অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ

১৮৯৭ সনের এই দিনে ব্রিটিশ চিকিৎসক স্যার রোনাল্ড রস প্রমাণ করেছিলেন ম্যালেরিয়া রোগ মশার মাধ্যমে ছড়ায়। সেই থেকে প্রতিবছর বিশ্ব মশা দিবস পালিত হয়ে আসছে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে। ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও চিকুনগুনিয়ার মত মশাবাহিত রোগ এখন বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। এসব রোগে প্রতিবছর হাজারো মানুষ আক্রান্ত হয় এবং বহু প্রাণহানি ঘটে।
এ উদ্দেশ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও মানুষকে জানানো যে আমরা চাইলে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ সম্ভব এটা সত্যি। আশেপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা, জমা থাকা পানি অপসারণ, শিশু ও প্রবীণদের বিশেষ যত্ন নেয়া, ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা, ঘরে ও আশেপাশে মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করা। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি একটি কার্যকর সমাধান।
এ লক্ষ্যে নতুন নতুন ফর্মুলেশন ও ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ শুধু মানসম্মত পণ্য সরবরাহই নয়, বরং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আরও অনেক কাজ করা হচ্ছে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয় করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে অবদান রাখা এবং একটি সুস্থ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে মশাবাহিত রোগ। এর দায় প্রায় আমাদের সবারই, একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নয়। কারণ আবর্জনাময় পরিবেশ, পানি জমে মশার আবাসস্থল তৈরি হচ্ছে। প্রত্যেকে সচেতন হলে অন্যান্য দেশের মত আমরাও মশা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। এক কথায় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গঠনে সচেতনতার বিকল্প নেই। দুই থেকে তিনদিন ফুলের টব, ডাবের খোসা, কৌটা, পলিথিন ইত্যাদিতে জমে থাকা পানিতে জীবাণুবাহী ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া মশার লার্ভা তৈরি হয়। তা প্রায় ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সময় রূপ নেয়। এ মশা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রত্যেকে সচেতন থাকা দরকার। কিন্তু আমরা অনেকেই এ দায়িত্ব নিতে চাই না। এ ধারা চলমান থাকলে মশাবাহিত রোগও করোনার মত মহামারিতে রূপ নিতে পারে।
ঢাকা শহরের আয়তন বেড়েছে। ঢাকার বাইরে অনেক শহর, বন্দর, গ্রাম-গঞ্জ গড়ে উঠেছে। সেখানে ঢাকার মতই ফুলের টব, ডাবের খোসা, কৌটা, পলিথিনে জমে থাকা পানি, তাছাড়া ঢাকা থেকে ডেঙ্গু ম্যালেরিয়া চিকুনগুনিয়া জীবানুবাহী মশা বিভিন্ন গাড়ি, লঞ্চ, ট্রেন ও কভার ভ্যানের মাধ্যমে সারা দেশে স্থানান্তরিত হয়। তাই মশা নিধনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। জনগণ, সিটি কর্পোরেশন, স্থানীয় প্রশাসন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, জিকা, লিমফেটিক ফাইলেরিয়াসিসসহ বিভিন্ন রোগের বিস্তারে মশার ভূমিকা রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বর্ষাকাল দীর্ঘায়িত হওয়া, অপরিকল্পিত নগরায়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দূর্বলতা, মানষের চলাচল এবং মশার অভিযোজন ক্ষমতার কারণে মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রনে অসমর্থ হওয়ায় প্রতিবছরই আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত প্রায় ১২৬ প্রজাতির মশার উপস্থিতি নথিভুক্ত হয়েছে। গবেষকরা ৩৬ এনোফিলিস এবং ৭৯ কিউলেক্সসিন মশার প্রজাতি পেয়েছেন। কোন কোন প্রজাতি মানুষের জন্য প্রায় নিরীহ। তাই শুধু মশা নিধন নয়, বরং এলাকায় কোন প্রজাতির মশা রয়েছে, তাদের ঘনত্ব কত, কোথায় বংশবিস্তার করছে এবং কোন জীবাণু বহনের সক্ষমতা এসব তথ্যের উপর ভিত্তি করে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মশার গণ হল এডিস, অ্যানোফিলিস ও কিউলেক্স। এডিসের মধ্যে এজিপ্টাই ও এডিস এলবোপিক্টাস ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও জিকার মত রোগের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বহুল আলোচিত হচ্ছে ডেঙ্গু, এর প্রধান বাহক এডিস এজিপ্টাই ও এডিস এলবোপিক্টাস। এ মশাগুলো সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায় এবং বাড়িঘরের আশেপাশে জমে থাকা পরিস্কার পানির মধ্যে বংশবিস্তার করে। ডেঙ্গুর সবচেয়ে বড় সমস্যা হল এটি শুধু একটি সমস্যা নয়, একই সঙ্গে নগর ব্যবস্থাপনা, পানি নিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নির্মাণকাজ, মানুষের আচরণ এবং জলবায়ুর সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে শুধু রাস্তায় বা এলাকায় ঔষুধ ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। ঢাকার বাইরে ১৪ জেলায় বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা, এখনই ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়ার শংকা রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায় ঢাকার বাইরে বরিশাল, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, বাগেরহাট, মাদারীপুর, গাজীপুর, মানিকগজ্ঞ, নরসিংদী, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, চাঁদপুর, কক্সবাজার, চট্টগ্রামে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগী বাড়তে শুরু করেছে।
