• কুমিল্লা সিটি করপোরেশন
  • কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
  • আদর্শ সদর
  • বরুড়া
  • লাকসাম
  • দাউদকান্দি
  • আরও
    • চৌদ্দগ্রাম
    • সদর দক্ষিণ
    • নাঙ্গলকোট
    • বুড়িচং
    • ব্রাহ্মণপাড়া
    • মনোহরগঞ্জ
    • লালমাই
    • চান্দিনা
    • মুরাদনগর
    • দেবীদ্বার
    • হোমনা
    • মেঘনা
    • তিতাস
  • সর্বশেষ
  • রাজনীতি
  • বাংলাদেশ
  • অপরাধ
  • বিশ্ব
  • বাণিজ্য
  • মতামত
  • খেলা
  • বিনোদন
  • চাকরি
  • জীবনযাপন
  • ইপেপার
  • ইপেপার
facebooktwittertiktokpinterestyoutubelinkedininstagramgoogle
স্বত্ব: ©️ আমার শহর

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. গাজীউল হক ভূঁইয়া ( সোহাগ)।

নাহার প্লাজা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০

ই-মেইল: [email protected]

ফোন: 01716197760

> মতামত

স্মরণে বরণে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম

অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১১: ৫৮
logo

স্মরণে বরণে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম

অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ

প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১১: ৫৮
Photo

১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র জীবন প্রদীপ নিভে পরপারে যাত্রা করেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। কিন্তু নিস্প্রভ হয়ে যায়নি তাঁর সৃষ্টির আলো। মৃত্যুর পাঁচদশক পরও কবিতা, গান, গল্প, প্রবন্ধ, গজল আর মানবতার মুক্তির বানীতে তিনি বেঁচে আছেন বাঙালীর মননে। ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র বৃহস্পতিবার কবি নজরুলের ৫০তম প্রয়ান দিবস।

কবির প্রয়ান দিবসে দেশের মানুষ শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় তাঁকে স্মরণ করবে। তবে এবারের স্মরণে যুক্ত হয়েছে এক নতুন মাত্রা।

২০১৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে সরকার ঘোষণা করেছে ‘নজরুল বর্ষ’।

বছরব্যাপী এ আয়োজনে কবির আদর্শ, জীবন-দর্শন, চেতনা ও বিপুল সৃষ্টি সম্ভারকে নতুনভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে। এর জন্য দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে বছরব্যাপী নানা কর্মসূচী পালনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

বল বীর- বল উন্নত মম শির! শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রীর! বল বীর- ১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসের ঠিক কোন তারিখে, রাতের কোন সময়ে ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি লেখা হয়েছিল জানা যায়নি। তবে কবিতা লেখার রাতে ঘরে ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর জেষ্ঠ বন্ধু কমরেড মুজাফফর আহমেদ। মুজাফফর আহমেদ ঘুমিয়ে পড়লেন, নজরুল জেগে রইলেন। মুজাফফর আহমেদ স্মৃতি কথায় বলেছেন, সকালে উঠে যখন মুখ হাত ধুয়ে বিছানায় এসে বসেছেন, নজরুল তাঁকে জানালেন, একটি কবিতা লিখেছেন। তারপর পুরো কবিতাটি পড়ে শুনালেন। ‘বিদ্রোহী’ কবিতার প্রথম শ্রোতা মুজাফফর আহমেদ তবে নিজের ‘অভ্যাসগুনে নিরুত্তাপ শ্রোতা’। বড়সড় এ কবিতা লেখা হয়েছিল পেন্সিলে, কারণ নজরুল মুজাফফর আহমেদ, কারোরই তখন ফাউন্টেন পেন ছিল না। ওই দিন একটু বেলা হতেই ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক আফজালুল হক ঢুকলেন নজরুলের ঘরে। নজরুল তাঁকেও কবিতা পড়ে শুনালেন। তিনিত কবিতা শুনে হইচই শুরু করে দিলেন। বললেন, ‘একক্ষনই কপি করে দিন কবিতাটি, আমি সঙ্গে নিয়ে যাব। আফজালুল হক কপিটি নিয়ে চলে গেলেন। এর কিছুক্ষণ পর মোজাফফর আহমদ বাসা থেকে চলে গেলেন ইত্যবসরে ‘অবিনাশদা’ অর্থাৎ সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকার অবিনাশচন্দ্র ভট্টাচার্য আসলেন, কবিতাটি শুনে বললেন, ‘তুমি পাগল হয়েছ নজরুল। আফজলের কাগজ কখন বার হবে তার স্থিরতা নাই, কপি করে দাও, বিজলীতে ছেপে দেই আগে’। তাঁকেও নজরুল সেই পেন্সিলের লেখা থেকে কপি করে দিয়েছিলেন। সাপ্তাহিক ‘বিজলী’তেই আগে ছাপা হয়েছিল।

