অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ

উচ্চ রক্তচাপ একটি ‘নীরব ঘাতক’। অনেকেই নিজের অজান্তে এতে আক্রান্ত এবং তা নিয়ন্ত্রণে কোন চিকিৎসা না নেয়ায় হৃদরোগ, কিডনি বিকল, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (স্ট্রোক) ও চোখের রোগে আক্রান্ত হন। এমনকি আকস্মিক হৃদরোগ ও স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে কারও কারও মৃত্যুও হয়ে থাকে। তাই নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা সবার জন্যই জরুরি। বিশেষ করে যাদের বংশগত উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস আছে, অথবা যারা অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করেন, যাদের ওজন বেশি, যারা অতিরিক্ত তেল-চর্বি জাতীয় খাবার খান, যারা ধূমপায়ী বা মদ্যপায়ী। কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াও উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে, যা চিকিৎসা করলে রোগী পুরোপুরি ভাল হয়ে যায়। কিছু কিছু ওষুধ আছে যেমন ইয়াবা বা এমফিটামিন যা ডিপ্রেশন কমায়, কফি পান, নাকের সর্দির ওষুধ, কিছু ভেষজ ওষুধ, কিছু শরীর ব্যথার ওষুধ, কিছু জন্ম নিয়ন্ত্রণ ওষুধ, কিছু স্টেরয়েড ওষুধে রক্তচাপ বাড়তে পারে। জন্মের সময় ওজন কম থাকা, অপরিণত অবস্থায় শিশু জন্মগ্রহণ করা, নিম্ন আর্থ-সামাজিক অবস্থান, অতিরিক্ত মানসিক ও সামাজিক চাপ থাকলেও রক্তচাপ বাড়তে পারে।
রক্তচাপ কিভাবে মাপবেন ঃ দুই ধরনের রক্তচাপ আছে। একটি সিস্টোলিক আরেকটি ডায়াস্টলিক। নরমাল সিস্টোলিক হচ্ছে ৯০ মিমি থেকে ১৪০ মিমি আর নরমাল ডায়াস্টোলিক হচ্ছে ৬০ মিমি থেকে ৯০ মিমি।
উত্তম রক্তচাপ হচ্ছে ১২০/৭০ মিমি। একই মানুষের রক্তচাপ বিভিন্ন সময় ও বিভিন্ন পরিবেশে ভিন্ন হতে পারে,
এমনকি দুই হাতে দুই রকম হতে পারে।
* রক্তচাপ মাপতে ভাল ও পরীক্ষিত আটোমেটেড মেশিন ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসকরা সাধারণত যেসব
মেশিনে রক্তচাপ মাপে যেমন —পারদ মুক্ত বা এনেরয়েড দিয়ে, যেখানে রক্তচাপ মাপার জন্য স্টেথোস্কোপ দিয়ে বিশেষ ধরনের শব্দ শোনা যায় তা সাধারণ মানুষের পক্ষে আয়ত্ত করা কঠিন, সময় সাপেক্ষ ও অধিক দক্ষতা প্রয়োজন।
* যেসব যন্ত্রে মেমোরি থাকে অর্থাৎ রক্তচাপ মাপার মান সংরক্ষিত থাকে তা ব্যবহার করা ভাল
* রক্তচাপ মাপার মেশিনের সঠিক মাপের কাফ সাইজ ব্যবহার করতে হবে তা অবশ্যই বাহুর ৮০ ভাগের বেশি
প্রস্থের জায়গা পূর্ণ করতে হবে
* প্রথমবার রক্তচাপ মাপার সময় অবশ্যই দুই হাতেরই রক্তচাপ দেখতে হবে এবং যে হাতে রক্তচাপ বেশি ওই মান লিপিবদ্ধ করতে হবে এবং ভবিষ্যতে ওই হাতে রক্তচাপ মাপতে হবে।
* রোগীকে পা মাটিতে লাগিয়ে কমপক্ষে ৫ মিনিট আরাম করে চেয়ারে বসতে হবে, সোফায় বসে রক্তচাপ মাপার
নিষিদ্ধতার বর্ণনা আছে
* রক্তচাপ মাপার আগে আধাঘণ্টার মধ্যে রোগী কোনো রকমের কফি বা চা পান, ধূমপান বা ব্যায়াম বা পরিশ্রমের
কাজ করতে পারবে না
* প্রস্রাবের বেগ নিয়ে রক্তচাপ মাপা যাবে না, মাপার আগে প্রস্রাবের থলি খালি করতে হবে
* রক্তচাপ মাপার মেশিনের কাফ লাগানোর জায়গায় অর্থাৎ বাহুতে কোনো কাপড় রাখা যাবে না
