• কুমিল্লা সিটি করপোরেশন
  • কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
  • আদর্শ সদর
  • বরুড়া
  • লাকসাম
  • দাউদকান্দি
  • আরও
    • চৌদ্দগ্রাম
    • সদর দক্ষিণ
    • নাঙ্গলকোট
    • বুড়িচং
    • ব্রাহ্মণপাড়া
    • মনোহরগঞ্জ
    • লালমাই
    • চান্দিনা
    • মুরাদনগর
    • দেবীদ্বার
    • হোমনা
    • মেঘনা
    • তিতাস
  • সর্বশেষ
  • রাজনীতি
  • বাংলাদেশ
  • অপরাধ
  • বিশ্ব
  • বাণিজ্য
  • মতামত
  • খেলা
  • বিনোদন
  • চাকরি
  • জীবনযাপন
  • ইপেপার
  • ইপেপার
facebooktwittertiktokpinterestyoutubelinkedininstagramgoogle
স্বত্ব: ©️ আমার শহর

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. গাজীউল হক ভূঁইয়া ( সোহাগ)।

নাহার প্লাজা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০

ই-মেইল: [email protected]

ফোন: 01716197760

> মতামত

চোখ ভেসে যায় জলে

আহসানুল কবীর
প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২: ৩৫
আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২: ৩৭
logo

চোখ ভেসে যায় জলে

আহসানুল কবীর

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২: ৩৫
Photo

প্রতিদিন সিডিপ্যাথ হাসপাতালের আইসিইউর ভেতর আসা যাওয়া করতে করতে মানসিক ভাবে প্রস্তুত ছিলাম।এমনকি তৈমুরকেও বার বার বলেছি মন শক্ত কর। কিন্তু তারপরেও ভেতর থেকে করুণাময়ের কাছে পরম প্রার্থনা ছিলো তিনি ফিরে আসুক। সকল আকুতি কে পেছনে ফেলে স্রষ্টার অলংঘনীয় ডাকেই তাঁকে সারা দিতে হলো (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)। জহিরুল হক দুলাল স্যারের প্রিয় একটি পংক্তি -

" জীবনেরে কে রাখিতে পারে, আকাশের প্রতি তারা ডাকিছে তাহারে"। সেই ডাকে সকলকেই সাড়া দিতে হয়, তিনিও দিয়েছেন। মনে হচ্ছে তিনি আছেন আমাদের মাঝে, কিন্তু এক অনতিক্রম্য ব্যাবধান তৈরী হয়ে গেছে উনার আর আমাদের মাঝে। মানুষ কি মৃত্যু আগে টের পায়?আমার মনে হয় পায়।কারণ গত ছয় মাস তিনি বিভিন্ন আলাপচারিতায়, আয়োজনে বারবার বলেছেন আমার সময় বেশী নেই।কিংবা এই কথাটা বলে গেলাম। আমি দেখবোনা তোমরা দেখবে।একবছর আগে পপলু ভাই এবং আমাকে বললেন উনাকে নিয়ে একটা লাইভ করার জন্য। আমরা করলাম।সেখানে তিনি তাঁর জন্ম, শৈশব, কৈশোর, ভাতৃবিয়োগ, থেকে অজানা সব অধ্যায়ের কথা বললেন।সকলকে অবাক করে দিয়ে একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা কঠিন হৃদয়ের জহিরুল হক দুলাল অঝোরে কান্না করলেন। আমরাও অশ্রসিক্ত হলাম। ব্যাক্তিগত ভাবে তিনি আমার স্কুল শিক্ষক। প্রাইমারি স্কুলেই তাঁকে শিক্ষক হিসাবে পেয়েছি।আমাকে প্রায়শই বলতেন তিনি যখন ছাত্র লীগের নেতা তখন আমার পিতার স্নেহধন্য ছিলেন।