১৯২৬ সালের ৬ জানুয়ারি, শুক্রবার (২২ পে․ষ, ১৩২৮ বঙ্গাব্দ)। ওই সংখ্যার চাহিদা এত বেশি ছিল যে দুইবার ছাপার প্রয়োজন হয়েছিল। ‘বিদ্রোহী’ কবিতা রচনার সময় কাজী নজরুল ইসলামের বয়স মাত্র ২২ বছর। এর আগে ক্সসনিকের জীবন শেষ করে তিনি কলকাতায় ফিরে এসেছেন। লেখালেখিতে তাঁর পরিচয় ক্সতরি হচ্ছে। ‘বিদ্রোহী’ লেখার সময় তিনি কোন প্রতিষ্ঠিত কবি নন। কিন্তু তাঁর ভিতরে তখন জমা হচ্ছে যুদ্ধ-অভিজ্ঞতা, ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, সামাজিক ‣বষম্যের বোধ এবং তারুন্যের দূর্দমনীয় শক্তি, সেই সময়ের ভারতবর্ষ ছিল অস্থির। অসহযোগ আন্দোলন চলছিল তার পূর্বে কিশোর জীবনতো আরও নাটকীয়তায় ভরপুর। স্বল্প সময়ের শিক্ষাজীবনত একটি দারিদ্রের প্রতিচ্ছবি। সুনির্দিষ্ট কোন কাঠামোয় সাজানো না থাকলেও উদ্দামতায় ভরপুর ছিল তার ছাত্রজীবন। এর মধ্যে তিনি মসজিদের মুয়াজ্জিন হয়েছেন। হয়েছেন রুটির দোকানের কারিগর। হয়েছেন লেটো গানের দলের সদস্য। হয়েছেন পুলিশ অফিসারের বউয়ের স্নেহভাজন। যিনি তাঁকে আবার শিক্ষালয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিল। হয়েছেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধর সৈনিক, হাবিলদার পদোন্নতিও পেয়েছেন। এরই মধ্যে কবি ও লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশও হয়ে গেছে তার। ক্সসনিক জীবন থেকে ফিরে এসেছেন। বাঁধন হারা হয়ে লিখেন আগুনজ্বালা সব কবিতা-গান-গল্প- উপন্যাস-গদ্য। শ্রমিক মজুর থেকে শুরু করে সমাজের উচ্চ স্তরের মনেও মননে জায়গা করে নিয়েছেন। নিপীড়িতের অনুপ্রেরনা হয়ে উঠেছেন। দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্তির স্বপ্ন ও আকাঙ্খা দেখিয়েছেন। প্রয়োজনে সবকিছু ত্যাগ করে সশস্ত্র সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় উদ্ধুদ্ধ করেছেন। পরাধীন জাতির স্বাধীনতার জন্য এমন স্বপ্নপুড়নে হয়ে উঠেছেন উদগ্রীব, যে ব্রিটিশ উপনিবেশে তিনি এক নম্বর শত্রুু হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিলন। অস্ত্রের চেয়ে কলমের শক্তি কত ভয়াবহ হতে পারে এ উপমহাদেশে তিনিই প্রথম দেখিয়েছেন। ধুমকেতু পত্রিকার প্রথম সম্পাদকীয়তে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন ধূমকেতু ভারতের স্বাধীনতা চায়। চরম দারিদ্রে কাটিয়েছেন জীবন। বাজারের টাকা ছিল না। সুযোগ বুঝে অন্যরা তাঁর কাছে যে কোন লেখার বিনিময়ে টাকা দিতে চেয়েছেন। তিনি কাগজ কলম বের করে লিখে দিয়েছেন। কখনো সেগুলো তাঁর নামে প্রচার হয়েছে। কখনো চুরি হয়ে গেছে। সন্তানের মৃত্যু তাঁকে শোকাহত করেছে। বনিবনা না হওয়ায় একরাতের সংসার ভেঙ্গে চলে এসছেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য শুধু জীবনটা দেয়া বাকী রেখেছেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের কন্যা বিয়ে করে উদাহরন সৃষ্টি করেছেন। চলচ্চিত্রের দিকে ঝুকেছেন একসময়। চিত্রনাট্য লেখা, সংগীত ও সংগীতায়োজন, শিল্প নির্দেশনা থেকে শুরু করে পরিচালনা এমনকি অভিনয়ও করেছেন। অসুস্থতা তাঁর শরীরে বাসা বাঁধতে বাঁধতে বাকরুদ্ধ হয়েছেন। আর এতসব ঘটেছে মাত্র চারদশকের জীবনে। সাহিত্যের এমন কোন শাখা নেই যেখানে তাঁর স্বতন্ত্র সৃষ্টির ছাপ রেখে যাননি। তিনি বলেছিলেন, এক হাতে তাঁর বাঁশের বাশরি অন্য হাতে রণতূর্য। একথায় একটুও ফাকিঝুকি নাই। সাহিত্যের জীবনের শুরু থেকেই তিনি ব্রিটিশ ঔপনিবেশবাদী সরকারের রোষানলে পড়ে যান। একের পর এক বই বাজেয়াপ্ত হয়। কারারুদ্ধ হন। নজরদারির শিকার হন। মুসলিম কট্টরপন্থীরা তাঁকে কাফের উপাধি দেন। হিন্দু কট্টরপন্থীরা তাঁকে চক্ষুশুর মনে করেন। শারীরিক আঘাতের শিকারও হন। কিন্তু কোন কিছুতেই তিনি পিছপা হন নাই। জীবনের কোন ৩ এক মূহূর্তের জন্যও তাঁকে কোন কিছুর সঙ্গে আপোস করতে দেখা যায়নি। এরকম অদম্য বীরগাথা শিল্পীর উদাহরণ তিনি নিজেই। অসুস্থতায় থামিয়ে দিয়েছিল তাঁর সকল উদ্দাম ও সৃষ্টিশীলতা, বয়সও আশি পেরিয়ে গেছে। শ্বাস-নি:শ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যুর বয়সও হয়েছে ৫০ বছর। তাঁর অনেকগুলো গ্রন্থের বয়স শতবর্ষ পেরিয়ে গেছে। ব্রিটিশ সরকার প্রবলতম হুমকি মনে করে নিষিদ্ধ করেছিল যে গ্রন্থগুলো তার কয়েকটিরও বয়স পার করেছে শতবর্ষ। এতবছর পরও নজুরুলের প্রভাব একটুও কমল না। কমতি হল না তাঁকে নিয়ে আগ্রহের । এখনো নজরুল সমসাময়িক। এখনও তরুনদের সঙ্গে তাঁর প্রগাঢ় মেলবন্ধন। এখনও যুবকদের ¯পৃহার অন্যতম জ্বালানী, এখনও বৃদ্ধদের কাছে তিনি পরম বিস্ময়। এখনো নষ্টদের কাছে তিনি প্রবল হুমকি। তিনি কখনোই বৃদ্ধ হলেন না। সদা তরুন নজরুল এখনো সংকটে জ্বলে ওঠেন। এখনও সহযাত্রী হয়ে হেঁটে চলেন নীপিড়িত মানুষের কাঁধে কাঁধ রেখে। এখনো তাঁর হুংকারে কেঁপে ওঠে অত্যাচারীর মসনদ। প্রশ্ন হল এমন কি রেখে গেছেন নজরুল যার জন্য এখনো বাংগালীদের হৃদয় থেকে এক মূহূর্তের জন্যও মুছে জান না। তিনি আসলে রেখে গেছেন বিস্ময়। এ বিস্ময় মহাসমুদ্র বা মহাশুন্যের চেয়েও অনন্ত। যা ধারন করেছে তাঁর সকল অগ্নিশিখা আর আমাদের অশ্রুধারা । (সংগৃহিত)

