অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ

১৯৭৫ এর ২৮ নম্বর সড়কের ৩৩০ বি এর বাসা থেকে কবি নজরুলের এক প্রকার ইচ্ছার বিরুদ্ধে পিজি হাসপাতালের ১১৭ নম্বর কেবিনে স্থানান্তরিত হন। দীর্ঘ এক বছর এক মাস এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর এই কেবিনেই ১৯৭৬ সালের ২৯ আগষ্ট শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন আমাদের জাতীয় কবি। মৃত্যুর দিনটি পার হওয়ার পরও জাতীয় কবির স্মৃতি রক্ষায় ঐ কেবিন ও ব্যবহৃত বেড সংরক্ষনের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। কক্ষটি চিহ্নিত করে স্মারকফলকও স্থাপন করা হয়নি। নজরুল গবেষকদের চাওয়ামাফিক তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ২০০২ সালে কেবিনটির নামফলকসহ সংরক্ষণের উদ্যোগ নেন। কিছুসময় অতিবাহিত হওয়ার পর ষ্টোর হাউস হিসাবে ব্যবহৃত হতে থাকে। নজরুল প্রেমীদের সমালোচনার মুখে ২০১৬ সালের দিকে কিছুটা সংস্কার করা হয়। এরপর আবারও অবহেলায় পড়ে কেবিনটি। সম্প্রতি নজরুল বর্ষ উপলক্ষে এটিকে সংস্কারে হাত দিয়েছে বিএমইউ কর্তৃপক্ষ।

কেবিনকে সাজানো হয়েছে নজরুলের নানাহ সময়ের ছবি, ধূমকেতু পত্রিকার ছবি, নজরুলের বই ও নজরুল বিষয়ক সৃষ্টি কর্ম। এতে নজরুলের একটি আবক্ষ ভাস্কর্যও স্থান পেয়েছে। যে বিছানায় তিনি চিকিৎসা পেয়েছেন এবং শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেছেন সে বিছানা ও ড্রেসিং টেবিল রয়েছে অবিক্রিত অবস্থায়, বিছানার পাশে পড়ার টেবিল রয়েছে এবং একটি মন্তব্য বহিও রয়েছে। আর কেবিনটি পরিদর্শনের সময় নজরুলময় পরিবেশ তৈরিতে সংযোজন করা হয়েছে নজরুল সংগীতের মিউজিক। কেবিনের লেনে প্রবেশ করার আগেই চোখে পড়ে নজরুলের স্মৃতিকক্ষ সম্বলিত দিক নির্দেশনা। ১১৭ নং কেবিনের দুপাশে সাটানো কক্ষটির নাম আর জাতীয় কবির পরিচিত ছবি। এ আয়োজন দেখে অনেকেরই মন্তব্য এসব উদ্যোগ বেশি দিনের নয়, ৩-৪ মাস আগেও অবহেলিত ছিল কক্ষটি। অতি সম্প্রতী কেবিনটি পরিচ্ছন্ন হয়েছে।.

কেবিনে রক্ষিত মন্তব্য খাতাটি উলটিয়ে নজরুল বিষয়ে নানাহ আগ্রহের কথা অবলোকন করা যায়। অনেকেই এ কেবিনটি দেখে নিজেকে ধন্য মনে করছেন অনেকেই উল্লেখযোগ্য নজরুলের বই অথবা ই-বুক রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। অনেকেই মনে করেন দারিদ্রতা নজরুলের চিরসঙ্গী কিন্তু তাঁর রচনা মানবতার মুক্তির দিশারী, সঙ্গীতসমূহ আবেদন ও বিনোদনে সবচেয়ে আলোকিত। জাতীয় কবির প্রতি আমাদের ও বিএমইউ কর্তৃপক্ষের গভীর শ্রদ্ধা আছে। কেবিনটি অক্ষত রেখে আগ্রহীদের দেখানোর ব্যবস্থা এখনও প্রচলিত আছে। তবে আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে, এখানে মানুষ চিকিৎসার জন্য আসে। বেশী মানুষের আসা যাওয়ায় সমস্যার সৃষ্টি হয়। যারা নজরুল গবেষণা করেন, নজরুল সম্পর্কে যাদের বেশি আগ্রহ তাদের জন্য কেবিনের পূর্ব আবহ অক্ষত রেখে সংস্কার কাজ কিছু দিনের মধ্যেই আরম্ভ হবে বলে সবাই উৎসাহিত। জানা যাচ্ছে নজরুলের রচনাসম্ভার ও নজরুলকে নিয়ে বিশেষ গবেষণাকর্ম এ কেবিনে সন্নিবেশিত হবে। এটাও জানা যায় কেবিন কক্ষটি আধুনিকায়নের প্রস্তাব প্রকৌশল শাখায় পৌছেছে। অতি দ্রæত কাজটি সম্পাদনের জন্য বিএমইউ কর্তৃপক্ষের তাগাদা দরকার।