* বিশ্রাম বা আরাম করার সময় অথবা রক্তচাপ মাপার সময় রোগী বা চিকিৎসক বা যিনি রক্তচাপ মাপবেন কেউই কোনো ধরনের কথা বলতে পারবেন না
* রোগীর যে বাহুতে রক্তচাপ মাপা হবে সে বাহু আবশ্যই টেবিল বা ডেস্কের উপর রাখতে হবে
* রক্তচাপ মাপার মেশিনের কাফসহ রোগীর বাহু অবশ্যই বুকের মাঝ বরাবর রাখতে হবে
* বারংবার রক্তচাপ মাপা আরেকটি রোগের উপসর্গ
কি কি কারণে রক্তচাপ উঠানামা করে ঃ দুশ্চিন্তা করলে রক্তচাপ হঠাৎ খুব বেড়ে যেতে পারে আবার দুশ্চিন্তা কমে গেলে বা নিয়ন্ত্রণে এলে রক্তচাপ স্বাভাবিক হতে পারে। দুশ্চিন্তা বেশি করলে রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কমেও যেতে পারে। রোগী যদি বেশি দিন ধরে শরীর ব্যথার ওষুধ বিশেষ করে ঘঝঅওউ জাতীয় ওষুধ সেবন করতে থাকে তবে
তাতে রোগীর রক্তচাপ বাড়তেও পারে উঠানামাও করতে পারে। রোগী যদি নিয়মিত ওষুধ না খায় বা মাঝে মাঝে ওষুধ বাদ দেয় তবে রক্তচাপ উঠানামা করতে পারে। রোগী যদি জন্ম নিয়ন্ত্রণের ওষুধ দীর্ঘদিন খান তবে রক্তচাপ বাড়তে পারে বা উঠানামা করতে পারে। রোগীর যদি কিডনিতে সমস্যা থাকে তাহলেও রক্তচাপ উঠানামা করতে পারে। রোগীর
যদি কিছু হরমোনজনিত যেমন —হাইপার থাইরয়েডিজম বা ফিওক্রোমোসাইটমা, কিডনির উপর অবস্থিত এড্রিনাল গ্লান্ডের টিউমার জাতীয় রোগ হয়, তবে রক্তচাপ উঠানামা করতে পারে।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার প্রভাবঃ স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা যেমন ওজন কমিয়ে আদর্শ ওজন বজায় রাখা, স্বাস্থ্যকর খাবার অবলম্বন করা, খাবারে লবণের পরিমাণ কমিয়ে আনা, অধিক পটাশিয়ামযুক্ত খাবার খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম করা ও মদ্যপান পরিহার করলে ওষুধ ছাড়াও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রক্তচাপ কমানো সম্ভব।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে ঃ উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তি ওজন কমিয়ে আদর্শ ওজন বজায় রাখলে শুধু খাবার নিয়ন্ত্রণ করে সিস্টোলিক রক্তচাপ ৫ মিমি কমানো সম্ভব।
স্বাস্থ্যকর খাবারের ভূমিকা ঃ স্বাভাবিক রক্তচাপ আছে এমন কোনো ব্যক্তি স্বাস্থ্যকর খাবার (শাকসবজি, ফলমূল, আস্ত শস্যদানা, কম চর্বিযুক্ত দুধ বা দুধ থেকে প্রস্তুত খাদ্য সামগ্রী) খান তবে তার সিস্টোলিক রক্তচাপ ৩ মিমি কমানো সম্ভব। আর যদি উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তি স্বাস্থ্যকর খাবার অবলম্বন করে তবে শুধু খাবার নিয়ন্ত্রণ করে সিস্টোলিক রক্তচাপ ১১ মিমি কমানো সম্ভব।
অতিরিক্ত লবণ খাওয়া বন্ধ করতে হবেঃ একজন ব্যক্তির প্রতিদিন ১৫ গ্রামের বেশি লবণ খাওয়া স্বাস্থ্যকর নয়। উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তি অতিরিক্ত লবণ খাওয়া কমালে সিস্টোলিক রক্তচাপ ৫—৬ মিমি পারদ কমানো সম্ভব।
খাবারে পটাশিয়াম বাড়াতে হবেঃ প্রতিজনের ৩৫০-৫০০ গ্রামের বেশি পটাশিয়াম খাওয়া স্বাস্থ্যকর। বিশেষ কওে যেসব খাবারে পটাশিয়াম বেশি সেসব খাবার বেশি করে খেতে হবে।
নিয়মিত ব্যয়াম করুন ঃ প্রতি সপ্তাহে ১২০—১৫০ মিনিট জোরে হাঁটা ভাল। উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তি নিয়মিত ব্যায়াম করুন তবে শুধু এ কাজ করে সিস্টোলিক রক্তচাপ ৫ মিমি পারদ কমানো সম্ভব।
উচ্চ রক্তচাপ যেমন নীরব ঘাতক, তেমনি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে এবং কিছু নিয়ম মেনে চললে এ রোগ নিয়ে সুস্থ মানুষের মতো জীবনযাপনও করা যায়। সেক্ষেত্রে রোগটি প্রথমে শনাক্ত হওয়া প্রয়োজন। নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে অনেকের মনে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে যা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ধারণায় এসব বিষয়ে সঠিক পরামর্শ নিতে হবে। উল্লেখ্য জরিপে দেখা গেছে উচ্চ রক্তচাপের ৩৮ শতাংশ রোগী চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকেন। আর নিয়মিত ওষুধ সেবনের মাধ্যমে রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছেন মাত্র ১৫ শতাংশ মানুষ অর্থাৎ প্রতি ৭ জনে ১ জন। বাকি ৮৫ শতাংশ রোগীই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছেন। এ ব্যর্থতা কাটাতে ব্যক্তির যেমন দায়িত্ব আছে, তেমনি রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব রয়েছে। দেশব্যাপী নিরবচ্ছিন্ন ওষুধ সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ হচ্ছে না। আমরা আশা করব স্বাস্থ্য বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হবে।
অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ: সাবেক অধ্যক্ষ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ।

উচ্চ রক্তচাপ একটি ‘নীরব ঘাতক’। অনেকেই নিজের অজান্তে এতে আক্রান্ত এবং তা নিয়ন্ত্রণে কোন চিকিৎসা না নেয়ায় হৃদরোগ, কিডনি বিকল, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (স্ট্রোক) ও চোখের রোগে আক্রান্ত হন। এমনকি আকস্মিক হৃদরোগ ও স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে কারও কারও মৃত্যুও হয়ে থাকে। তাই নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা সবার জন্যই জরুরি। বিশেষ করে যাদের বংশগত উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস আছে, অথবা যারা অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করেন, যাদের ওজন বেশি, যারা অতিরিক্ত তেল-চর্বি জাতীয় খাবার খান, যারা ধূমপায়ী বা মদ্যপায়ী। কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াও উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে, যা চিকিৎসা করলে রোগী পুরোপুরি ভাল হয়ে যায়। কিছু কিছু ওষুধ আছে যেমন ইয়াবা বা এমফিটামিন যা ডিপ্রেশন কমায়, কফি পান, নাকের সর্দির ওষুধ, কিছু ভেষজ ওষুধ, কিছু শরীর ব্যথার ওষুধ, কিছু জন্ম নিয়ন্ত্রণ ওষুধ, কিছু স্টেরয়েড ওষুধে রক্তচাপ বাড়তে পারে। জন্মের সময় ওজন কম থাকা, অপরিণত অবস্থায় শিশু জন্মগ্রহণ করা, নিম্ন আর্থ-সামাজিক অবস্থান, অতিরিক্ত মানসিক ও সামাজিক চাপ থাকলেও রক্তচাপ বাড়তে পারে।
রক্তচাপ কিভাবে মাপবেন ঃ দুই ধরনের রক্তচাপ আছে। একটি সিস্টোলিক আরেকটি ডায়াস্টলিক। নরমাল সিস্টোলিক হচ্ছে ৯০ মিমি থেকে ১৪০ মিমি আর নরমাল ডায়াস্টোলিক হচ্ছে ৬০ মিমি থেকে ৯০ মিমি।