তার সম্পাদনায় ইউসুফ স্কুল থেকে "ভেলা" নামে একটি ম্যাগাজিন বের হতো।ক্লাস ফাইভে পড়ার সময় ভেলায় আমার একটি ছড়া প্রকাশিত হয়।সেটিই ছাপার অক্ষরে আমার প্রথম লেখা।পরিপাটি সুবিন্যস্ত চুল,ক্লিন শেভড,ফুলহাতা শার্ট ইন করে পরা,প্যান্টের ভাজ পরিস্কার,চকচকে জুতা, একটু পর পর মাথার চুল আঁচড়ানো , প্রমিত বাংলায় কথা বলা, শৈশবে দেখা দুলাল স্যারের স্মৃতি জ্বলজ্বল করে ভাসছে চোখের সামনে। ক্রিকেট খেলার অসম্ভব ভক্ত ছিলেন।

ক্রিকেট ম্যাচ চলার সময় তার হাতে সবসময় থাকতো একটি ছোট ট্রানজিস্টার। আহা কত স্মৃতি! পরবর্তীতে টাউন হলে উনার সহকর্মী হিসেবে কাজ করেছি। তিনি একটি অনিয়মিত পত্রিকা সম্পাদনা করতেন, সে পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবেও প্রিন্টার্স লাইনে আমার নাম লিপিবদ্ধ থাকতো।যদিও আমি কিছুই করতাম না।বলতেন নামটা থাক।আমার ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় থাকাটা তিনি পছন্দ করেননি।যখন রাজনীতি ছেড়ে দিয়ে লেখালেখি এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজকে সম্পৃক্ত করলাম তখন তিনি বললেন রাজনীতিতে না জড়ালে আরও অনেক ভালো করতে।যদিও তিনি ১৯৬৫ সনে ইউসুফ স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করার পূর্বেই ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ত হন।৬৯ এর গণ অভ্যুত্থানের সময় ছিলেন বৃহত্তর কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। ৭১ এ মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ২নং সেক্টরে মেজর খালেদ মোশাররফের সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন।উনার বড় ভাই ফরিদুল হক মাণিক ও ছাত্রলীগের ডাকসাইটে নেতা ছিলেন।দেশ স্বাধীন হবার পর দুলাল স্যারের সহযোদ্ধা আনসার আহমেদ, সৈয়দ আবদুল্লাহ পিন্টু সহ অধিকাংশ জাসদে যোগ দিলেও তিনি বিরত থাকলেন।তবে রাজনীতি থেকে নিস্ক্রিয় হয়ে গেলেন।

সদ্য স্বাধীন দেশে একদল প্রতিভাবান ছেলেদের নিয়ে প্রতিষ্ঠা করলেন সাংস্কৃতিক সংগঠন "আমরা জোস্নার প্রতিবেশী"। প্রবীণ হয়ে যাওয়া এই তরুণরা এখনো জহিরুল হক দুলাল কে তাদের গুরু মানে।মাঝে ১৯৮৪ সনে জনসেবা করার মানসে কুমিল্লা পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড থেকে কমিশনারও নির্বাচিত হয়েছিলেন। টাউন হলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন দীর্ঘ দিন।

১৯৯১ সনের ১৫ আগষ্ট তার নেতৃত্বেই টাউন হল এবং কুমিল্লা ক্লাবের ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।যে চুক্তির মধ্যে দিয়ে কুমিল্লা ক্লাব টাউন হলের নিরংকুশ কতৃত্ব মেনে নেয়।আমার জীবনে যে কয়জন পড়ুয়া মানুষ দেখেছি তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম সেরা।তিনি আমার বাসায় প্রতিমাসে একবার আসতেন আমার সংগ্রহে নতুন কি বই এসেছে তা দেখার জন্য। মনে পড়ে গেলো সুপ্রিয় সেনের "সেই শহর সেই সময়" বইটির জন্য তিনি একাধিক বার আমার অফিসে এসেছিলেন। এমনই ছিলো তার পাঠ পিপাসা।ছোট বেলায় বেশ কিছুদিন আত্মীয়তার সুবাদে দারোগা বাড়ীতে বসবাস করেছিলেন। সেই গল্প করতেন প্রায় সময়।সেসময় ১৯৫৭ সালে অসুস্থ ওস্তাদ মোহাম্মদ হোসেন খসরুকে দেখতে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী আতাউর রহমান খান,সেই স্মৃতি অমলিন গাঁথা ছিলো তাঁর মনের গহীনে।

দুলাল স্যারের প্রতি আমার অনুযোগ অভিমান অনেক। যে মানুষটি এতো এতো পড়তেন এবং অসামান্য তার স্মরণ শক্তি সেই তিনি কিনা সেভাবে লিখলেন না।অথচ তিনি ছড়াকার হিসাবে জাতীয় মানের।ছোট ছোট বাক্যে লেখা তার গদ্য অত্যন্ত শক্তিশালী। তিনি যখন প্রমিত বাংলায়, ধীর স্থির কিন্তু দৃঢ়তার সাথে বলেন তখন বাকী সবাই মুগ্ধ শ্রোতা মাত্র। খালেদ মোশাররফের সহকারী হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের অনেক বিরল ঘটনার স্বাক্ষী তিনি,কতবার অনুরোধ করেছি স্যার এগুলো লিখেন।কিন্তু লিখবেন বলেও লিখলেননা।লিখলে তিনি হতে পারতেন জাতীয় মানের লেখক। সবার সামনে অকপটে অপ্রিয় সত্য বলার একটা অসাধারণ গুণ ছিলো তার।সঙ্গীত ভালোবাসতেন মনেপ্রাণে। আওয়ামী লীগের অনেক কর্মকাণ্ডের কঠিন সমালোচক ছিলেন তিনি।

কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধু প্রশ্নে একদম আপোষহীন। গত দুই আড়াই বছরের কঠিন সময়ে সবাই যখন চুপ মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধু প্রশ্নে তিনি ভয়ডর হীন ভাবে সোচ্চার ছিলেন। একটা আক্ষেপ থেকেই যাবে হাসপাতালে ভর্তির আগে শহীদুল হক স্বপন এবং রিয়াজ(প্রয়াত এডভোকেট বজলু চাচার ছেলে) উনাকে দেখতে যান বাসায়। তখন তিনি রিয়াজের ফোনে আমাকে কল দিয়ে বলেন ১৯৮৫ সনে টাউন হলের জন্ম শতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে উনার কোন ছবি আমার সংগ্রহে আছে কিনা? আমি তখন উনাকে জানাই আছে স্যার।আমি ছবি খুঁজে বের করে আপনার বাসায় নিয়ে আসবো স্যর।সে যাওয়া আর হয়নি।এই আক্ষেপ আজীবন থেকেই যাবে।আমার লেখার একটা সমালোচনা প্রায়শই করতেন। দেখা হলেই বলতেন প্রশংসা করতে হয় পরিমিতভাবে। তুমি সেটা অতিক্রম করে যাও।

আমি বলতাম উজাড় করে প্রশংসা করতে না পারলে আমার ভালো লাগেনা স্যার।আমি জানিনা এই লেখাটি দেখেও তিনি একথা বলতেন কিনা!তবে আমি নিশ্চিত এই লেখায় তাঁর প্রতিভার দশভাগের এক ভাগও প্রকাশিত হয়নি।এই লেখাটি হাসপাতালে আইসিইউর বাইরের চেয়ারে বসে যখন লিখছি তখন বার-বার নোনা জ্বলে চোখ ভেসে যাচ্ছে।তৈমুর কে বারবার কুল থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। কিন্তু আমি নিজে স্থির থাকতে পারছিনা।কত স্মৃতি ভেসে উঠছে চোখের তারায়।আত্মসম্মান বোধ ছিলো প্রবল।সেই আত্মসম্মান অটুট রেখেই চলে গেলেন তিনি।এরকম বহুমুখী প্রতিভার মানুষ কুমিল্লাতে বিরল।জহিরুল হক দুলালের অভাব পূরণ হবার নয়।বার বার তাই কবির ভাষায় মনে হচ্ছে "শোক ছায়ার ঐ নয়ন জ্বলে,আসো যদি নতুন করে"