এ এলাকাগুলো এডিস মশার হটস্পট হয়ে উঠেছে। এসব এলাকার অনেক জায়গায় মশা নিয়ন্ত্রণের জনবল, যন্ত্র, বাজেট নাই। সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভাগুলোর এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত বাজেট, যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা জরুরী হয়ে পড়েছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আরেকটি বড় দূর্বলতা হল কীটতত্ত্ববিদের অভাব। দেশের ১২ টি সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে কেবল ঢাকা উত্তর সিটিতে একজন কীটতত্ত্ববিদ রয়েছেন। বাকি ১১ সিটিতে কোন কীটতত্ত্ববিদ নাই। এছাড়া দেশের মাত্র ২৬ টি জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয়ে কীটতত্ত্ববিদের অনুমোদিত পদ রয়েছে যার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদ দীর্ঘদিন শুন্য।
পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হলেও সঠিক পরিকল্পনা, পরিবেশগত পরিচ্ছন্নতা এবং কার্যকর মশা নিয়ন্ত্রণ পণ্যের ব্যবহার বাড়ালে এ সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব। বাসাবাড়ির চারপাশে জমে থাকা পানি (বিশেষ করে ৩ দিনের মধ্যে) নিয়মিত পরিস্কার করা, ফুলদানি, টব ও এয়ার কন্ডিশনের ট্রে শুষ্ক রাখা, রাতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া মানসম্মত ও পরিবেশবান্ধব কয়েল বা এরোসল ব্যবহার করা উচিত। দ্রুততম সময়ে এডিস মশার প্রজনন স্থল ধ্বংস করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে সমন্বিত মশা ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং সারা বছর মশা নিধন কার্যক্রম সচল রাখা অত্যন্ত জরুরী। জ্বর এলে সময় নষ্ট না করে দ্রুত পরীক্ষা করতে হবে। রোগ শনাক্ত হলে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখবেন, আকারে ক্ষুদ্র হলেও মশাবাহিত রোগ প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষের অসুস্থতা, মৃত্যু, কার্যক্ষমতা হ্রাস ও অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়।
অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ: সাবেক অধ্যক্ষ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ

১৮৯৭ সনের এই দিনে ব্রিটিশ চিকিৎসক স্যার রোনাল্ড রস প্রমাণ করেছিলেন ম্যালেরিয়া রোগ মশার মাধ্যমে ছড়ায়। সেই থেকে প্রতিবছর বিশ্ব মশা দিবস পালিত হয়ে আসছে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে। ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও চিকুনগুনিয়ার মত মশাবাহিত রোগ এখন বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। এসব রোগে প্রতিবছর হাজারো মানুষ আক্রান্ত হয় এবং বহু প্রাণহানি ঘটে।
এ উদ্দেশ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও মানুষকে জানানো যে আমরা চাইলে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ সম্ভব এটা সত্যি। আশেপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা, জমা থাকা পানি অপসারণ, শিশু ও প্রবীণদের বিশেষ যত্ন নেয়া, ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা, ঘরে ও আশেপাশে মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করা। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি একটি কার্যকর সমাধান।
এ লক্ষ্যে নতুন নতুন ফর্মুলেশন ও ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ শুধু মানসম্মত পণ্য সরবরাহই নয়, বরং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আরও অনেক কাজ করা হচ্ছে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয় করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে অবদান রাখা এবং একটি সুস্থ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে মশাবাহিত রোগ। এর দায় প্রায় আমাদের সবারই, একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নয়। কারণ আবর্জনাময় পরিবেশ, পানি জমে মশার আবাসস্থল তৈরি হচ্ছে। প্রত্যেকে সচেতন হলে অন্যান্য দেশের মত আমরাও মশা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। এক কথায় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গঠনে সচেতনতার বিকল্প নেই। দুই থেকে তিনদিন ফুলের টব, ডাবের খোসা, কৌটা, পলিথিন ইত্যাদিতে জমে থাকা পানিতে জীবাণুবাহী ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া মশার লার্ভা তৈরি হয়। তা প্রায় ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সময় রূপ নেয়। এ মশা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রত্যেকে সচেতন থাকা দরকার। কিন্তু আমরা অনেকেই এ দায়িত্ব নিতে চাই না। এ ধারা চলমান থাকলে মশাবাহিত রোগও করোনার মত মহামারিতে রূপ নিতে পারে।