উত্তম রক্তচাপ হচ্ছে ১২০/৭০ মিমি। একই মানুষের রক্তচাপ বিভিন্ন সময় ও বিভিন্ন পরিবেশে ভিন্ন হতে পারে,
এমনকি দুই হাতে দুই রকম হতে পারে।
* রক্তচাপ মাপতে ভাল ও পরীক্ষিত আটোমেটেড মেশিন ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসকরা সাধারণত যেসব
মেশিনে রক্তচাপ মাপে যেমন —পারদ মুক্ত বা এনেরয়েড দিয়ে, যেখানে রক্তচাপ মাপার জন্য স্টেথোস্কোপ দিয়ে বিশেষ ধরনের শব্দ শোনা যায় তা সাধারণ মানুষের পক্ষে আয়ত্ত করা কঠিন, সময় সাপেক্ষ ও অধিক দক্ষতা প্রয়োজন।
* যেসব যন্ত্রে মেমোরি থাকে অর্থাৎ রক্তচাপ মাপার মান সংরক্ষিত থাকে তা ব্যবহার করা ভাল
* রক্তচাপ মাপার মেশিনের সঠিক মাপের কাফ সাইজ ব্যবহার করতে হবে তা অবশ্যই বাহুর ৮০ ভাগের বেশি
প্রস্থের জায়গা পূর্ণ করতে হবে
* প্রথমবার রক্তচাপ মাপার সময় অবশ্যই দুই হাতেরই রক্তচাপ দেখতে হবে এবং যে হাতে রক্তচাপ বেশি ওই মান লিপিবদ্ধ করতে হবে এবং ভবিষ্যতে ওই হাতে রক্তচাপ মাপতে হবে।
* রোগীকে পা মাটিতে লাগিয়ে কমপক্ষে ৫ মিনিট আরাম করে চেয়ারে বসতে হবে, সোফায় বসে রক্তচাপ মাপার
নিষিদ্ধতার বর্ণনা আছে
* রক্তচাপ মাপার আগে আধাঘণ্টার মধ্যে রোগী কোনো রকমের কফি বা চা পান, ধূমপান বা ব্যায়াম বা পরিশ্রমের
কাজ করতে পারবে না
* প্রস্রাবের বেগ নিয়ে রক্তচাপ মাপা যাবে না, মাপার আগে প্রস্রাবের থলি খালি করতে হবে
* রক্তচাপ মাপার মেশিনের কাফ লাগানোর জায়গায় অর্থাৎ বাহুতে কোনো কাপড় রাখা যাবে না
* বিশ্রাম বা আরাম করার সময় অথবা রক্তচাপ মাপার সময় রোগী বা চিকিৎসক বা যিনি রক্তচাপ মাপবেন কেউই কোনো ধরনের কথা বলতে পারবেন না
* রোগীর যে বাহুতে রক্তচাপ মাপা হবে সে বাহু আবশ্যই টেবিল বা ডেস্কের উপর রাখতে হবে
* রক্তচাপ মাপার মেশিনের কাফসহ রোগীর বাহু অবশ্যই বুকের মাঝ বরাবর রাখতে হবে
* বারংবার রক্তচাপ মাপা আরেকটি রোগের উপসর্গ
কি কি কারণে রক্তচাপ উঠানামা করে ঃ দুশ্চিন্তা করলে রক্তচাপ হঠাৎ খুব বেড়ে যেতে পারে আবার দুশ্চিন্তা কমে গেলে বা নিয়ন্ত্রণে এলে রক্তচাপ স্বাভাবিক হতে পারে। দুশ্চিন্তা বেশি করলে রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কমেও যেতে পারে। রোগী যদি বেশি দিন ধরে শরীর ব্যথার ওষুধ বিশেষ করে ঘঝঅওউ জাতীয় ওষুধ সেবন করতে থাকে তবে
তাতে রোগীর রক্তচাপ বাড়তেও পারে উঠানামাও করতে পারে। রোগী যদি নিয়মিত ওষুধ না খায় বা মাঝে মাঝে ওষুধ বাদ দেয় তবে রক্তচাপ উঠানামা করতে পারে। রোগী যদি জন্ম নিয়ন্ত্রণের ওষুধ দীর্ঘদিন খান তবে রক্তচাপ বাড়তে পারে বা উঠানামা করতে পারে। রোগীর যদি কিডনিতে সমস্যা থাকে তাহলেও রক্তচাপ উঠানামা করতে পারে। রোগীর