আহসানুল কবীর: ইতিহাসবিদ,সাংস্কৃতিক সংগঠক, জহিরুল হক দুলালের ছাত্র।

Thumbnail image

প্রতিদিন সিডিপ্যাথ হাসপাতালের আইসিইউর ভেতর আসা যাওয়া করতে করতে মানসিক ভাবে প্রস্তুত ছিলাম।এমনকি তৈমুরকেও বার বার বলেছি মন শক্ত কর। কিন্তু তারপরেও ভেতর থেকে করুণাময়ের কাছে পরম প্রার্থনা ছিলো তিনি ফিরে আসুক। সকল আকুতি কে পেছনে ফেলে স্রষ্টার অলংঘনীয় ডাকেই তাঁকে সারা দিতে হলো (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)। জহিরুল হক দুলাল স্যারের প্রিয় একটি পংক্তি -

" জীবনেরে কে রাখিতে পারে, আকাশের প্রতি তারা ডাকিছে তাহারে"। সেই ডাকে সকলকেই সাড়া দিতে হয়, তিনিও দিয়েছেন। মনে হচ্ছে তিনি আছেন আমাদের মাঝে, কিন্তু এক অনতিক্রম্য ব্যাবধান তৈরী হয়ে গেছে উনার আর আমাদের মাঝে। মানুষ কি মৃত্যু আগে টের পায়?আমার মনে হয় পায়।কারণ গত ছয় মাস তিনি বিভিন্ন আলাপচারিতায়, আয়োজনে বারবার বলেছেন আমার সময় বেশী নেই।কিংবা এই কথাটা বলে গেলাম। আমি দেখবোনা তোমরা দেখবে।একবছর আগে পপলু ভাই এবং আমাকে বললেন উনাকে নিয়ে একটা লাইভ করার জন্য। আমরা করলাম।সেখানে তিনি তাঁর জন্ম, শৈশব, কৈশোর, ভাতৃবিয়োগ, থেকে অজানা সব অধ্যায়ের কথা বললেন।সকলকে অবাক করে দিয়ে একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা কঠিন হৃদয়ের জহিরুল হক দুলাল অঝোরে কান্না করলেন। আমরাও অশ্রসিক্ত হলাম। ব্যাক্তিগত ভাবে তিনি আমার স্কুল শিক্ষক। প্রাইমারি স্কুলেই তাঁকে শিক্ষক হিসাবে পেয়েছি।আমাকে প্রায়শই বলতেন তিনি যখন ছাত্র লীগের নেতা তখন আমার পিতার স্নেহধন্য ছিলেন।

তার সম্পাদনায় ইউসুফ স্কুল থেকে "ভেলা" নামে একটি ম্যাগাজিন বের হতো।ক্লাস ফাইভে পড়ার সময় ভেলায় আমার একটি ছড়া প্রকাশিত হয়।সেটিই ছাপার অক্ষরে আমার প্রথম লেখা।পরিপাটি সুবিন্যস্ত চুল,ক্লিন শেভড,ফুলহাতা শার্ট ইন করে পরা,প্যান্টের ভাজ পরিস্কার,চকচকে জুতা, একটু পর পর মাথার চুল আঁচড়ানো , প্রমিত বাংলায় কথা বলা, শৈশবে দেখা দুলাল স্যারের স্মৃতি জ্বলজ্বল করে ভাসছে চোখের সামনে। ক্রিকেট খেলার অসম্ভব ভক্ত ছিলেন।

ক্রিকেট ম্যাচ চলার সময় তার হাতে সবসময় থাকতো একটি ছোট ট্রানজিস্টার। আহা কত স্মৃতি! পরবর্তীতে টাউন হলে উনার সহকর্মী হিসেবে কাজ করেছি। তিনি একটি অনিয়মিত পত্রিকা সম্পাদনা করতেন, সে পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবেও প্রিন্টার্স লাইনে আমার নাম লিপিবদ্ধ থাকতো।যদিও আমি কিছুই করতাম না।বলতেন নামটা থাক।আমার ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় থাকাটা তিনি পছন্দ করেননি।যখন রাজনীতি ছেড়ে দিয়ে লেখালেখি এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজকে সম্পৃক্ত করলাম তখন তিনি বললেন রাজনীতিতে না জড়ালে আরও অনেক ভালো করতে।যদিও তিনি ১৯৬৫ সনে ইউসুফ স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করার পূর্বেই ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ত হন।৬৯ এর গণ অভ্যুত্থানের সময় ছিলেন বৃহত্তর কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। ৭১ এ মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ২নং সেক্টরে মেজর খালেদ মোশাররফের সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন।উনার বড় ভাই ফরিদুল হক মাণিক ও ছাত্রলীগের ডাকসাইটে নেতা ছিলেন।দেশ স্বাধীন হবার পর দুলাল স্যারের সহযোদ্ধা আনসার আহমেদ, সৈয়দ আবদুল্লাহ পিন্টু সহ অধিকাংশ জাসদে যোগ দিলেও তিনি বিরত থাকলেন।তবে রাজনীতি থেকে নিস্ক্রিয় হয়ে গেলেন।

সদ্য স্বাধীন দেশে একদল প্রতিভাবান ছেলেদের নিয়ে প্রতিষ্ঠা করলেন সাংস্কৃতিক সংগঠন "আমরা জোস্নার প্রতিবেশী"। প্রবীণ হয়ে যাওয়া এই তরুণরা এখনো জহিরুল হক দুলাল কে তাদের গুরু মানে।মাঝে ১৯৮৪ সনে জনসেবা করার মানসে কুমিল্লা পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড থেকে কমিশনারও নির্বাচিত হয়েছিলেন। টাউন হলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন দীর্ঘ দিন।

১৯৯১ সনের ১৫ আগষ্ট তার নেতৃত্বেই টাউন হল এবং কুমিল্লা ক্লাবের ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।যে চুক্তির মধ্যে দিয়ে কুমিল্লা ক্লাব টাউন হলের নিরংকুশ কতৃত্ব মেনে নেয়।আমার জীবনে যে কয়জন পড়ুয়া মানুষ দেখেছি তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম সেরা।তিনি আমার বাসায় প্রতিমাসে একবার আসতেন আমার সংগ্রহে নতুন কি বই এসেছে তা দেখার জন্য। মনে পড়ে গেলো সুপ্রিয় সেনের "সেই শহর সেই সময়" বইটির জন্য তিনি একাধিক বার আমার অফিসে এসেছিলেন। এমনই ছিলো তার পাঠ পিপাসা।ছোট বেলায় বেশ কিছুদিন আত্মীয়তার সুবাদে দারোগা বাড়ীতে বসবাস করেছিলেন। সেই গল্প করতেন প্রায় সময়।সেসময় ১৯৫৭ সালে অসুস্থ ওস্তাদ মোহাম্মদ হোসেন খসরুকে দেখতে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী আতাউর রহমান খান,সেই স্মৃতি অমলিন গাঁথা ছিলো তাঁর মনের গহীনে।

দুলাল স্যারের প্রতি আমার অনুযোগ অভিমান অনেক। যে মানুষটি এতো এতো পড়তেন এবং অসামান্য তার স্মরণ শক্তি সেই তিনি কিনা সেভাবে লিখলেন না।অথচ তিনি ছড়াকার হিসাবে জাতীয় মানের।ছোট ছোট বাক্যে লেখা তার গদ্য অত্যন্ত শক্তিশালী। তিনি যখন প্রমিত বাংলায়, ধীর স্থির কিন্তু দৃঢ়তার সাথে বলেন তখন বাকী সবাই মুগ্ধ শ্রোতা মাত্র। খালেদ মোশাররফের সহকারী হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের অনেক বিরল ঘটনার স্বাক্ষী তিনি,কতবার অনুরোধ করেছি স্যার এগুলো লিখেন।কিন্তু লিখবেন বলেও লিখলেননা।লিখলে তিনি হতে পারতেন জাতীয় মানের লেখক। সবার সামনে অকপটে অপ্রিয় সত্য বলার একটা অসাধারণ গুণ ছিলো তার।সঙ্গীত ভালোবাসতেন মনেপ্রাণে। আওয়ামী লীগের অনেক কর্মকাণ্ডের কঠিন সমালোচক ছিলেন তিনি।

কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধু প্রশ্নে একদম আপোষহীন। গত দুই আড়াই বছরের কঠিন সময়ে সবাই যখন চুপ মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধু প্রশ্নে তিনি ভয়ডর হীন ভাবে সোচ্চার ছিলেন। একটা আক্ষেপ থেকেই যাবে হাসপাতালে ভর্তির আগে শহীদুল হক স্বপন এবং রিয়াজ(প্রয়াত এডভোকেট বজলু চাচার ছেলে) উনাকে দেখতে যান বাসায়। তখন তিনি রিয়াজের ফোনে আমাকে কল দিয়ে বলেন ১৯৮৫ সনে টাউন হলের জন্ম শতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে উনার কোন ছবি আমার সংগ্রহে আছে কিনা? আমি তখন উনাকে জানাই আছে স্যার।আমি ছবি খুঁজে বের করে আপনার বাসায় নিয়ে আসবো স্যর।সে যাওয়া আর হয়নি।এই আক্ষেপ আজীবন থেকেই যাবে।আমার লেখার একটা সমালোচনা প্রায়শই করতেন। দেখা হলেই বলতেন প্রশংসা করতে হয় পরিমিতভাবে। তুমি সেটা অতিক্রম করে যাও।

আমি বলতাম উজাড় করে প্রশংসা করতে না পারলে আমার ভালো লাগেনা স্যার।আমি জানিনা এই লেখাটি দেখেও তিনি একথা বলতেন কিনা!তবে আমি নিশ্চিত এই লেখায় তাঁর প্রতিভার দশভাগের এক ভাগও প্রকাশিত হয়নি।এই লেখাটি হাসপাতালে আইসিইউর বাইরের চেয়ারে বসে যখন লিখছি তখন বার-বার নোনা জ্বলে চোখ ভেসে যাচ্ছে।তৈমুর কে বারবার কুল থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। কিন্তু আমি নিজে স্থির থাকতে পারছিনা।কত স্মৃতি ভেসে উঠছে চোখের তারায়।আত্মসম্মান বোধ ছিলো প্রবল।সেই আত্মসম্মান অটুট রেখেই চলে গেলেন তিনি।এরকম বহুমুখী প্রতিভার মানুষ কুমিল্লাতে বিরল।জহিরুল হক দুলালের অভাব পূরণ হবার নয়।বার বার তাই কবির ভাষায় মনে হচ্ছে "শোক ছায়ার ঐ নয়ন জ্বলে,আসো যদি নতুন করে"

আহসানুল কবীর: ইতিহাসবিদ,সাংস্কৃতিক সংগঠক, জহিরুল হক দুলালের ছাত্র।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

১

জোনাকির আলোয় সাপের গাত্রদাহ

২

চোখ ভেসে যায় জলে

৩

স্ট্রোক চিকিৎসায় সচেতন হোন

৪

ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের রক্তের কাছে ঋণী বাংলাদেশ

৫

এক ও দুই বিষয়ে যারা ফেল করেছে তাদেরকে যোগ্যতা অর্জন করিয়ে পাস করাতে হবে

সম্পর্কিত

জোনাকির আলোয় সাপের গাত্রদাহ

জোনাকির আলোয় সাপের গাত্রদাহ

৮ ঘণ্টা আগে
স্ট্রোক চিকিৎসায় সচেতন হোন

স্ট্রোক চিকিৎসায় সচেতন হোন

৪ দিন আগে
ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের রক্তের কাছে ঋণী বাংলাদেশ

ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের রক্তের কাছে ঋণী বাংলাদেশ

৪ দিন আগে
এক ও দুই বিষয়ে যারা ফেল করেছে তাদেরকে যোগ্যতা অর্জন করিয়ে পাস করাতে হবে

এক ও দুই বিষয়ে যারা ফেল করেছে তাদেরকে যোগ্যতা অর্জন করিয়ে পাস করাতে হবে

৫ দিন আগে