তৎকালীন আইপিজিএমএন্ডআর বা পিজি হাসপাতাল বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১৭ নম্বর কেবিনই ছিল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনের শেষাংশের ঠিকানা। জীবনের শেষ ১ বছর একমাস আটদিন কাটিয়েছেন কবি এ কেবিনে। অনেক বছর এ কেবিনের খোঁজ খবর রাখেনি কেউ। কখনো উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে আসা মানুষের বসার জায়গা, কখনো কিচেন রুম, আবার কখনো ধূমপান করার জায়গা হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে এ কক্ষ। এতসব অরুচীকর অবস্থার উত্তরনে নজরুল গবেষকরা আরও সমৃদ্ধ সংস্কারের আশাবাদী। সকল যুক্তিগ্রাহ্য দাবীসমূহ বর্তমান সুযোগ্য উপাচার্যের সুচিন্তিত ভাবনায় আলোর মুখ দেখবে বলে দেশবাসী মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে।
অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ: সাবেক অধ্যক্ষ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ

১৯৭৫ এর ২৮ নম্বর সড়কের ৩৩০ বি এর বাসা থেকে কবি নজরুলের এক প্রকার ইচ্ছার বিরুদ্ধে পিজি হাসপাতালের ১১৭ নম্বর কেবিনে স্থানান্তরিত হন। দীর্ঘ এক বছর এক মাস এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর এই কেবিনেই ১৯৭৬ সালের ২৯ আগষ্ট শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন আমাদের জাতীয় কবি। মৃত্যুর দিনটি পার হওয়ার পরও জাতীয় কবির স্মৃতি রক্ষায় ঐ কেবিন ও ব্যবহৃত বেড সংরক্ষনের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। কক্ষটি চিহ্নিত করে স্মারকফলকও স্থাপন করা হয়নি। নজরুল গবেষকদের চাওয়ামাফিক তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ২০০২ সালে কেবিনটির নামফলকসহ সংরক্ষণের উদ্যোগ নেন। কিছুসময় অতিবাহিত হওয়ার পর ষ্টোর হাউস হিসাবে ব্যবহৃত হতে থাকে। নজরুল প্রেমীদের সমালোচনার মুখে ২০১৬ সালের দিকে কিছুটা সংস্কার করা হয়। এরপর আবারও অবহেলায় পড়ে কেবিনটি। সম্প্রতি নজরুল বর্ষ উপলক্ষে এটিকে সংস্কারে হাত দিয়েছে বিএমইউ কর্তৃপক্ষ।

কেবিনকে সাজানো হয়েছে নজরুলের নানাহ সময়ের ছবি, ধূমকেতু পত্রিকার ছবি, নজরুলের বই ও নজরুল বিষয়ক সৃষ্টি কর্ম। এতে নজরুলের একটি আবক্ষ ভাস্কর্যও স্থান পেয়েছে। যে বিছানায় তিনি চিকিৎসা পেয়েছেন এবং শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেছেন সে বিছানা ও ড্রেসিং টেবিল রয়েছে অবিক্রিত অবস্থায়, বিছানার পাশে পড়ার টেবিল রয়েছে এবং একটি মন্তব্য বহিও রয়েছে। আর কেবিনটি পরিদর্শনের সময় নজরুলময় পরিবেশ তৈরিতে সংযোজন করা হয়েছে নজরুল সংগীতের মিউজিক। কেবিনের লেনে প্রবেশ করার আগেই চোখে পড়ে নজরুলের স্মৃতিকক্ষ সম্বলিত দিক নির্দেশনা। ১১৭ নং কেবিনের দুপাশে সাটানো কক্ষটির নাম আর জাতীয় কবির পরিচিত ছবি। এ আয়োজন দেখে অনেকেরই মন্তব্য এসব উদ্যোগ বেশি দিনের নয়, ৩-৪ মাস আগেও অবহেলিত ছিল কক্ষটি। অতি সম্প্রতী কেবিনটি পরিচ্ছন্ন হয়েছে।.

কেবিনে রক্ষিত মন্তব্য খাতাটি উলটিয়ে নজরুল বিষয়ে নানাহ আগ্রহের কথা অবলোকন করা যায়। অনেকেই এ কেবিনটি দেখে নিজেকে ধন্য মনে করছেন অনেকেই উল্লেখযোগ্য নজরুলের বই অথবা ই-বুক রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। অনেকেই মনে করেন দারিদ্রতা নজরুলের চিরসঙ্গী কিন্তু তাঁর রচনা মানবতার মুক্তির দিশারী, সঙ্গীতসমূহ আবেদন ও বিনোদনে সবচেয়ে আলোকিত। জাতীয় কবির প্রতি আমাদের ও বিএমইউ কর্তৃপক্ষের গভীর শ্রদ্ধা আছে। কেবিনটি অক্ষত রেখে আগ্রহীদের দেখানোর ব্যবস্থা এখনও প্রচলিত আছে। তবে আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে, এখানে মানুষ চিকিৎসার জন্য আসে। বেশী মানুষের আসা যাওয়ায় সমস্যার সৃষ্টি হয়। যারা নজরুল গবেষণা করেন, নজরুল সম্পর্কে যাদের বেশি আগ্রহ তাদের জন্য কেবিনের পূর্ব আবহ অক্ষত রেখে সংস্কার কাজ কিছু দিনের মধ্যেই আরম্ভ হবে বলে সবাই উৎসাহিত। জানা যাচ্ছে নজরুলের রচনাসম্ভার ও নজরুলকে নিয়ে বিশেষ গবেষণাকর্ম এ কেবিনে সন্নিবেশিত হবে। এটাও জানা যায় কেবিন কক্ষটি আধুনিকায়নের প্রস্তাব প্রকৌশল শাখায় পৌছেছে। অতি দ্রæত কাজটি সম্পাদনের জন্য বিএমইউ কর্তৃপক্ষের তাগাদা দরকার।

তৎকালীন আইপিজিএমএন্ডআর বা পিজি হাসপাতাল বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১৭ নম্বর কেবিনই ছিল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনের শেষাংশের ঠিকানা। জীবনের শেষ ১ বছর একমাস আটদিন কাটিয়েছেন কবি এ কেবিনে। অনেক বছর এ কেবিনের খোঁজ খবর রাখেনি কেউ। কখনো উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে আসা মানুষের বসার জায়গা, কখনো কিচেন রুম, আবার কখনো ধূমপান করার জায়গা হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে এ কক্ষ। এতসব অরুচীকর অবস্থার উত্তরনে নজরুল গবেষকরা আরও সমৃদ্ধ সংস্কারের আশাবাদী। সকল যুক্তিগ্রাহ্য দাবীসমূহ বর্তমান সুযোগ্য উপাচার্যের সুচিন্তিত ভাবনায় আলোর মুখ দেখবে বলে দেশবাসী মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে।
অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ: সাবেক অধ্যক্ষ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