছি, খুব ভালো হয় নাই।
আমি কাদেরকে ২৬ এর বিশেষ বিসিএস ভালোভাবে দিতে বললাম। আমি এও বললাম যে, আমাদের যেহেতু অনার্স-মাস্টার্স এ নাম্বার ভালো, আমরা সহজেই বিশেষ বিসিএস এ সুবিধা পাবো।
সে বললো ভাই, এনজিও সুযোগ সুবিধা ভালো দিয়েছে। আমি ধমক দিয়ে বললাম, রাখো তোমার সুযোগ!
কল্পনা করো, তুমি ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষক! ক্লাসে প্রথম দিন গিয়ে বললে, আমি ভিক্টোরিয়ান আর অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েছি। তোমার এই মানসিক তৃপ্তির ইউটিলিটি কতো?
কাদের এক সময় বিসিএস ক্যাডার হয়। আমরা একসাথে পিএইচডি করার সিদ্ধান্ত নেই। কাদের ফুলটাইমার আর আমি পার্ট টাইম করতে চাই। সে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যায়, আমি শুরু করি জাহাঙ্গীরনগরে।
কাদেরের পোস্টিং স্থির থাকে না ভিক্টোরিয়া কলেজে, এক সময় রামগতি আ স ম আবদুর রব কলেজে দিয়ে দেয়। ঐখান থেকে ভিক্টোরিয়া কলেজে আনার জন্য আমি মিনিমাম দশবার চেষ্টা করেছি। আরও অনেকের সহায়তায় একসময় তার ভিক্টোরিয়া কলেজে স্থিতি হয়।
মানুষ স্বপ্নে ভাসে
বিধাতা মুচকি হাসে!!
আজ সব স্বপ্নের ওপারে চলে গেছে কাদের (ড. এ কে জামান)। মনটা ভারী হয়ে আছে। নিজের কাছে অসহায় লাগছে। আর বোধ হয় বেশী দিন বাঁচব না এমন মনে হয়।
এতো নিয়ম কানুন, স্বাস্থ্য বিধি মেনেও কেউ আগে চলে যায় আর বিন্দাস অনিয়ম করেও কেউ অনেক দিন বেঁচে থাকে।
বিধির এই নিয়ম আমরা বুঝি না, হয়তো এই খেলা আরও গভীর। আমাদের জ্ঞান সীমিত।
মহান আল্লাহ তায়ালা কাদেরকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন, আমিন।
কামরুজ্জামান কামরুন: ২৪তম বিসিএস কর্মকর্তা প্রশাসন ক্যাডার। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী।

কাদেরকে প্রথম দেখি হলের বারান্দায়, ঝাকড়া চুলের উদ্যমী তরুণ! আমি একিটু খেয়াল করলাম।
লম্বা পা ফেলে হাঁটে, সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকে, টিউশন আর পড়াশোনা। হলের প্রচলিত
আড্ডায় খুব একটা দেখা যায় না।
পরে জানলাম আমাদের অর্থনীতির ছাত্র আমাদের পরের ব্যাচের ভালো ছাত্র।
আমি আমার ব্যাচে একটু ভালো করছিলাম, সেই সুবাদে ওর সাথে একটা ভালো সম্পর্ক হয়ে গেলো।
কাদের অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে আমাদের গর্বিত করল!
কাদের এর সাথে এরপর দেখা হয়েছিলো, ২৪ বিসিএস এর লিখিত পরীক্ষার অবসনাল সাব্জেক্ট ‘অর্থনীতি’ পরীক্ষার দিন ইডেন কলেজে। বলা বাহুল্য দুজনের প্রিয় সাবজেক্ট ‘অর্থনীতি’।
২০০৩ সালের দিকে কাদের তখন একটা এনজিও তে চাকরি করে হবিগঞ্জে। আমি বললাম ২৪ এর লিখিত পরীক্ষা কেমন হয়েছে। সে বললো ভাই চাকরি করে পরীক্ষা দিয়েছি, খুব ভালো হয় নাই।
আমি কাদেরকে ২৬ এর বিশেষ বিসিএস ভালোভাবে দিতে বললাম। আমি এও বললাম যে, আমাদের যেহেতু অনার্স-মাস্টার্স এ নাম্বার ভালো, আমরা সহজেই বিশেষ বিসিএস এ সুবিধা পাবো।
সে বললো ভাই, এনজিও সুযোগ সুবিধা ভালো দিয়েছে। আমি ধমক দিয়ে বললাম, রাখো তোমার সুযোগ!
কল্পনা করো, তুমি ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষক! ক্লাসে প্রথম দিন গিয়ে বললে, আমি ভিক্টোরিয়ান আর অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েছি। তোমার এই মানসিক তৃপ্তির ইউটিলিটি কতো?
কাদের এক সময় বিসিএস ক্যাডার হয়। আমরা একসাথে পিএইচডি করার সিদ্ধান্ত নেই। কাদের ফুলটাইমার আর আমি পার্ট টাইম করতে চাই। সে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যায়, আমি শুরু করি জাহাঙ্গীরনগরে।
কাদেরের পোস্টিং স্থির থাকে না ভিক্টোরিয়া কলেজে, এক সময় রামগতি আ স ম আবদুর রব কলেজে দিয়ে দেয়। ঐখান থেকে ভিক্টোরিয়া কলেজে আনার জন্য আমি মিনিমাম দশবার চেষ্টা করেছি। আরও অনেকের সহায়তায় একসময় তার ভিক্টোরিয়া কলেজে স্থিতি হয়।
মানুষ স্বপ্নে ভাসে
বিধাতা মুচকি হাসে!!
আজ সব স্বপ্নের ওপারে চলে গেছে কাদের (ড. এ কে জামান)। মনটা ভারী হয়ে আছে। নিজের কাছে অসহায় লাগছে। আর বোধ হয় বেশী দিন বাঁচব না এমন মনে হয়।
এতো নিয়ম কানুন, স্বাস্থ্য বিধি মেনেও কেউ আগে চলে যায় আর বিন্দাস অনিয়ম করেও কেউ অনেক দিন বেঁচে থাকে।
বিধির এই নিয়ম আমরা বুঝি না, হয়তো এই খেলা আরও গভীর। আমাদের জ্ঞান সীমিত।
মহান আল্লাহ তায়ালা কাদেরকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন, আমিন।
কামরুজ্জামান কামরুন: ২৪তম বিসিএস কর্মকর্তা প্রশাসন ক্যাডার। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী।