• কুমিল্লা সিটি করপোরেশন
  • কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
  • আদর্শ সদর
  • বরুড়া
  • লাকসাম
  • দাউদকান্দি
  • আরও
    • চৌদ্দগ্রাম
    • সদর দক্ষিণ
    • নাঙ্গলকোট
    • বুড়িচং
    • ব্রাহ্মণপাড়া
    • মনোহরগঞ্জ
    • লালমাই
    • চান্দিনা
    • মুরাদনগর
    • দেবীদ্বার
    • হোমনা
    • মেঘনা
    • তিতাস
  • সর্বশেষ
  • রাজনীতি
  • বাংলাদেশ
  • অপরাধ
  • বিশ্ব
  • বাণিজ্য
  • মতামত
  • খেলা
  • বিনোদন
  • চাকরি
  • জীবনযাপন
  • ইপেপার
  • ইপেপার
facebooktwittertiktokpinterestyoutubelinkedininstagramgoogle
স্বত্ব: ©️ আমার শহর

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. গাজীউল হক ভূঁইয়া ( সোহাগ)।

নাহার প্লাজা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০

ই-মেইল: [email protected]

ফোন: 01716197760

> মতামত

নাহিদা বেগমের প্রশ্নের জবাব দিন

গাজীউল হক সোহাগ
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১: ৩৭
আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০: ০৬
logo

নাহিদা বেগমের প্রশ্নের জবাব দিন

গাজীউল হক সোহাগ

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১: ৩৭
Photo

নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার দম্পতির পুরো পৃথিবী জুড়েই ছিল সন্তান অপ্রতিম। বয়স ১৩ হলেও মায়ের কাছে আরও একটু বেশি। আদরে সোহাগে যতনে ছেলেকে রাঙিয়ে রাখতেন তিনি। মাঝে মধ্যে সাজগোজও করাতেন। নানা নামে ছেলেকে ডাকতেন। ছেলের গাল টিপে দিতেন। আহা কি অপত্য স্নেহ।

এমন নিষ্পাপ শিশুকে হারানোর পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমকে (লেখালেখি করেন নাহিদা নাহিদ) একজন আইন প্রণেতা সান্ত্বনা দিতে যান। নাহিদা আইনপ্রণেতার কাছে জানতে চেয়েছেন, তাঁর ছেলের কি অপরাধ ছিল? কেন তাঁকে হত্যা করা হলো? এই প্রশ্নের কেনো সদত্তুর ওই আইনপ্রণেতা দিতে পারেননি। তবে তিনি কাঁদলেন। অন্যদেরও কাঁদালেন, চোখ মুছালেন। তিনি তাঁর জীবনে যতগুলো করুণ মৃত্যুর খবর শুনেছেন ও দেখেছেন এটি একটি বলে মন্তব্য করেছেন।

মনে পড়ে, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাত আটটার দিকে কুমিল্লা সেনানিবাসের পাওয়ার হাউজের ঝোপ-জঙ্গল থেকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনুর লাশ উদ্ধার করা হয়। টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেনি। কিন্তু দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁর লাশ ও হদিস সংরক্ষিত এলাকায় মেলে। তনুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ড পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। এক দশকে বিচার মেলেনি। তবে বর্তমান সরকারের সময়ে সন্দেহভাজন একজন আসামি গ্রেপ্তার ও দুইজনকে ধরতে ইন্টারপুলের রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে।

কিন্তু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা ও শাহরিয়ার দম্পতির সন্তান অপ্রতিমের সন্ধানই দিতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ আসলে জিডি নেওয়ার পর কতটুকু তৎপর ছিলেন, সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ আজকাল পুলিশ ক্ষমতাবান ছাড়া অন্য কারও ফোনও ধরতে চায় না। পুলিশকে আগের মতো রাস্তায় দেখা যায় না। পুলিশ আন্তরিকও নয়।

অপ্রতিমকে কেন হত্যা করা হলো? প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে আইফোন ছিনিয়ে নিতে এই হত্যাকাণ্ড। ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে- ছিনতাই করা, ঠেকবাজি করা, ফুঁসলিয়ে অন্যত্র নেওয়া। এটা ফৌজদারি অপরাধ। এটা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পুলিশের। পুলিশ এইক্ষেত্রে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে। কুমিল্লায় চুরি, ছিনতাই, ঠেকবাজি আমাদের সেই কথাই মনে করিয়ে দেয়।

অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করা হয়েছে। তার শরীরে রক্তের ছোপ। বুকে ছোপ। শুক্রবার রাতেই যদি লালমাই পাহাড়ের পার্ক ও পিকনিক স্পটগুলোর আশপাশে তল্লাশি অভিযান হতো তাহলে আরও আগেই মরদেহ পাওয়া যেতো। এমনকি অপ্রতিমকে অচেতনও পাওয়া যেতো। তার মাথা ও বুকে যে পরিমাণ রক্তের ছোপ দেখা গেছে, তাতে মনে হচ্ছে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সে মারা গেছে। লালমাই পাহাড়ে মরদেহের কিছু অংশ শেয়ালে খেতো না।