অধ্যাপক ডা: মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ: সাবেক অধ্যক্ষ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ

Thumbnail image

১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র জীবন প্রদীপ নিভে পরপারে যাত্রা করেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। কিন্তু নিস্প্রভ হয়ে যায়নি তাঁর সৃষ্টির আলো। মৃত্যুর পাঁচদশক পরও কবিতা, গান, গল্প, প্রবন্ধ, গজল আর মানবতার মুক্তির বানীতে তিনি বেঁচে আছেন বাঙালীর মননে। ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র বৃহস্পতিবার কবি নজরুলের ৫০তম প্রয়ান দিবস।

কবির প্রয়ান দিবসে দেশের মানুষ শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় তাঁকে স্মরণ করবে। তবে এবারের স্মরণে যুক্ত হয়েছে এক নতুন মাত্রা।

২০১৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে সরকার ঘোষণা করেছে ‘নজরুল বর্ষ’।

বছরব্যাপী এ আয়োজনে কবির আদর্শ, জীবন-দর্শন, চেতনা ও বিপুল সৃষ্টি সম্ভারকে নতুনভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে। এর জন্য দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে বছরব্যাপী নানা কর্মসূচী পালনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

বল বীর- বল উন্নত মম শির! শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রীর! বল বীর- ১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসের ঠিক কোন তারিখে, রাতের কোন সময়ে ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি লেখা হয়েছিল জানা যায়নি। তবে কবিতা লেখার রাতে ঘরে ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর জেষ্ঠ বন্ধু কমরেড মুজাফফর আহমেদ। মুজাফফর আহমেদ ঘুমিয়ে পড়লেন, নজরুল জেগে রইলেন। মুজাফফর আহমেদ স্মৃতি কথায় বলেছেন, সকালে উঠে যখন মুখ হাত ধুয়ে বিছানায় এসে বসেছেন, নজরুল তাঁকে জানালেন, একটি কবিতা লিখেছেন। তারপর পুরো কবিতাটি পড়ে শুনালেন। ‘বিদ্রোহী’ কবিতার প্রথম শ্রোতা মুজাফফর আহমেদ তবে নিজের ‘অভ্যাসগুনে নিরুত্তাপ শ্রোতা’। বড়সড় এ কবিতা লেখা হয়েছিল পেন্সিলে, কারণ নজরুল মুজাফফর আহমেদ, কারোরই তখন ফাউন্টেন পেন ছিল না। ওই দিন একটু বেলা হতেই ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক আফজালুল হক ঢুকলেন নজরুলের ঘরে। নজরুল তাঁকেও কবিতা পড়ে শুনালেন। তিনিত কবিতা শুনে হইচই শুরু করে দিলেন। বললেন, ‘একক্ষনই কপি করে দিন কবিতাটি, আমি সঙ্গে নিয়ে যাব। আফজালুল হক কপিটি নিয়ে চলে গেলেন। এর কিছুক্ষণ পর মোজাফফর আহমদ বাসা থেকে চলে গেলেন ইত্যবসরে ‘অবিনাশদা’ অর্থাৎ সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকার অবিনাশচন্দ্র ভট্টাচার্য আসলেন, কবিতাটি শুনে বললেন, ‘তুমি পাগল হয়েছ নজরুল। আফজলের কাগজ কখন বার হবে তার স্থিরতা নাই, কপি করে দাও, বিজলীতে ছেপে দেই আগে’। তাঁকেও নজরুল সেই পেন্সিলের লেখা থেকে কপি করে দিয়েছিলেন। সাপ্তাহিক ‘বিজলী’তেই আগে ছাপা হয়েছিল।

১৯২৬ সালের ৬ জানুয়ারি, শুক্রবার (২২ পে․ষ, ১৩২৮ বঙ্গাব্দ)। ওই সংখ্যার চাহিদা এত বেশি ছিল যে দুইবার ছাপার প্রয়োজন হয়েছিল। ‘বিদ্রোহী’ কবিতা রচনার সময় কাজী নজরুল ইসলামের বয়স মাত্র ২২ বছর। এর আগে ক্সসনিকের জীবন শেষ করে তিনি কলকাতায় ফিরে এসেছেন। লেখালেখিতে তাঁর পরিচয় ক্সতরি হচ্ছে। ‘বিদ্রোহী’ লেখার সময় তিনি কোন প্রতিষ্ঠিত কবি নন। কিন্তু তাঁর ভিতরে তখন জমা হচ্ছে যুদ্ধ-অভিজ্ঞতা, ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, সামাজিক ‣বষম্যের বোধ এবং তারুন্যের দূর্দমনীয় শক্তি, সেই সময়ের ভারতবর্ষ ছিল অস্থির। অসহযোগ আন্দোলন চলছিল তার পূর্বে কিশোর জীবনতো আরও নাটকীয়তায় ভরপুর। স্বল্প সময়ের শিক্ষাজীবনত একটি দারিদ্রের প্রতিচ্ছবি। সুনির্দিষ্ট কোন কাঠামোয় সাজানো না থাকলেও উদ্দামতায় ভরপুর ছিল তার ছাত্রজীবন। এর মধ্যে তিনি মসজিদের মুয়াজ্জিন হয়েছেন। হয়েছেন রুটির দোকানের কারিগর। হয়েছেন লেটো গানের দলের সদস্য। হয়েছেন পুলিশ অফিসারের বউয়ের স্নেহভাজন। যিনি তাঁকে আবার শিক্ষালয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিল। হয়েছেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধর সৈনিক, হাবিলদার পদোন্নতিও পেয়েছেন। এরই মধ্যে কবি ও লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশও হয়ে গেছে তার। ক্সসনিক জীবন থেকে ফিরে এসেছেন। বাঁধন হারা হয়ে লিখেন আগুনজ্বালা সব কবিতা-গান-গল্প- উপন্যাস-গদ্য। শ্রমিক মজুর থেকে শুরু করে সমাজের উচ্চ স্তরের মনেও মননে জায়গা করে নিয়েছেন। নিপীড়িতের অনুপ্রেরনা হয়ে উঠেছেন। দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্তির স্বপ্ন ও আকাঙ্খা দেখিয়েছেন। প্রয়োজনে সবকিছু ত্যাগ করে সশস্ত্র সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় উদ্ধুদ্ধ করেছেন। পরাধীন জাতির স্বাধীনতার জন্য এমন স্বপ্নপুড়নে হয়ে উঠেছেন উদগ্রীব, যে ব্রিটিশ উপনিবেশে তিনি এক নম্বর শত্রুু হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিলন। অস্ত্রের চেয়ে কলমের শক্তি কত ভয়াবহ হতে পারে এ উপমহাদেশে তিনিই প্রথম দেখিয়েছেন। ধুমকেতু পত্রিকার প্রথম সম্পাদকীয়তে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন ধূমকেতু ভারতের স্বাধীনতা চায়। চরম দারিদ্রে কাটিয়েছেন জীবন। বাজারের টাকা ছিল না। সুযোগ বুঝে অন্যরা তাঁর কাছে যে কোন লেখার বিনিময়ে টাকা দিতে চেয়েছেন। তিনি কাগজ কলম বের করে লিখে দিয়েছেন। কখনো সেগুলো তাঁর নামে