ঢাকা শহরের আয়তন বেড়েছে। ঢাকার বাইরে অনেক শহর, বন্দর, গ্রাম-গঞ্জ গড়ে উঠেছে। সেখানে ঢাকার মতই ফুলের টব, ডাবের খোসা, কৌটা, পলিথিনে জমে থাকা পানি, তাছাড়া ঢাকা থেকে ডেঙ্গু ম্যালেরিয়া চিকুনগুনিয়া জীবানুবাহী মশা বিভিন্ন গাড়ি, লঞ্চ, ট্রেন ও কভার ভ্যানের মাধ্যমে সারা দেশে স্থানান্তরিত হয়। তাই মশা নিধনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। জনগণ, সিটি কর্পোরেশন, স্থানীয় প্রশাসন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, জিকা, লিমফেটিক ফাইলেরিয়াসিসসহ বিভিন্ন রোগের বিস্তারে মশার ভূমিকা রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বর্ষাকাল দীর্ঘায়িত হওয়া, অপরিকল্পিত নগরায়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দূর্বলতা, মানষের চলাচল এবং মশার অভিযোজন ক্ষমতার কারণে মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রনে অসমর্থ হওয়ায় প্রতিবছরই আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত প্রায় ১২৬ প্রজাতির মশার উপস্থিতি নথিভুক্ত হয়েছে। গবেষকরা ৩৬ এনোফিলিস এবং ৭৯ কিউলেক্সসিন মশার প্রজাতি পেয়েছেন। কোন কোন প্রজাতি মানুষের জন্য প্রায় নিরীহ। তাই শুধু মশা নিধন নয়, বরং এলাকায় কোন প্রজাতির মশা রয়েছে, তাদের ঘনত্ব কত, কোথায় বংশবিস্তার করছে এবং কোন জীবাণু বহনের সক্ষমতা এসব তথ্যের উপর ভিত্তি করে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মশার গণ হল এডিস, অ্যানোফিলিস ও কিউলেক্স। এডিসের মধ্যে এজিপ্টাই ও এডিস এলবোপিক্টাস ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও জিকার মত রোগের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বহুল আলোচিত হচ্ছে ডেঙ্গু, এর প্রধান বাহক এডিস এজিপ্টাই ও এডিস এলবোপিক্টাস। এ মশাগুলো সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায় এবং বাড়িঘরের আশেপাশে জমে থাকা পরিস্কার পানির মধ্যে বংশবিস্তার করে। ডেঙ্গুর সবচেয়ে বড় সমস্যা হল এটি শুধু একটি সমস্যা নয়, একই সঙ্গে নগর ব্যবস্থাপনা, পানি নিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নির্মাণকাজ, মানুষের আচরণ এবং জলবায়ুর সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে শুধু রাস্তায় বা এলাকায় ঔষুধ ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। ঢাকার বাইরে ১৪ জেলায় বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা, এখনই ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়ার শংকা রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায় ঢাকার বাইরে বরিশাল, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, বাগেরহাট, মাদারীপুর, গাজীপুর, মানিকগজ্ঞ, নরসিংদী, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, চাঁদপুর, কক্সবাজার, চট্টগ্রামে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগী বাড়তে শুরু করেছে।
এ এলাকাগুলো এডিস মশার হটস্পট হয়ে উঠেছে। এসব এলাকার অনেক জায়গায় মশা নিয়ন্ত্রণের জনবল, যন্ত্র, বাজেট নাই। সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভাগুলোর এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত বাজেট, যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা জরুরী হয়ে পড়েছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আরেকটি বড় দূর্বলতা হল কীটতত্ত্ববিদের অভাব। দেশের ১২ টি সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে কেবল ঢাকা উত্তর সিটিতে একজন কীটতত্ত্ববিদ রয়েছেন। বাকি ১১ সিটিতে কোন কীটতত্ত্ববিদ নাই। এছাড়া দেশের মাত্র ২৬ টি জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয়ে কীটতত্ত্ববিদের অনুমোদিত পদ রয়েছে যার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদ দীর্ঘদিন শুন্য।
পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হলেও সঠিক পরিকল্পনা, পরিবেশগত পরিচ্ছন্নতা এবং কার্যকর মশা নিয়ন্ত্রণ পণ্যের ব্যবহার বাড়ালে এ সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব। বাসাবাড়ির চারপাশে জমে থাকা পানি (বিশেষ করে ৩ দিনের মধ্যে) নিয়মিত পরিস্কার করা, ফুলদানি, টব ও এয়ার কন্ডিশনের ট্রে শুষ্ক রাখা, রাতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া মানসম্মত ও পরিবেশবান্ধব কয়েল বা এরোসল ব্যবহার করা উচিত। দ্রুততম সময়ে এডিস মশার প্রজনন স্থল ধ্বংস করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে সমন্বিত মশা ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং সারা বছর মশা নিধন কার্যক্রম সচল রাখা অত্যন্ত জরুরী। জ্বর এলে সময় নষ্ট না করে দ্রুত পরীক্ষা করতে হবে। রোগ শনাক্ত হলে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখবেন, আকারে ক্ষুদ্র হলেও মশাবাহিত রোগ প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষের অসুস্থতা, মৃত্যু, কার্যক্ষমতা হ্রাস ও অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়।
অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ: সাবেক অধ্যক্ষ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