ব্যবসায়ী-শিক্ষক দম্পতির একমাত্র সন্তান অপ্রতিম। তাঁকে ঘিরেই ছিল বাংলাদেশের নেটিজেনরা। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তা-ই দেখা গেছে। নিষ্পাপ শিশুটির হত্যাকারীদের খুঁজে বের করতে হবে। সত্যিকারের অপরাধীরা যেন ধরা পড়ে।

নাহিদা বেগম জুলাই আন্দোলনের অন্যতম উৎসাহদাতাও। তিনি তখনকার পরিস্থিতি নিয়ে ফেসবুক শিক্ষার্থীদের পাশে ছিলেন। জুলাই আন্দোলনে তাঁরই সহকর্মী ড. কামরুন নাহার শীলার একমাত্র ছেলে মেঘ গুলিবিদ্ধ হয়। তার শরীরে ছররা গুলি। কোমরে গুলি। দুই বছর আগে মেঘের মায়ের আকুতি দেখেছি। দুই বছর পর অপ্রতিমের মায়ের আকুতিও দেখতে হলো। এখন বলুন আমরা কোন বাংলাদেশে আছি?

ছেলের লাশ উদ্ধারের পর ড. নাহিদা বেগম বলেন, ‘বিচার চেয়ে কী করব? আমার ছেলে তো আর ফিরবে না। আমি কুমিল্লায় চাকরি করতে এসেছি, এটা কী আমার অন্যায়?’ এর আগে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আপনাদের কাছে হাতজোড় করছি। আমার ছেলেকে বাঁচান।’ রাষ্ট্র নাহিদা বেগমের আকুতি শোনেনি, শোনার চেষ্টাও করেনি হয়তো। নাহিদা বেগম তাঁর ছেলেকে আর ফিরে পাবেন না, এটা নিশ্চিত। কিন্তু যে প্রশ্ন তিনি রেখে গেছেন, এর দায়ভার রাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে।

সংবিধান মোতাবেক রাষ্ট্রের নাগরিকের নিরাপত্তা দেবে সরকার। কুমিল্লায় আমরা ১৩ বছরের মাসুম বাচ্চার জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারিনি। এ লজ্জা আমাদের। ক্ষমা করুন ড. নাহিদা বেগম। আপনার ছেলের কি অপরাধ তাঁর জবাব রাষ্ট্রযন্ত্রকেই দিতে হবে।

গাজীউল হক সোহাগ: সম্পাদক, আমার শহর

Thumbnail image

নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার দম্পতির পুরো পৃথিবী জুড়েই ছিল সন্তান অপ্রতিম। বয়স ১৩ হলেও মায়ের কাছে আরও একটু বেশি। আদরে সোহাগে যতনে ছেলেকে রাঙিয়ে রাখতেন তিনি। মাঝে মধ্যে সাজগোজও করাতেন। নানা নামে ছেলেকে ডাকতেন। ছেলের গাল টিপে দিতেন। আহা কি অপত্য স্নেহ।

এমন নিষ্পাপ শিশুকে হারানোর পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমকে (লেখালেখি করেন নাহিদা নাহিদ) একজন আইন প্রণেতা সান্ত্বনা দিতে যান। নাহিদা আইনপ্রণেতার কাছে জানতে চেয়েছেন, তাঁর ছেলের কি অপরাধ ছিল? কেন তাঁকে হত্যা করা হলো? এই প্রশ্নের কেনো সদত্তুর ওই আইনপ্রণেতা দিতে পারেননি। তবে তিনি কাঁদলেন। অন্যদেরও কাঁদালেন, চোখ মুছালেন। তিনি তাঁর জীবনে যতগুলো করুণ মৃত্যুর খবর শুনেছেন ও দেখেছেন এটি একটি বলে মন্তব্য করেছেন।

মনে পড়ে, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাত আটটার দিকে কুমিল্লা সেনানিবাসের পাওয়ার হাউজের ঝোপ-জঙ্গল থেকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনুর লাশ উদ্ধার করা হয়। টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেনি। কিন্তু দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁর লাশ ও হদিস সংরক্ষিত এলাকায় মেলে। তনুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ড পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। এক দশকে বিচার মেলেনি। তবে বর্তমান সরকারের সময়ে সন্দেহভাজন একজন আসামি গ্রেপ্তার ও দুইজনকে ধরতে ইন্টারপুলের রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে।

কিন্তু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা ও শাহরিয়ার দম্পতির সন্তান অপ্রতিমের সন্ধানই দিতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ আসলে জিডি নেওয়ার পর কতটুকু তৎপর ছিলেন, সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ আজকাল পুলিশ ক্ষমতাবান ছাড়া অন্য কারও ফোনও ধরতে চায় না। পুলিশকে আগের মতো রাস্তায় দেখা যায় না। পুলিশ আন্তরিকও নয়।

অপ্রতিমকে কেন হত্যা করা হলো? প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে আইফোন ছিনিয়ে নিতে এই হত্যাকাণ্ড। ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে- ছিনতাই করা, ঠেকবাজি করা, ফুঁসলিয়ে অন্যত্র নেওয়া। এটা ফৌজদারি অপরাধ। এটা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পুলিশের। পুলিশ এইক্ষেত্রে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে। কুমিল্লায় চুরি, ছিনতাই, ঠেকবাজি আমাদের সেই কথাই মনে করিয়ে দেয়।

অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করা হয়েছে। তার শরীরে রক্তের ছোপ। বুকে ছোপ। শুক্রবার রাতেই যদি লালমাই পাহাড়ের পার্ক ও পিকনিক স্পটগুলোর আশপাশে তল্লাশি অভিযান হতো তাহলে আরও আগেই মরদেহ পাওয়া যেতো। এমনকি অপ্রতিমকে অচেতনও পাওয়া যেতো। তার মাথা ও বুকে যে পরিমাণ রক্তের ছোপ দেখা গেছে, তাতে মনে হচ্ছে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সে মারা গেছে। লালমাই পাহাড়ে মরদেহের কিছু অংশ শেয়ালে খেতো না।

ব্যবসায়ী-শিক্ষক দম্পতির একমাত্র সন্তান অপ্রতিম। তাঁকে ঘিরেই ছিল বাংলাদেশের নেটিজেনরা। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তা-ই দেখা গেছে। নিষ্পাপ শিশুটির হত্যাকারীদের খুঁজে বের করতে হবে। সত্যিকারের অপরাধীরা যেন ধরা পড়ে।

নাহিদা বেগম জুলাই আন্দোলনের অন্যতম উৎসাহদাতাও। তিনি তখনকার পরিস্থিতি নিয়ে ফেসবুক শিক্ষার্থীদের পাশে ছিলেন। জুলাই আন্দোলনে তাঁরই সহকর্মী ড. কামরুন নাহার শীলার একমাত্র ছেলে মেঘ গুলিবিদ্ধ হয়। তার শরীরে ছররা গুলি। কোমরে গুলি। দুই বছর আগে মেঘের মায়ের আকুতি দেখেছি। দুই বছর পর অপ্রতিমের মায়ের আকুতিও দেখতে হলো। এখন বলুন আমরা কোন বাংলাদেশে আছি?

ছেলের লাশ উদ্ধারের পর ড. নাহিদা বেগম বলেন, ‘বিচার চেয়ে কী করব? আমার ছেলে তো আর ফিরবে না। আমি কুমিল্লায় চাকরি করতে এসেছি, এটা কী আমার অন্যায়?’ এর আগে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আপনাদের কাছে হাতজোড় করছি। আমার ছেলেকে বাঁচান।’ রাষ্ট্র নাহিদা বেগমের আকুতি শোনেনি, শোনার চেষ্টাও করেনি হয়তো। নাহিদা বেগম তাঁর ছেলেকে আর ফিরে পাবেন না, এটা নিশ্চিত। কিন্তু যে প্রশ্ন তিনি রেখে গেছেন, এর দায়ভার রাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে।

সংবিধান মোতাবেক রাষ্ট্রের নাগরিকের নিরাপত্তা দেবে সরকার। কুমিল্লায় আমরা ১৩ বছরের মাসুম বাচ্চার জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারিনি। এ লজ্জা আমাদের। ক্ষমা করুন ড. নাহিদা বেগম। আপনার ছেলের কি অপরাধ তাঁর জবাব রাষ্ট্রযন্ত্রকেই দিতে হবে।

গাজীউল হক সোহাগ: সম্পাদক, আমার শহর

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

১

একটি মায়ের প্রশ্ন: এই কি সেই বাংলাদেশ?

২

নাহিদা বেগমের প্রশ্নের জবাব দিন

৩

আমার দেখা বর্তমান রাজনীতির আকাল-বাজারে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরী এমপি

৪

মেধাবীদের বাংলাদেশ: স্বপ্ন বনাম বাস্তবতা

৫

শুধু সনদ নয়, দক্ষতাই হবে আগামী দিনের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার

সম্পর্কিত

একটি মায়ের প্রশ্ন: এই কি সেই বাংলাদেশ?

একটি মায়ের প্রশ্ন: এই কি সেই বাংলাদেশ?

১১ ঘণ্টা আগে
আমার দেখা বর্তমান রাজনীতির আকাল-বাজারে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরী এমপি

আমার দেখা বর্তমান রাজনীতির আকাল-বাজারে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরী এমপি

৪ দিন আগে
মেধাবীদের বাংলাদেশ: স্বপ্ন বনাম বাস্তবতা

মেধাবীদের বাংলাদেশ: স্বপ্ন বনাম বাস্তবতা

৬ দিন আগে
শুধু সনদ নয়, দক্ষতাই হবে আগামী দিনের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার

শুধু সনদ নয়, দক্ষতাই হবে আগামী দিনের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার

৬ দিন আগে