অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ

দেশে মানসিক স্বাস্থ্যরোগে ভুগছে ১৮ শতাংশের বেশি মানুষ। শিশুদের মধ্যে এ হার ১৪ শতাংশে। ১০ থেকে ২৪ বছর বয়সী শিশু ও তরুণদের মধ্যে প্রায় ৫ শতাংশের আত্মহত্যার প্রবণতা রয়েছে। বছরে ১০ থেকে ১৪ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করছেন। মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে তথ্য উপাত্তের অভাব, চিকিৎসক-রোগীদের আলাদা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার অভাব, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যথাযথ সেবা না থাকা, বাজেট ঘাটতি, সেবা নেয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক সংস্কার, বৈষম্য ইত্যাদি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিরোধে শুরুতে সমস্যা শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। এলাকাভিত্তিক সেবা ও স্কুল পর্যায়ের সেবার ব্যবস্থা করতে হবে।
শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য গঠনে পরিবারে অভিভাবকদের ও স্কুলে শিক্ষকদের বড় ভূমিকা রয়েছে। সামাজিক ও আবেগীয় শিক্ষার (Social & Emotional learning) মাধ্যমে কিশোর-কিশোরী ও তরুণীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি, মানসিক চাপের সময় সিদ্ধান্ত নিতে পারা, সামাজিক সচেতনতা ও সংকট মোকাবিলায় দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নেয়ার দক্ষতা তৈরি করতে হবে। স্কুল পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়টি পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভূক্ত করার পাশাপাশি তা বুঝতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এগুলোর গুরুত্ব উপলব্ধি করে শিক্ষকেরা যেন শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন। মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক না থাকলে অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা যে নষ্ট হয়, সেটা তুলে ধরে এটার গুরুত্ব নীতি নির্ধারকদের কাছেও বুঝাতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা শুধু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে অন্যান্য মাধ্যমেও ছড়িয়ে দিতে হবে। স্কুল, বাসা ও ডিজিটাল পরিসরও যেন মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার মাধ্যমে হয়ে উঠে।
একটি শিশু পৃথিবীতে আসার পর তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সংযুক্ততা তৈরি না হলে শিশুটি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগতে পারে। শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশে শিশুর ধরণ, বয়স ও আর্থসামাজিক পরিবেশ বিবেচনায় সন্তান লালন পালন (প্যারেন্টিং) করতে হবে। মানসিক স্বাস্থ্যসেবার কৌশল ও নির্দেশিকা শক্তিশালীভাবে তৈরি করা, বাজেট ও চিকিৎসা ঘাটতি কমানো, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দিতে অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহারে জোর দিতে হবে। প্যারেন্টিং একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। সন্তানকে বোঝার চেষ্টা করতে হবে, যাতে তার মানসিক সমস্যা তৈরি না হয়। সন্তানকে যথাযথভাবে পালন করে সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। মানসিক সহযোগীতা পেলে একটি দেশে সুস্থ ও দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে ওঠে।
মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে ৯০ শতাংশই চিকিৎসার আওতায় থাকে না। যথাযথ চিকিৎসার বিষয়কে সবচেয়ে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এছাড়া স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র ০.৪ শতাংশ মানসিক স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় হয়। এ বাজেট বাড়ানো দরকার। স্কুলে স্বাস্থ্য বলতে শুধু ভিটামিন ও কৃমির ঔষুধ খাওয়ানো নয়, মানসিক স্বাস্থ্যকে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। পাঠ্যক্রমে স্বাস্থ্য বিষয় অন্তর্ভূক্ত করা এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়ার মাধ্যমে স্কুল পর্যায় থেকে শিশু, কিশোর-কিশোরীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। এতে শিশু কিশোরদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতাও কমবে।
মানুষ নানারকম হতাশায় ভোগে। পরিবার, শিক্ষক, স্বজনরা অনুভূতিতে নজর না রাখলে চান্স পেলেই নিরাপদ নির্জনতার সদব্যবহার করে হতাশাগ্রস্থ লোক আত্মহত্যার ব্যবস্থা করে।
মনে রাখতে হবে, এটি একটি মানসিক রোগ। প্রত্যাশায় একটু রকম ফের হলেই এভাবে জীবননাসের নেশায় মত্ত¡ হয়ে যায়। এ সময় বাবা মায়ের ঝগড়া অবলোকন করলে, অন্যের সঙ্গে তুলনা করলে, বৈষম্য সৃষ্টি করলে, প্রেমে বিফল হলে, পরীক্ষার ফলাফল খারাপ করলে ইত্যাদি কারণগুলো আত্মহননের সিদ্ধান্তকে ত্বরান্বিত করে। আত্মহননের সিদ্ধান্ত নেয়াদের জন্য অভিজ্ঞজন বলছেন, ‘প্রিয় কিশোর কিশোরিরা বাবা-মার বুক খালি করে যাতনা দিয়ে যেও না। পৃথিবীটা আসলেই সুন্দর। নিজে বাঁচো, পরিবারকে বাঁচাও।’
অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ: সাবেক অধ্যক্ষ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ

দেশে মানসিক স্বাস্থ্যরোগে ভুগছে ১৮ শতাংশের বেশি মানুষ। শিশুদের মধ্যে এ হার ১৪ শতাংশে। ১০ থেকে ২৪ বছর বয়সী শিশু ও তরুণদের মধ্যে প্রায় ৫ শতাংশের আত্মহত্যার প্রবণতা রয়েছে। বছরে ১০ থেকে ১৪ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করছেন। মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে তথ্য উপাত্তের অভাব, চিকিৎসক-রোগীদের আলাদা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার অভাব, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যথাযথ সেবা না থাকা, বাজেট ঘাটতি, সেবা নেয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক সংস্কার, বৈষম্য ইত্যাদি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিরোধে শুরুতে সমস্যা শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। এলাকাভিত্তিক সেবা ও স্কুল পর্যায়ের সেবার ব্যবস্থা করতে হবে।
শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য গঠনে পরিবারে অভিভাবকদের ও স্কুলে শিক্ষকদের বড় ভূমিকা রয়েছে। সামাজিক ও আবেগীয় শিক্ষার (Social & Emotional learning) মাধ্যমে কিশোর-কিশোরী ও তরুণীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি, মানসিক চাপের সময় সিদ্ধান্ত নিতে পারা, সামাজিক সচেতনতা ও সংকট মোকাবিলায় দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নেয়ার দক্ষতা তৈরি করতে হবে। স্কুল পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়টি পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভূক্ত করার পাশাপাশি তা বুঝতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এগুলোর গুরুত্ব উপলব্ধি করে শিক্ষকেরা যেন শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন। মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক না থাকলে অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা যে নষ্ট হয়, সেটা তুলে ধরে এটার গুরুত্ব নীতি নির্ধারকদের কাছেও বুঝাতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা শুধু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে অন্যান্য মাধ্যমেও ছড়িয়ে দিতে হবে। স্কুল, বাসা ও ডিজিটাল পরিসরও যেন মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার মাধ্যমে হয়ে উঠে।
একটি শিশু পৃথিবীতে আসার পর তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সংযুক্ততা তৈরি না হলে শিশুটি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগতে পারে। শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশে শিশুর ধরণ, বয়স ও আর্থসামাজিক পরিবেশ বিবেচনায় সন্তান লালন পালন (প্যারেন্টিং) করতে হবে। মানসিক স্বাস্থ্যসেবার কৌশল ও নির্দেশিকা শক্তিশালীভাবে তৈরি করা, বাজেট ও চিকিৎসা ঘাটতি কমানো, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দিতে অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহারে জোর দিতে হবে। প্যারেন্টিং একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। সন্তানকে বোঝার চেষ্টা করতে হবে, যাতে তার মানসিক সমস্যা তৈরি না হয়। সন্তানকে যথাযথভাবে পালন করে সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। মানসিক সহযোগীতা পেলে একটি দেশে সুস্থ ও দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে ওঠে।
মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে ৯০ শতাংশই চিকিৎসার আওতায় থাকে না। যথাযথ চিকিৎসার বিষয়কে সবচেয়ে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এছাড়া স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র ০.৪ শতাংশ মানসিক স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় হয়। এ বাজেট বাড়ানো দরকার। স্কুলে স্বাস্থ্য বলতে শুধু ভিটামিন ও কৃমির ঔষুধ খাওয়ানো নয়, মানসিক স্বাস্থ্যকে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। পাঠ্যক্রমে স্বাস্থ্য বিষয় অন্তর্ভূক্ত করা এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়ার মাধ্যমে স্কুল পর্যায় থেকে শিশু, কিশোর-কিশোরীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। এতে শিশু কিশোরদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতাও কমবে।
মানুষ নানারকম হতাশায় ভোগে। পরিবার, শিক্ষক, স্বজনরা অনুভূতিতে নজর না রাখলে চান্স পেলেই নিরাপদ নির্জনতার সদব্যবহার করে হতাশাগ্রস্থ লোক আত্মহত্যার ব্যবস্থা করে।
মনে রাখতে হবে, এটি একটি মানসিক রোগ। প্রত্যাশায় একটু রকম ফের হলেই এভাবে জীবননাসের নেশায় মত্ত¡ হয়ে যায়। এ সময় বাবা মায়ের ঝগড়া অবলোকন করলে, অন্যের সঙ্গে তুলনা করলে, বৈষম্য সৃষ্টি করলে, প্রেমে বিফল হলে, পরীক্ষার ফলাফল খারাপ করলে ইত্যাদি কারণগুলো আত্মহননের সিদ্ধান্তকে ত্বরান্বিত করে। আত্মহননের সিদ্ধান্ত নেয়াদের জন্য অভিজ্ঞজন বলছেন, ‘প্রিয় কিশোর কিশোরিরা বাবা-মার বুক খালি করে যাতনা দিয়ে যেও না। পৃথিবীটা আসলেই সুন্দর। নিজে বাঁচো, পরিবারকে বাঁচাও।’
অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ: সাবেক অধ্যক্ষ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