প্রচার হয়েছে। কখনো চুরি হয়ে গেছে। সন্তানের মৃত্যু তাঁকে শোকাহত করেছে। বনিবনা না হওয়ায় একরাতের সংসার ভেঙ্গে চলে এসছেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য শুধু জীবনটা দেয়া বাকী রেখেছেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের কন্যা বিয়ে করে উদাহরন সৃষ্টি করেছেন। চলচ্চিত্রের দিকে ঝুকেছেন একসময়। চিত্রনাট্য লেখা, সংগীত ও সংগীতায়োজন, শিল্প নির্দেশনা থেকে শুরু করে পরিচালনা এমনকি অভিনয়ও করেছেন। অসুস্থতা তাঁর শরীরে বাসা বাঁধতে বাঁধতে বাকরুদ্ধ হয়েছেন। আর এতসব ঘটেছে মাত্র চারদশকের জীবনে। সাহিত্যের এমন কোন শাখা নেই যেখানে তাঁর স্বতন্ত্র সৃষ্টির ছাপ রেখে যাননি। তিনি বলেছিলেন, এক হাতে তাঁর বাঁশের বাশরি অন্য হাতে রণতূর্য। একথায় একটুও ফাকিঝুকি নাই। সাহিত্যের জীবনের শুরু থেকেই তিনি ব্রিটিশ ঔপনিবেশবাদী সরকারের রোষানলে পড়ে যান। একের পর এক বই বাজেয়াপ্ত হয়। কারারুদ্ধ হন। নজরদারির শিকার হন। মুসলিম কট্টরপন্থীরা তাঁকে কাফের উপাধি দেন। হিন্দু কট্টরপন্থীরা তাঁকে চক্ষুশুর মনে করেন। শারীরিক আঘাতের শিকারও হন। কিন্তু কোন কিছুতেই তিনি পিছপা হন নাই। জীবনের কোন ৩ এক মূহূর্তের জন্যও তাঁকে কোন কিছুর সঙ্গে আপোস করতে দেখা যায়নি। এরকম অদম্য বীরগাথা শিল্পীর উদাহরণ তিনি নিজেই। অসুস্থতায় থামিয়ে দিয়েছিল তাঁর সকল উদ্দাম ও সৃষ্টিশীলতা, বয়সও আশি পেরিয়ে গেছে। শ্বাস-নি:শ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যুর বয়সও হয়েছে ৫০ বছর। তাঁর অনেকগুলো গ্রন্থের বয়স শতবর্ষ পেরিয়ে গেছে। ব্রিটিশ সরকার প্রবলতম হুমকি মনে করে নিষিদ্ধ করেছিল যে গ্রন্থগুলো তার কয়েকটিরও বয়স পার করেছে শতবর্ষ। এতবছর পরও নজুরুলের প্রভাব একটুও কমল না। কমতি হল না তাঁকে নিয়ে আগ্রহের । এখনো নজরুল সমসাময়িক। এখনও তরুনদের সঙ্গে তাঁর প্রগাঢ় মেলবন্ধন। এখনও যুবকদের ¯পৃহার অন্যতম জ্বালানী, এখনও বৃদ্ধদের কাছে তিনি পরম বিস্ময়। এখনো নষ্টদের কাছে তিনি প্রবল হুমকি। তিনি কখনোই বৃদ্ধ হলেন না। সদা তরুন নজরুল এখনো সংকটে জ্বলে ওঠেন। এখনও সহযাত্রী হয়ে হেঁটে চলেন নীপিড়িত মানুষের কাঁধে কাঁধ রেখে। এখনো তাঁর হুংকারে কেঁপে ওঠে অত্যাচারীর মসনদ। প্রশ্ন হল এমন কি রেখে গেছেন নজরুল যার জন্য এখনো বাংগালীদের হৃদয় থেকে এক মূহূর্তের জন্যও মুছে জান না। তিনি আসলে রেখে গেছেন বিস্ময়। এ বিস্ময় মহাসমুদ্র বা মহাশুন্যের চেয়েও অনন্ত। যা ধারন করেছে তাঁর সকল অগ্নিশিখা আর আমাদের অশ্রুধারা । (সংগৃহিত)

অধ্যাপক ডা: মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ: সাবেক অধ্যক্ষ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

১

প্রফেসর লায়লা নূর ও প্রফেসর ড. স্বপ্না রায় শুধু শিক্ষক নন আরও অনেক কিছু...

২

স্মরণে বরণে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম

৩

প্রকৃতির আদালতে কোনো মামলা ঝুলে থাকে না

৪

আয়ু দ্বিগুণ করে অগ্নাশয় ক্যান্সারের নতুন ওষুধ

৫

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করুন

সম্পর্কিত

প্রফেসর লায়লা নূর ও প্রফেসর ড. স্বপ্না রায় শুধু শিক্ষক নন আরও অনেক কিছু...

প্রফেসর লায়লা নূর ও প্রফেসর ড. স্বপ্না রায় শুধু শিক্ষক নন আরও অনেক কিছু...

৮ ঘণ্টা আগে
প্রকৃতির আদালতে কোনো মামলা ঝুলে থাকে না

প্রকৃতির আদালতে কোনো মামলা ঝুলে থাকে না

২ দিন আগে
আয়ু দ্বিগুণ করে অগ্নাশয় ক্যান্সারের নতুন ওষুধ

আয়ু দ্বিগুণ করে অগ্নাশয় ক্যান্সারের নতুন ওষুধ

৪ দিন আগে
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করুন

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করুন

১০ দিন আগে