অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ

৫০০ রোগীর উপর একটি ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া রোগীরা সবাই অগ্নাশয় ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন, যা শরীরে অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়েছিল।
পরীক্ষায় দেখা গেছে, ডারাক্সোনরাসিব নামের ওষুধটি রোগীদের বেঁচে থাকার সময় প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া প্রচলিত কেমোথেরাপির তুলনায় এর পাশর্^ প্রতিক্রিয়াও কম ছিল।
ব্রিটিশ সংবাদপত্র বিজ্ঞানীদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, রাশ জিনটি শুধু অগ্নাশয়ের ক্যান্সার নয় আরও অনেক ধরনের ক্যান্সার বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। ফলে এ ক্ষেত্রে পাওয়া সাফল্য অন্যান্য ক্যান্সারের চিকিৎসায়ও নতুন অগ্রগতির পথ খুলে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেছেন, ফুসফুস ও কোলন ক্যান্সারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ওষুধের পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে।
গবেষণায় দেখা যায়, যাঁরা এ ওষুধ ব্যবহার করেছেন তাঁরা গড়ে ১৩ মাস ২ দিন বেঁচে ছিলেন। অন্যদিকে, কেমোথেরাপি নেয়া রোগীদের বেঁচে থাকার সময় ছিল মাত্র ৬ মাস ৬ দিন বা ৭ দিন। ডারাক্সোনরাসিব ওষুধটি বিশেষভাবে ক্রাস নামের একটি প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। এ প্রোটিন প্রায় সব ধরনের অগ্নাশয় ক্যান্সারের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ওষুধটি ক্রাস প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় করার মধ্য দিয়ে ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি থামাতে সাহায্য করে। ক্রাস হল রাস জিন পরিবারের একটি অংশ। এই জিনে ত্রæটি বা মিউটেশন হলে ক্যান্সার কোষগুলো বারবার বৃদ্ধি ও বিভাজনের সংকেত পেতে থাকে। এর ফলে ক্যান্সার দ্রæত ছড়িয়ে পড়তে পারে। ডারাক্সোনরাসিব হলো রাস নিষ্ক্রিয়কারী নতুন ধরনের ওষুধ। এর বিশেষত্ব হলো, ক্রাস জিনে মিউটেশন থাকুক বা না থাকুক এটি ক্রাস প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় করে ক্যান্সারের বৃদ্ধি রোধ করতে পারে। জটিল অগ্নাশয় ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের বেঁচে থাকার সময় দ্বিগুণ করে দিতে পারে। নতুন আবিষ্কৃত এই ডারাক্সোনরাসিব। অগ্নাশয় ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের উপর দৈনিক মুখে খাওয়ার এ ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে এমন ফল পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে চলমান আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিকেল অনকলোজি (অ্যাসকে) ক্যান্সার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গবেষণায় ফল প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা এ ওষুধ আবিষ্কারকে কয়েক দশকের মধ্যে চিকিৎসাবিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় অগ্রগতিগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছেন। বর্তমানে অগ্নাশয় ক্যান্সারের তেমন কার্যকর চিকিৎসা নাই, বিদ্যমান অনেক চিকিৎসাই রোগীদের তেমন উপকার করতে পারে না। কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞানীরা এই ক্যান্সার মোকাবিলায় নতুন সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কারণ অগ্নাশয় ক্যান্সার সাধারণত অনেক দেরিতে শনাক্ত হয়। অর্ধেকের বেশি রোগীর ক্ষেত্রে ক্যান্সার শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার পর রোগটি ধরা পড়ে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে বৃহত্তম ক্যান্সার বিষয়ক সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা এই আবিষ্কৃত ওষুধের প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে এ ওষুধ অগ্নাশয় ক্যান্সারের চিকিৎসার এক নতুন যুগের সূচনা করতে পারে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্যানক্রিয়েটিক ক্যান্সার অ্যাকশনের প্রধান নির্বাহী পলী হ্যানফোর্ড বলেছেন, এটি অগ্নাশয় ক্যান্সারের চিকিৎসায় তাঁর দেখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতিগুলোর একটি। প্যানক্রিয়েটিক ক্যান্সার, ইউকে’র সেরা গবেষণাও উদ্ভাবন বিভাগের পরিচালক অ্যানা জুয়েল বলেন, ডারাক্সোনরাসিব ওষুধটি ক্রাস মিউটেশনের কার্যক্রম বন্ধ করার মাধ্যমে উন্নত পর্যায়ের অগ্নাশয় ক্যান্সারের রোগীদের বেঁচে থাকার সময় বাড়াতে সক্ষম। এ ওষুধের কয়েক মাস অতিরিক্ত সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছেন। তিনি মনে করেন, এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল এ ধরনের নতুন ওষুধ রোগীদের কাছে সহজলভ্য করা।
অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ: সাবেক অধ্যক্ষ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ

৫০০ রোগীর উপর একটি ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া রোগীরা সবাই অগ্নাশয় ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন, যা শরীরে অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়েছিল।
পরীক্ষায় দেখা গেছে, ডারাক্সোনরাসিব নামের ওষুধটি রোগীদের বেঁচে থাকার সময় প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া প্রচলিত কেমোথেরাপির তুলনায় এর পাশর্^ প্রতিক্রিয়াও কম ছিল।
ব্রিটিশ সংবাদপত্র বিজ্ঞানীদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, রাশ জিনটি শুধু অগ্নাশয়ের ক্যান্সার নয় আরও অনেক ধরনের ক্যান্সার বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। ফলে এ ক্ষেত্রে পাওয়া সাফল্য অন্যান্য ক্যান্সারের চিকিৎসায়ও নতুন অগ্রগতির পথ খুলে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেছেন, ফুসফুস ও কোলন ক্যান্সারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ওষুধের পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে।
গবেষণায় দেখা যায়, যাঁরা এ ওষুধ ব্যবহার করেছেন তাঁরা গড়ে ১৩ মাস ২ দিন বেঁচে ছিলেন। অন্যদিকে, কেমোথেরাপি নেয়া রোগীদের বেঁচে থাকার সময় ছিল মাত্র ৬ মাস ৬ দিন বা ৭ দিন। ডারাক্সোনরাসিব ওষুধটি বিশেষভাবে ক্রাস নামের একটি প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। এ প্রোটিন প্রায় সব ধরনের অগ্নাশয় ক্যান্সারের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ওষুধটি ক্রাস প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় করার মধ্য দিয়ে ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি থামাতে সাহায্য করে। ক্রাস হল রাস জিন পরিবারের একটি অংশ। এই জিনে ত্রæটি বা মিউটেশন হলে ক্যান্সার কোষগুলো বারবার বৃদ্ধি ও বিভাজনের সংকেত পেতে থাকে। এর ফলে ক্যান্সার দ্রæত ছড়িয়ে পড়তে পারে। ডারাক্সোনরাসিব হলো রাস নিষ্ক্রিয়কারী নতুন ধরনের ওষুধ। এর বিশেষত্ব হলো, ক্রাস জিনে মিউটেশন থাকুক বা না থাকুক এটি ক্রাস প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় করে ক্যান্সারের বৃদ্ধি রোধ করতে পারে। জটিল অগ্নাশয় ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের বেঁচে থাকার সময় দ্বিগুণ করে দিতে পারে। নতুন আবিষ্কৃত এই ডারাক্সোনরাসিব। অগ্নাশয় ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের উপর দৈনিক মুখে খাওয়ার এ ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে এমন ফল পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে চলমান আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিকেল অনকলোজি (অ্যাসকে) ক্যান্সার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গবেষণায় ফল প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা এ ওষুধ আবিষ্কারকে কয়েক দশকের মধ্যে চিকিৎসাবিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় অগ্রগতিগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছেন। বর্তমানে অগ্নাশয় ক্যান্সারের তেমন কার্যকর চিকিৎসা নাই, বিদ্যমান অনেক চিকিৎসাই রোগীদের তেমন উপকার করতে পারে না। কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞানীরা এই ক্যান্সার মোকাবিলায় নতুন সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কারণ অগ্নাশয় ক্যান্সার সাধারণত অনেক দেরিতে শনাক্ত হয়। অর্ধেকের বেশি রোগীর ক্ষেত্রে ক্যান্সার শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার পর রোগটি ধরা পড়ে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে বৃহত্তম ক্যান্সার বিষয়ক সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা এই আবিষ্কৃত ওষুধের প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে এ ওষুধ অগ্নাশয় ক্যান্সারের চিকিৎসার এক নতুন যুগের সূচনা করতে পারে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্যানক্রিয়েটিক ক্যান্সার অ্যাকশনের প্রধান নির্বাহী পলী হ্যানফোর্ড বলেছেন, এটি অগ্নাশয় ক্যান্সারের চিকিৎসায় তাঁর দেখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতিগুলোর একটি। প্যানক্রিয়েটিক ক্যান্সার, ইউকে’র সেরা গবেষণাও উদ্ভাবন বিভাগের পরিচালক অ্যানা জুয়েল বলেন, ডারাক্সোনরাসিব ওষুধটি ক্রাস মিউটেশনের কার্যক্রম বন্ধ করার মাধ্যমে উন্নত পর্যায়ের অগ্নাশয় ক্যান্সারের রোগীদের বেঁচে থাকার সময় বাড়াতে সক্ষম। এ ওষুধের কয়েক মাস অতিরিক্ত সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছেন। তিনি মনে করেন, এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল এ ধরনের নতুন ওষুধ রোগীদের কাছে সহজলভ্য করা।
অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ: সাবেক অধ্যক্ষ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