যদি কিছু হরমোনজনিত যেমন —হাইপার থাইরয়েডিজম বা ফিওক্রোমোসাইটমা, কিডনির উপর অবস্থিত এড্রিনাল গ্লান্ডের টিউমার জাতীয় রোগ হয়, তবে রক্তচাপ উঠানামা করতে পারে।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার প্রভাবঃ স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা যেমন ওজন কমিয়ে আদর্শ ওজন বজায় রাখা, স্বাস্থ্যকর খাবার অবলম্বন করা, খাবারে লবণের পরিমাণ কমিয়ে আনা, অধিক পটাশিয়ামযুক্ত খাবার খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম করা ও মদ্যপান পরিহার করলে ওষুধ ছাড়াও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রক্তচাপ কমানো সম্ভব।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে ঃ উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তি ওজন কমিয়ে আদর্শ ওজন বজায় রাখলে শুধু খাবার নিয়ন্ত্রণ করে সিস্টোলিক রক্তচাপ ৫ মিমি কমানো সম্ভব।
স্বাস্থ্যকর খাবারের ভূমিকা ঃ স্বাভাবিক রক্তচাপ আছে এমন কোনো ব্যক্তি স্বাস্থ্যকর খাবার (শাকসবজি, ফলমূল, আস্ত শস্যদানা, কম চর্বিযুক্ত দুধ বা দুধ থেকে প্রস্তুত খাদ্য সামগ্রী) খান তবে তার সিস্টোলিক রক্তচাপ ৩ মিমি কমানো সম্ভব। আর যদি উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তি স্বাস্থ্যকর খাবার অবলম্বন করে তবে শুধু খাবার নিয়ন্ত্রণ করে সিস্টোলিক রক্তচাপ ১১ মিমি কমানো সম্ভব।
অতিরিক্ত লবণ খাওয়া বন্ধ করতে হবেঃ একজন ব্যক্তির প্রতিদিন ১৫ গ্রামের বেশি লবণ খাওয়া স্বাস্থ্যকর নয়। উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তি অতিরিক্ত লবণ খাওয়া কমালে সিস্টোলিক রক্তচাপ ৫—৬ মিমি পারদ কমানো সম্ভব।
খাবারে পটাশিয়াম বাড়াতে হবেঃ প্রতিজনের ৩৫০-৫০০ গ্রামের বেশি পটাশিয়াম খাওয়া স্বাস্থ্যকর। বিশেষ কওে যেসব খাবারে পটাশিয়াম বেশি সেসব খাবার বেশি করে খেতে হবে।
নিয়মিত ব্যয়াম করুন ঃ প্রতি সপ্তাহে ১২০—১৫০ মিনিট জোরে হাঁটা ভাল। উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তি নিয়মিত ব্যায়াম করুন তবে শুধু এ কাজ করে সিস্টোলিক রক্তচাপ ৫ মিমি পারদ কমানো সম্ভব।
উচ্চ রক্তচাপ যেমন নীরব ঘাতক, তেমনি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে এবং কিছু নিয়ম মেনে চললে এ রোগ নিয়ে সুস্থ মানুষের মতো জীবনযাপনও করা যায়। সেক্ষেত্রে রোগটি প্রথমে শনাক্ত হওয়া প্রয়োজন। নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে অনেকের মনে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে যা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ধারণায় এসব বিষয়ে সঠিক পরামর্শ নিতে হবে। উল্লেখ্য জরিপে দেখা গেছে উচ্চ রক্তচাপের ৩৮ শতাংশ রোগী চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকেন। আর নিয়মিত ওষুধ সেবনের মাধ্যমে রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছেন মাত্র ১৫ শতাংশ মানুষ অর্থাৎ প্রতি ৭ জনে ১ জন। বাকি ৮৫ শতাংশ রোগীই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছেন। এ ব্যর্থতা কাটাতে ব্যক্তির যেমন দায়িত্ব আছে, তেমনি রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব রয়েছে। দেশব্যাপী নিরবচ্ছিন্ন ওষুধ সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ হচ্ছে না। আমরা আশা করব স্বাস্থ্য বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হবে।
অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ: সাবেক অধ্যক্ষ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ।